ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক সহিংসতায় জেলা আওয়ামী লীগ অফিস ও সংসদ সদস্যের
কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছে। এ নিয়ে মামলার
সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা ছাড়া বাকি মামলাগুলো
ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের অভিযোগে করা। মোট আসামি প্রায় ১০ হাজার। এর মধ্যে
এজাহারনামীয় আসামি ১২২ জন। সদর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে- ভাঙচুর ও
অগ্নিসংযোগের মামলার ২৫ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে গতকাল পর্যন্ত। জেলা আওয়ামী
লীগ অফিস ও সংসদ সদস্যের কার্যালয় ভাঙচুর করার অভিযোগের ঘটনার ১২ দিন পর গত
২৪শে জানুয়ারি সদর মডেল থানায় নতুন মামলা হয়। এর আগে ১৬ই জানুয়ারি জেলা
আওয়ামী লীগ অফিস ও সংসদ সদস্যের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগে প্রথম মামলাটি
হয়। এই মামলা নম্বর ৫১। এই মামলায় ৪/৫ শ’ লোককে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছিল।
২৪শে জানুয়ারি দায়ের করা মামলার নম্বর ৭৬। এই মামলায় জামায়াত ও বিএনপির ৭৮
জন নেতাকর্মীকে এজাহারনামীয় এবং ৫/৬শ’ মাদরাসা ছাত্রকে অজ্ঞাত আসামি করা
হয়। মামলায় অফিস ভাঙচুর ও লুটপাটে প্রায় ২৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
দেয়া হয়। মামলার বাদী জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শহরের জেলরোডের
মুন্সীবাড়ির বাসিন্দা তানজিন আহমেদ। মামলার এজাহারে বলা হয়- গত ১১ই
জানুয়ারি জেলা পরিষদ মার্কেটে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসা ছাত্রদের সঙ্গে
মোবাইল কেনাবেচার ঘটনা নিয়ে মাদরাসার ছাত্র-ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা
হয় এবং ঝগড়া ফ্যাসাদের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে
মাদরাসার ছাত্ররা মাদরাসা রোডের সম্মুখে একজন ছাত্রলীগ কর্মীকে আক্রমণ করে
মারধর করে। এর জের ধরে ১২ই জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে ১-৪ (নজরুল ইসলাম
খাদেম, সৈয়দ গোলাম সারোয়ার, কাজী ইয়াকুব হোসেন ও আবু আবদুল্লাহ) এবং ৬৫নং
আসামির (ফায়জুল করিম মনোয়ার) নেতৃত্বে ও হুকুমে সব আসামি মিছিলসহ বের হয়ে
রেলস্টেশনে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে শহর অভিমুখে রওনা হয়ে বিভিন্ন অফিসে লুটপাট,
অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে। মাদরাসার কোমলমতি ছাত্রদের নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শহরে বিরাজমান শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার হীনউদ্দেশ্যে জঙ্গিবাদ উসকে
দিয়ে সরকারকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে আসামিগণ দা, লাঠি, বাঁশ, ককটেল,
লোহার রড ইত্যাদি মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জগণ্য ভাষায়
সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে জেলা আওয়ামী লীগ অফিস ও সংসদ সদস্যের
কার্যালয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের নিচতলা
থেকে দোতলা পর্যন্ত দরজা, জানালার উন্নতমানের থাইগ্লাস এবং অফিসের
আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। সমস্ত আসামিগণ অফিসকক্ষে থাকা কম্বল, ল্যাপটপ,
কম্পিউটার, স্বর্ণের নৌকা, রূপার নৌকা, ৩৮ ইঞ্চি সনি এলসিডি টেলিভিশন,
প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া জাতির জনক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত
ডিজিটাল ফেস্টুন লুটপাট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। সব মিলিয়ে ২৫ লাখ
৮৮ হাজার ৫০ টাকার মালামাল লুট করে নেয়। লুটপাট ও তছনছ হওয়ায় মালামালের
বিবরণে বলা হয়, অফিস কক্ষে ব্যবহ্রত ৪টি ল্যাপটপের মূল্য ২ লাখ টাকা,
২০১৫টি কম্বলের মূল্য ৬ লাখ টাকা, কম্পিউটার ৩টি প্রিন্টারসহ মূল্য দেড়লাখ
টাকা, ১১৮ ভরি ওজনের ১৩টি স্বর্ণের নৌকা যার মূল্য ১১ লাখ টাকা, ১১৮ ভরি
ওজনের ১৮টি রূপার নৌকা যার মূল্য ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা, ৪২ হাজার টাকা
মূল্যের ৩৮ ইঞ্চি সনি এলসিডি টিভি, ১ লাখ টাকা মূল্যের ৩৩৫টি প্লাস্টিকের
চেয়ার, জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত ১১৭টি ডিজিটাল ফেস্টুন যার
মূল্য ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা, অফিস কক্ষের গ্লাস ভাঙচুরে ক্ষতি দেড় লাখ টাকা ও
অফিস কক্ষের ড্রয়ারে থাকা নগদ ১০৫০ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা
হয়। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর নজরুল ইসলাম
খাদেমকে। ক্রমানুসারে অন্য আসামিরা হচ্ছে জেলা জামায়াতের আমীর সৈয়দ গোলাম
সারোয়ার, সেক্রেটারি কাজী ইয়াকুব হোসেন, আবু আবদুল্লাহ, জেলা বিএনপির
সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, সাংগঠনিক
সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ছাত্রদল সভাপতি শামীম মোল্লা, যুবদল সভাপতি মনির
হোসেন। মামলাটির ধারা ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৪২৭/৩৮০/১১৪/৩৪ পেনালকোড তৎসহ বিস্ফোরক
উপাদানাবলী আইন ১৯০৮ এর ৩, বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬(২), বঙ্গবন্ধু ও
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ও প্রতিকৃতি সংরক্ষণ আইন ২০০১ এর ৫ এ রেকর্ড
করা হয়।
No comments:
Post a Comment