Friday, January 29, 2016

সরকারের জনসমর্থনের ভিত প্রশ্নবিদ্ধ

সমাজ বিজ্ঞানী মীজানুর রহমান শেলী বলেছেন, বর্তমানে দেশের সংকট থেকে উত্তরণের উপায় হচ্ছে রাজনীতিকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। রাজনীতি যেন ব্যক্তি বা কোনো ব্যবসায়িক গোষ্ঠীস্বার্থে পরিচালিত না হয়। এর দায়িত্ব যেমন সরকারের রয়েছে, তেমনি বিরোধী দলেরও রয়েছে। রাজনীতি পরিশুদ্ধ হলেই সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে আসবে। নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন ২০১৫ অনুযায়ী,   প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার কর্তৃত্ব পলায়নতার পথে হেঁটেছে। এ বিষয়ে তিনি মানবজমিনকে বলেন, এই  প্রতিবেদন নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে যে ত্রুটি, গলদ ও অসম্পূর্ণতা রয়েছে এ নির্বাচনের ফলে যে সরকার ক্ষমতায় আছে তাদের  আত্মবিশ্বাস নেই। এবং তাদের জনসমর্থনের যে ভিত তা প্রশ্নবিদ্ধ। সেখান থেকেই কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার সূচনা ঘটে। তার
আলামত দেখা যায়। এধরনের সরকার যেহেতু জনসমর্থনের ভিত্তিতে শক্তভাবে দাঁড়াতে পারে না, তখন তারা রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা দ্বারা তাদের কাজকর্ম চালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। যখন সরকারের নির্বাচনের ভিত্তি সম্পর্কে নিজের মনে সন্দেহ থাকে, তখন তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজেদের স্বার্থে বেশি করে কাজে লাগায়। এর ফলে আইনশৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত  নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর যতটা না তাদের সাংবিধানিক শক্তি থাকে তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠার প্রবণতা দেখা দেয়। এতে করে সমাজে অনাচার, অবিচার ও অত্যাচার বেড়ে যায়। পুলিশও তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে। পুলিশের দুর্নীতি বেড়ে যায় বলে মন্তব্য করেন মীজানুর রহমান শেলী।

‘সুইস ব্যাংক টাকা জব্দ করায় ডেথফোবিয়াতে ভুগছি’

ফের দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের। গত ১৩ই জানুয়ারি তার তৃতীয়বারের মতো দুদকে হাজির হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগের দিন মৃত্যুভয়ে ভুগছেন জানিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় দুই থেকে তিন মাস পেছানোর আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের রহস্য সম্পর্কে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি ধোলাইখাল থেকে পানি নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগর গড়িনি। আর বাংলাদেশ থেকে হুন্ডি করে বিদেশে এত টাকা জমানো সম্ভব নয়। পৃথিবীর ৪০টি দেশের সঙ্গে আমার ব্যবসা, ৪০ দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমার ব্যবসা। সেই সব দেশের সঙ্গে যত বিল সেটেল হয়েছে তা সুইস ব্যাংকে ট্রান্সফার হয়েছে। বরং আমার কোম্পানির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা দেশে এনেছি। এ সময় অসুস্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডেথফোবিয়া হচ্ছে ভয়ংকর মানসিক রোগ। যখন ওই দুর্ঘটনা (সুইস ব্যাংকের টাকা ফ্রিজ করা) হলো তখন থেকে আমি এ রোগে ভুগছি। মাঝখানে শরীরের অবস্থা আরও খারাপ ছিল, এখন একটু ভালো। মুসা বলেন, আমাদের দেশের কোনো মানুষ কি এই পরিমাণ টাকা অর্জনের কল্পনা করতে পারবে! আমি এর আগেও বলেছিলাম আগামী ৫০ বছরেও এ টাকা কেউ অর্জন করতে পারবে না। আর এ কারণে আমি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। ২০১৫ সালের ৭ই জুন দুদকে দেয়া সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী সুইস ব্যাংকে মুসা বিন শমসেরের ১২ বিলিয়ন ডলার ফ্রিজ অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়াও সুইস ব্যাংকের ভল্টে ৯০ মিলিয়ন ডলার দামের অলংকার জমা রয়েছে। গাজীপুর ও সাভারে তার নামে প্রায় এক হাজার দুই শ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মুসা। বর্তমান বাজারদরে এসব জমির মূল্য এক হাজার দুই শ কোটি টাকারও বেশি। অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে থাকায় এসব সম্পত্তির খাজনা পরিশোধ করে নামজারি করা সম্ভব হয়নি বলে জানান মুসা। সুইস ব্যাংকে ১২ বিলিয়ন ডলার কেন জব্দ অবস্থায় রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইরেগুলার ট্রানজেকশনের কারণে করেছে। এ টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে মুসা বলেন, এটা একটা বিচারাধীন বিষয়। আমি বাদী হয়ে মামলা করেছি। বিচারাধীন যে কোনো বিষয়ে কথা বলা অবৈধ। আমি মামলায় জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। এ বিষয়ে দুদককে আমি সব তথ্য দিয়েছি। স্বাধীনতাযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকা সম্পর্কে নানা আলোচনা প্রসঙ্গে মুসা নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাত পর্যন্ত আমি বঙ্গবন্ধুর বাসায় ছিলাম। তারপর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে নিজ জেলা ফরিদপুরে চলে যাই। ২১শে এপ্রিল আমার জেলা ফরিদপুরে পাকিস্তানি আর্মি ঢুকলো। ২২শে এপ্রিল আমি তাদের হাতে ধরা পড়লাম। আর মুক্তি পেলাম ৯ই ডিসেম্বর অর্ধমৃত অবস্থায়। তাহলে আর কি ভূমিকা থাকবে আমার। আমাকে নিয়ে যে অভিযোগ তা ভিত্তিহীন।
বিতর্কিত এ ব্যবসায়ীর কথিত বিপুল পরিমাণ সম্পদের রহস্য উদ্‌?ঘাটন করতে চলতি মাসের ৪ তারিখে তৃতীয়বারের মতো তাকে তলব করে নোটিশ দেয় দুদক। পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী স্বাক্ষরিত ওই তলবি নোটিশে তাকে ১৩ই জানুয়ারি বেলা ১১টায় সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ১২ই জানুয়ারি দুদকের তলবে হাজির হতে পারছেন না বলে মুসা বিন শমসের যে চিঠি পাঠিয়েছেন, তাতে বলা হয়, তিনি মৃত্যু আতঙ্কে (ডেথ ফোবিয়া) ভুগছেন। সেই সঙ্গে উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসও তাকে ভোগাচ্ছে। চিকিৎসকের সনদ যুক্ত করে দুদককে দেয়া চিঠিতে তিনি তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় দুই থেকে তিন মাস পেছানোর আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক ২৮শে জানুয়ারি নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্ধারণ করে মুসাকে চিঠি পাঠায়। এদিকে মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা মুসার সুইস ব্যাংকের ওই অ্যাকাউন্টের তথ্য পাবো। তবে অনুসন্ধানে বেশ অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে দুদক কমিশনার বলেন, এখন আর তেমন সময় লাগবে না। মুসার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুসন্ধান শেষে বলা যাবে। বুধবার সকাল ১১টার কিছু আগে বিশাল গাড়ির বহর আর সুসজ্জিত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর অর্ধশত সদস্য নিয়ে দুদকে আসেন মুসা। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীদের বাইরে রেখেই তাকে ভেতরে ঢুকতে হয়। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে অনুসন্ধান দলের সদস্যরা। এর আগে ২০১৪ সালের ১৮ই ডিসেম্বর প্রথম জিজ্ঞাসাবাদে বিশাল বাহিনী নিয়ে দুদকে প্রবেশ করেছিলেন মুসা। এক বছর এক মাস পর একই কায়দায় এলেও তার সঙ্গে আসা কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। ২০১৪ সালের জুন মাসে বিজনেস এশিয়া নামে একটি সাময়িকীতে মুসাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ওই বছরের ৩রা নভেম্বর তার সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। ১৮ই ডিসেম্বর প্রায় ৪০ জন ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর বহর নিয়ে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হন তিনি। পরে দুদকের অনুসন্ধান দলটি মুসার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ড্যাটকোতে গিয়ে তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই জিজ্ঞাসাবাদে মুসা দাবি করেন, দীর্ঘদিন বিদেশে বৈধভাবে ব্যবসার মাধ্যমেই তিনি ১২ বিলিয়ন ডলার উপার্জন করেছেন। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, মিশর, সিরিয়া, পাকিস্তানসহ অনেক দেশের সরকারি প্রতিরক্ষা ক্রয়সংক্রান্ত পাওনা পরিশোধের অর্থ ওই সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে সুইস ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী চীনা ভাষায় অনূদিত, বইয়ের মোড়ক উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর

চীনা ভাষায় অনুবাদকৃত ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি। বইটির অনুবাদক বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত চাই সি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মোড়ক উন্মোচন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ বই (বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী) শুধু বাংলাদেশের নয়, উপমহাদেশের ইতিহাসের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক দারিদ্র্য বিমোচনে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এ অঞ্চলের (দক্ষিণ এশিয়া) মানুষের সমস্যা একই। সবাই মিলে এসব সমস্যার সমাধান  করতে হবে। এ অঞ্চলের মানুষ দরিদ্র অবস্থা থেকে উঠে আসবে, আমাদের এটাই উদ্দেশ্য। বইটির অনুবাদক চাই সি জানান, এ বই বিক্রি করে যা আয় হবে তার সবই বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টে অনুদান হিসেবে দিয়ে দেয়া হবে।

কক্সবাজার স্টেডিয়ামে বঞ্চিত সাধারণ দর্শকরা

কাক ডাকা ভোর থেকেই কক্সবাজারের রাস্তায় বিজিবির টহল। স্টেডিয়াম এলাকাতে নেয়া হয় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, দাঙ্গা পুলিশসহ র‌্যাবতো আছেই মোড়ে মোড়ে। পর্যটন মওসুম হওয়াতে গোটা কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড়। নিরাপত্তা তল্লাশি থেকে বাদ যাননি তারাও। ৩১শে জানুয়ারি বাংলাদেশ
 অনূর্ধ্ব-১৯ দল গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ডের। আজ অবশ্য বাংলাদেশের গ্রুপে থাকা দুই দল স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া মুখোমুখি হবে তাদের প্রথম লড়াইয়ে। প্লেট পর্বের ৮ দলও খেলবে কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মাঠে। কিন্তু এখানে খেলা দেখতে পারবেন না সাধারণ দর্শকরা।  আজ উদ্বোধনী ম্যাচেতো নয়ই, এমনকি এখানে বাংলাদেশের দুটি ম্যাচেও স্টেডিয়ামে সরাসরি খেলা দেখায় বঞ্চিত থাকবেন সাধারণ দর্শকরা। কারণ এখানে থাকছে নিরাপত্তা নিয়ে চরম সতর্কতা। সাধারণ দর্শকদের জন্য টিকিট ছাড়া হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই মাঠে সবগুলো ম্যাচে খেলা দেখতে পারবেন শুধু আমন্ত্রিত দর্শকরাই। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার স্টেডিয়ামের  ভেন্যু ম্যানেজার রতন কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘স্টেডিয়ামটির  কোন গ্যালারি নেই। একটি ছোট গ্যালারি  থাকলেও চারপাশ ফাঁকা। খেলা দেখার সুযোগ থাকছে শুধু গুটিকয়েক দর্শকের। মাঠের চার পাশে নিরাপত্তা বেস্টনিও নেই যে কারণে আমরা সাধারণ দর্শকদের মাঠে প্রবেশ করতে দিতে পারবো না। পুরোটাই করা হচ্ছে নিরাপত্তার কারণে।’
বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে এমন শঙ্কায় অনূর্ধ্ব-১৯  বিশ্বকাপের আগে  ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আসর থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। তবে আইসিসি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও আয়োজনে আস্থা রেখে অস্ট্রেলিয়ার পরিবর্তে শেষ মুহূর্তে সুযোগ দেয় আয়ারল্যান্ডকে। আর সে কারণেই যেসব বিভাগে ও জেলাতে নিরাপত্তার সামান্যতম শঙ্কা রয়েছে সেখানেই দেখা যাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর হতে। কক্সবাজারে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অবশ্য বড় কারণ এই স্টেডিয়ামের অবকাঠামো না থাকা। ২০১৪ সালে বিসিবি ২৫ কোটি টাকা পেয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য মাঠটি প্রস্তুত করেছিল সাদামাটাভাবেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইসিসি ছাড়পত্র না দেয়াতে এখানে মহিলা বিশ্বকাপ হওয়ার কথা থাকলেও তা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।  পরে অবশ্য  এটা ভেঙে নতুনভাবে আন্তর্জাতিক মানের একটি স্টেডিয়াম বানানোর কথা ছিল। কিন্তু গত দুই বছরে সেটিরও উদ্যোগ নেয়া হয়নি। মূল  স্টেডিয়াম নির্মাণের আগেই এর জমি নিয়ে সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে ঝামেলা ছিল। জানা যায়, একটি পাঁচ তারা হোটেল বানানোর জন্য এই জমি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দিয়েছিল সিভিল এভিয়েশন। তাই এখনও নিশ্চিত নয় শেষ পর্যন্ত সাগরের কোল ঘেঁষে এই স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা সম্ভব কিনা!
গতকাল কক্সবাজার স্টেডিয়াম ঘুরে দেখা যায়  সেখানে দর্শকদের বসার জন্য বাঁশের সামিয়ানা টানানো হয়েছে। সেখানে বসবেন শুধু মাত্র বিসিবি ও আইসিসির আমন্ত্রিত অতিথিরাই। ভেন্যু ম্যানেজার রতন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘মাঠ এখন খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। উইকেট খুব ভালো আছে।’ গতকাল সকালে এখানে অনুশীলন সেরে নেয় স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া দল। এরপর দুপুরে সেখানে অনুশীলন নামে দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলও। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দল গতকালই চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে পৌঁছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া বাংলাদেশ দল গতকাল  কাটিয়েছে বিশ্রামে।

গ্যাস গেল কোথায়?

