Friday, February 5, 2016

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে ‘গাছমানব’-এর আকুতি ‘স্যার আমারে বাঁচান’

‘স্যার আমারে বাঁচান, আমার জন্য যা করতাছেন, আমি জীবনেও ভুলুম না।’ গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দেখে ফুপিয়ে কেঁদে ওঠেন গাছ মানব আবুল। তার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু। ছেলের কান্না দেখে  কাঁদতে শুরু করেন মা আমেনা বিবি ও স্ত্রী হালিমা। তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। ‘গাছ মানব’ আবুল বাজেদারের চিকিৎসার খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের দিকে তাকিয়ে আবুল এসব কথা বলেন। মন্ত্রী ঢামেকের বার্ন ইউনিটে আবুলের কক্ষে প্রবেশ করলে এমন দৃশ্যের অবতারণা হয়। আবুলের মা মন্ত্রীর হাত ধরে বলতে থাকেন- ‘আমার বাবারে ভাল কইরা দেন।’ এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, চিন্তা করবে না, তোমার জন্য প্রধানমন্ত্রী আছে। তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তোমার জন্য সব কিছু ব্যবস্থা করতে। এরপর মন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, বিরল রোগে আক্রান্ত ‘গাছ মানব’ আবুলের  চিকিৎসার সব খরচ সরকার বহন করবে। তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে বাড়ি পাঠানো হবে। আমরা তাকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি। হাসপাতালের চিকিৎসকরাও তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। এ রোগের ব্যাপারে দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেবেন। এদিকে, বিরল রোগে আক্রান্ত খুলনার দরিদ্র যুবক আবুলকে নিয়ে দেশ বিদেশের ডাক্তার, নার্স, গণমাধ্যম কর্মীসহ অসংখ্য মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। কেমন আছে সেই গাছ মানব, ডাক্তাররা কী তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন, পরীক্ষার ফলাফলে কী পাওয়া গেছে, বায়োপসি কি করা হয়েছে, রিপোর্ট কি বিদেশে পাঠানো হয়েছে এমন বিভিন্ন প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসছে। আবুলের চিকিৎসার্থে গঠিত ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সদস্য বার্ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন গতকাল মানবজমিনকে বলেন, ইতিমধ্যেই স্থানীয়ভাবে রক্ত ও আক্রান্ত স্থানসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যেঙ্গের এক্সরে করা হয়েছে। এতে শরীরে ক্যানসার বা অন্য কোন রোগের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, আগামীকাল তার বায়োপসি করা হবে। আক্রান্ত স্থান থেকে মাংসপি- কেটে নিয়ে তারপর বায়োপসি করতে হয়। বিদেশে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাঠাতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী হাসপাতালে আবুলের সঙ্গে কথা বলার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম, অন্য সদস্য অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন, অধ্যাপক ডা. মো. সাজ্জাদ খন্দকার, অধ্যাপক ডা. রায়হানা আওয়াল, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ  অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ  সহযোগী অধ্যাপক ডা. এমদাদুল হক।

জবাবদিহিতার অভাবে সমাজে অপরাধ বাড়ছে: সুলতানা কামাল

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অপরাধ বাড়ছে। দুর্নীতিবাজরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। রাষ্ট্র অথবা সমাজের কাছে তাদের কোনো জবাবদিহিতা না থাকার কারণে সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আমাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
গতকাল সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সচেতন নাগরিক কমিটি ও ইয়ুথ এনগেজমেন্ট সাপোর্টের (সনাক-ইয়েস) জাতীয় সম্মেলনে প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘জাগ্রত বিবেক, দুর্জয় তারুণ্য-দুর্নীতি রুখবেই’ এই স্লোগানকে ধারণ করে অনুষ্ঠান আয়োজন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। সম্মেলনে সারা দেশের ৪৫টি অঞ্চল থেকে প্রায় ৩০০০ হাজার কর্মী যোগ দেন। সুলতানা কামাল বলেন, সমাজে জবাবদিহিতা না থাকার কারণে মানুষ নির্যাতিত হয়েও বিচার পাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, দেশের একটি গোষ্ঠী চাইছে একা একা চলতে। মানুষ কখনই একা  চলতে পারে না। সবার গুণে একটি সমাজ পরিপূর্ণ ন্যায়ভিত্তিক সমাজে পরিণত হয়। একথা আমাদের মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। কাজে কেউ যদি মনে করেন একা একাই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন তাহলে ভুল পথে আছেন। আস্থা ও বিশ্বাসে যে ঘাটতি আছে তা আমাদেরকে দেশের কল্যাণের জন্য দূর করতে হবে।
সুলতানা কামাল আরও বলেন, সংবিধান জাতির কাছে একটি পবিত্র দলিল। রক্ষাকবজও বটে। বিভিন্ন সময় যেসব শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় যান তারা ওই পবিত্র দলিলকে সাক্ষী রেখে ক্ষমতায় গেছেন। কিন্তু, পরে ক্ষমতার দম্ভে ওই সংবিধানের বিভিন্ন আদেশ ও নিষেধ ভুলে যান। বিবেককে লালসার কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে তারা অপরের বিবেককেও সম্মান করছেন না।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য জাতির কাছে স্পষ্ট। টিআইবি দেশে যে কাজ করছে তাতে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ উদ্ধারের প্রশ্নই আসে না। আমাদের আয়ের উৎস সরকারের কাছে জমা দিয়েছি। অথচ কিছুদিন আগে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, টিআইবি ও আইএস এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপবাদ দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন মানহানিকর বক্তব্যে কিছুই মনে  করিনি। কারণ আমরা যারা এখানে সমবেত হয়েছি তাদের একটি কথা শুধু ভাবতে হবে যে, বিভিন্ন পেশায় বিভিন্ন বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। তেমন করে দেশের সেবা করার যে মহান পেশায় আমরা কাজ করে চলেছি সেখানে বিভিন্ন বিড়ম্বনা আসবে, আসাটায় স্বাভাবিক ব্যাপার। ওই বিড়ম্বনার কথাটি স্মরণ করে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।
সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সুলতানা কামাল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের দুর্নীতিবিরোধী শপথ পাঠ করান।

