Thursday, January 5, 2017

প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি : দুইজন ফের রিমান্ডে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণকারী দুইজনকে ফের ৭ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। 
 
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম সাজ্জাদুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 
 
আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজমের পরিদর্শক মাহবুব আলম আত্মসমর্পণকারী দুইজনের সাত দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে ফের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
 
শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে ২৮ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম জাকির হোসেন টিপু ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ২২ ডিসেম্বর প্রকৌশল কর্মকর্তা এসএম রোকনুজ্জামান ও টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানী চক্রবর্তী তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
 
২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ বিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাতে জরুরি অবতরণ করে। ত্রুটি মেরামত করে সেখানে চার ঘণ্টা অনির্ধারিত যাত্রাবিরতির পর ওই উড়োজাহাজেই প্রধানমন্ত্রী বুদাপেস্টে পৌঁছান।
ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গত ১৮ ডিসেম্বর তাদের তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ বিমানের ছয় কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর বরখাস্ত হন বিমানের তিন প্রকৌশলী।
 
এ ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যাটেরিয়েল ম্যানেজমেন্ট) উইং কমান্ডার (অব.) এমএম আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে ২০ ডিসেম্বর  রাতে বাংলাদেশ বিমানের প্রধান প্রকৌশলীসহ ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। 
 
মামলার এজাহারের আসামিরা হলেন- বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স) এসএ সিদ্দিক ও প্রধান প্রকৌশলী (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা এসএম রোকনুজ্জামান, সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসাইন ও টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান। এদের সবাইকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

'২০১৯ সালে ফের আ'লীগ ক্ষমতায় আসবে'

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, 'সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়, জাতি সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠে। তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য জনগণের ভালোবাসা নিয়ে ২০১৯ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় আসবে।'
 
৫ জানুয়ারি 'গণতন্ত্রের বিজয় দিবস' উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার নিজ নির্বাচনী এলাকা আখাউড়া পৌরশহরের সড়ক বাজার মুক্তমঞ্চে এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
 
অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, 'বাংলাদেশ এখন তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চেয়ে প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে আছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে উন্নয়নে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল।'
 
গত ৮ বছরে দেশ অনেক এগিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, 'দেশে আর কোনো বিদ্যুতের ঘাটতি থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন- ২০২১ সালের মধ্যে বাংলার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে।'
 
আইনমন্ত্রী বলেন, '২০০৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশ ছিল অন্ধকারে। তখন দেশে মাত্র ৩২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ছিল। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। দেশে এখন ১৪ হাজারেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। মানুষকে আর বিদ্যুতের পেছনে ছুটতে হবে না, বিদ্যুৎ এখন মানুষের পিছু ছুটবে।'
 
আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যাপক জয়নাল আবেদিনের সভায় সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- যুগ্ন আহ্বায়ক আবুল কাশেম ভূঁইয়া, মেয়র তাকজিল খলিফা, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম ভূঁইয়া, জামশিদ ভূঁইয়া, মোহাম্মদ আলী, মনির হোসেন, নূরুজ্জামান, শাহআলম প্রমুখ।

কসোভোর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সে গ্রেফতার

সার্বিয়ার জারি করা পরোয়ানায় কসোভোর সাবেক প্রধানমন্ত্রী রামোস হ্যারাডিনাজকে গ্রেফতার করেছে ফরাসি পুলিশ।

কসোভোর রাজধানী প্রিসটিনা থেকে একটি ফ্লাইটে পূর্ব ফ্রান্সের ব্যাসেল-মুলহাউজ বিমান বন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

বর্তমানে হ্যারাডিনাজ কসোভোর বিরোধী দল 'অ্যালায়েন্স ফর দ্য ফিউচার অব কসোভো'র (এএকে) নেতা। কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে তিনি ফ্রান্স ভ্রমণ করছিলেন।

কসোভোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হ্যারাডিনাজকে গ্রেফতারের ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে,  ২০০৪ সালে সার্বিয়ার জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তার মুক্তির জন্য যা করা প্রয়োজন তার সবকিছুই আমরা করব।

২০১৫ সালের জুনেও হ্যারাডিনাজকে স্লোভানিয়ান পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। তবে কূটনৈতিক চাপের মুখে দুদিনের মাথায় মুক্তি পান তিনি।

মুসলিম অধ্যুষিত সার্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কসোভোতে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে ১৯৯৮-১৯৯৯ সালে যুদ্ধকালে হ্যারাডিনাজ গেরিলা কমান্ডারের ভূমিকা পালন করেন।

জাতিসংঘ ১৯৯৯ সালের জুনে সার্বিয়ার কাছ থেকে কসোভোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। বিশ্ব সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থাতেই ২০০৪-২০০৫ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কসোভোর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হ্যারাডিনাজ।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর সমর্থনে ২০০৮ সালে কসোভো স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ইউরোপের সবচেয়ে নবীণ রাষ্ট্র কসোভোর সঙ্গে ফ্রান্সের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

সার্বিয়া সরকার দ্য হেগে জাতিসংঘের আদালতে হ্যারাডিনাজের বিরুদ্ধে দুই দফা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছিল। তবে প্রত্যেক বারই অভিযোগ থেকে খালাস পান তিনি।

বিবিসি জানিয়েছে, সর্বশেষ ২০১২ সালে দ্য হেগের আদালত হ্যারাডিনাজকে খালাস দেয়। এ সময় আদালত জানায়, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই।

রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারের তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান এইচআরডব্লিউ'র

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নিরাপত্তাবাহিনী নিপীড়ন চালায়নি বলে দেয়া দেশটির সরকারি কমিশনের প্রতিবেদনের কঠোর সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