ইদানীং কাউকে নিমন্ত্রণ করেন না আমার মা। কারণ রাত ১১টার আগে চুলা জ্বলে না আমাদের পুরান ঢাকার চকবাজারের বাসায়। আগের রাতের খাবারটা পর্যন্ত পরদিন দুপুরে গরম করে খাবারও কোনোরকম সুযোগ নাই চরম গ্যাস সংকটের কারণে। কয়লার তন্দুরে বানানো বাখরখানিটাই আপাতত বাঁচিয়ে রেখেছে সকালের নাস্তাটাকে। ঐতিহ্যের বাখরখানি এখন অনেকটা যেন নিত্যদিনের অনুরোধে ঢেঁকি গেলারই মতো। রান্না করে খাবার  খেতে পারার এখন আর কোনো সুযোগই নাই ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মানুষের কাছে। রান্নার জন্য চাই গ্যাস। অথচ চরম গ্যাস সংকটে ভুগছে রাজধানীসহ আশেপাশের সব এলাকা। তবে মধ্যরাতে দেখা মেলে গ্যাসের। সারাদিন সংসারের কাজকর্ম সেরে রাত জেগে গৃহিণীদের রান্নাবান্না করতে হচ্ছে। দিনে গ্যাসের চুলায় যে আগুন পাওয়া যায় তাতে ভাত রান্না করতে তিন দিন সময়ের প্রয়োজন। গত মঙ্গলবার গ্যাসের দাবিতে ফতুল্লা ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুটে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী। রাত ১২টার পর যখন গার্মেন্টস বন্ধ হয় তখন এলাকার চুলা জ্বলে বলে অভিযোগ করে তারা। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো কমপ্রেসারের সাহায্যে গ্যাস লাইনের পুরো গ্যাসটাই টেনে নিয়ে যাবার কারণেই নাকি চুলায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে সরকার গ্যাস সংকট সমাধান না করে জনগণকে পরামর্শ দিয়েই চলেছে। গত বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টতই জানিয়ে দেন, আবাসিক খাতে গ্যাসের এই সমস্যা থাকবেই। তিনি জনগণকে এলপিজি গ্যাস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে নিজের দায়িত্ব সম্পন্ন করলেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো শিল্প এলাকায় প্রথমে গ্যাস সরবরাহ করা। আমরা সেদিকেই ধাবিত হচ্ছি।’ তবে শিল্পখাতকে সুবিধা দেয়ার জন্য আবাসিকে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। আসলে দেশের মোট উৎপাদিত গ্যাসের মাত্র ১২ শতাংশ গৃহস্থালিতে ব্যবহার হচ্ছে। অথচ শিল্পখাতের মাত্র ২ ভাগ কমিয়ে আবাসিক খাতে গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি করে দিলেই তো এই সমস্যা মিটে যায়। অথচ এর বদলে মন্ত্রীরা আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন।  এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সম্পর্কীয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও সুপারিশ করে চলেছে বাসাবাড়িতে গ্যাসের ব্যবহার বন্ধের।
দুই. মন্ত্রীদের প্রেসক্রিপশন মতে গ্যাসের আবাসিক সংযোগ বন্ধ হলে একটা পরিবারে কমপক্ষে সিলিন্ডারপ্রতি মাসে ৩৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকা গুনতে হবে। নিম্নবিত্ত পরিবারের কথা বাদই দিলাম, এর ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারে চুলা জ্বালানোর খরচ নির্বাহ করাটাই দুর্বিষহ হয়ে পড়বে। পরিবারের রান্নাটা একটু বেশি হলেই রান্নার খরচ ৮/১০ হাজার টাকায় গিয়ে পৌঁছাবে। অথচ পুরো ঢাকা শহর এখন যেন সিএনজিময়। প্রাইভেট কার আর অটোরিকশা তো বটেই, বাস-ট্রাক পর্যন্ত এখন গ্যাসে চলে। পারলে যেখানে আমরা মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে রিকশা পর্যন্ত সিএনজি দিয়ে চালাতে প্রস্তুত, সেখানে আবাসিক গ্যাস বন্ধের এহেন হুঁশিয়ারিতে রাজধানীবাসী সত্যিই আতঙ্কিত। খাবারের জন্য রান্না আগে, না গাড়ির গ্যাস আগে- এটা ভাববার সময় এখন এসেছে। সরকার বলছে, গ্যাসের উপর ভাসছে দেশ, অথচ রান্নার জন্য গ্যাস নেই কেন? এ কথার জবাব দিবে কে? খুবই দুঃখের বিষয় হচ্ছে, সরকার যেখানে বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে নামমাত্র দামে আমাদের গ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদ বিক্রি করে দিচ্ছে, তা আবার চড়ামূল্যে তাদের কাছ থেকেই কিনে নিচ্ছে। আর সেখানে রান্নার জন্য দেশের মানুষকে রাত জেগে সেই গ্যাসের জন্যই অপেক্ষা করতে হচ্ছে তীর্থের কাকের মতো! এতে কর্তাব্যক্তিদের পকেট ভারী হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এর কঠিন মূল্য দিতে হচ্ছে এদেশের দরিদ্র মানুষকে। ভাত রান্নার গ্যাস বন্ধের হুঁশিয়ারি হজম করা ছাড়া তো অন্য কোনো উপায়ও নেই জনগণের।
তিন. যতই দিন যাচ্ছে রাজধানীতে গ্যাস সংকট ততই প্রকট হয়ে উঠছে। কোনো কোনো এলাকায় রাতে তির তির করে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও দিন-রাত গ্যাস সরবরাহ পাওয়াটাই একেবারে কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে রাজধানীতে বসবাসকারী নাগরিকদের একটি বড় অংশের রান্না-খাওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কর্মজীবী মানুষকে রাত জেগে বসে থাকতে হচ্ছে গ্যাস এলে রান্না করতে হবে। নগরের গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাসের কাছে রয়েছে অযুহাতের লম্বা ফিরিস্তি। যথারীতি সরকারি বুলি আওড়ানো হয়- অমুক জায়গায় অত মেগাওয়াট প্ল্যান্ট বন্ধ, গ্যাসের চাপ কম, শীতের কারণে প্রেসার নাই, উৎপাদনের চাইতে চাহিদা বেশি, উন্নয়ন বাড়ছে তাই চাহিদা বাড়ছে ইত্যাদি সব গৎবাঁধা বুলি। পুরান ঢাকার চকবাজার, উর্দু রোড, ইসলামবাগ, বংশাল, হাজারীবাগ, লালবাগ, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর থেকে শুরু করে ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর অথবা খিলগাঁও, সিপাহীবাগ, মিরপুর, মনিপুর কিংবা রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, বনশ্রী, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী,  শনির আখড়া, পোস্তগোলা, উত্তরা, এমনকি গুলশান-বনানীতেও সর্বত্রই একই অবস্থা। ঢাকার আশেপাশের অঞ্চল নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মানুষেরও এই একই ভোগান্তি।
চার. এদিকে গত বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানালেন, ‘শীতকালে গ্যাস সংকট হয়। গ্যাসের চাপও কমে যায়। এই সমস্যা প্রতি শীতেই হয়।’ আসলে বাংলাদেশে শীতকাল কি এই সরকারের আমলেই এসেছে? আগে কখনও কি দেশে শীতকাল আসেনি? অথচ রাজধানীতে গ্যাস সংকট চলছে গত ছয় সাত বছর ধরেই। দুটি কারণে এ সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। রাজধানীর বহু এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংকীর্ণ ব্যাসার্ধের পাইপলাইনে সরবরাহকৃত গ্যাস চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। জাতীয় গ্রিডলাইনে যখন গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি থাকে না তখনও কোনো কোনো এলাকায় রান্নার উপযোগী গ্যাস পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। চাহিদার তুলনায় যখন গ্যাস সরবরাহ কম থাকে তখন পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। ফলে রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকায় দেখা দেয় গ্যাস সংকট। গ্যাস সংকটের আরেকটি কারণ হলো, পাইপলাইনে গ্যাসের সঙ্গে থাকা তরল জ্বালানি কনডেনসেট জমে যাওয়া। এ মুহূর্তে গৃহস্থালি পর্যায়েই শুধু নয়, শিল্প কলকারখানায়ও গ্যাস চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে দেশে যে গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে এর মধ্যে গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে ৫শ’ মিলিয়ন ঘনফুট। মোট উৎপাদিত গ্যাসের ৪২ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে; ১৭ শতাংশ শিল্পে; ১৬ শতাংশ ক্যাপটিভ পাওয়ারে; ১২ শতাংশ গৃহস্থালিতে; ৭ শতাংশ সার-কারখানায়; ৫ শতাংশ সিএনজিতে; ১ শতাংশ বাণিজ্যিক এবং দশমিক ১ শতাংশ চা-বাগানে ব্যবহূত হচ্ছে। সার কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে গড়ে ২৩৭ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু পাচ্ছে গড়ে ৬৬ থেকে ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট।  বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে গড়ে সাড়ে ১৫শ’ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। পাচ্ছে গড়ে সাড়ে ৭শ’ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রায় ৯শ’টি ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টে গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ ৩৪০ মিলিয়ন ঘনফুট। এছাড়াও আবাসিক ও অন্যান্য গ্রাহকদের ১ হাজার ১শ’ ৬৪ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। যা মোট উৎপাদিত গ্যাসের ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ। বর্তমানে দেশের  বিতরণ কোম্পানির অধীনে বৈধ আবাসিক গ্যাস গ্রাহকের সংখ্যা ২৩ লাখের ঊর্ধ্বে। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, বৈধ আবাসিক সংযোগে দৈনিক গ্যাস ব্যবহার হয় ২৫ কোটি ঘনফুটের মতো। যা মোট উৎপাদিত গ্যাসের ১২ শতাংশ। আর বর্তমানে আবাসিক খাতে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে সাড়ে ২৭ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ মাত্র ২ কোটি ঘনফুট আবাসিক খাতে বৃদ্ধি করা হলেই এই সংকট আর থাকে না।
পাঁচ. আশংকার বিষয় হচ্ছে, দেশে বর্তমানে মাত্র ১০ থেকে ১২ বছরের ব্যবহারের মতো গ্যাস মজুত রয়েছে। অথচ অচিরেই যখন দেশ গ্যাসশূন্য হয়ে পড়বে এটা মোকাবিলার কোনো বাস্তবিক পরিকল্পনা সরকারের হাতে নেই। অন্যদিকে সাগরের ১০, ১১, ১২, ১৬, ১৮, ১৯ নম্বর ব্লকে কোনোরকম দরপত্র ছাড়াই একটি বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেয়ার কাজ এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। যার মধ্যে মাত্র দুটি ব্লকেই রয়েছে ৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এই গ্যাস তুলতে হলে কূপ খনন ও পাইপলাইন তৈরিতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। সেদিকে কার্যকর কোনোরকম গুরুত্ব না দিয়ে সরকার কেন এভাবে সাধারণ মানুষের চুলার গ্যাসের উপর হামলা চালাচ্ছে তা বোধগম্য নয়। অথচ গ্যাসের সঠিক ব্যবহারের জন্য কোনো জাতীয় নীতিমালা এখন পর্যন্ত করতে পারেনি সরকার। সরকার ক্ষমতায় এসে নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিলেও আজ অবধি কার্যত কিছুই করা হয়নি। তবে এই নীতিমালার খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে বহুবার। খসড়া নীতিমালায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ধীরে ধীরে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ এবং সার-কারখানায় গ্যাস বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়। আবাসিক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে এলপি গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়। গ্যাসের একক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানির সংস্থানের কথা বলা হয়েছে এতে। কিন্তু খাতওয়ারি গ্যাসের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করাসহ সংকটকালীন গ্যাস ব্যবস্থাপনার কোনো কথা এই খসড়া নীতিমালায় নেই। যেখানে দেশে উৎপাদিত গ্যাসের মাত্র ১২ শতাংশ দিয়ে জ্বলছে আমাদের রান্নার চুলাগুলো সেখানে দরিদ্র জনগণের চুলার উপর এত বিরাগের কারণ কি?
ছয়. সরকারের দাবিকৃত ‘গ্যাসে ভাসা দেশে’ ভাত রান্নার জন্য গৃহস্থালি কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়ার অধিকার এদেশের জনগণের রয়েছে। জনগণের বেঁচে থাকার এই আবশ্যকীয় অধিকারটুকু নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্বও বটে। কেননা, আমাদের সংবিধানে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারটুকুই যে শুধু মৌলিক অধিকার তা কিন্তু নয়। মানুষের জীবনধারণের জন্য মৌলিক সেবা পাওয়ার অধিকারও মানবাধিকার। তাই দরিদ্র জনগণের ভাত রান্নার জন্য মাসে তিন থেকে দশ হাজার টাকা খরচে বাধ্য করা হলে তা হবে চরম মানবাধিকারের লঙ্ঘন। ভাবতে কষ্ট হয়, যেখানে মন্ত্রী-এমপিদের নির্দেশনা দেখিয়ে নগদ অর্থের স্পীডমানির সুবাদে নতুন সংযোগ দেয়া হয় বলে খোদ সংসদীয় কমিটি অভিযোগ করে। হাজার হাজার কোটি টাকার গ্যাস সংযোগ বাণিজ্য হয় তিতাসে। সেখানে গরিব জনগণের রান্নার গ্যাস বন্ধের রক্তচক্ষুর আতঙ্কে ভুগতে হচ্ছে এদেশের সাধারণ মানুষকে। তাই গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে আবাসিক কাজে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেই হবে। এ সরবরাহ কোনোক্রমেই ব্যাহত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে জনগণকে আর ভয় না দেখিয়ে বা নতুন কোনো আতঙ্কে না ফেলে সরকারের উচিত অবিলম্বে জনদুর্ভোগ লাঘব করে রান্নার গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। জনগণের পেটের ক্ষুধার আগুন মেটাতে চুলায় আগুনের দরকার। আর মানুষ চুলায় আগুন জ্বালাতে না পারলে প্রতিবাদের আগুন ধরাবার জন্য অপেক্ষায় বসে থাকবে না।
লেখক: সুপ্রিম কোর্টের আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ

প্রণব মুখার্জির আত্মজীবনী

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি তার আত্মজীবনীর দ্বিতীয় খণ্ডে আশি ও নব্বইয়ের দশকের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তুলে ধরেছেন। এর আগে প্রথম খণ্ডে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঘটনা তুলে ধরেছিলেন। ‘দ্য টারবুলেন্ট ইয়ার্স : ১৯৮০-৯৬’ গ্রন্থে প্রণব মুখার্জি বাবরি মসজিদ ধ্বংস ও স্বর্ণমন্দিরে ব্লু স্টার অপারেশনের মতো বিতর্কিত বিষয়ে তার পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাকে প্রতিরোধ না করতে পারাকে দেশের প্রধান হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেছেন প্রণব মুখার্জি। সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, এ ঘটনায় দেশ ও বিদেশে মুসলমানদের ভাবাবেগে প্রবল আঘাত লেগেছিল। সেদিনের ঘটনার কথা জানাতে গিয়ে প্রণব মুখার্জি লিখেছেন, ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর আমি মুম্বইয়ে ছিলাম। পরিকল্পনা কমিশনে আমার অফিসার অন স্পেশাল ডিউটিতে ছিলেন জয়রাম রমেশ। তিনিই আমাকে ফোনে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের কথা জানান। আমি ফোনে যা শুনছিলাম তা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আর তাই আমি বারবার জয়রামকে জিজ্ঞেস করি বিরাট কাঠামোটা ধ্বংস করা হলো কীভাবে? তখন জয়রাম শান্তভাবে আমাকে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ শোনান। সেদিন বিকালেই আমার দিল্লি ফিরে আসার কথা। কিন্তু জানতে পারলাম, মুম্বইতে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র সচিব আমাকে ফোন করে জানালেন, আমার বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে অনেক স্পর্শকাতর এলাকা থাকায় আমার জন্য একটি এসকর্ট ও একটি পাইলট কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমি বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দিলাম। আমার সামনে পুলিশের জিপ। আর পেছনে একটি অ্যাম্বাসাডরে ভর্তি সাদা পোশাকে পুলিশ। আর আমার গাড়িতে বসে একজন নিরাপত্তা অফিসার। যাওয়ার পথে হঠাৎ দেখতে পাই আইনজীবী রাম জেঠমালিনি তার গাড়ি থেকে আপ্রাণভাবে আমার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। আমি গাড়ি থামিয়ে তার গাড়িটিকেও আমার কনভয়ের নিরাপত্তার মধ্যে নিয়ে এলাম। আসার পথে রাস্তার মোড়ে মোড়ে মানুষ দাঁড়িয়ে রয়েছে। রাস্তায় ইটপাথর পড়ে থাকা দেখে বোঝা গেছে কিছুক্ষণ আগেই ভালো রকম সংঘর্ষ হয়েছে। পরের দিনের সংবাদপত্রে সেসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পড়েছিলাম।
এর পরেই তিনি লিখেছেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতার কাজ, যা সব ভারতীয়দের মাথা লজ্জায় হেট করে দিয়েছিল। সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে একটি ধর্মীয় কাঠামোকে মাত্রাজ্ঞান বিবর্জিত হয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল। এ ঘটনায় দেশ-বিদেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে প্রচণ্ড আঘাত দিয়েছিল। এ ঘটনা সহিষ্ণু ও বহুত্ববাদী দেশ হিসেবে যেখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতির মধ্যে একসঙ্গে থেকেছে, সেই ভারতের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করেছিল। পরে একটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছিলেন, এ ধরনের মসজিদ বিনষ্ট করার ঘটনা জেরুজালেমের শহরে যেখানে শতাব্দীকাল ধরে ধর্মীয় বিরোধ চলে আসছে, সেখানেও কখনও ঘটেনি। সে সময় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাওকে অনেকেই দায়ী করেছেন। আমি সে সময় মন্ত্রিসভায় ছিলাম না। তাই বাবরি ইস্যুতে কোনো সরকারি নীতিনির্ধারণের শরিক ছিলাম না। তবে আমার বিশ্বাস, ভারত সরকার সে সময় ‘হবসনস’ চয়েসের মুখোমুখি হয়েছিল। সরকারের সামনে অনেক পথ খোলা ছিল না। বাবরি মসজিদকে নিরাপদ রাখার ব্যাপারে রাজ্য সরকার দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হবে- এ আশঙ্কায় কোনো রাজ্য সরকারকে কেন্দ্রীয় সরকার বরখাস্ত করতে পারে না। উত্তর প্রদেশ সরকার জাতীয় সংহতি কাউন্সিলের বৈঠকেই শুধু নয়, সুপ্রিম কোর্টে এফিডেভিট করে বাবরি মসজিদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিল। অনেকেই অবশ্য যুক্তি দেখিয়েছে, সংবিধানের ৩৫৬ ধারা জারি করে কেন্দ্রীয সরকার রাজ্য সরকারকে বরখাস্ত করতে পারতো। কিন্তু সংসদের রাজ্যসভায় যেখানে কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না, সেখানে কীভাবে তা পাস করানো হতো?
প্রণব মুখার্জি অবশ্য বাবরি মসজিদ ধ্বংস প্রতিহত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের অক্ষমতাকে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বলে সমালোচনা করেছেন। তার মতে, নরসিমা রাও উত্তর প্রদেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এনডি তিওয়ারির মতো প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কঠিন আলোচনার দায়িত্ব দিতে পারতেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসবি চ্যাবন একজন ভালো আলোচনাকারী হলেও তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতির আবেগটিকে ধরতে পারেননি। রঙ্গরাজন কুমারমঙ্গলম আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছিলেন, তবে তিনি ছিলেন খুবই তরুণ এবং তার অভিজ্ঞতাও কম। সেই সময় প্রথম প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি।
পরে নরসিমা রাওয়ের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত বৈঠকে আমি মোলায়েমভাবে না বলে বরং ক্ষোভের সঙ্গে বলেছিলাম, এর বিপদের দিকটি সম্পর্কে আপনাকে পরামর্শ দেয়ার কেউ কি ছিলেন না? বাবরি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে সেটা কি আপনি বুঝতে পারেননি? এখন আপনি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা প্রশমনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন। সদর্থক কাজের মাধ্যমে মুসলমানদের আবেগকে আশ্বস্ত করুন। প্রণব মুখার্জি জানিয়েছেন, এ কথা বলার সময় পিভি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। তবে তার চারিত্রিক স্টাইন অনুযায়ীই মুখমণ্ডলে আবেগের কোনো রেখাপাত হতে দেননি। কিন্তু আমি তার সঙ্গে কয়েক শতাব্দী একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে তাকে জানতাম। তাই তার মুখমণ্ডল পড়ার দরকার হয়নি। আমি তার মধ্যে হতাশা ও বিষণ্নতা অনুভব করতে পেরেছিলাম। এর পরে আমি অনেক সময় ভেবেছি, আমার এ বিস্ফোরণের ফলেই কি ১৯৯৩ সালের ১৭ই জানুয়ারি আমাকে মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। প্রসঙ্গত, গতকাল বইটি রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রকাশিত হয়েছে। প্রণব মুখার্জি এ নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত টুইটার অ্যাকাউন্টে মন্তব্যও করেছেন।