ভাড়া খাটা বুদ্ধিজীবীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান

বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা করে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে বিদেশের কিছু ভাড়া খাটা বুদ্ধিজীবী আছেন। এদের কাজ হচ্ছে দেশের বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়ে বেড়ানো। দেশের উন্নয়ন দেখে এদের কলিজা ফুটে যায়। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে তিনি একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে আরও বক্তৃতা করেন হুইপ মো. শহীদুজ্জামান সরকার, মীর শওকত আলী বাদশা, মোস্তাফিজুর রহমান, রেজাউল হক চৌধুরী, রিফাত আমিন প্রমুখ। সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ শত বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ সেতুর কাজ শেষ হবে। এই সেতুর কাজ এতদিনে শেষ হতো। কিন্তু কী কারণে তা হয়নি সবারই জানা। তিনি বলেন, দেশীয় ষড়যন্ত্রকারীরা বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য নানা আজগুবি তথ্য দিয়ে বিশ্বব্যাংককে প্রভাবিত করে অভিযোগ তোলে দুর্নীতির। অথচ তারা আজও দুর্নীতির কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। বরং ‘বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ’সহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ও তাদের কর্মকর্তারা নিজেরাই অস্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। মতিয়া চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার মানুষকে মাথা তুলে দাঁড়াবার ব্যবস্থা করেছে। বর্তমান সরকার প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলছে। আমরা দেশের চারদিকে শান্তির পরিবেশ সৃষ্টির জন্য অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কারণ, আমরা কাজ করছি বিশ্বব্যাপী একটি বৈরী প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে। তারপরও সরকার বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। গণতন্ত্রকে হত্যার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একসঙ্গে চলে না বলে যারা প্রচার করে তারা দুটোই চায় না। কারণ, গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করছেন। জনগণের সমর্থনে দেশের উন্নয়ন কাজ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গোপালগঞ্জে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে সাংবাদিক আটক

গোপালগঞ্জের বেদগ্রামে সাংবাদিক স্ত্রী জাকিয়া মল্লিককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের সাংবাদিক মোর্শেদায়ন নিশান ও তার ভাই-ভগ্নিপতিসহ ৪জন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তবে কারা এবং কেন তাকে হত্যা করেছে তা এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ। শুক্রবার আনুমানিক রাত ২টায় এ ঘটনা ঘটে। সাংবাদিক মোর্শেদায়ন নিশানের বাবা সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুস ছাত্তার কানছু জানান, শুক্রবার রাতে পেশাগত কাজ শেষে সাংবাদিক মোর্শেদায়ন নিশান ঘরে ফেরে। আনুমানিক রাত ২টায় বাড়িতে ডাকাত ঢোকে। এরপর ডাকাতদল তার পুত্রবধু জাকিয়া মল্লিককে কুপিয়ে আহত করে। গুরুতর আহত জাকিয়া মল্লিককে হাসপাতালে ভর্তির পর সে মারা যায়। অন্যদিকে, নিহতর বাবা গোপালগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ জালাল উদ্দিন মল্লিক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তার মেয়ে জাকিয়া মল্লিকের সঙ্গে জামাই মোর্শেদায়ন নিশানের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক দ্বন্দ চলছিলো। সে কারনে গত ৩ মাস যাবত তার মেয়ে বাবার বাড়িতেই ছিলো। ৩দিন আগে জাকিয়া মোর্শেদায়ন নিশানের নতুন বাড়ীতে যায়। এরপর শুক্রবার রাতে জাকিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করে। এদিকে এসপি সার্কেল আজ শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কারা এবং কেন তাকে হত্যা করেছে তা এখনও আমরা নিশ্চিত না। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত জাকিয়া মল্লিকের স্বামী মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের সাংবাদিক মোর্শেদায়ন নিশান ও তার ভাই শুসান, ভগ্নিপতি হাসান ও দোকান কর্মচারী সহ ৪জন আটক করা হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গীতে দুর্বৃত্তের হামলায় কৃষকলীগের সভাপতিসহ আহত ৩

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় দুর্বৃত্তের হামলায় উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম চৌধুরীসহ তিনজন আহত হয়েছে। অন্যারা হলেন, তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন, গৃহকর্মী বিমল রায়। তাদের মধ্যে বিমল ও গৃহকর্মী বিমলকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাবেয়া খাতুন ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের আলোক ছিপি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অপূর্ব কুমার রায় জানান, রাতে দুজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে। এ সময় রাহিম দুর্বৃত্তদের মধ্যে একজনকে সনাক্ত করে ধরে ফেলে। এসময় অপর জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কোপাতে থাকে। এতে রহিম, তার স্ত্রী ও গৃহকর্মী বিমল আহত গয়। পরে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।  বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। দোষীদের সনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

এরশাদকে রওশনের ফোন ‘আমাকে নিলে না কেন’

