আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ (আজিয়াটা) এবং ভারতীয় এয়ারটেল লিমিটেড (ভারতি),
বাংলাদেশে রবি আজিয়াটা লিমিটেড (রবি) ও এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেডের
(এয়ারটেল) কার্যক্রম একীভূত করতে আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে উপনীত হয়েছে। ২০১৫
সালের ৯ই সেপ্টেম্বর দুই কোম্পানির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক
কার্যক্রম একীভূত করার সম্ভাবনার বিষয়ে একান্ত আলোচনা শুরুর ঘোষণা দেয়ার পর
এ চুক্তি হলো। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রবি কর্তৃপক্ষ।
তারা জানিয়েছে, একীভূতকরণের পর, দুই কোম্পানির একীভূত সত্তা রবি নামেই
ব্যবসা পরিচালনা করবে এবং একীভূত সত্তার গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৪
কোটিতে। রবি ও এয়ারটেলের যৌথ সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে
বিস্তৃত মোবাইল নেটওয়ার্কের অধিকারী হবে এই একীভূত সত্তা। এর ফলে দেশের
প্রত্যন্ত অঞ্চলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে টেলিযোগাযোগ
এবং উচ্চগতির মোবাইল ইন্টারনেট সেবা দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে
এবং তা ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা আশা
করছি। এই চুক্তির কার্যকারিতা টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ
(রেগুলেটরি), সরকার এবং আদালতের অনুমোদন পাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। এ প্রক্রিয়া
আগামী দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রবির প্রধান
নির্বাহী সুপুন বীরাসিংহে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অসম প্রতিদ্বন্দ্বিতা
এবং প্রতিযোগী বহুল টেলিকমিউনিকেশন খাতে একীভূতকরণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমরা
মনে করি এই একীভূতকরণের মাধ্যমে আজিয়াটা এবং ভারতি এয়ারটেল উভয়েই বর্ধিত
আকার এবং দক্ষতার ফলে ব্যয় সংকোচনের সুবিধা পাবে। পাশাপাশি, এর ফলে
কর্মকৌশলের সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন এবং গ্রাহকদের আরও সাশ্রয়ী সেবা দেয়ার
লক্ষ্যে যে কোনো বিনিয়োগে এ খাতের দুই শীর্ষস্থানীয় অপারেটর তাদের সম্মিলিত
ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারবে, যা এ শিল্পের সার্বিক কল্যাণ করবে এবং জাতীয়
অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সামনের দিনগুলোতে গ্রাহকদের
সাশ্রয়ী মূল্যে সবচেয়ে সেরা মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড অফার দেয়ার লক্ষ্যে রবি
এবং এয়ারটেলের সমন্বিত শক্তিকে কাজে লাগানো হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই
একীভূতকরণ গ্রাহকদের জন্য বড় ধরনের পার্থক্য সৃষ্টি করবে এবং তাদের জন্য
সবচেয়ে লাভজনক প্রস্তাবনা দেয়া সম্ভব হবে। আজিয়াটার প্রেসিডেন্ট এবং
গ্রুপের প্রধান নির্বাহী দাতোশ্রী জামালুদ্দিন ইব্রাহিম বলেন, ‘আজিয়াটার
একীভূতকরণ এবং আত্মীকরণ কৌশলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিভিন্ন দেশে আমরা
নিজেদের অবস্থান জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এ ধরনের
একীভূতকরণে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়েছি। ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও
ক্যাম্বোডিয়ার মতো বাজারে এ ধরনের একীভূতকরণ এবং আত্মীকরণে আমাদের সাফল্য
বাংলাদেশের বাজারেও একীভূতকরণে আজিয়াটার নেতৃত্বদানের যৌক্তিকতা প্রমাণ
করে। বাংলাদেশে আজিয়াটার দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের বিষয়ে আবারও গুরুত্বারোপ
করে জামালুদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ
ক্ষেত্র। আজিয়াটা সেই ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে প্রথম বিনিয়োগ করে। এ অঞ্চলের
অন্য সব বিনিয়োগ ক্ষেত্রের মতো আজিয়াটা বাংলাদেশেরও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি
এবং উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুধু টেলিযোগাযোগ খাতেই নয় বরং বাংলাদেশের
অর্থনীতি, জনগণ এবং প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে আমাদের অবদানের
বিষয়েও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ ভারতি এয়ারটেলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং
সিইও (ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া) গোপাল ভিত্তাল বলেছেন, দুটি কোম্পানির শক্তিকে
একত্রিত করার পেছনে অত্যন্ত যৌক্তিক কারণ রয়েছে। একীভূত এ সত্তা তার
কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটিয়ে গ্রাহকদের বিশ্বমানের আরও ভালো সেবা দিতে সক্ষম
হবে এবং বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।
No comments:
Post a Comment