সময় বাড়ছে না বাণিজ্যমেলার

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় এখন বিদায়ের সুর। মেলার শেষের দুই দিন ভাগ্যক্রমে পড়েছে ছুটির দিন। শুক্র ও শনিবার নিয়ে ব্যবসায়ীদের বিশেষ প্রত্যাশা থাকে। তবে আজ ও কালের ছুটি আলাদা গুরুত্ব বহন করে। দিন দুটি শেষে এবারের মতো মেলার সমাপ্তি ঘটছে। ৩১শে জানুয়ারি শেষ হচ্ছে বাণিজ্যের সর্বোচ্চ এ আসর। শেষদিকে তাই ক্রেতার ভিড় সকাল থেকেই। এখন যারা আসছেন বেশির ভাগই ক্রেতা। এতদিন ঘুরেফিরে দেখলেও এখন আর অপেক্ষার সময় নেই। কিন্তু তার পরও সন্তুষ্ট নন অনেক বিক্রেতাই। মুখে হাসি ফুটছে না তাদের। বিশেষ করে ইরানি বিভিন্ন পণ্যের প্যাভিলিয়নগুলোতে দেখা গেছে এ চিত্র। মেলায় ইরানি নানা জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসেছে জেড ইন্টারন্যাশনাল। এখানে এক ছাদের নিচে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন পণ্য। ইরানি মেলামাইনের প্লেট, গ্লাস, চামচ, গামলাসহ প্রায় ৬০ ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হৃদয় জানান, ১২ বছর ধরে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় অংশ নিচ্ছি। এখন মেলা শেষদিকে, তাই খারাপ লাগছে। গত প্রায় একটি মাস জাঁকজমকভাবে কেটে গেছে। এখানে অংশ নেয়া শুধু টাকার জন্যই নয়, আনন্দও পাওয়া যায়। তবে বিক্রিটা আর একটু ভালো হলে মনটা খুশি থাকতো। ইরানি কার্পেটের কর্নারে দেখা যায়, বাহারি সব কার্পেট এবং পাপোশ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দামটা একটু বেশি, অভিযোগ ক্রেতাদের। মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের গৃহিণী আশা মনি জানান, ইরানি কার্পেট একটু ভালো হয়, সেজন্য কিনতে এসেছি। কিন্তু দামটা একটু চড়া মনে হচ্ছে, যা ধারণা করেছিলাম তার চেয়ে বেশি। বাজেটে কুলাচ্ছে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাবুল জানান, এগুলো অরিজিনাল ইরানি কার্পেট। ফলে দাম একটু বেশি। তা ছাড়া এ কার্পেটগুলো অনেক ভারি। তুরস্ক ও অন্যান্য দেশের হলে কিছুটা কম দামে দেয়া যেত। তিনি জানান, ১০ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকা দামের পর্যন্ত কার্পেট রয়েছে তার কাছে। তিনি বলেন, বিক্রি কম হচ্ছে। কোনো কারণ জানি না। কিন্তু এটুকু বলতে পারি, এবার কাঙ্ক্ষিত বিক্রি করতে পারিনি। ইরানি পণ্যসম্ভার প্যাভিলিয়নে দেখা যায়, কী নেই এখানে। মোটামুটি সবকিছুই পাচ্ছেন ক্রেতারা। মেলামাইন, জিরাসহ সব ধরনের মসলা, বোরকা, অ্যালুমিনিয়াম ও ননস্টিক বাসন-কোসন, জুয়েলারি ও কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্যের সম্ভাব নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। মেলা ঘুরে দেখা গেছে, ইরানি বেশ কিছু প্যাভিলিয়ন ও স্টল রয়েছে। এগুলোতে ঝারবাতি পাওয়া যাচ্ছে ৪ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। নানান ডিজাইনের মনকাড়া ও নজরকাড়াও। কিন্তু বিক্রিতে রয়েছে হতাশা। গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ইমরান বলেন, বন্ধু-বান্ধবরা মিলে সময় পেলেই বাণিজ্যমেলায় আসি। এখানে কেনার চেয়ে আড্ডা দেয়াই বেশি মজার। কিন্তু এখন মেলা শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাই মন খারাপ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পায়েল জানান, মন খারাপ থাকলেই মেলায় আসি এবং টুকটাক কিছু কেনাকাটা করি। দেখতে দেখতেই দিনগুলো ফুরিয়ে গেল।
বাড়ছে না বাণিজ্যমেলার সময়
আগামী ৩১শে জানুয়ারি বাণিজ্যমেলার পর্দা নামছে বলে আয়োজক সংস্থা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে। ইপিবির যুগ্ম সচিব রেজাউল করিম বলেন, দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় শুরু থেকেই মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। প্রতিদিনই মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। এতে মেলায় অংশ নেয়া স্টল ও প্যাভিলিয়নের মালিকরাও খুব খুশি। তাই এবার মেলার সময় বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, গত বছর দেশের টানা হরতাল-অবোরধের কারণে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা বাণিজ্যমেলায় আসতে পারেননি। যার কারণে স্টল-প্যাভিলিয়ন মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে মেলার মেয়াদ ১০ দিন বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু এ বছর ভিন্ন চিত্র। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তাই আগামী ৩১শে জানুয়ারি নির্দিষ্ট সময়ে বাণিজ্যমেলা শেষ হবে বলে জানান তিনি।

বর্ষবরণে যৌন নিপীড়ন একজন গ্রেপ্তার

পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে নারীদের যৌন নিপীড়নের ঘটনায় শনাক্ত ৮ জনের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তার নাম কামাল হোসেন। ঘটনার নয় মাস পার হওয়ার পর রাজধানীর চকবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করার পর কামলাকে দু’দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। যৌন নিপীড়নের ওই মামলাটির ঘটনা সত্য কিন্তু আসামিদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত সংস্থা ডিবি’র পক্ষ থেকে মামলাটি আবার পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে কামাল। ঘটনার পর থেকেই সে পালিয়ে ছিল। পুলিশ ম্যানুয়ালি সোর্সের মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করার পর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের একটি দল চকবাজারের খাজা দেওয়ান লেনের ৭৭ নম্বর বাসা থেকে কামালকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামাল ঘটনার দিন টিএসসি এলাকায় গিয়ে অন্যদের সঙ্গে নারীদের যৌন নিপীড়ন করার কথা স্বীকার করেছে। কামালের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ওই দিন কামাল একাই টিএসসি এলাকায় ঘুরছিল। ঘটনার সময় সন্ধ্যর দিকে টিএসসিতে হট্টগোল লাগার সময় সেও একাধিক নারীকে যৌন নিপীড়ন করে। সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত কামালের সে সময় মুখে দাড়ি ছিল। কিন্তু ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে সে আত্মগোপনে চলে যায়। সিসিটিভি‘র ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ যখন ৮ সন্দেহভাজনের মুখচ্ছবি প্রকাশ করে তা দেখে নিজের দাঁড়িও কেটে ফেলে কামাল। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, আটকের পর কামালকে তার নিজের ছবি দেখানো হলে সে নিজের ছবি শনাক্ত করে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) হাসান আরাফাত বলেন, কামাল একাই টিএসসি এলাকায় গিয়েছিল নাকি তার সঙ্গে সংঘবদ্ধ দল ছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা কামালের বাবার নাম মৃত সুরুজ মিয়া। চকবাজারের খাজে দেওয়ান এলাকার পঞ্চায়েত অফিসের পাশেই ছোট্ট একটি টং দোকান রয়েছে তার। ওই দোকানে সে কাঁচামাল বিক্রি করতো। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ৭৭ নম্বর খাজে দেওয়ানে থাকতেন তিনি। কামালের বড় মেয়ের বয়স ৭ বছর আর ছেলের বয়স দেড় বছর। কামাল লেখাপড়া করেনি। কেবল নিজের নাম স্বাক্ষর করতে পারে বলে জানা গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই দীপক কুমার দাস বলেন, মামলাটির ৮ আসামির মুখচ্ছবি শনাক্ত করা গেলেও তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এ কারণে গত ১৩ই ডিসেম্বর ঘটনা সত্য হিসেবে মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছিল। তবে ভবিষ্যতে আসামি গ্রেপ্তার হলে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এ কারণে কামালকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে মামলা পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করা হয়েছে। আগামী ২৩শে ফেব্রুয়ারি এর শুনানি হবে।
গত ১৪ই এপ্রিল বাংলা নববর্ষের উৎসবের মধ্যে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে ভিড়ের মধ্যে একদল যুবক নারীদের ওপর চড়াও হয়। বখাটেদের হাত থেকে নারীদের বাঁচাতে গিয়ে আহত হন ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি লিটন নন্দী আহত হন। এদিকে প্রথমে পুলিশ ঘটনাটি এড়াতে চাইলেও বিভিন্ন ছাত্র ও নাগরিক সংগঠনের দাবির মুখে এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলা এবং তদন্তের উদ্যোগ নেয় পুলিশ। এরপর গত ১৭ মে সিসিটিভি ক্যামেরার ছবি দেখে আট নিপীড়ককে চিহ্নিত করার কথা জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক। তাদের ধরিয়ে দিতে এক লাখ টাকা পুরস্কারেরও ঘোষণা করেন তিনি। আইজিপি এই ঘটনাকে কিছু যুবকের দুষ্টুমি বলে সমালোচনার মুখে পড়েন। এদিকে যৌন নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশের মারধরের শিকার হন ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরের একটি কমিটি তদন্ত করে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছিল।

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট দুর্ভোগ চরমে

চট্টগ্রামের লাভলেইন এলাকার আবেদীন কলোনিতে থাকেন গৃহিণী হাসিনা আকতার। ৫ জনের সংসার। দুই সন্তান চাকরি করেন। আরেক মেয়ে পড়ছেন স্কুলে। স্বামী ব্যবসার কাজে বেরিয়ে পড়েন সকাল ৯টায়। তাই ভোর ৬টায় উঠে তাদের জন্য সকালের নাস্তা তৈরি করা তার সাংসারিক কাজের প্রধান রুটিন। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে গ্যাস
 সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় তাকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নিবু নিবু গ্যাসের সংযোগে কিছুই করতে পারেন না এই গৃহিণী। তবে কেবল তিনি নন, তার মতো পার্শ্ববর্তী ডাক্তারপাড়া খ্যাত জামালখান সড়কের অনেক
বাসা বাড়িতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে দুই সপ্তাহ ধরে। চট্টগ্রামের গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় বিপাকে পড়েছেন নগরবাসী। চাহিদার তুলনায় অনেক কম গ্যাস সরবরাহ হওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিও। ইতিমধ্যে গ্যাস সংকট নিরসনের দাবি জানিয়ে রাস্তায় মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন পেশার মানুষজন। চট্টগ্রামের গ্যাসের চাহিদা সাড়ে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু তার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কুমিল্লার বাখরাবাদ থেকে ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ দিয়ে চাহিদার বিপরীতে এই সরবরাহ করা হচ্ছে। বাসাবাড়ির পাশাপাশি এই সংকট ছড়িয়ে পড়েছে বড় বড় কারখানাতেও। বিশেষ করে কাফকো সারকারখানা ও রাউজান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট ইতিমধ্যে গ্যাস সংকটের কারণে বেশ বিপাকে পড়েছিল। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম শহরে গ্যাস ব্যবহারকারী গ্রাহকের সংখ্যা তিন লাখ ৬০ হাজারের বেশি। যার মধ্যে শিল্পকারখানায় রয়েছে ১৫০০। অন্যদিকে  সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে ৬০টি। আবাসিক এলাকায় গ্যাসের চাহিদা সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি। সরজমিনে কথা বলে জানা যায়, এই মুহূর্তে বন্দরনগরীতে জামালখান, নাসিরাবাদ, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ এলাকায় গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এসব এলাকায় প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত জ্বলছে না কোনো চুলা। অনেক সময় রাতেও থাকছে না। চট্টগ্রামের রেয়াজুদ্দিন বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী শেখ সেলিম বলে, আমার বাসা বাকলিয়াতে। সেখানে আমার স্ত্রীকে গত ৫ দিনের বেশি সময় ধরে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে সকালের নাস্তা নিয়ে। এমনিতো সে অনেক অসুস্থ। তার ওপর গ্যাস সংকট কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছে। একই রকম ক্ষোভ প্রকাশ করে আগ্রাবাদ এলাকায় এক গৃহিণী শাহিনা আকতার বলেন, সিলিন্ডার কিনে তো আর পোষায় না। সংসারে অনেক মানুষ। সকালের নাস্তার পর দুপুরের খাবারের কথা চিন্তা করতে হয়। সেখানে ৩টা পর্যন্ত গ্যাসের দেখা নেই। জানতে চাইলে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার সুধীর কুমার সাহা বলেন, গ্যাস সংকট এখন কিছু বেড়েছে সত্যি। তবে তা সমাধানের জন্য উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে কথা হচ্ছে নিয়মিত। তিনি আরও বলেন, চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম থাকায় এমন ভোগান্তি বেড়েছে। সরকার থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রতিদিনই কথা হচ্ছে। জানা গেছে, দৈনিক গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে চলতি মাসের গত ১৮ই জানুয়ারি থেকে সরবরাহ কমে দিন দিন তা নিচের দিকে নেমে আসছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের দুটি বড় সংগঠন চিটাগাং চেম্বার ও মেট্রোপলিটন চেম্বার সমাধান চেয়ে চিঠি দিয়েছে জ্বালানি উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, জ্বালানি সচিব ও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে।
চিটাগাং চেম্বারের সভাপতির পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সচিব প্রকৌশলী আলমগীর কবির স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রামে বছরের পর বছর চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাস সরবরাহের কারণে শিল্পায়ন বন্ধ রয়েছে। চলমান শিল্প কারখানাগুলোর অবস্থাও নাজুক। তাই দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু ও দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগরীর প্রায় ৫০ লাখেরও অধিক অধিবাসী, শিল্পোদ্যোক্তাদের নাজুক অবস্থা বিবেচনাপূর্বক জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় গ্রিড হতে চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