‘তুমি কোথায়’। ‘আমার ভাই ও হাওলাদারের সংবর্ধনায় যাচ্ছি’। আমাকে নিলে না কেন?। কথাগুলো জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ ও তার স্ত্রী বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদের টেলিফোন আলাপ। গতকাল একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন এরশাদ। এর আগে রওশন তাকে মোবাইলে ফোন করেছিলেন। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এরশাদ নিজেই সেই টেলিকথনের বিষয় উপস্থিত নেতাকর্মীদের অবহিত করেন। দলের কো-চেয়ারম্যান নিয়োগ ও মহাসচিব পরিবর্তন নিয়ে এরশাদ ও রওশন এরশাদের মধ্যে বিরোধের আলোচনার মধ্যেই এরশাদ এমন তথ্য জানানোয় উপস্থিত নেতাকর্মীরা হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এরশাদ বলেন, অতীতে ফিরে যেতে চাই না। জীবনে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত হলো, জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ও রুহুল আমিন হাওলাদারকে পুনরায় মহাসচিব করা। আমার ভয় ছিল, মৃত্যুর পরে আমার সন্তানও (জাতীয় পার্টি) বিলীন হয়ে যাবে কিনা? গত ৬ই ডিসেম্বর থেকে শান্তিতে একদিনও ঘুমাতে পারিনি। কিন্তু এখন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে, সাহস পাচ্ছি, আশার আলো দেখছি, শান্তি পাচ্ছি- আমার মৃত্যুর পরেও আমার দল, আমি এবং দলের নেতা-কর্মীরাও বেঁচে থাকবে। কাদের ও হাওলাদারের হাত ধরে দল টিকে থাকবে ও সামনে অগ্রসর হবে এই বিশ্বাস ও আস্থা আছে। আশা করি, আমায় যারা ভালোবাসে তারা সবাই ওদের দুজনকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করবে। জাপা চেয়ারম্যান বলেন, অনেক উত্তাল-ঝড় পেরিয়ে এসেছি, কিন্তু হারিয়ে যাইনি। তাই প্রমাণ করে জাতীয় পার্টির শেকড় মানুষের হৃদয়ে কতটা মজবুতভাবে আছে। এই গচ্ছিত সম্পদকে নষ্ট করা যাবে না। জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছি, আঘাত পেয়েছি, জেল খেটেছি। আজ থেকে সব ভুলে গেলাম। জাতীয় পার্টিতে নতুনভাবে প্রাণের সঞ্চার হলো। সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, বাবলু তার নিজের দোষে পদ হারিয়েছে, আমি তাকে সরাতে চাইনি। আমি কাউন্সিলের জন্য আহ্বায়ক কমিটি করলাম, তার ভিন্ন মত থাকলে আমায় ফোন করতে পারতো। সেটা না করে বিশৃঙ্খলা করে আমায় বাদ দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করলো। এটা বেঈমানি ও বিশ্বাসঘাতকতা। তোষামোদ করে কিছু পাওয়া যায় না। আমার সামনে এত প্রশংসা করা পছন্দ করি না। আমি ভালো না মন্দ সেটা বিচার করবে জনগণ। দেশে এখনকার পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে জনগণের বিচারে আমরা জয়ী হয়েছি। এই জয়ের উচ্ছ্বাসকে অব্যাহত রেখে চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে’- দলের নেতা-কর্মীদের এমন আহ্বান জানান সাবেক এই স্বৈরশাসক। জিএম কাদের কো-চেয়ারম্যান ও রুহুল আমিন হাওলাদার মহাসচিব হওয়ায় তাদেরকে বরণ করে নিতে ‘ইমানুয়েলস কনভেনশন সেন্টারে’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয় পার্টি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জিএম কাদের বলেন, অন্যান্য দলে অনেক বেশি পরিবর্তন হয়। সে তুলনায় আমাদের দলে সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে। তাতেই সারা দেশে জাগরণ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমগুলো প্রতিদিন তাদের প্রয়োজনেই জাতীয় পার্টিকে নতুন রূপে তুলে ধরছে। বুদ্ধিজীবীরা আমাদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করছে। যারা সমালোচনা করছে তারাও আমাদের ভালো চান বলেই এমনটা করছেন।
দেশের রাজনৈতিক মাঠ এখন ফাঁকা উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, দেশে শক্তিশালী বিরোধীদল নেই। রাজনীতির মাঠ ফাঁকা। এই সুযোগে একটি পিঁপড়াও যদি শক্তিশালীভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, জয়ের মালা সে-ই পাবে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মানুষের দায়িত্ব নিতে চায় জাতীয় পার্টি। তাই সব ভেদাভেদ ভুলে বড় কিছু পাওয়ার আশায় দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমানের অবর্তমানেও আওয়ামী লীগ-বিএনপি শক্তিশালী হয়েছে। তাই আমাদের পিতার (এরশাদ) অবর্তমানেও জাতীয় পার্টি টিকে থাকবে এবং আরও শক্তিশালী হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর উত্তর সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন বাবুল। বক্তব্য রাখেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু হোসেন বাবলা এমপি, হাবিবুর রহমান, হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি মোহাম্মদ হাছান প্রমুখ।

৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে বিএনপির জেলা সম্মেলন

কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে বিএনপির চলমান সাংগঠনিক পুনর্গঠনে চলছে তোড়জোড়। চূড়ান্ত করা হচ্ছে জেলা ও মহানগর বিএনপির সম্মেলনের দিনক্ষণ। চলতি ফেব্রুয়ারিতেই আয়োজন করা হচ্ছে অন্তত ১০টি জেলার সম্মেলন। মার্চে এ সংখ্যা হতে পারে অন্তত ২০। ৭ই ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সম্মেলনের মাধ্যমে শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপের এ সিরিজ আয়োজন। কাউন্সিলের আগেই বেশির ভাগ জেলা সম্মেলন শেষ করতে চায় বিএনপি। দলটির কেন্দ্রীয় ও চেয়ারপারসন কার্যালয়ের একাধিক সূত্র পুনর্গঠন কার্যক্রমের এ অগ্রগতির তথ্য জানিয়েছে। 
সরকার ও প্রশাসনের নানা প্রতিবন্ধকতায় বারবার ভেস্তে গেছে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে বিএনপির সম্মেলন। এতে বিলম্ব হয়েছে জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠান। প্রতিকূল পরিস্থিতির পাশাপাশি জেলা ও মহানগর কমিটির শীর্ষ নেতাদের নানা অজুহাত তৃণমূল সম্মেলনে বিলম্ব করতে রেখেছে ভূমিকা। অন্যদিকে কেন্দ্রের নানা দায়িত্ব পালন ও তদারক করতে গিয়ে নিজ জেলার সম্মেলন আয়োজন করতে পারেননি অনেক কেন্দ্রীয় নেতা। কিন্তু জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের ঘোষণার পর পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। উপজেলা ও পৌরসভার মধ্যে যেগুলোর সম্মেলন বাকি ছিল তা শেষ করতে রীতিমতো মরিয়া হয়ে কাজ করছেন নেতারা। চূড়ান্ত করা হচ্ছে একের পর এক জেলা সম্মেলনের দিনক্ষণ। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, নানা অসুবিধার কারণে অনেক জেলায় সম্মেলন আয়োজন করতে বিলম্ব হয়েছে। নেতারা বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জেলায় সম্মেলনের প্রাথমিক দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে তা দুয়েকদিন এদিক-ওদিক হতে পারে। 
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দলের অন্যতম কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী। দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর ধরে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে বিঘ্ন ঘটেছে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে। একপর্যায়ে নেতাদের সক্রিয় করতে ভূমিকা রেখেছেন ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটির সম্মেলনের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে চলমান সাংগঠনিক পুনর্গঠন কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্ব। সাংগঠনিক জেলা দুটির সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ই ফেব্রুয়ারি। কিন্তু অনুমতি জটিলতায় সেটা একদিন পেছানো হয়েছে। আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারি এ দুই জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যৌথ এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন। যথারীতি এই দুই সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন আয়োজনের নেপথ্যে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন তাহসিনা রুশদীর লুনা। অন্যদিকে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে আছেন দলের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান। সিলেটের পর ৯ই ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলের দিন ঠিক করেছে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি। সেখানেও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 
সাংগঠনিক পুনর্গঠন কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা দিয়ে ২০১৫ সালের ৯ই আগস্ট কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা আলমগীর ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদের অনুপস্থিতিতে সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে আছেন। চলমান পুনর্গঠন কর্মকাণ্ড তদারক করতে গিয়ে তিনি আয়োজন করতে পারেননি নিজ জেলার কাউন্সিল। আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি কাউন্সিল আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে নোয়াখালী জেলা বিএনপি। পরদিন ২৭শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে রাজবাড়ি জেলা বিএনপির কাউন্সিল।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির কাউন্সিলে আয়োজনের তারিখ নির্ধারণ হয়েছে আগামী ১লা মার্চ। এছাড়া আগামী ২৪শে ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জ, কুষ্টিয়াসহ বেশ কয়েকটি জেলার সম্মেলনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। কেন্দ্রের নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সম্মেলন করবে এসব জেলা বিএনপি।
এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলা সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত। বিশেষ করে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চাঁদপুর এগিয়ে রয়েছে। চলতি মাসেই এসব জেলার সম্মেলনের দিন চূড়ান্ত হতে পারে। রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক আবদুল মোমিন তালুকদার খোকা জানান, রাজশাহী বিভাগের একটি জেলায়ও সম্মেলন হয়নি। সব জেলাতেই কিছু কিছু উপজেলার সম্মেলন বাকি রয়েছে। তবে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের সম্মেলন শেষ করে সবচেয়ে এগিয়ে আছে নওগাঁ জেলা বিএনপি। খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, খুলনা বিভাগে জেলা সম্মেলন শুরু হবে ঝিনাইদহ থেকে। চলতি মাসেই বেশির ভাগ জেলার প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ত্রাণ-পুনর্বাসন সম্পাদক সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী জানান, প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। আগামী ৯ই ফেব্রুয়ারি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঝিনাইদহে গেলে তার সঙ্গে আলোচনা করে সম্মেলনের দিন চূড়ান্ত করবেন। টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আহমেদ আজম খান জানান, সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি। দুয়েকদিনের মধ্যেই দলের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।

