Friday, February 12, 2016

বিশ্বের প্রথম ‘সুখমন্ত্রী’ নিয়োগ দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত

‘সুখমন্ত্রী’ নিয়োগ দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি তিনি পাঁচ বছরের মধ্যে তার দেশকে বিশ্বের ‘সেরা পাঁচটি দেশের একটি’তে রূপান্তরিত করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। জনগণের সুখ-দুঃখ দেখার জন্য বুধবার ঘোষিত নতুন মন্ত্রীসভায় একজন সুখ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে এনবিসি নিউজ।
২০০৬ সালে বিশ্বের ষষ্ট ধনী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী হন শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ। বৃটেনে পড়াশুনা করা এ ব্যবসায়ী ও আমলা ১৯৮৫ সালে এমিরেটস এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার বর্তমান মন্ত্রীসভায় রয়েছে পাঁচজন নারী। এর মধ্যে ‘সুখমন্ত্রী’ও রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক উহুদ আল রুমি এখন থেকে সুখ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করবেন। আল রুমি এর আগে ছিলেন দুবাইয়ের ইকোনমিক পলিসির প্রধান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বলেন, আল রুমির দায়িত্ব, সামাজিক মঙ্গল ও সন্তুষ্টির জন্য সরকারী নীতি প্রণয়ন ও চালনা করা। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আরব আমিরাতে সুখ কেবল আশা নয়, এ নিয়ে পরিকল্পনা, প্রকল্প ও নির্নায়ক থাকবে। তিনি সুখকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জীবনযাত্রার অংশ বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি সুখ নিয়ে প্রচুর কবিতাও লিখেছেন। এ কবিতাসমূহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিতও হয়েছে।

সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত বিশ্বশক্তিগুলো

সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বিশ্বশক্তিগুলো। জার্মানিতে আলোচনা শেষে এক সপ্তাহের মধ্যেই সিরিয়াজুড়ে এ যুদ্ধবিরতি শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। তবে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস ও আল-নুসরা ফ্রন্টের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না। যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল সিরিয়া সাপোর্ট গ্রুপের মন্ত্রীরা ত্রাণ সরবরাহ বৃদ্ধি ও বিস্তৃত করতেও রাজি হয়েছে।
রাশিয়ার বিমান হামলার সাহায্যে সিরিয়ার সরকারী বাহিনী আলেপ্পো প্রদেশে অগ্রগতি অর্জনের মধ্যেই এ ঘোষণা এল। সরকারী বাহিনীর আলেপ্পোতে ভালো অবস্থানে থাকায় বিদ্রোহী অধ্যুষিত আলেপ্পোর বড় শহরে হাজার হাজার মানুষ ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি অবশ্য স্বীকার করেছেন, এ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উচ্চাবিলাসী। তার মতে, সত্যিকার পরীক্ষা হবে সংঘাতে লিপ্ত পক্ষগুলো এ অঙ্গিকার রক্ষা নিয়ে। তিনি বলেন, এখানে আমাদের যা আছে, তা হলো কাগজে লেখা কথাবার্তা। আগামী কয়েক দিনে আমাদের যা দেখা উচিৎ তা হলো, যুদ্ধক্ষেত্রে এ চুক্তি অনুযায়ী পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি টাস্কফোর্স এ যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের দিকে নজর দেবে। আজকের মধ্যেই আটকে পড়া সিরিয়ার মানুষদের কাছে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো শুরু হবে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ, সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টাফান দ্য মিস্টুরাকে পাশে রেখে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন জন কেরি। ল্যাভরভ বলেন, আমরা দারুণ একটি কাজ করেছি, এটা ভাবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এর আগে রাশিয়া ১লা মার্চ থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রস্তাব দিয়েছিল।

কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ৫২ বন্দি!