সরকারকে অ্যামনেস্টির জবাব

গত বছর ২৭শে অক্টোবর লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দেয়া এক বিবৃতির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নোটের জবাব দিয়েছে সংস্থাটি । এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘গত বছরের ৬ই নভেম্বর লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার খোন্দকার এম. তালহার মারফতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সরকারের একটি আনুষ্ঠানিক নোট হাতে পায়। দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রত্যাসন্ন ফাঁসির বিষয়ে ২৭শে অক্টোবর আমাদের দেয়া বিবৃতির জবাবে বাংলাদেশ সরকার ওই নোট দেয়।’ এই নোটের জবাবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গণমাধ্যমে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক উত্থাপিত মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা একটি চিঠিতে ওই নোটে উল্লিখিত অভিযোগসমূহের জবাব দিয়েছি। এ ছাড়া নীচের বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়েছি।’ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ বিবৃতিতে মোট ৫টি অংশে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছে।
বিবৃতির প্রথম অংশে বলা হয়েছে, ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি স্বাধীন ও পক্ষপাতহীন সংগঠন। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার ও অপরাধীদের দায় নিশ্চিতের জন্য এটি প্রচারণা চালিয়ে থাকে। অপরাধীরা কারা বা তাদের কোনো রাজনৈতিক সমপৃক্ততা আছে কি না, সেগুলো এক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় না। আমরা বাংলাদেশ বা কোথাও কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন বা বিরোধিতা করি না। বাংলাদেশ নিয়ে আমরা কয়েক দশক ধরে কাজ করেছি। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ জাতীয় পার্টি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও মানবাধিকার পরিস্থিতি নথিভুক্ত করেছি। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, সামপ্রদায়িক সহিংসতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের শিকার ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও তাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পূর্ববর্তী সরকারসমূহের প্রতি আমরা সুপারিশ জানিয়েছি। নিজেদের নোটে বাংলাদেশ সরকার উপসংহার টেনেছে যে, বিবৃতিতে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ‘বিরোধীদলীয় নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করায় তাদের বিচারের ক্ষেত্রে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পক্ষপাতদুষ্ট পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়েছে। আমাদের ২৭শে অক্টোবরের বিবৃতি ও পূর্বের আরও দুইটি বিবৃতিতে এ দুই দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীর যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আমরা উল্লেখ করেছি, তা ছিল তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রকাশ্য বিবরণ এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাদের যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে।’
বিবৃতির দ্বিতীয় অংশ অ্যামনেস্টি বলেছে, ‘সরকারের নোটে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে বিচারের পক্ষপাতদুষ্টতা সমপর্কে মাত্রাজ্ঞানহীন মন্তব্য করার অভিযোগ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এতে কেবল অপরাধী ও তাদের সমর্থকদের স্বার্থ হাসিল হয়েছে। আমরা বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষকে বহু বছর ধরে ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণ-সহিংসতার বিচারহীনতার দিকে নজর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছি। এ বিচারহীনতা পূর্ববর্তী সরকারসমূহের অসক্রিয়তার দরুন প্রোথিত হয়ে গিয়েছিল। আমরা ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দিই। ২০০৮ সালে যুদ্ধাপরাধের ক্ষেত্রে মানবাধিকার বিষয়ক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও অন্যান্য মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাবলী তদন্তে একটি স্বাধীন আনুষ্ঠানিক কমিশন প্রতিষ্ঠার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে আমরা সুপারিশ করেছিলাম। এ ছাড়াও, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে সরকারি প্রতিনিধি ও আদালতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি-বিডি) প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানিয়েছিল। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচারের মানদণ্ড এ বিচার প্রক্রিয়ায় অনুসরণ করার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছি। বলেছি, মৃত্যুদণ্ড এক্ষেত্রে প্রয়োগ করা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত অপরাধ ও মানবাধিকারের অন্যান্য মারাত্মক লঙ্ঘনে  সংশ্লিষ্টতার জোরালো সন্দেহ রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে, তাদের সকলের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করার আহ্বান জানায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, ‘বাংলাদেশের সংঘাতে’ উভয় পক্ষের দ্বারা আন্তর্জাতিক আইনানুসারে স্বীকৃত অপরাধ সংঘটন ও অন্যান্য মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেয়ার পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান সংঘাতের মতো এখানেও আমরা উভয় পক্ষের দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের আহ্বান জানাই।’
বিবৃতির তৃতীয় অংশে মানবাধিকার সংগঠনটি বলেছে, ‘আইসিটি-বিডি’তে অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর পর থেকেই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গবেষণা পরিচালনা করেছে। এতে আইনগতভাবে ও বাস্তবে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের আইনগত মানদণ্ডের মারাত্মক লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সরকারের কাছে এ উদ্বেগের বিষয়গুলো জানানো হয়েছে। এরপর থেকেই পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ায় ত্রুটির দৃষ্টান্ত সরকারের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়েছে। প্রকাশ্যে লভ্য নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে যে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টসসহ বৃহৎ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনসমূহ, বিদেশি সরকারের কর্মকর্তারা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও বিচার ও আপিল প্রক্রিয়া নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এসব উদ্বেগ নিরসনে সরকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি।’
বিবৃতির চতুর্থ অংশে সংস্থাটি লিখেছে, ‘কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই সকল ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এক্ষেত্রে অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি; ব্যক্তিবিশেষের দোষ, নিষ্কলুষতা বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্য এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকরে রাষ্ট্রভেদে ব্যবহৃত পৃথক পদ্ধতি বিবেচনায় নেয়া হয় না। মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্তির আহ্বান জানানোর মানে এই নয় যে, কোনো অপরাধ শাস্তি ব্যতিরেকে পার পেয়ে যাক। বরং, এর অর্থ মৃত্যুদণ্ড ব্যতীত পক্ষপাতহীন বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমাদের নজরে আসা সকল ক্ষেত্রে, বাংলাদেশে কারও প্রত্যাসন্ন ফাঁসির বিষয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। এক্ষেত্রে কে বা কারা এ ফাঁসির মুখোমুখি হচ্ছে, তা বিবেচনা করা হয়নি। বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের বিলুপ্তির জন্য আমরা প্রচারাভিযান অব্যাহত রাখবো।’
বিবৃতির পঞ্চম ও শেষ অংশে বলা হয়েছে, ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সরকারের সদস্যদের সঙ্গে এসব ইস্যু নিয়ে আরও আলোচনা করতে অধীরভাবে আগ্রহী। দেশটিতে গিয়ে সংলাপে বসার জন্য ও বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও মূল্যায়নের জন্য আমাদের প্রতিনিধিদের ভিসা দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী-রওশন বৈঠক সরকারেই থাকছে জাতীয় পার্টি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পর সরকারের সঙ্গেই থাকার কথা জানিয়েছেন বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ। গতকাল সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকরা রওশন এরশাদের কাছে জানতে চান তার দল সরকারে থাকছে কিনা? জবাবে রওশন শুধু ‘না’ বলেন। সন্ধ্যা ৫টা ৩৫ মিনিটে বিরোধীদলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীর অফিসে যান। প্রায় ৪০ মিনিটের বৈঠকে তার সঙ্গে ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও ফখরুল ইমাম। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রওশনের বৈঠকের সময় সংসদ সচিবালয়ে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচএম এরশাদ। বৈঠক শেষে রওশন এরশাদ তার কার্যালয়ে ফিরে দলের কয়েক এমপি ও তার সঙ্গে যাওয়া ওই তিন নেতাসহ প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। একই সময় অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন এইচএম এরশাদ, সদ্য নিয়োগ পাওয়া দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারসহ আরও কয়েক এমপি। এ সময় সংসদ অধিবেশনে জাতীয় পার্টির কোনো এমপিকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। বৈঠক প্রসঙ্গে রওশন এরশাদ বলেন, ময়মনসিংহের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলাম। তার সঙ্গে এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তিনি উন্নয়নমূলক সব কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। মন্ত্রিসভা ও দলের সংকট নিয়ে কোনো আলাচনা হয়েছে কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন না, এসব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। জাতীয় পার্টিতে কোনো সংকট নেই বলেও জানান তিনি। বলেন, এসব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কেন যাবো। একই বিষয়ে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ মানবজমিনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বৈঠকের জন্য সময় আগেই পাওয়া গিয়েছিল। সেকারণে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বৈঠকটি হয়েছে। তবে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে তা এখনও জানি না। বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। একই বিষয়ে দলের মহাসিচব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আমরা জেনেছি দুই জনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কি আলোচনা হয়েছে তা জানি না। এদিকে দলের শীর্ষ এক নেতা মানবজমিনকে বলেন, ওই বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা সম্প্রতি দলের মধ্যে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। একইসঙ্গে দলের চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের মনোভাব ও তার ভূমিকার ব্যাখ্যা করেন। এদিকে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, শিগগিরই হয়তো দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এখনও দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি।
মন্ত্রিত্ব ছাড়বেন না জাপার তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী: জাতীয় পার্টি থেকে সরকারে যোগ দেয়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা তাদের মন্ত্রিত্ব ছাড়বেন না। পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের পদত্যাগের নির্দেশনা এরই মধ্যে কয়েক দফা প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা। আগামীতে মন্ত্রিত্ব ছাড়ার নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হবে না। জাতীয় পার্টির একাধিক সিনিয়র সদস্যের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করাতে বর্তমানে এক মেরুতে অবস্থান করছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, বেগম রওশন এরশাদ ও সদ্য নিয়োগ পাওয়া কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। শুধু এ বিষয়টি ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে তাদের মধ্যে আপাতত ঐকমত্য নেই। জাতীয় পার্টির একাধিক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, জাতীয় পার্টিতে কো- চেয়ারম্যান পদে জিএম কাদের ও নতুন মহাসচিব পদে রুহুল আমিন হাওলাদারকে নিয়োগ দেয়ার পরই দলে দৃহদাহ শুরু হয়। জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু রওশন এরশাদকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলে ঘোষণা করেন। এ নিয়ে নতুন করে দুই গ্রুপের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। সরকারের সঙ্গে যোগ দেয়া তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতা ও এইচএম এরশাদের সহধর্মিণী রওশন এরশাদের দলে যোগ দেন। কিন্তু বিরোধীদলীয় নেতা মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে তিন সদস্যকে অনুরোধ করেন। তাদেরকে রওশন এরশাদ বলেন, আমরা সত্যিকারের বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চাই। আপনারা সহায়তা করেন। আপনারা মন্ত্রী থাকলে জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা যাচ্ছে। এ কারণে দলের ক্ষতি হচ্ছে। এ সময় সরকারে যোগ দেয়া মন্ত্রীরা বলেন, মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করলেই কি সত্যিকারের বিরোধী দল হয়ে গেল। আমরা পদত্যাগ করার পরও মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা থাকবেন। তখন কি বলবেন? এছাড়া আপনিও সংসদের ভেতরে বা বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে কোন বক্তব্য দিচ্ছেন না। এটা কি জাতীয় পার্টির জন্য সুখবর। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিরোধী দলের নেতা বলেন, আপনারা পদত্যাগ করলে পার্টির চেয়ারম্যানকে বিষয়টি বুঝানো যাবে। প্রয়োজন পড়লে বিষয়টি ওয়ার্কিং কমিটিতে আবার আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে পার্টির চেয়ারম্যান, কো-চেয়ারম্যান বা বিরোধীদলীয় নেতা কারও কথা শুনবেন না তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে গ্রীন সিগন্যাল পেলেই তারা পদত্যাগ করতে পারেন।

শ্রমিক অধিকার নিরাপত্তা বৃদ্ধির তাগিদ

বাংলাদেশে পোশাক কারখানায় সংস্কার অব্যাহত রাখা এবং শ্রমিক নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা জানান, পোশাক খাতে কর্ম পরিবেশ অগ্রগতি সন্তোষজনক। তবে শ্রমিক অধিকার, স্বাধীন শ্রমিক কর্ম পরিবেশ চর্চার অধিকার এখনও কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাইনি। এ ক্ষেত্রে এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনসহ (ইপিজেড) শ্রম আইন সংশোধনের তাদিগ দেন তারা। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ সাসটেইনাবিলিটি কমপ্যাক্ট শীর্ষক দ্বিতীয় পর্যালোচনা বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। বৈঠক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতউল্লাহ আল মামুন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব শহিদুল হক ও শ্রম সচিব মিকাইল শিপার উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই বছর পর অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিশেষভাবে পোশাক কারখানার বৈদ্যুতিক ও অগ্নি নিরাপত্তার ওপর জোর দেয়া হয়। পোশাকের মূল্য বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে পোশাক খাতের সংস্কারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তরা তৈরি পোশাকের মূল্য বাড়ানোর জন্য বিদেশি ক্রেতাদের আহ্বান জানান। তারা বলেন, ক্রেতাদের নিকট থেকে পোশাকের সঠিক মূল্য পেলে শ্রমিকদের সন্তুষ্ট রাখা যায়। একইসঙ্গে কারখানার কর্মপরিবেশও উন্নতি করা সম্ভব। রানা প্লাজা ধসের পর গত দুই বছরে কারখানা সংস্কারে ব্যাপক অর্থ ব্যয় হয়েছে। এতে একজন মালিকের কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়। ফলে ব্যয় নির্বাহের জন্য হলেও ক্রেতাদের পোশাকের মূল্য বাড়ানো দরকার বলে অভিমত ব্যক্ত করেন উদ্যোক্তারা।
বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দুই বছরে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আলোচনায় সবাই তা স্বীকার করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আইএলও বলেছে, তারা আমাদের সহযোগিতা করবে। আমরা সবার সহযোগিতা চাই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইকেল জে ডিলানি বলেন, অ্যাসোসিয়েশনের সংখ্যা, কারখানা সংস্কার ও শ্রমিক নিরাপত্তা বাস্তবায়নে আরও অগ্রগতি বাড়াতে হবে। সার্বিক মান বাড়ানোর তাগিদও দেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি সান্দ্রা গ্যালিনা বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, তৈরি পোশাক কারখানায় নিরাপত্তার জন্য মালিকরা অনেক টাকা ব্যয় করেছে। এখন কারখানার কর্মপরিবেশ সন্তোষজনক। পোশাকের মানও বাড়ছে। এখন দাম বাড়ান বলে আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন ২১৯ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় ভালো আছে। তবে উদ্যোক্তারা ভালো নাই। রানা প্লাজা ধসের পরে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর উন্নতিতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে সকল পক্ষ সন্তুষ্ট বলে সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
ইপিজেড আইন বিষয়ে শ্রম সচিব মিকাইল শিপার বলেন, শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ইপিজেড-এ ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন আছে। এই ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনকে আইন অনুযায়ী কোনো সংশোধন করা যায় কিনা তা ভেবে দেখতে হবে।
শ্রমিকনেত্রী কল্পনা আক্তার বলেন, শ্রমিকদের সম্মানজনক বেতন দিতে হলে পোশাকের মূল্য বাড়াতে হবে। সভায় মালিকপক্ষেও একই দাবি জানান। এ ছাড়া কার্যকর আর্থিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় ক্রেতারা কারখানায় শ্রমিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা ও মালিক শ্রমিকের মধ্যে সামাজিক সংলাপ করার তাগিদ দেন। একইসঙ্গে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণে বেশি করে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন ক্রেতারা।
শ্রমিক নেতা ওয়াজেদুল ইসলাম খান শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ক্রেতাদের ১০ শতাংশ করে পণ্য মূল্য বৃদ্ধি করতে হবে। এতে শ্রমিকরা উপকৃত হবে।
এইচঅ্যান্ডএম প্রতিনিধি রজার হুবার্ট বলেন, নিরাপত্তার জন্য বিনিয়োগ এর জন্য ক্রেতাদের দায়ী করা যায় না।
দিনব্যাপী এ সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, কূটনৈতিক, বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ, শ্রমিকনেতা ও বিভিন্ন দেশের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্ম-পরিবেশে ‘নিশ্চিত’ হতে চায় কানাডা
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট’- শীর্ষক আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে কানাডা। দেশটির ঢাকাস্থ হাইকমিশনার বেনওয়া পিয়ের লাঘামে গতকাল এ বিষয়ে বলেন, কানাডা বাংলাদেশের  তৈরী পোশাক খাতের সংস্কার কর্মসূচির অন্যতম সমর্থক। কানাডিয়ানরা বাংলাদেশে তৈরি পোশাক পরিধান করছে এবং তারা নিশ্চিত হতে চায় যে- এই সকল পোশাক একটা ন্যায্য ও নিরাপদ কর্ম-পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে।  এ কারণেই একজন অংশীদার হিসেবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা এবং বাংলাদেশে নিরাপদ কর্ম-পরিবেশ নিশ্চিতকরণে গৃহীত উদ্যোগ সমূহকে আরও গতিশীল এবং উদ্দীপ্ত করতে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করার লক্ষ্যে কানাডা সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট-এর সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছে। হাইকমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়- ২০১৩ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে ওই ‘সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট’ কর্মসূচি গ্রহণ করে। যার পুরো নাম ‘সম্পৃক্ত থাকা: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পের শ্রমিকদের অধিকার এবং কারখানার নিরাপত্তার নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যে টেকসই চুক্তিনামা।’ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- ২০১৩ সাল থেকে কানাডা তৈরি পোশাক খাতের সংস্কার কর্মসূচিতে অঙ্গীকারবদ্ধ ও সক্রিয়। বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ‘বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের কর্ম-পরিবেশের উন্নয়ন’- শীর্ষক যৌথ প্রকল্পে ৮ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কানাডা সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট-এর অঙ্গীকারসমূহের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। ৩ সচিব ও ৫ রাষ্ট্রদূতের (৩+৫) যৌথ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য হাইকমিশনার লাঘামে অন্যান্য রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করেন। কানাডা সরকার প্রতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক বিধিবদ্ধতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার জন্য দেশটির প্রতিষ্ঠানসমূহকে ক্রমাগত উৎসাহিত করে এবং সম্প্র্রতি দায়িত্বশীল সাপ্লাই চেইন সম্পর্কিত এ-৭ অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