দুই চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি হচ্ছে

পরিবর্তন আসছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে। আসন্ন কাউন্সিলে দলের কিছু পদে আসছে নতুন মুখ। এছাড়া পুরো কমিটি ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সময়ের চাহিদা ও বর্তমান কমিটির নেতাদের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে দলের নীতি-নির্ধারক সূত্র জানিয়েছে। ২৮শে মার্চ কাউন্সিল অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করে ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে গঠনতন্ত্রেরও সংশোধন করা হবে। তবে এখনও পর্যন্ত গঠনতন্ত্র সংশোধনে কোন কমিটি গঠন করা হয়নি। আগের কাউন্সিলে গঠনতন্ত্র নিয়ে যারা কাজ করেছেন তারা ছাড়াও সংশোধন কমিটিতে এবার আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে যুক্ত করা হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৭৩টি পদ রয়েছে। আসন্ন কমিটিতে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। অন্তত ১০টি পদ যুক্ত হতে যাচ্ছে কমিটিতে। এর মধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদকের বর্তমান ৭ টি পদের জায়গায় ১০টি, দলীয় মুখপাত্র, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকের পদ যুক্ত হচ্ছে গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে। আগের কাউন্সিলে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক মানবজমিনকে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কমিটির পদ বাড়লেও এটি একশ’র উপরে যাবে না। সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০টি পদ বাড়তে পারে। তিনি জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে কয়েকজন সিনিয়র নেতাও থাকবেন। আগের কমিটিতে দায়িত্ব পালন করা একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কমিটি গঠন হলে আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে। তবে এখন অনানুষ্ঠানিকভাবে আলাপ-আলেচনা চলছে। তিনি বলেন, দলকে গতিশীল করতে এবং সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দলে ও নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হবে। বর্তমান কমিটিতে যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা আবার দায়িত্ব পাবেন কিনা এটি বিবেচনা করবে দলীয় ফোরাম।
এদিকে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সর্বশেষ বৈঠকে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর এখন পর্যন্ত সম্মেলন হয়নি এমন জেলাগুলোর সম্মেলন করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই সব জেলার সম্মেলন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সম্মেলন শেষ হলেই কাউন্সিলের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে। কাউন্সিলের বিষয়ে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ মানবজমিনকে বলেন, জেলা সম্মেলন শেষ করার জন্য কাজ চলছে, একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের কার্যক্রমও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সম্মেলন প্রস্তুতির জন্য একাধিক কমিটি হবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটিও সম্মেলনকে সামনে রেখে বৈঠক করবে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ৭৭টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬০টি জেলার সম্মেলন হয়েছে। পাঁচটি জেলার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ১২টি জেলার সম্মেলন করতে হবে চলতি মাসের মধ্যে।
২০১২ সালের ২৯শে ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিল হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমান কার্যনির্বাহী সংসদের মেয়াদ গত ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে। যদিও সর্বশেষ সভায় কার্যনির্বাহী সংসদের মেয়াদ পরবর্তী কাউন্সিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, আসন্ন কাউন্সিল দুইদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। চলমান রাজনৈতিক অবস্থা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচন এ দু’টি বিষয় সামনে রেখেই নতুন কমিটিকে কাজ করতে হবে। এজন্য অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি তরুণ ও মেধাবীদের স্থান দেয়া হবে নতুন কমিটিতে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং নির্বাচনের জন্য দলকে প্রস্তুত করতে নতুন কমিটির নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে এমনটি মাথায় রেখেই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।
ইতিমধ্যে দলীয় সভানেত্রী সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে বাইরে নানামুখী আলোচনা থাকলেও এ নিয়ে নীতি-নির্ধারক পর্যায়ে কোন চিন্তা নেই। বিশ্বস্ত এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞার বিবেচনায় দলীয় সভানেত্রীর আস্থাভাজন হিসেবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামই এ পদে থাকছেন এটি অনেকটাই নিশ্চিত। সাধারণ সম্পাদক পদে সৈয়দ আশরাফের বিকল্প নিয়ে এখনই ভাবা হচ্ছে না বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। যদিও প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ, মোহাম্মদ নাসিম, ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে আলোচনা আছে বাইরে। তবে তাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের আগ্রহের বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানা যায়নি।
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের তিনটি পদের মধ্যে পরিবর্তন আসতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে মাহবুবুল আলম হানিফ একই পদে থাকছেন এটি প্রায় নিশ্চিত। বাড়তি হিসেবে তাকে দলের মুখপাত্রেরও দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। বাকি দু’টি পদের একটিতে পরিবর্তন আসতে পারে। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজীম আহমেদ সোহেল তাজকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে এমন আলোচনা আছে। তবে এটি নির্ভর করছে তার ইচ্ছার উপর।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার ছেলে রেদোয়ান সিদ্দিক ববিকে নিয়েও আলোচনা আছে দলে। সজীব ওয়াজেদ জয়কে রংপুরে ইতিমধ্যে দলের প্রাথমিক সদস্য করা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের কোন দায়িত্বে নেই। জয় নানাভাবে দলকে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন। একইভাবে ববিও দলের গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। দলের অনেকে চাইছেন তারা সরাসরি দলের দায়িত্ব পালন করুক। যদিও এ নিয়ে নীতি-নির্ধারক পর্যায়ে আলোচনা নেই। আগামী কাউন্সিলে তারা কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন কিনা এটি নির্ভর করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর।
দলের সাত সাংগঠনিক সম্পাদকরা দায়িত্ব পালন করছেন দ্বিতীয় মেয়াদে। এ সাত সাংগঠনিক সম্পাদকের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন হচ্ছে। দক্ষতা বিবেচনায় তাদের দু’-একজনের পদোন্নতি হতে পারে। পদ শূন্য হলে এক্ষেত্রে আসতে পারেন নতুন মুখ। এছাড়া কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগ ধরে সাংগঠনিকের আরও তিনটি নতুন পদ সৃষ্টি করা হতে পারে গঠনতন্ত্রে। এক্ষেত্রে ওই তিন অঞ্চল থেকে তিনজন সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে উঠে আসতে পারেন।
এছাড়া দলের তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদকের পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ পদে এ খাতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ তরুণ নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হবে। এ পদে একজন প্রতিমন্ত্রীসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে। প্রেসিডিয়ামেরও কিছুটা রদবদল হতে পারে। এক্ষেত্রে সম্পাদকমন্ডলী থেকে সিনিয়র কয়েকজন স্থান পেতে পারেন। এছাড়া দলের গঠনতন্ত্রে মুখপাত্রের পদের বিষয়ে কোন নির্দেশনা নেই। এ কারণে একেক সময় একেক নেতা দলীয় বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন। এ বিষয়ে স্পষ্টীকরণ করে গঠনতন্ত্রে মুখপাত্রের স্থায়ী পদের উল্লেখ করা হতে পারে। এক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাই দলীয় বিষয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন। এদিকে নতুন কমিটিতে স্থান পেতে ইতিমধ্যে নেতাদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। তারা নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলের শীর্ষ পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। তাদের মধ্যে সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা এগিয়ে রয়েছেন। দলের একটি সূত্র বলছে, তরুণ এসব নেতাদের মধ্যে কয়েকজনকে এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেয়া হচ্ছে।