বুধিবার সরকারি কমিশনের অর্ন্তবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। একই দিন একে পদ্ধতিগতভাবে 'ত্রুটিপূর্ণ' এবং 'রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট' বলে আখ্যা দেয় এইচআরডব্লিউ।

উল্লেখ্য, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ধরে পুলিশের বেধড়ক পিটুনির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সরকারি কমিশনের প্রতিবেদন এবং এইচআরডব্লিউর প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হলো।

গত অক্টোবরে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনে কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়িতে রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনায় বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠদের মাঝে ঘৃণা ও নিপীড়নের মাঝে বেঁচে থাকা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা সেনা অভিযানের মুখে হাজারে হাজারে পালাতে বাধ্য হয়।

অভিযানকালে কয়েক ডজন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে পারা ব্যক্তিরা মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হত্যা এবং নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।

শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন সরকারের দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো 'সাজানো'। তবে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের রক্ষায় আন্তর্জাতিক চাপ তীব্রতর হওয়ায় নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে সরকার কমিশন গঠন করতে বাধ্য হয়।

বুধবার সরকারি কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ নাকচ করা হয়। এছাড়াও প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের জোর করে বিতাড়নের অভিযোগও অস্বীকার করা হয়।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, 'রাখাইনের অস্থিতিশীল এলাকার 'বাঙালি' জনগোষ্ঠীর সংখ্যা, মসজিদ-মাদরাসার ভবনগুলো প্রমাণ করে সেখানে কোনও গণহত্যা বা ধর্মীয় নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি।

রোহিঙ্গাদের দেশটির আদিবাসী সংখ্যালঘু জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে তাদের বাঙালি বা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী বলে আসছে মিয়ানমার।

রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন

রোহিঙ্গা নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে গঠিত মিয়ানমার সরকারের কমিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সেনাবাহিনীর একজন সাবেক জেনারেল। যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত এই সেনাকর্মকর্তার দাবি, রোহিঙ্গাদের ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, অবৈধ গ্রেফতার এবং নির্যাতনের অভিযোগের ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরডব্লিউ, এই প্রতিবেদনকে পদ্ধতিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছে।

প্রতিবেদনের ব্যাপারে সংস্থাটির মন্তব্য, পরিস্থিতিকে খারাপ নয় বলে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত টানার যে চিরাচরিত রীতি হয়েছে এ প্রতিবেদন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আন্তর্জাতিক নিরসনের উদ্দেশ্যেই প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ৪৮৫ জন বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলা হলেও এতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা গ্রামবাসীদের ধরে পুলিশের পেটানো এবং লাথি দেয়ার একটি ভিডিও ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনায় চার পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে।

এই ঘটনার কয়েক দিনের মাথায় সরকারি কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো। যাতে রোহিঙ্গা নির্যাতনের অভিযোগ নাকচ করা হলো।

নাগরিকত্ব বঞ্চিত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। এতে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। এর চার বছর পর গত বছরের অক্টোবরে ফের বড় ধরনের নিপীড়নের মুখে পড়ে রোহিঙ্গারা।

মহাবিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় বার্তার উৎস আবিষ্কার

অবশেষে মহাবিশ্বের গভীর থেকে আসা রহস্যময় সংকেতের উৎসের খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বৃটিশ পত্রিকা দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের খবরে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। ২০০৭ সালে সর্বপ্রথম ফার্স্ট রেডিও বার্স্ট বা এফআরবি নামের এই সংকেতের সঙ্গে পরিচিতি মেলে বিজ্ঞানিদের। এরপর থেকেই মূলত বিজ্ঞানীরা এই সংকেত নিয়ে হতবুদ্ধিকর অবস্থায় পড়ে যান। পরে মোট ১৮ বার এই সংকেত শোনা যায়।  এই সংকেত কোথা থেকে আসছে বা কীসের থেকে এর উৎপত্তি তা কেউ জানত না। বড় কোনো নক্ষত্র, কৃষ্ণগহ্বর থেকে বেরিয়ে আসা কোনো বস্তুপিণ্ড বা এমনকি এলিয়েনদের কাছ থেকে ওই সংকেত এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। এফআরবি খুব শক্তিশালী কিন্তু ছোট বেতার তরঙ্গ। যার স্থায়ীত্বকাল ১ মিলিসেকেন্ডেরও কম। ২০০৭ সালে সর্বপ্রথম অস্ট্রেলিয়ার পার্ক টেলিস্কোপে এই সংকেত ধরা পড়ে। এরপর আরও ১৭ বার এই সংকেত এসেছে। তবে মাত্র ১টি সংকেতই বার বার শোনা গেছে।

পরে এ নিয়ে গত ৬ মাস ধরে গবেষণা করেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণার ফলাফলও পেয়েছেন তারা। এই সংকেতের উৎস খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ৩০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরের একটি দুর্বল বামন ছায়াপথ থেকে আসছে এই সংকেত।

কানাডার ম্যাগগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. শ্রীহার্শ টেন্ডুলকার বলেন, প্রথমে ধারণা ছিল আমাদের ছায়াপথের পার্শ্ববর্তী মিল্কিওয়ে ছায়াপথ থেকে এই বার্তাগুলো আসছে। আপাতত সেই ধারণা এখন দূর হয়েছে।

তবে এই বার্তা কীভাবে উৎপত্তি হচ্ছে তা এখনও আবিষ্কার করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। অতি ঘন নিউট্রন নক্ষত্র থেকে এর উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

আবার কোনো কৃষ্ণ গহ্বর থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসা বস্তুপিণ্ডও এই সংকেতের উৎস হতে পারে বলেও অনেকের ধারণা।