রবি-এয়ারটেল মিলে রবি

আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ (আজিয়াটা) এবং ভারতীয় এয়ারটেল লিমিটেড (ভারতি), বাংলাদেশে রবি আজিয়াটা লিমিটেড (রবি) ও এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেডের (এয়ারটেল) কার্যক্রম একীভূত করতে আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে উপনীত হয়েছে। ২০১৫ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর দুই কোম্পানির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম একীভূত করার সম্ভাবনার বিষয়ে একান্ত আলোচনা শুরুর ঘোষণা দেয়ার পর এ চুক্তি হলো। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রবি কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, একীভূতকরণের পর, দুই কোম্পানির একীভূত সত্তা রবি নামেই ব্যবসা পরিচালনা করবে এবং একীভূত সত্তার গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৪ কোটিতে। রবি ও এয়ারটেলের যৌথ সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিস্তৃত মোবাইল নেটওয়ার্কের অধিকারী হবে এই একীভূত সত্তা। এর ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে টেলিযোগাযোগ এবং উচ্চগতির মোবাইল ইন্টারনেট সেবা দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে এবং তা ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা আশা করছি। এই চুক্তির কার্যকারিতা টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ (রেগুলেটরি), সরকার এবং আদালতের অনুমোদন পাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। এ প্রক্রিয়া আগামী দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রবির প্রধান নির্বাহী সুপুন বীরাসিংহে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অসম প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং প্রতিযোগী বহুল টেলিকমিউনিকেশন খাতে একীভূতকরণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমরা মনে করি এই একীভূতকরণের মাধ্যমে আজিয়াটা এবং ভারতি এয়ারটেল উভয়েই বর্ধিত আকার এবং দক্ষতার ফলে ব্যয় সংকোচনের সুবিধা পাবে। পাশাপাশি, এর ফলে কর্মকৌশলের সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন এবং গ্রাহকদের আরও সাশ্রয়ী সেবা দেয়ার লক্ষ্যে যে কোনো বিনিয়োগে এ খাতের দুই শীর্ষস্থানীয় অপারেটর তাদের সম্মিলিত ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারবে, যা এ শিল্পের সার্বিক কল্যাণ করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সামনের দিনগুলোতে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী মূল্যে সবচেয়ে সেরা মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড অফার দেয়ার লক্ষ্যে রবি এবং এয়ারটেলের সমন্বিত শক্তিকে কাজে লাগানো হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই একীভূতকরণ গ্রাহকদের জন্য বড় ধরনের পার্থক্য সৃষ্টি করবে এবং তাদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক প্রস্তাবনা দেয়া সম্ভব হবে। আজিয়াটার প্রেসিডেন্ট এবং গ্রুপের প্রধান নির্বাহী দাতোশ্রী জামালুদ্দিন ইব্রাহিম বলেন, ‘আজিয়াটার একীভূতকরণ এবং আত্মীকরণ কৌশলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিভিন্ন দেশে আমরা নিজেদের অবস্থান জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এ ধরনের একীভূতকরণে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়েছি। ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ক্যাম্বোডিয়ার মতো বাজারে এ ধরনের একীভূতকরণ এবং আত্মীকরণে আমাদের সাফল্য বাংলাদেশের বাজারেও একীভূতকরণে আজিয়াটার নেতৃত্বদানের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে। বাংলাদেশে আজিয়াটার দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের বিষয়ে আবারও গুরুত্বারোপ করে জামালুদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ ক্ষেত্র। আজিয়াটা সেই ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে প্রথম বিনিয়োগ করে। এ অঞ্চলের অন্য সব বিনিয়োগ ক্ষেত্রের মতো আজিয়াটা বাংলাদেশেরও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুধু টেলিযোগাযোগ খাতেই নয় বরং বাংলাদেশের অর্থনীতি, জনগণ এবং প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে আমাদের অবদানের বিষয়েও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ ভারতি এয়ারটেলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও (ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া) গোপাল ভিত্তাল বলেছেন, দুটি কোম্পানির শক্তিকে একত্রিত করার পেছনে অত্যন্ত যৌক্তিক কারণ রয়েছে। একীভূত এ সত্তা তার কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটিয়ে গ্রাহকদের বিশ্বমানের আরও ভালো সেবা দিতে সক্ষম হবে এবং বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।

শাহজালালের নিরাপত্তায় যৌথবাহিনী

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়াতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরামর্শ অনুযায়ী নয়া উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিমানবন্দরের কার্গো এরিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রথম ধাপে যৌথ বাহিনী গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে এ বাহিনীতে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত ১০০ জন সদস্যকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জন পুলিশ, ৪০ জন বিমান বাহিনী ও ২০ জন আনসার বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। এ সদস্য সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। এ ছাড়া লাগেজ স্ক্যানিং মেশিন, মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে মেশিন চালাতে দক্ষ কর্মী নিয়োগ করার প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া অচল সিসি ক্যামেরা চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য নতুন স্থান নির্ধারণ করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, এয়ারপোর্টের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নতুন করে নিয়োগকৃত যৌথ বাহিনী শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (নিরাপত্তা)-এর নির্দেশে কাজ করবে। পাশাপাশি লাগেজ স্ক্যানিং মেশিন, মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে মেশিন সচল রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও করবেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউরোপে সরাসরি পণ্য রপ্তানি করতে এয়ার কার্গো সিকিউরিটি-৩ (এসিসি-৩) ও রেগুলেশন এজেন্ট-৩ (আরএ-৩) সনদ নবায়ন করেছে বাংলাদেশ বিমান। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ইইউর শর্তানুযায়ী বিমানকে সনদ  দেয়া হয়। শর্তে বলা হয়েছে, শাহজালালে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে কার্গো শাখায় উন্নতমানের স্ক্যানিং মেশিন ও আর্চওয়ে স্থাপন করতে হবে। বিমানবন্দরে আসা লোকজনকে এসব মেশিনের ভেতর দিয়ে চলাচল করতে হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কোনো দেশের ফ্লাইট চালাতে হলে সে দেশের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশনের (এফএএ) ক্যাটাগরি-১ ছাড়পত্র দরকার হয়। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এই ছাড়পত্র না থাকায় এখানকার কোনো বিমান সে দেশে যেতে পারছে না।
এদিকে স্ক্যানিং মেশিন ও আর্চওয়ে ব্যবহার নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপত্তি দেখা দিয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কাস্টমস কর্মকর্তারা ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস চালানোর নিয়ম কানুন মানছেন না। এ নিয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এ ব্যাপারে কাস্টমস কমিশনার ও শাহজালালের নিরাপত্তা পরিচালকের কাছে লিখিত নালিশ জানানো হয়েছে। বিমানের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকার নির্দেশ দিয়েছে, আর্চওয়ে ও স্ক্যানিং  মেশিন সবাইকে ব্যবহার করতে হবে। আমাদের সঙ্গে কোন সংস্থার বিরোধ থাকলে চলবে না। সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। দেশের স্বার্থেই শাহজালালে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এদিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপের পর কূটনৈতিক কার্যক্রমে সহায়তাকারী প্রটোকল এসিস্ট্যান্টদের চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সমপ্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে বলা হয়েছে, কূটনীতিক বা কর্মকর্তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত কিংবা বিদায় জানাতে সহায়তাকারী অনুমোদিত প্রটোকল এসিসট্যান্টরা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন গেট পর্যন্ত যেতে পারবেন। তাদের গেটের ভেতরে প্রবেশ করতে বারন করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জরুরি ওই সার্কুলার ইস্যুর বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছে। সূত্র মতে, আদেশের অনুলিপি মন্ত্রণালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা, ফরেন সার্ভিস একাডেমির কর্মকর্তা এবং বিদেশস্থ বাংলাদেশের সব মিশনে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, আগে প্রটোকল এসিস্ট্যান্টরা ইমিগ্রেশন পর্যন্ত যেতে পারবেন। এতে কর্মকর্তা-বিশেষ করে তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের স্বাগত কিংবা বিদায় জানানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে পারতেন। নয়া ওই আদেশ ইস্যুর পর বিষয়টি নিয়ে দেশীয় কূটনীতিকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, দেশের প্রধান বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে বার বার অসন্তুষ্টির কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তারা নিরাপত্তা বাড়ানোরও তাগিদ দেয়। সম্প্রতি সারা বিশ্বে কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়াতে তাগিদ দেয় এসব দেশ। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়ে বুধবার এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এয়ারপোর্টের সিকিউরিটি এখনই না বাড়াই, শুধু বাড়ানো না, এটাকে একেবারে ভিজিবল করতে হবে। সেটা যদি না করি তাহলে আমাদের বিমান কিন্তু লন্ডনে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় কিন্তু আমরা এখনও (ফ্লাইট) পাঠাতে পারছি না। একটাই কারণে। এখনও কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে এ গ্রেডে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়নি।’

প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, আইনমন্ত্রী

বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও এর্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম। সন্ধ্যা সাতটার পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন। এর আগে যান আইনমন্ত্রী। রাত ১০টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করেন। অবসরে গিয়ে রায় লেখার বিষয়ে প্রধান বিচারপতি দেয়া বক্তব্য ঘিরে চলা আলোচনার মধ্যেই সাংবিধানিক শীর্ষ পদধারীদের এ সাক্ষাৎ হলো। তবে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে কিছু জানানো হয়নি। যদিও আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এটি নৈশভোজের আয়োজন ছিল। এর বাইরে কিছু ছিল না।

ছারপোকার শক্তি বেড়েছে: গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্রের এক নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে ছারপোকাদের কীটনাশক সহ্য করার ক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সিনসিন্যাটি এবং মিশিগানে ছারপোকার ওপর পরীক্ষা চালিয়ে তারা দেখেছেন এদের ধ্বংস করতে হলে আগে যে কীটনাশক ব্যবহার করতে হতো এখন তার শক্তি আগের চেয়ে একহাজার গুণ বেশি দরকার হয়।
কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার না করে কিভাবে ছারপোকার বংশ উজাড় করা যায়, এখন সেটাই ভাবার সময় এসেছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।
বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দেশে বিদেশে মানুষের ভ্রমণ বেড়ে যাওয়ার ফলে চ্যাপ্টা আকারের ছারপোকা এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষভাবে সস্তা হোটেলগুলোতে এর উপদ্রবে মানুষ এখন অতিষ্ঠ।
হোটেলের অতিথিরা ঘুমিয়ে পড়ার পর এরা রক্তপান শুরু করে এবং পরের দিন হোটেলের অতিথি জেগে ওঠেন দেহে চুলকানি আর ছোপ ছোপ লাল দাগ নিয়ে।
হোটেল থেকে এখন এরা ছড়িয়ে পড়ছে বাসাবাড়িতে যেখান থেকে এদের নির্মূল করা প্রায় অসম্ভব।
গবেষকরা বলছেন, ছারপোকা রক্তপান না করে এক বছর পর্যন্ত বেঁছে থাকতে পারে।
আর একটি মেয়ে ছারপোকা পুরো একটি বহুতল ভবনে বাচ্চাকাচ্চা ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।
সুত্রঃ বিবিসি

রোবটের কাছে হেরে গেল মানুষ!

কৃত্রিম বুদ্ধিসম্পন্ন রোবট নিয়ে কল্পবিজ্ঞানের কাহিনী নতুন কিছু নয়। এসব কল্পবিজ্ঞানের অনেক কাহিনী তো এরই মধ্যে বাস্তবেও পরিণত হয়েছে। আজ থেকে ২০ বছর আগে এমনই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট ডিপ ব্লু’র কাছে হেরে গেছিলেন তৎকালীন বিশ্বসেরা দাবাড়– গ্যারি ক্যাসপারভও। তখন থেকেই কৃত্রিম বুদ্ধি দিয়ে মানুষকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় রোবট শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারে গুগলের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট মানুষের বিরুদ্ধে জিতে গেছে চীনের ঐতিহ্যবাহী ‘গো’ নামের এক খেলায়। এই খেলাকে দাবা খেলার চাইতেও অনেক বেশি কঠিন মনে করা হয়। আর সেই কঠিন খেলার চ্যালেঞ্জও জয় করেছে ‘ডিপমাইন্ড’ নামের এই রোবট। একটি বিজ্ঞান গবেষণাপত্রের সঙ্গে রোবটের এই অর্জনের কথা প্রকাশ করা হয়েছে সায়েন্টফিক জার্নাল ন্যাচারে। এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। খবরে বলা হয়েছে, ‘গো’ খেলাটি চীনের কয়েক হাজার বছরের পুরোনো একটি খেলা। এই খেলায় একটি বোর্ডে সাদা ও কালো গুটি সাজানো থাকে। খেলাটিতে বিভিন্ন নিয়ম মেনে বিপক্ষের গুটিকে চারদিক থেকে বন্দী করা হয়। এই খেলার নিয়ম দাবা খেলার চাইতে সহজ হলেও এখানে নির্দিষ্ট একটি চালের সম্ভাব্যতা দাবা খেলার চাইতে বেশি। এই খেলার হারজিতের অনুমান করাও খুব শক্ত। মানুষের চিন্তা কাঠামোর মতো করে চিন্তা না করতে পারলে এই খেলা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। সেই কঠিন কাজটিকেই সম্ভব করেছে গুগলের ডিপমাইন্ড রোবট। কম্পিউটার সফটওয়্যার ধরনের এই রোবটের কৃত্রিম বুদ্ধি ‘গো’ খেলায় তিন কোটি সম্ভাব্য চাল বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। ডিপমাইন্ড প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী ডেমিস হ্যাসাবিস বলেন, এটা ঠিক একজন প্রফেশনাল খেলোয়াড়ের মতো করেই চিন্তা করতে পারে। এই খেলার কোন ধরনের চাল ভালো এবং কোন ধরনের চাল খারাপ, সেই ধরণটি শিখতে সক্ষম ডিপমাইন্ড। এটি যত বেশি খেলে, তত বেশি শেখে। এটা অনেকটা মানুষের মতোই।’ ডেমিস জানান, পরীক্ষাগারে ডিপমাইন্ডকে প্রচুর গেম খেলানো হয়েছে। তারপর এখন পর্যন্ত মানুষের সঙ্গে ৫০০টি গেম খেলেছে ডিপমাইন্ড। আর এর মধ্যে মাত্র একটিতেই হেরেছে সে। ডিপমাইন্ড প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের পরবর্তী পরিকল্পনা ‘গো’ খেলার বিশ্বসেরা খেলোয়াড় লি সিডলের সাথে ডিপমাইন্ডকে খেলানো। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে আসছে মার্চে এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দেখা যাক, লি সিডল তার মানবিক বুদ্ধি দিয়ে ডিপমাইন্ডের যান্ত্রিক বুদ্ধিকে পরাস্ত করতে পারেন কি না।

সানির অস্বস্তি

বলিউডে সানি লিওনের পথচলা বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল। এরই মধ্যে তার অভিনীত একাধিক ছবি মুক্তিও পেয়েছে। আজ মুক্তি পেলো তার অভিনীত নতুন ছবি ‘মাস্তিজাদে’। সানি এ পর্যন্ত বলিউডে যত ছবিতে অভিনয় করেছেন তার বেশিরভাগেই নগ্নতা আর যৌনতায় ছড়াছড়ি ছিল। ‘মাস্তিজাদে’ কমেডি গল্পের হলেও এতে সানিকে একাধিক ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে দেখা যাবে। এসব দৃশ্যে অভিনয় করা এ নায়িকার জন্য কোনো ব্যাপার নয়। কিন্তু হঠাৎ সানির মুখে ভিন্ন সুর। তিনি বলেছেন, ছবিটির শুটিং চলাকালে বেশ অস্বস্তিতে ছিলেন। যেসব দৃশ্যে তাকে দেখা যাবে সবই নাকি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, ছবির সংলাপ নিয়েও রয়েছে তার একাধিক অভিযোগ। সানির এসব কথায় অনেকটা অবাকই হয়েছেন সবাই। বিভিন্ন মহলে তার এ বক্তব্য নিয়ে চলছে নানান কথাবার্তা। সমালোচকদের ভাষ্য, এতদিন যে সানিকে পর্নো তারকা বলে জানতেন সবাই তার এত পরিবর্তন হলো কি করে। অনেকটা ভূতের মুখে রাম নাম শোনার মতো। কিছুদিন আগে নিজেকে বদলাবেন বলে জানিয়েছিলেন সানি। সাক্ষাৎকারে বলা সেসব কথা কি তারই ইঙ্গিত কিনা সে বিষয়েও মন্তব্য করছেন অনেকে।