মেক্সিকোর একটি কারাগারে দাঙ্গা ও অগ্নিকান্ডে নিহত হয়েছে অন্তত ৫২ জন বন্দি। এছাড়া আহত হয়েছে অন্তত ১২ জন। এদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কারাগারের দুই দল বন্দির মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। মাত্র চল্লিশ মিনিট ধরে চলা এ সংঘাতে ধারালো অস্ত্র, ব্যাট ও লাঠি ব্যবহার করে বন্দিরা। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫২ জন নিহত হলেও, কোন বন্দি পালাতে পারেনি। মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক ব্যবসার সঙ্গে এ বন্দিরা জড়িত। কারাগারেও আধিপত্য নিয়ে তাদের বিরোধ ছিল। বিরোধের জেরেই রাতের আধারে একদল বন্দি অন্যদলের ওপর হামলে পড়ে। এক পর্যায়ে তাদেরই কেউ কারাগারের গুদামে আগুণ লাগিয়ে দেয়। পুরো কারাগার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে উঠলে, সাধারণ বন্দিরা হুড়োহুড়ি শুরু করে। এতে বহু বন্দি নিহত হয়।
সংঘর্ষের খবর বাইরে ছড়িয়ে পড়লে বহু মানুষ কারাগারের বাইরে ভিড় জমায়। এদের মধ্যে বন্দীদের আত্মীয়স্বজনও ছিল। ক্ষুদ্ধ হয়ে অনেকে দীর্ঘসময় কারাগারের রাস্তা আটকে রাখেন। স্থানীয় প্রদেশের গভর্নর জেমি রড্রিগুয়েজ তবে জানিয়েছেন পরিস্থিতি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার দাবি, কেউ জেল থেকে পালাতে পারেনি। সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারও হয়নি।

মধ্যাকর্ষণ তরঙ্গ আবিষ্কার, ১০০ বছর পর সত্যি প্রমাণিত হলেন আইনস্টাইন

কয়েকশ’ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থানরত দুইটি কৃষ্ণগহ্বরের মিলিত হওয়ার শব্দ ধারণ করতে পেরেছেন একদল বিজ্ঞানী। ফলে আলবার্ট আইনস্টাইনের জগদ্বিখ্যাত ‘আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্বে’র শেষ ভবিষ্যদ্বাণীও সত্য প্রমাণিত হলো। বৃহ¯পতিবার মার্কিন বিজ্ঞানীদের একটি দল এ ঘোষণা দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস অনলাইন।
পদার্থবিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্ষীণ শব্দটি মহাকর্ষীয় তরঙ্গের অস্তিত্ব থাকার প্রথম সরাসরি প্রমাণ। প্রায় এক শতাব্দি আগে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন মহাকর্ষীয় তরঙ্গের অস্তিত্বের কথা বলে গেছেন। আইনস্টাইনের তত্ব মতে, স্থান ও কাল পর¯পরের সঙ্গে মিশে আছে। তাদের প্রসারিত, সঙ্কুচিত করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্রাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজারভেটরির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড রেইটযে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সনাক্ত করার ঘোষণা দেন। মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সনাক্ত করার জন্যই এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দুইটি কৃষ্ণগহ্বরকে একীভূত করার মাধ্যমে এ তরঙ্গ সনাক্ত করা হয়। একটি কৃষ্ণগহ্বরের ভর ছিল ২৯টি সূর্যের সমান! আরেকটির ছিল ৩৬টি সূর্যের সমান। প্রতিটির ব্যসরেখা ছিল প্রায় ৫০ কিলোমিটার।

বাংলাদেশের ‘নির্যাতিত নারীদের হাতে উৎপন্ন’ তৈরি-পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধের অপেক্ষায়

বলপূর্বক ও শিশু শ্রমে উৎপন্ন পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া একটি বিল দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। এ বিলটির একটি ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নির্যাতিত নারীদের হাতে উৎপন্ন তৈরি-পোশাক, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দাসদের দিয়ে ধরা মাছ, আফ্রিকায় শিশুদের দিয়ে উত্তোলিত সোনা যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি নিষিদ্ধ করা হবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫ বছরের পুরোনো শুল্ক আইনের একটি ফোঁকর বন্ধ হবে। এ খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এপি।

নতুন নিয়োগের আগে অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা দেবে মালয়েশিয়া

বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ শ্রমিক নেয়ার আগে মালয়েশিয়ায় অবস্থানকারী অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা দেয়া হবে। এরপর তাদেরকে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় নিয়োগ করা হবে। এ কথা বলেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অফিস বিষয়ক মন্ত্রী ড. উই কা সিয়ং। তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে বিদেশী সব শ্রমিককে যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসা হবে। ওদিকে বাংলাদেশী গৃহপরিচারিকা নেয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়ার মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে নানা রকম প্রতিবেদন। তাতে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশী গৃহপরিচারিকা নিয়োগের বিষয়ে মালয়েশিয়া খুব আগ্রহী নয়। ভাষাগত সমস্যা ও পরিচ্ছন্নতা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা। ফলে সেখানে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের গৃহপরিচারিকার চাহিদা বেশি। এসব খবর দিয়েছে মালয়েশিয়ার ইংরেজি পত্রিকা দ্য স্টার। এতে বলা হয়, সেখানে অবস্থানরত বিদেশী শ্রমিকদের বৈধতা দেয়ার প্রক্রিয়া যখন শেষ হবে তখনই পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশী শ্রমিক নেবে সেদেশের সরকার। ড. উই কা সিয়ং বলেন, এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশী শ্রমিকও। অবৈধদের বৈধতা দেয়ার পর তাদেরকে বিভিন্ন খাতে নিয়োগ করা হবে। মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন খাতে শ্রমিকের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কারখানায় তা অনেক বেশি। ইয়ং পেং-এ আয়ার হিতাম এমসিএ ডিভিশন চাইনিজ নিউ ইয়ার ওপেন হাউজ অনুষ্ঠানে শুক্রবার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ড. উই কা সিয়ং। দ্য স্টার পত্রিকা আরও একটি রিপোর্টে বলছে, অপরিচ্ছন্নতা ও ভাষাগত সমস্যার কারণে বাংলাদেশী গৃহপরিচারিকা নেয়ার বিষয়ে সন্দিহান মালয়েশিয়ানরা। ব্যাংক ম্যানেজার টিঙ্কু নোরানি আহমেদ (৫২) এখন তার বাসার জন্য দ্বিতীয় একজন গৃহপরিচারিকা খুঁজছেন। তবে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বাংলাদেশী গৃহপরিচারিকা নিয়োগের বেলায় বড় কিছু সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে তাদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি আছে। ভাষাগত সমস্যা আছে। তার ভাষায়, মালয় ভাষার সঙ্গে অনেকটা মিল আছে ইন্দোনেশিয়ার ভাষার। এছাড়া ফিলিপাইনের গৃহপরিচারিকারা ইংরেজিতে ভাল ভাব বিনিময় করতে পারেন। ফলে এ দুটি দেশের পরিচারিকাদের নিয়োগ করা তাদের জন্য সুবিধাজনক। তিনি বলেন, বাংলাদেশী গৃহপরিচারিকা সস্তায় পাওয়া যায়। কিন্তু তাদেরকে আমি নিয়োগ করার কথা তখনি ভাববো যদি তাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে। মার্কেটিং ম্যানেজার পি. অঞ্জলি বলেন, যদি গৃহপরিচারিকারা তাদের কাজ করতে সক্ষম হন, নিজে খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকেন তাহলে তিনি যেকোন দেশের গৃহপরিচারিকা নিতে চান। তার ভাষায়, আমার মা ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে খুবই সচেতন। ফলে পরিচারিকার প্রশিক্ষণের সময় তাকে এ বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। যদি এমনটা হয় তাহলে তিনি শুরুতেই একজন বাংলাদেশী গৃহপরিচারিকাকে মাসে ৫০০ রিঙ্গিত বেতন দিতে ইচ্ছুক। অন্যদিকে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কন্ট্রাক্টর নোরিয়াহ আরশাদ (৫৪) বলেন, তিনি ইন্দোনেশিয়ার গৃহপরিচারিকা নিয়োগের পক্ষে। কারণ, অন্য দেশের থেকে এ দেশের পরিচারিকারা দীর্ঘ সময় কাজ করে থাকেন। যদি ইন্দোনেশিয়ার গৃহপরিচারিকার বেতন অনেক বেশি হাঁকা হয় তাহলেই আমি বাংলাদেশী পরিচারিকার দিকে ঝুঁকবো। তবে এক্ষেত্রে আমি সন্দিহান যে, তারা ফুল টাইম কাজ করতে পারবেন কিনা। তার ভাষায়, আমি শুনেছি যেসব বাংলাদেশী তাদের পরিবার নিয়ে মালয়েশিয়ায় থাকেন তারা প্রতিদিনই তাদের আবাসস্থলে ফিরে যেতে চান। এতে কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আরশাদ তিন বছর আগে একজন ইন্দোনেশিয়ার পরিচারিকা নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি বছরে মাত্র একবার তার বাসায় যান। ওদিকে গৃহপরিচারিকা বিষয়ক একটি এজেন্সির ম্যানেজার অ্যালিস চু বলেন, তিনি ইন্দোনেশিয়ার পরিচারিকার পক্ষে। এ বছর তিনি ফিলিপাইনের মানবসম্পদ বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা করছেন। তার ভাষায়, কোম্পানিগুলো বাংলাদেশী পরিচারিকা নিয়োগের বিষয়ে আগ্রহী নয়। উল্লেখ্য, আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ শ্রমিক নেয়ার কথা রয়েছে মালয়েশিয়ার। এ জন্য খুব শিগগিরই দু’দেশের সরকারের মধ্যে চুক্তিও হওয়ার কথা।