গুজব, গুজব নয়

রাজনীতি স্থির। কোথাও কোনো অস্থিরতা নেই। সবকিছুই সরকারের নিয়ন্ত্রণে। জাতীয় পার্টিতে বাকওয়াজ চলছে। কেউ কেউ বলছেন, সবই সাজানো। জামায়াত এখন অতীতের বিষয়। বিএনপি বিপন্ন। এই যখন অবস্থা তখনও গুজবের যন্ত্র থেমে নেই। আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে রাজনীতির অন্দরমহলে। নানা হিসাব মেলাচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। কবে হবে সেই নির্বাচন? নির্বাচনের আগেই কী কার্যকর হবে নতুন মাইনাস থিওরি। ত্রয়োদশ সংশোধনী প্রশ্নে আদালত  
অঙ্গন একমত হতে পারেনি। একজন অ্যামিকাস কিউরি ছাড়া সবাই মত দিয়েছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষে। বিচারপতিরাও একমত হতে পারেননি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে অবৈধ ঘোষিত হয় তত্ত্বাবধায়ক। তা নিয়ে নানা বিতর্ক। তবে একটি প্রশ্নে আদালত অঙ্গন একমত পোষণ করেছিল, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন কেমন হয়েছে সে নিয়ে আলোচনা না করাই ভালো। তবে ওই নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধীরা তেমন কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। উল্টো সহিংসতার অভিযোগে হয়েছে কোণঠাসা। কার্যত কোনো চ্যালেঞ্জই মোকাবিলা করতে হয়নি সরকারকে। তবে কোথায় যেন একটা অস্বস্তিও রয়ে যায়। এরইমধ্যে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আগাম নির্বাচনের বেশ কিছু ইঙ্গিত দেখছেন। যদিও সরকারের মন্ত্রীরা বারবারই বলছেন, ২০১৯ সালের আগে কোনো নির্বাচন হবে না। এবং সংবিধানও তা বলছে। তবে কৌশলগত কারণে এরআগেও মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রের আভাস। কয়েকমাসের মধ্যেই দৃশ্যপটে নতুন মোড় নিতে পারে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অন্তত একটি মামলা চূড়ান্ত পরিণতির পথে রয়েছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শেষ করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বেশ কয়েকটি মামলাও পরিণতি লাভ করতে পারে দ্রুতই। এসব মামলার রায় বিরুদ্ধে গেলে বিএনপির প্রধান দুই নেতা নির্বাচনে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলার পরিণতি লাভের পর দেশ নির্বাচনের দিকে যেতে পারে বলে মনে করেন কোনো কোনো পর্যবেক্ষক। এরআগে কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের প্রাধান্য দেয়া হতে পারে। দলটির নেতৃত্বে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না হলেও কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে পারে। উত্তরাধিকারের রাজনীতিও একটি নতুন ধাপে যেতে পারে এ কাউন্সিলের মাধ্যমে।
সম্প্রতি সিলেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকায় ভোট চেয়েছেন। তবে শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদ না স্থানীয় নির্বাচনের জন্য এ ভোট চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে নানা ওলট-পালট ঘটছে। দলটির নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। প্রতিদিনই জাতীয় পার্টিতে কোনো না কোনো ঘটনা ঘটছে। আগাম নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি এক ধরনের ওয়ার্ম আপ করছে বলেও কারও কারও ধারণা। কার্যকর কোনো বিরোধী দল না থাকায় বর্তমান সংসদের সবচেয়ে বড় সমালোচনা। জাতীয় পার্টি একইসঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে রয়েছে। অনেক পশ্চিমা কূটনীতিকই এ দৃশ্য দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন। জাতীয় পার্টিকে আসল বিরোধী দল বানানোর এক ধরনের প্রক্রিয়া চলছে। যদিও সব পরামর্শ এক কেন্দ্র থেকেই আসছে।
আগাম নির্বাচনের চিন্তার পেছনে আন্তর্জাতিক মহলের মনোভাবও প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। পশ্চিমা দুনিয়া সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক সচল রাখলেও তার মধ্যে এক ধরনের শীতলতা রয়েছে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে পশ্চিমা শক্তি অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন মনে করে না। তাদের মতে, ওই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। তারা একটি অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনের পক্ষে তাদের অবস্থান বারবারই ব্যক্ত করেছে। প্রকাশ্যে সরকার, এসব বক্তব্যকে নাকচ করে আসছে। তবে ভারতসহ কয়েকটি দেশ বরাবরই সরকারের পক্ষে সমর্থন দিয়ে আসছে। বাংলাদেশে কেমন নির্বাচন হলো- এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কোনো মাথা ব্যথা নেই। বাংলাদেশে বেশ কিছু জঙ্গি হামলাও সরকারের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছিল। এখন মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাম্প্রতিক অতীতে বেশ কিছু জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। জঙ্গি সংগঠন আইএস এসব হামলার দায় স্বীকার করেছিল। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই ওইসব দাবি উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর তরফে এও বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে আইএস আছে তা স্বীকার করানোর জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক অস্বস্তি এবং নিজেদের মেয়াদ আরও বাড়ানো এই দুই সমীকরণে আগাম নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের চিন্তা রয়েছে। গুঞ্জন আছে চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা ২০১৭ সালের শুরুর দিকে ওই নির্বাচন হতে পারে। সে নির্বাচনে বিএনপিকে কোন ফরম্যাটে আনা হবে তা অবশ্য এখনও চূড়ান্ত নয়। কেউ কেউ খালেদা-তারেক বিহীন বিএনপির স্বপ্নও দেখছেন। যদিও নীতি নির্ধারকদের অনেকে মনে করেন, সেটা সম্ভব না হলেও শক্তির মহড়ার ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না।