মুক্তি পেলো ওবামা-মিশেলের রোমান্স

গত বছরের প্রথম দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার ‘প্রথম ডেটিং’-কে অবলম্বন করে হলিউডে ছবি নির্মাণ হচ্ছে এমন খবরে বিশ্ব গণমাধ্যমে ব্যাপক হইচই পড়ে। এবার সে একই খবর নিয়ে বিনোদন জগতে রীতিমতো চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছে ওবামা ও মিশেলের প্রেমকাহিনী নিয়ে নির্মিত ছবি ‘সাউথ সাইড উইথ ইউ’। গত বছরে ওবামা ও মিশেল ওবামার প্রথম ডেটিংকে উপজীব্য করে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে ছিলেন রিচার্ড ট্যান। যেমন কথা তেমনই কাজ। ছবি নির্মাণ হয়েছে। আর সেটা মুক্তিও পেলো। গত ২৪শে জানুয়ারি প্রিমিয়ার হয় ‘সাউথ সাইড উইথ ইউ’। মুক্তির পর চারদিকে ছবিটি নিয়ে প্রশংসা করছেন সবাই। প্রথম চারদিনে ছবিটি নিয়ে আমেরিকাসহ বিশ্বের নানান দেশের বড় মাপের পত্রিকাগুলোতে রিভিউ প্রকাশ হচ্ছে। ১৯৮৯ সালের এক গ্রীষ্মে শিকাগোর সাউথ সাইডে প্রথমবারের মতো বারাক ওবামা ডেটিংয়ের জন্য প্রস্তাব দেন মিশেল ওবামাকে। ওবামার দেয়া এ প্রেমের প্রস্তাবকে ঘিরেই ছবিটি নির্মাণ করেন রিচার্ড ট্যান। ছবিতে বারাক ওবামার চরিত্রে অভিনয় করেন পার্কার শোয়ার্স। আর তরুণী বয়সের মিশেলের চরিত্রে অভিনয় করেন গায়িকা, অভিনেত্রী টিকা সাম্পটার।

যে কারণে পণ্ড হলো রুহানি-ওঁলাদে মধ্যাহ্নভোজ

  ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদের মধ্যে পণ্ড হয়ে গেল মধ্যাহ্নভোজ। এ ভোজকে ‘কূটনৈতিক মধ্যাহ্নভোজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অনেকটা অগ্রগতি হওয়া সত্ত্বেও কেন পণ্ড হয়ে গেল এ ভোজ? এ নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু উত্তরটি অনেক সহজ। তাহলো ভোজের মেন্যুতে রাখা হয়েছিল মদ। হাসান রুহানি মেন্যু থেকে মদ বাতিল করার অনুরোধ করেন। কিন্তু ফ্রান্স তা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এজন্য পণ্ড হয়ে যায় ওই মধ্যাহ্নভোজ। রুহানিকে সাধারণ খাবারে আপ্যায়িত করা হয়। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়, ফ্রান্সের রাজধানীতে একটি রেস্তোরাঁয় হাসান রুহানির সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদে। ওই ভোজে যোগ দেয়ার পর্যায়েও ছিলেন রুহানি। কিন্তু এ নিয়ে তাদের মধ্যকার সমঝোতা ভেস্তে যায় যখন হাসান রুহানি খাবার তালিকা হালাল, এলকোহল বা মদ মুক্ত রাখার অনুরোধ করেন। বাধ্য হয়ে ফরাসি কর্মকর্তারা স্থানীয় খাবার দিয়ে আপ্যায়িত করান রুহানিকে। এতে ওঁলাদ উপস্থিত ছিলেন না। কর্মকর্তারা বলেন, ‘ইরানের প্রতি বন্ধুত্বমূলক’ খাবার তাদের প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধের বিপরীত। ওদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্টের বাসভবন এলিসি প্রাসাদ থেকে মধ্যাহ্নভোজের পরিবর্তে সকালের নাস্তা খেতে আহ্বান জানানো হয়। ফরাসি রেডিওর এক সূত্র বলেছেন, ওই কূটনৈতিক মধ্যাহ্নভোজ মিস করার মাধ্যমে দুই নেতা আলোচনার একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ হারিয়েছেন। এমন পরিবেশ নিশ্চিত হলে তারা ওই মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে অনেক বিষয় আলোচনা করতে পারতেন। হাসান রুহানি বর্তমানে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ সফর করছেন। দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক অবরোধে থাকা ইরানের ওপর থেকে তা তুলে নেয়া হয়েছে। এর ফলে কূটনৈতিক এক মিশন নিয়ে এ সফরে বেরিয়েছেন রুহানি। ইতালিতে তার সফরের সময় সেদেশের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের মেন্যু এলকোহল মুক্ত রাখা হয়। রোমের নগ্ন মূর্তিগুলো ঢেকে দেয়া হয়। সেখানে রুহানি ১২০০ কোটি পাউন্ডের ব্যবসায়ী চুক্তি সম্পন্ন করেন। উল্লেখ্য, ইরানি কর্মকর্তারা ইতালিকে ওই মূর্তিগুলো ঢেকে দিতে বলেন নি। তা সত্ত্বেও সদিচ্ছার প্রকাশ হিসেবে ইতালি তা করেছে। ওদিকে রুহানির ফ্রান্স সফরের প্রতিবাদ হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা ওঁলাদের প্রতি দাবি জানায় তিনি যেন ইরানের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করেন। ইরানে অনেক মানুষকে জেল দেয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। সমকামী নারীদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভাড়া বাড়ালে রেলের যাত্রী ও আয় কমবে: যাত্রীকল্যাণ সমিতি

  বছর বছর রেলভাড়া বৃদ্ধি করা হলে রেলের যাত্রী ও আয় কমবে। আর এভাবে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে সংস্থাটি। এতে রেলকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়ন সহজ হবে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। রেলের অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ করে কোচ ও গতি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংগঠনটির রেলপথ বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা আরও বলেন, একক যাত্রী প্রতি খরচ কমিয়ে রেলখাতে লোকসান কমানোর পাশাপাশি ধীরে ধীরে লাভজনক করা সম্ভব। এজন্য সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি বলে দাবি করেন সংগঠনটি। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সারা দেশে রেলের বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ রাজেকুজ্জামান রতন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও এফবিসিসিআই’র পরিচালক আবদুল হক, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, রেলপথ বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক মহিউদ্দীন আহমেদ প্রমুখ। সভায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, আমরা কথায় কথায় ভারতের উদাহরণ দিলেও ভারত কীভাবে রেল খাতে উন্নয়ন করেছে তা কাজে লাগাতে চাই না। বিশ্ব ব্যাংকের যে ঋণ গ্রহণ করা হচ্ছে তা রেলের উন্নয়নের চেয়ে দুর্নীতি ও লুটপাটে বেশি ব্যবহৃত হবে। এ ঋণের শর্ত হিসেবে বছর বছর ভাড়া বাড়ালে রেলে লুটপাট ও দুর্নীতি আরও বেড়ে যাবে। তিনি রেলের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের একটি স্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে আজ তলা ফুটো কলসীতে পরিণত হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধি করে রেলের লোকসান কমানো বা লাভজনক করা যে কোনভাবে সম্ভব নয়, তা ২০১২ সালে ব্যাপক ভাড়া বৃদ্ধির পর প্রমাণিত হয়েছে। তিনি যাত্রী সেবার মান বাড়ানোর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য জোর দাবি জানান।

গণতন্ত্র এখন আইসিইউতে: নজরুল

দেশের গণতন্ত্র আজ আইসিইউতে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন, যে গণতন্ত্রের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেই গণতন্ত্র আজ আইসিইউতে আছে। একে বাঁচাতে হবে। এজন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮০তম জন্মবার্ষিকী, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার-সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষা ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এ চিকিৎসক সভার আয়োজন করে। জিয়া পরিবার ও বিএনপিকে টার্গেট করে ধ্বংস করা হচ্ছে বলে অভিযোগ নজরুল ইসলাম খান বলেন, শাসকগোষ্ঠী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম বাংলাদেশের মাটি থেকে মুছে ফেলতে চায়। জিয়াউর রহমানের নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। যে সব বই-পুস্তকে জিয়ার নাম আছে সেসব বই লাইব্রেরি থেকে বের করে তা পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ টার্গেট করে জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে, খুন-গুম ও কারাগারে আবদ্ধ করা হচ্ছে। নজরুল ইসলাম খান বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের এজেন্ট বলেন; তারা একবারও ভাবেন না জিয়াউর রহমান যদি পাকিস্তানের এজেন্ট হন তাহলে তাকে যিনি বীর উত্তম খেতাব দিয়েছেন তিনি কি? জিয়ার কবর সরানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি মনে করি- তারা এখন জিয়াউর রহমানের মাজার সরানোর দুঃস্বপ্ন দেখছে। শেখ মুজিবুর রহমানের কবর যেহেতু ঢাকা থেকে অনেক দূরে তাই তারা তাদের নেতার কবর ঢাকায় নিয়ে আসতে চান। আমি তাদেরকে বলবো, ঠিক আছে ঢাকায় এনে আবার জানাজার ব্যবস্থা করুন। লোক সমাগম দেখান, দেখেন জিয়ার জানাজায় যত লোক হয়েছিল তত হয় কি না। আপনারা অরগানাইজ করতে পারেন। কিন্তু মনে রাখা উচিত, লাখো-কোটি লোক জিয়াকে ভালোবাসেন এটা জিয়াউর রহমানের অপরাধ না। বিএনপি’র এই নেতা বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে যাদের যুদ্ধে যাওয়ার সামর্থ্য ছিল তারা যুদ্ধে না গিয়ে বরং জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করেন। এতে তাদের লজ্জা হয় না? তাদের নেতাদের সম্পর্কে কিছু বললে সারা দেশে ১২০টি মামলা হয়। কিন্তু একবারও তারা ভাবেন না অন্যদলের নেতাদের সম্পর্কে বাজে কথা বললে অন্যরাও অসন্তুষ্ট হন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের স্বার্থ ছাড়া কিছুই করেননি। তিনি নিজ উদ্যোগে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে নিজ হাতে যুদ্ধ করেছেন। তিনি নিজের স্ত্রী; পরিবার ও দলের কথা ভাবেননি। সব সময়ে দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন। বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে ভূমিকা রাখেননি। কীভাবে যুদ্ধ হয়েছে তিনি তাও দেখেননি। কিভাবে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে তিনি শুনেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে রিজভী আহমেদ বলেন, মুুক্তিযুদ্ধে যাদের ভূমিকা নেই তাদেরকে জোর করে জাতির পিতা ও স্বাধীনতার ঘোষক বানাতে চান। তাহলে আপনার র‌্যাব, পুলিশ দিয়ে অনেককে গ্রেপ্তার করাতে পারেন। মানিকদের মতো বিচারকদের দিয়ে ইতিহাসের পাতা পাল্টে দিতে পারেন। কিন্তু মানুষের হৃদয়ের মধ্যে যে ইতিহাস রচিত আছে আপনি হুমকি দিয়ে, আদালতের নির্দেশ দিয়ে কখনও মুছে দিতে পারবেন না। রিজভী বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক চিকিৎসার টাকা ও আইন কমিশনে চাকরির লোভে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন বাতিল করেছেন। তার এই অপরাধে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচার হওয়া উচিত। আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবির লাবুর সভাপতিত্বে ও ড্যাব-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর পরিচালনায় সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ড্যাব’র মহাসচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সহ-সভাপতি ডা. অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, ডা. অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ডা. আবদুল কুদ্দুস, ডা. আবদুস সালাম বক্তব্য দেন।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন ১১ জন

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫ সাল ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন সাহিত্যের নানা শাখায় অবদান রাখা ১১ জন বিশিষ্ট কবি, লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। গতকাল একাডেমির সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- কবিতায় আলতাফ হোসেন, কথাসাহিত্যে শাহীন আখতার, প্রবন্ধে যৌথভাবে আবুল মোমেন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ড. আতিউর রহমান, গবেষণায় মনিরুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে তাজুল মোহাম্মদ, স্মৃতিকথা ও ভ্রমণ সাহিত্যে ফারুক চৌধুরী, শিশুসাহিত্যে সুজন বড়ুয়া, অনুবাদে আবদুস সেলিম, নাটকে মাসুম রেজা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও পরিবেশ বিভাগে শরীফ খান। বাংলা একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদ এ বছরের সেরাদের নির্বাচিত করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ, মোহাম্মদ আবদুল হাই, শাহিদা খাতুন, ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ড. মুজাহিদুল ইসলাম, মোবারক হোসেন ও নুরুন্নাহার খানম মুক্তা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আগামী পয়লা ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার তুলে দেবেন।

এ্যানী ফের কারাগারে

বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল তিনি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত আত্মসমর্পণ করে ৯টি জামিন আবেদন করেন। পরে আদালত তা নাকচ করে এই আদেশ দেন। নাশকতা, হামলা, অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি পুড়িয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগসহ তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে সূত্রাপুর ও ২০১৫ সালে পল্টন এবং মতিঝিল থানায় এসব মামলা করা হয়। এদিকে দলটির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ গতকাল নয়াপল্টনস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ্যানীকে কারাগারে পাঠানোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।  সেই সঙ্গে অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। এ ছাড়া এ্যানীকে কারাগারে পাঠানোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তারা অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।

পাকিস্তান যাচ্ছেন গওহর-খসরু

 বিশ্ব ব্যাংকের আমন্ত্রণে পাকিস্তান যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির দুই সিনিয়র নেতা। তারা হলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পাকিস্তানের রাজধানীর ইসলামাবাদ অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্ব ব্যাংকের আমন্ত্রণে আগামী ৩১শে জানুয়ারি তাদের ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইডিইবির নির্বাচনে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ

ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি)’র নির্বাচন সন্ত্রাসী কায়দায় দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ ও বিএনপির পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল বিকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী প্যানেলের ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডাররা সন্ত্রাসী কায়দায় আইডিইবি’র বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। বিরোধী দলকে আটকিয়ে রাখা ছাড়া সরকার নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করে না। স্বস্তি পায় না। এই কারণে নির্বাচন, ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবকিছুকেই তারা বিপজ্জনক মনে করছে। সুতরাং দখল করা ও সবকিছু কেড়ে নেয়াই হচ্ছে এখন তাদের রাজনৈতিক নীতি ও দর্শন। রিজভী আহমেদ বলেন, আইডিইবি ২০১৬-২০১৮ টার্মের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের কথা। সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়। এরপর আওয়ামী প্যানেলের ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডাররা বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সকল প্রার্থীকে সন্ত্রাসী কায়দায় কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। এ সময় আইডিইবির নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন- বিএনপি সমর্থিত সভাপতি প্রার্থী প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেন। সেই সঙ্গে তিনি সারা দেশে ৬৮টি ভোট কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচন দাবি করেন। বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত এ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বর্তমান মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ন্যায়সঙ্গত, আইনসঙ্গত, সংবিধানসঙ্গত বক্তব্য দেয়ার কারণেই অবৈধ ক্ষমতাসীনরা দিশাহারা হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বানোয়াট ও মিথ্যা দেশদ্রোহী মামলা করেছে। তিনি বলেন, যেভাবে গণতন্ত্র হত্যার লুকিয়ে থাকা মিরজাফর সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক ও ও বিচারাঙ্গনের খলনায়ক বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিককে দিয়ে বিচার বিভাগকে দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল তাদের সেই অপপ্রচেষ্টার বিষয়ে যখন কেউ সত্য কথা বলেন তখনই তাদের গা জ্বালা করে। রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রধান প্রতীক খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও মামলার ভয় দেখিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করে সারা দেশ দখল করে নিতে চায় সরকার।
কিন্তু তাদের দিবাস্বপ্ন ও স্বেচ্ছাচারী পাথরপ্রতীম দুঃশাসন যে যেকোন মুহূর্তে জনরোষে ধুলোয় লুটিয়ে পড়বে। তারা যেন সেটির জন্য প্রস্তুত থাকে। রিজভী আহমেদ বলেন, বর্তমানে গণতন্ত্রের মরীচিকারও অস্তিত্ব নেই।

পুলিশকে প্রেসিডেন্ট : অহেতুক কাউকে হয়রানি করা যাবে না

দায়িত্ব পালনকালে কোনো নাগরিক যাতে হয়রানির শিকার না হন পুলিশকে সেদিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০১৬’ উপলক্ষে গতকাল বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি। প্রেসিডেন্ট বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনকালে কেউ যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হন সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। জনগণের টাকায় রাষ্ট্র পরিচালিত হয় উল্লেখ করে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। তাদের ট্যাক্সের টাকায়ই দেশ ও সরকার পরিচালিত হয়। তাই সব ক্ষেত্রে জনগণের কল্যাণের বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুলিশকে জনগণের বন্ধু হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাদের উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট বলেন, জনগণের কল্যাণে আপনাদের আরও নিবেদিত হয়ে কাজ করতে হবে। আপনাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হবে দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন। পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে জনগণের বন্ধু হয়ে উঠতে হবে। জনগণ যাতে তাদের প্রয়োজনে প্রথমে পুলিশকে আস্থায় নিতে পারে, সেই অবস্থানে পৌঁছাতে হবে।  সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্বায়নের এ যুগে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদসহ সব আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংঘবদ্ধ অপরাধ ও স্থানীয় পরিসরে নানা ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ এবং উদ্‌ঘাটনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মকৌশল ও সাফল্য ইতিমধ্যে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি আশা করি, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সংবিধান ও গণতন্ত্র সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রবিরোধী সব অপতৎপরতা রোধে ঐকান্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদের মধ্যে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্র সচিব মোজাম্মেল হক খান, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক প্রমুখ।