‘আসামে বড় হুমকি বাংলাদেশীরা’

আসামের নাগরিকদের পরিচয়ের ওপর বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশী অভিবাসীরা। যদি বিজেপি ক্ষমতায় যায় তাহলে আসামের নাগরিকদের পরিচয়(আইডেনটিটি) রক্ষা করবে। অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে এমন বক্তব্য রেখেছেন আসামে মুখ্যমন্ত্রী পদে বিজেপির প্রার্থী সর্বানন্দ সনোয়াল। তিনি অভিবাসীদের আসামের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেন। অনলাইন ইন্ডিয়া টুডে’র এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। গত মাসেই আসাম বিজেপির দায়িত্ব হাতে নেন সর্বানন্দ। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের নেয়ার চেষ্টা করছে কংগ্রেস। উল্লেখ্য, এ বছর এপ্রিলে আসাম বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিজয়ী হতে বিজেপি আবার অবৈধ অভিবাসী কার্ড ব্যবহার করছে। লোকসভা নির্বাচনের আগে আসামে অবৈধ অভিবাসী, বিশেষ করে বাংলাদেশীদের বিতাড়িত করার বিষয়ে বক্তব্য জোর প্রচার পায়। এখন সেই একই কার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে বিধানসভা নির্বাচনেও। সর্বানন্দ সনোয়াল বাংলাদেশী অভিবাসী ইস্যুর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, বর্তমানে স্থানীয় নাগরিকের সংখ্যা কমে আসামে তারা ‘আণুবীক্ষণিক সংখ্যালঘু’তে পরিণত হয়েছে। এসব মানুষ (অভিবাসী) আসামের মানুষের শত্রু। তিনি বলেন, এখনও বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ অব্যাহত আছে। যদি তার দল ক্ষমতায় যায় তাহলে এ ইস্যুতে টেকসই একটি সমাধান বের করবেন তারা। কারণ, এ ইস্যুটি আসামের মূল সমাজ ব্যবস্থার জন্য হুমকি।
ওদিকে কংগ্রেস দাবি করছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে আসামে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বিজেপি। এর জবাবে সর্বানন্দ সনোয়াল বলেন, এটা আসামের জনগণের পরিচয়ের প্রশ্ন। সে অধিকার রক্ষা করতে বিজেপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। উল্লেখ্য, সর্বানন্দ সনোয়াল ছাত্রনেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নে। তখন তিনি বাংলাদেশ বিরোধী বড় আকারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আগামী এপ্রিলে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন।

বিখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক রবিন ঘোষ আর নেই

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন সুরকার ও সংগীত পরিচালক রবিন ঘোষ আর নেই। আজ সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর গুলশানের কিউর মেডিক্যাল সেন্টারে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে রবিন ঘোষের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।  রবিন ঘোষের মৃত্যুর খবরটি তার স্ত্রী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শবনম মানবজমিনকে জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রবিন ঘোষ ব্রঙ্কাইটিস ও হৃদরোগে ভুগছিল। মৃত্যু দুদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি। শবনম আরও জানান, আজ বিকালে ওয়ারিতে রবিন ঘোষের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। ১৯৩৯ সালে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন বিখ্যাত এ সুরকার ও সংগীত পরিচালক। ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি রবিন ঘোষের প্রবল আগ্রহ ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি। স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেই বেতারে কাজ শুরু করেন। ১৯৬১ সালে এহতেশামের ছবি ‘রাজধানীর বুকে’র মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে সুরকার হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। ‘তোমারে লেগেছে এত যে ভালো’, ‘ফুলের কানে ভ্রমর এসে’, ‘পীচ ঢালা এই পথটারে’ সহ অসংখ্য গানের সুর করে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন রবিন ঘোষ।