‘চাইলাম বিচার পেলাম লাশ’- এবার চা বিক্রেতাকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

‘চাইলাম বিচার, পেলাম লাশ’। ঢাকা মেডিকেল কলেজের লাশঘরের সামনে এমন প্রলাপ বকছিলেন চা বিক্রেতা বাবুল মাতব্বরের ছেলে রাজু। বুধবার রাতে রাজধানীর শাহআলী থানা এলাকায় নিজের চায়ের দোকানে আগুনে দগ্ধ হন বাবুল। গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান তিনি। পরিবারের অভিযোগ, চাঁদা না পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ তেলের চুলা ছুড়ে মারায় বাবুল দগ্ধ হন। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে গতকাল রাতে বাবুলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাবুলের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর শাহআলী থানার গুদারাঘাট এলাকার কিংশুক সমবায় সমিতি আবাসিক এলাকায় চাঁদা আদায় করতে যান চার পুলিশ সদস্য ও তিন সোর্স। চাঁদা আদায় নিয়ে বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে স্টোভের চুলার আগুনে দগ্ধ হন বাবুল। সেখান থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় তাকে। আগুনে তার শরীরের ৯৫ ভাগ পুড়ে যায়। ১৬ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মারা যান তিনি।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহআলী থানার কিংশুক সমবায় সমিতি আবাসিক এলাকায় প্রবেশপথে রাস্তার পাশে চা বিক্রি করছিলেন বাবুল মাতুব্বর। অর্ধশত গজ দূরেই পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। ওই এলাকায় প্রতিবেশী পারুল, তার স্বামী আজিজ, শংকর, মনিরসহ বেশ কয়েকজন গাঁজাসহ মাদকদ্রব্য বিক্রি করতো। প্রায় প্রতিদিন বা সপ্তাহে ওই এলাকায় শাহআলী থানা পুলিশের টহল টিম যাওয়া আসা করে। মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের ধারপাকড়ের মাধ্যমে আদায় করে চাঁদা। গত বুধবার দুপুরেও পুলিশ ভ্যান নিয়ে ওই এলাকায় যায়। চাঁদা দাবি করে বাবুলের কাছে। কিন্তু তিনি চাঁদা দেননি। দ্বিতীয়বার যায় রাত সাড়ে নয়টার দিকে। পুলিশ ভ্যানটি পাশে থামিয়ে চার পুলিশ সদস্য গাড়ি থেকে নামেন। তাদের সঙ্গে যায় ওই তিন সোর্স। তারা বাবুলের কাছে গিয়ে বলে ‘রাস্তা দখল করে দোকান করিস। গাঁজা বিক্রি করিস। চাঁদা দিতে হবে।’ তখন বাবুল বলেন, ‘আমি যার জায়গায় বসে দোকান করি, তার অনুমতি নিয়েছি। আমি তো গাঁজা বেঁচি না। আমি কেন টাকা দিবো।’
তখন তারা বলেন, ‘৭ হাজার টাকা দে।’ জবাবে বাবুল বলেন, ‘আমার দোকানে মালামাল আছে ২ হাজার টাকার। ৭ হাজার টাকা কোত্থেকে দিবো।’ এরপর পুলিশ ও সোর্সরা বলেন, ‘তাহলে চল, তোকে ওসি স্যার ডাকছে। গাড়িতে ওঠ।’ এই বলে বাবুলকে ধরে গাড়িতে উঠাতে চাইলে বাবুল বলেন, ‘এর আগেও আমাকে মিথ্যা অভিযোগে ধরে নিয়ে টাকা আদায় করেছেন। আমি যাবো না।’ তখন পুলিশ সদস্য ও সোর্সরা তাকে ধরে গাড়িতে উঠানোর জন্য টানাটানি শুরু করেন। বাবুল তার দোকানের টেবিলের খুুঁটি আঁকড়ে ধরেন। একপর্যায়ে এক সোর্স বলেন, ‘দোকান ভেঙে ফেল, তাহলেই সে যাবে।’ এরপর দু-একজন ঝুপড়ি দোকানটি ভাঙতে শুরু করে। অপর কয়েকজন তাকে টানতে থাকে। একপর্যায়ে তারা বাবুলের শরীরে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। ঝুপড়ি দোকানটি ভাঙার একপর্যায়ে একজন হাতে থাকা লাঠি দিয়ে জ্বলতে থাকা স্টোভটি ছুঁড়ে মারে। এ সময় কেরোসিন ছিটকে পড়ে বাবুলের গায়ে ও আশপাশে। পাশে গিয়ে পড়ে স্টোভটি। জ্বলন্ত স্টোভের আগুন লেগে যায় বাবুলে গায়ে। আগুনে জ্বলতে থাকে বাবুলের পুরো শরীর। জ্বলন্ত অবস্থায় বাবুল একজনের কলার ধরে ফেলেন। এরপর তারা বাবুলের গায়ের জ্বলন্ত আগুন নেভানোর চেষ্টা না করে দাঁড়িয়ে থাকে। খবর পেয়ে বাসা থেকে ছুটে আসেন বাবুলের ছেলে মো. রাজু আহমেদ। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তিনি রাতের খাবার খাওয়ার জন্য বাসায় যান। এসেই এ পরিস্থিতি দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন তিনি। দাঁড়িয়ে দেখতে থাকা এক পুলিশ সদস্যের হাত ধরে বলেন, ‘আপনারা আমার বাবাকে পুড়িয়ে দিলেন।’ এরপর পুলিশ সদস্য ও সোর্সরা আশপাশের লোকজন আসতে দেখে দ্রুত গিয়ে গাড়িতে উঠেন। এরপর পুলিশ ভ্যানটি ওই এলাকা ত্যাগ করে।
স্থানীয়রা জানান, উপস্থিত লোকজন বাবুলের গায়ের আগুন নেভায়। ততক্ষণে বাবুলের শরীরের অধিকাংশই পুড়ে যায়। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে তাকে থানায় নিয়ে অবস্থা দেখানো হয় পুলিশ কর্মকর্তাদের। রাত সাড়ে ১১টায় ভর্তি করা হয় বার্ন ইউনিটে। সেখানে বাবুল ঘটনার বর্ণনা দেন। রাজধানীর শাহবাগ থানা পুলিশের এক সদস্য মৃত্যুর আগে বাবুলের কথা রেকর্ড করেন বলে জানান স্বজনরা।
নিহত বাবুলের পিতার নাম মৃত ছাদেক মাতুব্বর। তার বাড়ি ভোলা জেলার ভোলা থানার বাঘেরহাটের মুন্সিরচর এলাকায়।
চার পুলিশ প্রত্যাহার, দুই তদন্ত কমিটি: চাঁদা না দেয়ায় চা দোকানিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল এ ঘটনায় শাহআলী থানার দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) মমিনুর রহমান খান ও নিয়াজউদ্দিন মোল্লা, সহকারী উপপরিদর্শক দেবেন্দ্রনাথ ও কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাসুদ আহমেদকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্য হলেন মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহাবুব হোসেন। তাদের দ্রুত তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে উপ-কমিশনার (ডিসি ডিসিপ্লিন) টুটুল চক্রবর্তীকে ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চা-পান-সিগারেটও খেতেন না বাবুল: বাবুল চা বেচতেন। তবে কেউ কখনও তাকে চা খেতেও দেখেনি। সিগারেট তো দূরের কথা। তিনি কখনও পানও খাননি। প্রতিবাদ করতেন এলাকায় গাঁজা বিক্রির বিরুদ্ধে। গত দু’বছর আগে তার প্রতিবেশি মাদক বিক্রেতা পারুলকে ৯০ কেজি গাঁজাসহ ধরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বও চলছিল। অনেক সময় মাদক বিক্রেতা পারুলের প্ররোচনায় উল্টো বাবুলকে অপদস্থ ও আটক করে হয়রানি করতো বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। রফিকুল ইসলাম নামে বাবুলের এক আত্মীয় বলেন, যে মানুষটি কখনও চা-পান-সিগারেটও খাননি। আপনারা এলাকায় গিয়ে জনে জনে জিজ্ঞেস করে প্রমাণ নিন। তেমন একজন মানুষকে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী বানিয়ে চাঁদা আদায় করতে গিয়ে জীবন্ত পুড়িয়েই মারলো। আমরা এর ন্যায় বিচার চাই।