আরও এক মামলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহিংসতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক সহিংসতায় জেলা আওয়ামী লীগ অফিস ও সংসদ সদস্যের কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছে। এ নিয়ে মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা ছাড়া বাকি মামলাগুলো ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের অভিযোগে করা। মোট আসামি প্রায় ১০ হাজার। এর মধ্যে এজাহারনামীয় আসামি ১২২ জন। সদর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে- ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলার ২৫ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে গতকাল পর্যন্ত। জেলা আওয়ামী লীগ অফিস ও সংসদ সদস্যের কার্যালয় ভাঙচুর করার অভিযোগের ঘটনার ১২ দিন পর গত ২৪শে জানুয়ারি সদর মডেল থানায় নতুন মামলা হয়। এর আগে ১৬ই জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগ অফিস ও সংসদ সদস্যের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগে প্রথম মামলাটি হয়। এই মামলা নম্বর ৫১। এই মামলায় ৪/৫ শ’ লোককে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছিল। ২৪শে জানুয়ারি দায়ের করা মামলার নম্বর ৭৬।  এই মামলায় জামায়াত ও বিএনপির ৭৮ জন নেতাকর্মীকে এজাহারনামীয় এবং ৫/৬শ’ মাদরাসা ছাত্রকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। মামলায় অফিস ভাঙচুর ও লুটপাটে প্রায় ২৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দেয়া হয়। মামলার বাদী জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শহরের জেলরোডের মুন্সীবাড়ির বাসিন্দা তানজিন আহমেদ। মামলার এজাহারে বলা হয়- গত ১১ই জানুয়ারি জেলা পরিষদ মার্কেটে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসা  ছাত্রদের সঙ্গে মোবাইল কেনাবেচার ঘটনা নিয়ে  মাদরাসার ছাত্র-ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এবং ঝগড়া ফ্যাসাদের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মাদরাসার ছাত্ররা মাদরাসা রোডের সম্মুখে একজন ছাত্রলীগ কর্মীকে আক্রমণ করে মারধর করে। এর জের ধরে ১২ই জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে ১-৪ (নজরুল ইসলাম খাদেম, সৈয়দ গোলাম সারোয়ার, কাজী ইয়াকুব হোসেন ও আবু আবদুল্লাহ) এবং ৬৫নং আসামির (ফায়জুল করিম মনোয়ার) নেতৃত্বে ও হুকুমে সব আসামি  মিছিলসহ বের হয়ে রেলস্টেশনে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে শহর অভিমুখে রওনা হয়ে বিভিন্ন অফিসে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে। মাদরাসার কোমলমতি ছাত্রদের নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিরাজমান শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার হীনউদ্দেশ্যে জঙ্গিবাদ উসকে দিয়ে সরকারকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে আসামিগণ দা, লাঠি, বাঁশ, ককটেল, লোহার রড ইত্যাদি মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জগণ্য ভাষায় সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে জেলা আওয়ামী লীগ অফিস ও সংসদ সদস্যের কার্যালয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের নিচতলা থেকে দোতলা পর্যন্ত দরজা, জানালার উন্নতমানের থাইগ্লাস এবং অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। সমস্ত আসামিগণ অফিসকক্ষে থাকা কম্বল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, স্বর্ণের নৌকা, রূপার নৌকা, ৩৮ ইঞ্চি সনি এলসিডি টেলিভিশন, প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ডিজিটাল ফেস্টুন লুটপাট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। সব মিলিয়ে ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫০ টাকার মালামাল লুট করে নেয়। লুটপাট ও তছনছ হওয়ায় মালামালের বিবরণে বলা হয়, অফিস কক্ষে ব্যবহ্রত ৪টি ল্যাপটপের মূল্য ২ লাখ টাকা, ২০১৫টি কম্বলের মূল্য ৬ লাখ টাকা, কম্পিউটার ৩টি প্রিন্টারসহ মূল্য দেড়লাখ টাকা, ১১৮ ভরি ওজনের ১৩টি স্বর্ণের নৌকা যার মূল্য ১১ লাখ টাকা, ১১৮ ভরি ওজনের ১৮টি রূপার নৌকা যার মূল্য ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা, ৪২ হাজার টাকা মূল্যের ৩৮ ইঞ্চি সনি এলসিডি টিভি, ১ লাখ টাকা মূল্যের ৩৩৫টি প্লাস্টিকের চেয়ার, জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত ১১৭টি ডিজিটাল ফেস্টুন যার মূল্য ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা, অফিস কক্ষের গ্লাস ভাঙচুরে ক্ষতি দেড় লাখ টাকা ও অফিস কক্ষের ড্রয়ারে থাকা নগদ ১০৫০ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর নজরুল ইসলাম খাদেমকে। ক্রমানুসারে অন্য আসামিরা হচ্ছে জেলা জামায়াতের আমীর সৈয়দ গোলাম সারোয়ার, সেক্রেটারি কাজী ইয়াকুব হোসেন, আবু আবদুল্লাহ, জেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ছাত্রদল সভাপতি শামীম মোল্লা, যুবদল সভাপতি মনির হোসেন। মামলাটির ধারা ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৪২৭/৩৮০/১১৪/৩৪ পেনালকোড তৎসহ বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইন ১৯০৮ এর ৩, বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬(২), বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ও প্রতিকৃতি সংরক্ষণ আইন ২০০১ এর ৫ এ রেকর্ড করা হয়।

নীরব দর্শক জামায়াত

দৃশ্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় আছে জামায়াত। চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একেবারেই নীরব-নিষ্ক্রিয় রয়েছে ২০ দলের শরিক দলটি । সাম্প্রতিক পৌরসভা নির্বাচনের সময় থেকে শুরু হয় তাদের এই নীরবতা। পৌর নির্বাচনের পরও সেই একাকীত্বই বজায় রেখে চলছে জামায়াত। জোটের প্রধান শরিক বিএনপিসহ কারো সঙ্গেই যোগাযোগ নেই তাদের। তবে কী কারণে হঠাৎ জামায়াতের এই নীরবতা, একলা চলা এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে নানা মনে নানা জনে। শেষ পর্যন্ত দলটি ২০ দলীয় জোটে থাকবে কি না, নাকি ইসলামী ঐক্যজোটের পথ ধরবে এমন আলোচনা পর্যালোচনাও আছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিষয়টি স্বীকার করে দলের মাঠ পর্যায়ের এক তরুণ নেতা বলেন, নানা কারণে জামায়াত নীরব রয়েছে। প্রথমত গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকা। এরপর রয়েছে বিশ্বাস-অবিশ্বাস এবং আন্তরিকতা নিয়ে জোটের সঙ্গে মান-অভিমান। তবে বছরের শুরুতে সাংগঠনিক ‘সেটআপ’ তৈরির কাজ নিয়েও খানিকটা ব্যস্ত আছেন দায়িত্বশীলরা। পাশাপাশি চলমান প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি পর্যক্ষেণও করছেন তারা। প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করেছেন দলটির থানা পর্যায়ের আরেক এক তরুণ সদস্য। তিনি বলেন, সক্রিয় হলে বলা হয় জামায়াতের তাণ্ডব। চুপ থাকলে বলা হয় রহস্যজনক নীরবতা, তা হলে আমরা করবোটা কি? তার মতে জামায়াত তার নিজস্ব গতি এবং কর্মসূচিতে সচল আছে। তবে পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে এ মুহূর্তে দলের নীতি-নির্ধারকরা খানিকটা পর্যবেক্ষণে আছেন বলা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ৬ই জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহালের রায় ঘোষণা দেয়। এর প্রতিবাদে ৭ই জানুয়ারি সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় তারা। নামকাওয়াস্তে সেই কর্মসূচি পালন করলেও তারপর থেকে জামায়াতের কোন সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না। চলমান ইস্যুতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তি-বিবৃতির সংখ্যাও বেশ কম দেখা যাচ্ছে। সূত্রমতে, পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে বেশ গোপনীয়তা রক্ষা করে চলে জামায়াত। ওই নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ে জোটের প্রধান শরিক বিএনপি’র সঙ্গে সমঝোতা হয়েও হয়নি। ১৩ই ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারেরর শেষদিন বিএনপি প্রার্থীদের সমর্থনে ৬ পৌরসভায় মেয়র পদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে জামায়াত। কিন্তু পরবর্তীতে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়নি। পৌর নির্বাচনের করণীয় ঠিক করতে ১৯শে ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক ডাকা হয়েছিল। তবে ওই বৈঠকে জামায়াতের কোন প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। ওই বৈঠক সম্পর্কে জামায়াতকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ ছিল তাদের। ফলে ৩০শে ডিসেম্বর পৌর নির্বাচনে ৩৫ পৌরসভায় মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে তারা। ওই নির্বাচনে দু’টি মেয়র পদ এবং ৬৭টি কাউন্সিল ও ১২ সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে জয় লাভ করে জামায়াত। এদিকে পৌর নির্বাচনের রেশ না কাটতে ৫ই জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনকে সামনে এনে মাঠে সক্রিয় হয় আওয়ামী লীগ-বিএনপি। ওইদিন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামে প্রধান এই দুটি দল। এ উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে বিএনপি। এক্ষেত্রেও দূরত্বে ছিল জামায়াত। ওদিন বিএনপি’র সমাবেশে জামায়াতের অনুপস্থিতি ২০ দলীয় জোট নিয়ে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করে। যদিও ওটা বিএনপি’র দলীয় সমাবেশ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তবে ৪ঠা জানুয়ারি জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ৫ই জানুয়ারিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দেন। তিনি অবিলম্বে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান। ওদিকে গত ৭ই জানুয়ারি আকস্মিক জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয় ইসলামী ঐক্যজোট। এরপরই জামায়াতকে ঘিরে নানা গুঞ্জন এবং সমালোচনা জোরালো হয়। এরই মধ্যে ১৭ই জানুয়ারি জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করে সরকার। অপরদিকে ইউপি নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনে। প্রধান বিচারপতির একটি বক্তব্য নিয়ে বিতর্কে জড়ায় আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। এই ইস্যুর রেশ না কাটতে শুরু হয় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরাশাদ এবং রওশন এরশাদের নাটকীয় লড়াই। কিন্তু রাজনৈতিক ময়দানে এমন সব বহুমুখী তৎপরতায়ও জামায়াতের নীরবতা ভাঙছে না। তাদের নিঃশব্দ পথচলা অনেক কৌতূহলের জন্ম দিচ্ছে।

যশোরে প্রবাসীর ৩০০০ ডলার হাতিয়ে নিল পুলিশ

তল্লাশির নামে একজন সুইডিশ নাগরিকের ৩ হাজার ডলার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। গতকাল বিকাল 
 সাড়ে ৫টায় যশোর বেনাপোল সড়কের ঝিকরগাছার পাঁচপুকুর নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার শিকার সুইডিশ নাগরিক খুকুমণি পারভীন ও তার স্বামী মিজানুর রহমান সন্ধ্যায় যশোর প্রেস ক্লাবে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। খুকুমণি জানান, এ সময় ঝিকরগাছা থানার এসআই এজাজ ও তার সঙ্গীয় ফোর্সরা তার সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলা সদরের মিজানুর রহমানের স্ত্রী সুইডিশ নাগরিক খুকুমণি জানান, ২৫ বছর ধরে তিনি সুইডেনে বসবাস করেন। পেশায় তিনি একজন সেবিকা। তার স্বামী মিজানুর রহমানও সুইডেনের নাগরিক। তিনি পেশায় একজন প্রকৌশলী। গত ১৪ই ডিসেম্বর তারা স্বামী-স্ত্রী দেশে ফেরেন। ১লা জানুয়ারি খুকুমণি ভারতে আত্মীয়র বাড়ি বেড়াতে যান। গতকাল বিকাল ৩টায় তিনি বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে ফেরত আসেন। বেনাপোল বন্দর থেকে তাকে নিয়ে আসতে তার স্বামী মিজানুর রহমান আগেই বেনাপোল বন্দরে পৌঁছান। তারা বেনাপোল পোর্ট থেকে ঢাকা মেট্রো গ-১১-১৬৯৪ নম্বরের একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করে কালিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে যশোর বেনাপোল সড়কের পাঁচপুকুর নামক স্থানে পৌঁছালে ঝিকরগাছা থানার এসআই এজাজ আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ খুকুমনিকে বহনকারী প্রাইভেট কার থামান এবং কারের দুই যাত্রীকে নামিয়ে রাস্তার ওপর তাদের দেহ তল্লাশি করেন। সুইডিশ নাগরিক খুকুমণি পারভিন পুলিশের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় এসআই এজাজ তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে এসআই এজাজ খুকুমণির পার্স তল্লাশি করে ৩ হাজার ইউএস ডলার হাতিয়ে নেন। প্রতিবাদ করলে এসআই এজাজ জানান, যেহেতু পাসপোর্টে এ ডলার ইনড্রোস করা নেই। ফলে এটা অবৈধ। এটা দেয়া যাবে না। ঘটনাস্থলে বেশ কিছুক্ষণ বসচা করার পর পুলিশি আতঙ্ক নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন সুইডিশ নাগরিক খুকুমণি পারভিন ও তার স্বামী মিজানুর রহমান। পরে তারা সোজা পৌঁছে যান যশোর প্রেস ক্লাবে। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের তারা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, মাটির টানে দেশে আসি। কিন্তু দেশের ভাইদের কাছ থেকে যে এমন ব্যবহার পাবো তা ভাবতেই পারিনি। তিনি বলেন, এসআই যে ভাষায় আমার সঙ্গে আচরণ করেছেন তা বলা সম্ভব নয়। কোনো সভ্য দেশের পুলিশ এ ভাষায় কথা বলতে পারে তা চিন্তার মধ্যে ছিল না। তিনি পুলিশের এ আচরণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশে আসার আগে দুবার ভাববো।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঝিকরগাছা থানার ওসি মোল্লা খবির আহমেদ বলেন, অভিযোগকারীদের বর্ণনা সঠিক নয়। পুলিশ তাদের তল্লাশি করেছে ঠিক। কিন্তু সুইডেন নাগরিক পরিচয় শোনার পর পরই তাদের সসম্মানে ছেড়ে দেয়া হয়। যোগাযোগ করা হলে এডিশনার এসপি কে এম আরিফুল হক বলেন, ঘটনাটি যেভাবে শোনা যাচ্ছে আসলে সে রকম কিছু ঘটেছে কি না তা তদন্ত করা ছাড়া বের করা সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগকারীদের সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত দেয়ার কথা বলেন।

নিবন্ধন-পুনর্নিবন্ধনে অর্থ নিলে কালো তালিকা

 মোবাইল ফোন গ্রাহকদের কলড্রপ মনিটর করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এদিকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল সিমকার্ড নিবন্ধন-পুনর্নিবন্ধনে অর্থ নিলে কালো তালিকা করে রিটেইলারশিপ বাতিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রি-পেইড মোবাইলে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা রিচার্জের সীমা বিবেচনাধীন। গতকাল সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, কলড্রপে ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা রয়েছে। চিঠি দেয়ার পর পরই কার্যকর করার কথা। অন্যদিকে সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী বলেন, অ্যাকশনে (নির্দেশনা) যাওয়ার পর মনিটরিং হচ্ছে কি না- বিটিআরসি এটা মনিটরিং করবে। প্রতিমন্ত্রী বিটিআরসিকে নির্দেশনা দিয়েছেন এটা মনিটর করার জন্য যাতে গ্রাহকরা বেনিফিট পায়। বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, এটার জন্য নির্দেশ আছে, এখন না করলে পরে আবারও বসবো। গ্রাহকদের ওপর মনিটরিং অনেকখানি নির্ভর করে, আমরা যদি সঠিকভাবে জানতে পারি, যে কোনো গ্রাহক কতবার কলড্রপ করলো বা ক্ষতিপূরণ পেল না, তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমাদের কাছে এলে সুবিধা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিটিআরসিকে বিনামূল্যে ফোন করে গ্রাহকরা জানাবের, আপনারা মনিটর করবেন অভিযোগ কতখানি সত্য। আইটিইউয়ের (আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন) নীতিমালার বাইরে কতগুলো কলড্রপ হয়, তার বাইরে কতগুলো কলড্রপ হলো তা গ্রাহককে জানাতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একটি শর্টকোডের মাধ্যমে দ্রুত কল সেন্টার করার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে মোবাইল ফোন, টেলিফোন, ই-মেইলে অভিযোগ দেয়ার সুবিধা রয়েছে বলে বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়। ওদিকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল সিমকার্ড নিবন্ধন-পুনর্নিবন্ধনে অর্থ নিলে কালো তালিকা করে রিটেইলারশিপ বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তিনি বলেন, অপারেটরদের বলা হয়েছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটন এড়াতে গত ১৬ই ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বায়োমেট্রিক তথা আঙুলের ছাপ নিয়ে সিম নিবন্ধন শুরু হয়। তারানা হালিম বলেন, সুস্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, কোনো রকম সিম/রিম রি- রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে কোনো অর্থ দিতে হয় না। কিছু অসৎ রিটেইলার ব্যক্তিগত লাভবান হওয়ার জন্য অসৎ উদ্দেশ্য করছে। বিষয়টি অপারেটরদের কাছে তুলে ধরেছি, তারাও অভিযোগ পেয়েছেন। অপারেটররা রিটেইলারদের ইনটেনসিভ দিচ্ছেন। কাজেই গ্রাহকপর্যায়ে কোনো ধরনের ফিস বা বাড়তি টাকা নেয়ার সুযোগ নেই। তার পরও যেসব রিটেইলার বাড়তি অর্থ নিচ্ছে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে ব্ল্যাকলিস্ট করবেন এবং তার রিটেইলারশিপ ক্যান্সেল করা হবে। এভাবে কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে যে গ্রাহকপর্যায়ে প্রতারণার জন্য অপারেটররা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসি কোনো রকম ছাড় দেয় না। অপারেটরদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন, যাতে রিটেইলাররা ভয় পায়। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনে ছোট অপারেটরদের প্রতি সিমে ৫০ পয়সা দিয়ে যন্ত্রটি শেয়ার করার জন্য মনোযোগী হওয়ার জন্য বলেন প্রতিমন্ত্রী। কিছু ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ না মেলায় এনআইডি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধন-পুনর্নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে। টাইম ফ্রেমে এ নিবন্ধনের কাজ শেষ করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এপ্রিল পর্যন্ত এ কাজ করতে চাই। অপারেটরদের টিম আছে, তারা আরও বেশি লোক নিয়োগ করবে, তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। প্রান্তিক পর্যায়ে মনিটরিং আরও জোরদার হওয়া দরকার, কঠিন ও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া দরকার। তিনি বলেন, প্রথমে যখন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল, তখন অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল, আজকে মনে হচ্ছে সঠিকভাবে অগ্রসর হয়েছি। প্রত্যেক অপারেটর বায়োমেট্রিক যন্ত্র আনার জন্য প্রচুর পরিমাণ বিনিয়োগ করেছেন। যে কাজ শুরু করেছি সম্পন্ন করবো, কোথাও সমস্যা নেই। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী, বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অপারেটরদের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গিয়াস উদ্দিন, রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও সুপুন বীরাসিংহে, এয়ারটেলের সিইও পিডি শর্মা এবং অপারেটরদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় আনসার কমান্ডার নিহত

ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সড়কে মোটরসাইকলের ধাক্কায় আনসার প্লাটুন কমান্ডার এস এম জাহাঙ্গীর (৫৫) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল পৌনে ৮টার ঝিনাইদহ আনসার ক্যাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান জানান, আনসার প্লাটুন কমান্ডার জাহাঙ্গীর প্রতিদিনের মতো সকালে হাঁটতে বের হয়েছিল। সকাল পৌনে ৮টার দিকে আনসার ক্যাম্পের সামনে একটি মোটরসাইকেল তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ সময় স্থানীয়রা গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

উখিয়ায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র খুন

কক্সবাজারের উখিয়ায়  চিন্থিত সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাত ১টায়।  জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে উখিয়া তাতঁ ও বস্ত্র মেলায় চলা নগ্ন নাচের আসরে টিকিট বিহীন প্রবেশের জের ধরে এ খুনের ঘটনা ঘটে। মেলায় প্রবেশের সময় উপজেলার সিকদার বিল গ্রামের জাহাঙ্গীর ও ফলিয়াপাড়া গ্রামের কালু হাজীর পুত্র উখিয়া ডিগ্রী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র শাহিন (২২) এর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। রাত ১ টার দিকে কলেজ ছাত্র শাহিন বাড়ী ফেরার পথে জাহাঙ্গীরের কর্মীরা উখিয়া সদর জামান হোটেলের সামনে তার পথ আটকায়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে  সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর শাহিনকে উপর্যপূরী ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা মাটিতে লুটিয়ে পড়া আহত শাহিনকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কলেজ ছাত্রের মৃতে্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গাংনীতে অস্ত্র ও গুলিসহ সন্ত্রাসী আটক

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া গ্রামের ইনামুল ওরফে ইনামকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে তাকে আটক করা হয়। ইনাম এক সময় বেআইনী চরমপন্থি সংগঠন জুনযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানায় র‌্যাব। তিনি ইনাম জোড়পুকুরিয়া গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে।
র‌্যাব-৬ গাংনী ক্যাম্প কমান্ডার এএসপি আব্দুর রাজ্জাক মিঞা জানান, নিজ বাড়িতে ইনাম অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে মর্মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতরাত দুইটার দিকে অভিযান চালানো হয়। এসময় একটি একনলা বন্দুক ও এর একটি গুলিসহ ইনামকে আটক করতে সক্ষম হয় র‌্যাবের টিম। বর্তমানে র‌্যাব ক্যাম্পে ইনামের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সে এক সময় জনযুদ্ধের সক্রিয় সদস্য ছিল। তার নামে গাংনী থানায় সন্ত্রাসী কর্মকা-ের অভিযোগে কয়েকটি মামলা রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলা দায়ের পুর্বক গাংনী থানার মাধ্যমে আজই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানান র‌্যাব কমান্ডার।

নিখোঁজের তিনদিন পর নির্মান শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

লক্ষ্মীপুর শহরের রহমতখালী খালের রেহানউদ্দিন ভূইঁয়া ঈদগাঁও এলাকা থেকে নিখোঁজের তিনদিন পর নির্মাণ শ্রমিক আবুল কালামের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত আবুল কালাম সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে। পুলিশ ও নিহতের আতœীয়স্বজন জানায়, দীর্ঘ ৬ মাস ধরে লক্ষ্মীপুর শহরের রেহান উদ্দিন ভূইঁয়া সড়কের সাজিদ মঞ্জিল নামে একটি ভবনের নির্মান শ্র্রমিকের কাজ করে আসছে আবুল কালাম। গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে নিখোঁজ হন তিনি। এরপর থেকে তার কোন সন্ধান পায়নি তার পরিবার। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে আবুল কালামের ছেলে সোহেল লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি সাধারন ডায়রী করেন। আজ শুক্রবার সকালে রহমতখালী খালে আবুল কালামের মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরিকল্পিতভাবে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেয়া হয় বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  আবদুল্লাহ আল মামুন ভূইঁয়া জানান, নিহত শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লৌহজংয়ে বাসচাপায় প্রবাসীর স্ত্রী নিহত, ওসি লাঞ্ছিত

ঢাকা-মাওয়া-লৌহজং মহাসড়কের অটোরিকশা আরোহী রিয়া বেগম (৩০) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুড়ি ফেলে মহাসড়ক অবরোধ করে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লৌহজং থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেন জনতাকে মহাসড়ক থেকে সরাতে চলা (কাঠ) দিয়ে জনতাকে তাড়া করেন। এতে জনতা উত্তেজিত হয়ে ওসিকে লাঞ্ছিত করে। এ সময় ওসি মটর সাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ পদ্মা সেতু পুনর্বাসন কেন্দ্রর কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিয়া বেগম কুমারভোগ গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। একঘন্টা পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত রিয়া বেগম একটি অটোরিকশা করে পদ্মা সেতু পুনর্বাসন কেন্দ্রে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল। এ সময় পুনর্বাসন কেন্দ্রের কাছে রাস্তায় ঢাকাগামী টুঙ্গীপাড়া পরিবহনের একটি বাস পিছন থেকে অটো রিকশাটিকে চাপা দিলে রিক্সারোহী রিয়া বেগম ছিটকে বাসের নীচে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। লৌহজং সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো শামসুজ্জামান জানান, মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত।

‘প্রশ্ন ফাঁসের গুজবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত’

প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটডে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার (এমটিও) পদের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা এক ঘণ্টার এই লিখিত পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।  পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে এসএমএস করে আবেদনকারীদের পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুস সালেহীন গণমাধ্যমক বলেন, অনিবার্য কারণবশত এ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। উল্লেখ্য, সাড়ে সাত হাজারের বেশি চাকরিপ্রত্যাশী ওই পদে আবেদন করেছিলেন। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজেমেন্ট (বিআইবিএম) এই পরীক্ষা আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে।

‘সাতদিনে একবার ভাত খাওয়া হয় আমার’

অমৃতা খান। নাচ ও বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করলেও টানা বেশকিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘গেইম’ মুক্তি পায় গত বছর। বর্তমানে রায়হান মুজিব পরিচালিত ‘ময়না পাখির সংসার’ নামে নতুন একটি ছবিতে কাজ করছেন। এ ছবিতে তার নায়ক রোজ। এ ছবিসহ চলচ্চিত্রের নানা বিষয় নিয়ে আজকের ‘আলাপন’-এ কথা বলেছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কামরুজ্জামান মিলু
কেমন আছেন? এখন কোথায়(সাক্ষাৎকার নেয়ার সময়)?
আমি ভালো আছি। এখন ধানমন্ডি ২৭ নাম্বারের একটি জিমে ব্যায়াম করছি। সময় পেলেই সকাল ৮টা থেকে টানা ১১টা পর্যন্ত ব্যায়াম করি। আর সে সূত্রে ওজন কমিয়ে ৫৫ কেজি  থেকে এখন ৩৭ কেজিতে এসেছি। ওজন বাড়লে আমার ভালো লাগে না। আর এখন তো সাতদিনে একবার ভাত খাওয়া হয় আমার।
এ পর্যন্ত কতগুলো ছবিতে কাজ করা হয়েছে আপনার?
অভিনয় থেকে প্রায় দেড় বছর দূরে ছিলাম। মাঝে কিছুদিনের জন্য দেশের বাইরে চলে গিয়েছিলাম। তবে অল্প সময়ে ছয়টি ছবিতে অভিনয় করেছি। এরমধ্যে তিনটি মুক্তি পেয়েছে। আমার কাজ করা ছবিগুলো হচ্ছে রায়হান মুজিবের ‘ময়না পাখির সংসার’, ওয়াজেদ আলী সুমনের ‘পাগলা-দিওয়ানা’, ইস্পাহানি আরিফ জাহানের ‘গুন্ডা দ্য টেররিস্ট’, রাজু আহমেদের ‘অসম প্রেম’, রয়েল-অনিকের ‘গেইম’ এবং সাইফ চন্দনের ‘টার্গেট’। এরমধ্যে বর্তমানে ‘ময়না পাখির সংসার’ ছবির কাজ করছি।
‘ময়না পাখির সংসার’ ছবিতে অনেকদিন পর কাজ করছেন। এ ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
নরসিংদীতে এ ছবির টানা কাজ করে আসলাম। ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সেখানে গ্রামের ভাষায় গ্রামীণ প্রেক্ষাপটের গল্পে কাজ করতে হচ্ছে। পরিচালক রায়হান মুজিব ভাইও কাজে সহযোগিতা করছেন। আর রোজ নায়ক হিসেবে বেশ ভালো। গ্রামের চরিত্র করতে গিয়ে ঝাড়– দিয়ে উঠান পরিষ্কার করার দৃশ্য করতে হয়েছে। এ দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় আমার অবস্থা দেখে তো গ্রামের লোকদের হেসে গড়াগড়ি খাওয়ার জোগাড়। কারণ, এমন কাজে আমি অভ্যস্ত না। আর আমার গ্রামের ছবিতেও অভিনয় করা হয়ে ওঠেনি। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, এ ছবিটিতে নায়িকা হিসেবে আমাকে যথেষ্ট জায়গা দিয়েছেন পরিচালক। আর ছবির গল্পটিও বেশ ভালো। খুব শিগগিরই বাকি কাজ শুরু হবে।
অন্য ছবিগুলোতে কি তাহলে নায়িকা হিসেবে জায়গা পাননি ?
সব ছবির বিষয় কিন্তু এক না। এই যেমন ওয়াজেদ আলী সুমনের ‘পাগলা-দিওয়ানা’ ছবিতে আমাকে নায়িকা হিসেবে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয়নি। আর নতুন এ ছবিতে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছি। তাই ‘ময়না পাখির সংসার’ ছবিতে ময়না চরিত্রটি নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী।
‘গেইম টু’ ছবিতে আপনাকে কেনো নায়িকা হিসেবে নেয়া হলো না? এর পেছনে কোনো কারণ আছে কি ?
‘গেইম’ ছবিতে আমি অভিনয় করেছি। কিন্তু ‘গেইম টু’ ছবিতে আমাকে নেয়া হলো না কেনো জানি না। এটা পরিচালকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমার সঙ্গে এই ছবি নিয়ে কেউ কথা বলতে আসেনি। আর এই ছবির কাজ শুরু হচ্ছে খবরটাও পরে জেনেছি। তবে একটা হিট ছবি হবার পর তার সিক্যুয়াল হয় বলে জানি। ‘গেইম’ তো হিট ছবি ছিল না, তাহলে এটার সিক্যুয়াল কেনো নির্মাণ হচ্ছে তা বুঝতে পারছি না। যাই হোক, তারপরও এ ছবির জন্য শুভ কামনা রইলো।
ছবিতে অভিনয়ের বাইরে অন্য কোনো কাজ কি করছেন?
ছবিতে অভিনয়ের বাইরে নিয়মিত নাচের অনুষ্ঠানে পারফরম করছি। আগেও নাচ করতাম, এখনও সময় পেলে নৃত্যশিল্পী হিসেবে ভালো অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া হয়। তবে নাটকে অভিনয় করতে চাই না। কারণ বড়পর্দাতে যেহেতু কাজ শুরু করেছি, তাই ছোটপর্দায় এখন আর মুখ দেখাতে চাই না। এখন টার্গেট শুধুই বড়পর্দা।
পড়াশুনার খবর কি ?
এইতো ধানমন্ডির একাডেমিয়া থেকে এ লেভেল দিব। তবে শুটিং থাকার কারণে আবারও একটু পড়াশুনার সমস্যা হচ্ছে। অবশ্য ২০১৭ সালে এ লেভেল শেষ করার ইচ্ছে আছে।
ভবিষৎতে কার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছে আছে?
আমি বেশ কয়েকজন নায়কের সঙ্গে কাজ করেছি। তবে ‘ময়না পাখির সংসার’ ছবিটি করতে এসে মনে হয়েছে রোজ সবচেয়ে ভালো সহশিল্পী। নায়ক হিসেবে শুধু না, ভালো অভিনয়ও করে রোজ। সে আমার ভালো বন্ধুও। আমি চলচ্চিত্রে  যদি বেশ নাম করতে পারি তাহলে রোজকে নিয়েই কাজ করার ইচ্ছে আছে।
এখন তো নতুন করে কাজ শুরু করেছেন- চলচ্চিত্র নিয়ে সামনে পরিকল্পনা কি?
কাজ শুরু করার পর বেশকিছু ছবির প্রস্তাব পাচ্ছি। তবে আমি এখন নতুনভাবে এগুতে চাই। প্রথমেই চিন্তা করেছি ভালো পরিচালকের ছবিতে কাজ করব। এছাড়া ছবির নায়ক কে থাকছে এটাও আমার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বুঝেশুনে সামনের কাজগুলো করতে চাই।

চার ঘন্টা পর পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ শুরু

চার ঘন্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকার সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ শুরু হয়েছে। সকাল থেকে দুই দফায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেন বিকল হয়ে পড়ায় পশ্চিমাঞ্চল ও ময়মনসিংহের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সকাল ৮টার দিকে মহানগরের সালনা মিরেরগাঁও এলাকায় একই ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে আড়াই ঘন্টার জন্য রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। এরপর গাজীপুরের জয়দেবপুরে দ্বিতীয় দফায় ফের একই ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় ট্রেনের ঢাকার সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চল ও ময়মনসিংহের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়। দুই দফা বিপর্যয়ের কারণে দুর্ভোগে পড়েন দুইদিকে আটকা পড়া যাত্রীরা। বেলা ১টার দিকে বিকল ট্রেনের ইঞ্জিন মেরামত করা হলে পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জয়দেবপুর রেল জংশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মনিরুজ্জামান জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটির একটি বগির স্প্রিং খুলে যায়। এ অবস্থা চলাচল বিপদজনক হওয়ায় চালক ট্রেনটি সালনা মিরেরগাঁও এলাকায় থামিয়ে দেয়। ফলে পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ট্রেনের ত্রুটি মেরামতের জন্য রেলওয়ের যন্ত্র বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে সাড়ে ১০টায় মেরামত কাজ সম্পন্ন করে ট্রেনটি চালু করে আস্তে আস্তে চালিয়ে জয়দেবপুর পর্যন্ত  আসার পর স্টেশনে ঢোকার আগে সোয়া ১১ টায় আবারো ট্রেনটি বিকল হয়ে গিয়ে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঢাকা থেকে পশ্চিমাঞ্চল ও ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় জয়দেবপুর জংশনে রাজশাহীগামী ধুমকেতু ট্রেন, টঙ্গী জংশনে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, মৌচাক স্টেশনে ঢাকাগামী রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনসহ কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়ে। মেরামত শেষে একতা এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হলে বেলা ১টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।