তিন দশক আগে ওই বসতি বাবুলের: তিন দশক আগে ১৯৮৬ সালে পরিবার নিয়ে ওই এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়ায় বসবাস করে আসছিল বাবুল। ছয় ভাইয়ের মধ্যে তার অপর ভাই আবদুল জলিলও একই এলাকায় বসবাস করেন। তার ভাই জলিল বলেন, এক ঘণ্টা আগেই বড় ভাইয়ের সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। কেমন আছেন জিজ্ঞেস করেই আমি আমার ভ্যান গাড়ি নিয়ে চলে যাই। ফিরে শুনতে পাই পুলিশ বড়ভাইকে চাঁদার জন্য আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে।
কিছুদিন আগে বাবুলের শরীরে অস্ত্রোপচার হয়। এরপর থেকে আর ভারি কাজ করতে পারতেন না। আগে ভারি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও অস্ত্রোপচারের পর তিনি সবজি দোকান দেন। পরে বাসার কাছেই চায়ের ঝুপড়ি দোকানটি দেন তিনি।
আজ বাবাকে মৃত লিখতে হচ্ছে: ‘আমার বাবা গতকালও জীবিত ছিলেন। আজ তাকে লিখতে হচ্ছে মৃত।’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের কাছে একটি কাগজে পুলিশ স্বাক্ষর গ্রহণের সময় এই কথা বলে কেঁদে উঠেন নিহত বাবুলের ছোট মেয়ে মোছাম্মৎ লাবনী আকতার। এবার তিনি এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। অন্য সন্তানদের পড়াশুনা না করাতে পারার দুঃখ ঘুচাতে চেয়েছিলেন লাবনীকে দিয়ে। তাকে উচ্চ শিক্ষিত করার স্বপ্ন ছিল বাবুলের। এ কথাটি বলে লাবনী বিলাপ করছিল ‘কার মুখে হাসি ফুটানোর জন্য পড়াশুনা করবো। আমি কী আর পরীক্ষা শেষ করতে পারবো। আমাদের সবই তো শেষ হয়ে গেল।’
তড়িঘড়ি করে মামলা: নিহত বাবুল মাতুব্বরের অগ্নিদগ্ধের ঘটনায় শাহআলী থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার চার ঘণ্টার মাথায় পুলিশ তড়িঘড়ি করে এই মামলা নথিভুক্ত করে। কিন্তু মামলার আসামির তালিকায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের কারো নাম নেই। মামলা করা হয়েছে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বাঁচাতেই তড়িঘড়ি করে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। একারণে মামলায় পুলিশ সদস্যদের বাদ দিয়ে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের আসামি করা হয়েছে। নিহত বাবুল মাতুব্বরের ছেলে রাজু আহমেদ বলেন, আমার ছোট বোনকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে মামলা নিয়েছে পুলিশ। কাদের আসামি করা হয়েছে তা দেখতে দেয়নি পুলিশ। পুলিশই এজাহার লিখে বোনের স্বাক্ষর নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম শাহীন মণ্ডল বলেছেন, মামলা যথা নিয়মেই হয়েছে।
সূত্র জানায়, বুধবার রাত ৯টার দিকে শাহআলী থানাধীন গুদারাঘাটে ফুটপাথের চা দোকানী বাবুল মাতুব্বরের কাছে ফুটপাথে ব্যবসা করার জন্য চাঁদা চাইতে যায় শাহআলী থানা পুলিশের একটি দল। চাঁদা না দেয়ায় পুলিশ দোকানের কেরোসিনের স্টোভে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে ওই স্টোভ বিস্ফোরিত হয়ে চা দোকানী বাবুল মাতুব্বরের শরীরের ৯৫ শতাংশ ঝলসে যায়। গতকাল দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবুলের মৃত্যু হয়।
নিহতের মেয়ে লাবনী আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পর পুলিশ তার বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে না নিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পরে তারা চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। জানা গেছে, ওই ঘটনার পর নিজেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল ওঠার পরপরই তৎপর হয়ে ওঠে শাহ আলী থানা পুলিশ। তড়িঘড়ি করে বাবুল আক্তারের মেয়েকে ডেকে আবার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এজাহার তৈরি করে রাখা হয়। এজাহারে কাদের আসামি করা হয়েছে তা না দেখিয়েই বাবুলের মেয়ে রোকসানার স্বাক্ষর নিয়ে নথিভুক্ত করে ফেলেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা। নিহতের মেয়ে লাবনী আক্তার বলেন, ঘটনার পর আমরা থানায় গিয়েছিলাম পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করতে, কিন্তু পুলিশ নিজেদের নাম বাদ দিয়ে তড়িঘড়ি করে মামলা রেকর্ড করে।
শাহ আলী থানা সূত্র জানায়, মামলায় স্থানীয় পারুল, দেলোয়ার, রবিন, শংকর, দুলাল হাওলাদার এবং পারভীনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশ পারুলকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের ভাষ্য, পুলিশ নয়, সোর্স দেখে পালাতে গিয়ে দগ্ধ হন বাবুল মাতুব্বর। এমনকি বাবুল নিজেও মাদক বিক্রেতা ছিলেন বলে পুলিশ দাবি করছে। পুলিশের দাবি, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। বাবুলের সঙ্গে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কোন্দল চলছিল। এর জের ধরেই পারভীনের ইন্ধনে দেলোয়ার এবং তার সহযোগীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
পুলিশ এখন নিজেই সন্ত্রাস করছে: বিএনপি
পুলিশ এখন নিজেই সন্ত্রাস করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। মিরপুরে চাঁদা না পেয়ে কেরোসিনের আগুনে চা বিক্রেতাকে হত্যায় ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে দেয়া এক বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশবাসী আওয়ামী লীগের দুঃশাসকদের নির্মম, পৈশাচিক ও দুর্ধর্ষ সব সন্ত্রাসী তাণ্ডব দেখে আতঙ্কিত। পুলিশ এখন নিজেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে। তা আরেকবার প্রমাণিত হলো- চা বিক্রেতা বাবুল মাতব্বরের কাছে থেকে চাঁদা না পেয়ে নির্দয়ভাবে কেরোসিনের চুলার আগুন দিয়ে তাকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে। মির্জা আলমগীর বলেন, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন পুলিশের কর্তব্য হলেও তা অনুরসরণ করাকে তারা ঘৃণা করছে। দুষ্টকে দমন না করে বরং পুলিশই এখন চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে দুষ্টদের উৎসাহিত করছে। গরিব মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের মতো অমানবিক ও নির্দয় কর্মকাণ্ড দেখে দেশবাসী এখন হতবাক ও বিস্মিত। গরিব মানুষদের কাছ থেকে পুলিশের চাঁদা আদায়, জুলুমবাজি ও পৈশাচিক কর্মকাণ্ড দেশকে চরম নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অবিলম্বে গরিব চা বিক্রেতা বাবুল মাতব্বরের হত্যাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

‘আমরা যখন শুরু করি তখন অ্যালবাম ছিলো হট কেক’

অডিও অ্যালবাম প্রকাশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে পথ প্রদর্শক এম এ শোয়েব। ১৯৮১ সালে ডিস্কো রেকর্ডিং থেকে দেশের এবং নিজের প্রথম অ্যালবাম ‘বেস্ট অফ এম এ শোয়েব’ প্রকাশ করেন তিনি। এই অ্যালবামের গানগুলো শ্রোতাপ্রিয়তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পীতে পরিণত হন শোয়েব। অ্যালবামের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও বেশ কিছু গান গেয়েছেন তিনি। তবে ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় এ শিল্পী পাড়ি জমান আমেরিকায়। সেখানেই দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করছেন। মাসখানেক আগে দেশে এসেছেন বেড়াতে। নিজের ব্যস্ততা ও সংগীতের দীর্ঘ পথ চলা নিয়ে আজকের ‘আলাপন’-এ কথা বলেছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকারটি  নিয়েছেন ফয়সাল রাব্বিকীন
কেমন আছেন?
ভালো। দেশে এসে খুব ভালো লাগছে।
এবার  দেশে আসার মূল উদ্দেশ্য কি? কতদিন থাকবেন বলে ঠিক করেছেন?
আমি বেশিরভাগ সময় দেশে এসে প্রোগ্রাম নিয়েই ব্যস্ত থাকি। তবে এবার অনুষ্ঠান খুব একটা করছি না। কারণ ব্যাক্তিগত কাজ নিয়ে দেশে এসেছি। উদ্দেশ্যটা হলো ছেলের বিয়ের আলোচনা। কাজ শেষ। চলতি মাসের ১৫ তারিখই চলে যাবো আমেরিকা। 
নতুন গান কি করছেন?
এখন পর্যন্ত আমার ৭টি একক অ্যলবাম প্রকাশ পেয়েছে। আর দ্বৈত ও মিশ্র মিলিয়ে ১৪-১৫ টি হবে। আমার সর্বশেষ অ্যালবাম ‘তুমি শুধু তুমি’ ২০১৪ সালে প্রকাশ পায়। নতুন বেশ কিছু গানের রেকর্ডিং গতবার দেশে এসেই করেছিলাম। তবে এবার একটু ব্যাতিক্রমিধর্মী উদ্যোগ নিচ্ছি। আমার একমাত্র ছেলে সাইফুল্লাহ শোয়েবও খুব ভালো গান করে। আমেরিকায় ওর একটা ব্যান্ড রয়েছে ‘রেইন’ নামে। ঠিক করেছি ছেলের সঙ্গে একটি দ্বৈত অ্যালবাম করবো। মোট ১২ টি গান নিয়ে হবে এ অ্যালবাম। এর মধ্যে আমার গানগুলোর সুর-সংগীত করেছেন জাহিদ হোসেন ও আহসান হাবিব ছবি। এ বছরই অ্যালবামটি বের করার ইচ্ছে আমার।

আমেরিকায় আপনার ব্যস্ততা কেমন? একটি গানের স্কুলওতো রয়েছে?
আমেরিকায় শো নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আর ‘সুর ও বানী’ নামে আমার একটি গানের স্কুল রয়েছে। আমি প্রতিদিনই  সেখানে গান শেখাই। প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে আমার। তবে যারা ওখানে জন্ম নিয়েছে তাদের বাংলা উচ্চারণ শুনলে আমার কান্না আসে। তাদেরকে আমি আগে বাংলা ভাষা শেখার জন্য বলি। উচ্চারণ শেখার জন্য বলি। তার পর না গান! তবে যারা একটু বড় হয়ে আমেরিকায় গিয়েছে তারা অনেক ভালো গায়। তাদের উচ্চারণও ভালো।
আমাদের দেশের অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কেমন দেখছেন?
খুব একটা ভালো না। অ্যালবাম করার প্রবণতা এখন প্রকৃত শিল্পীদের মধ্যে নেই। এর কারণ পাইরেসি ও ফ্রি ডাউনলোড। এখন অডিও ব্যবসায়িরাও এটাকে লাভজনক মনে করছেন না। তবে দেশের বাইরে কিন্তু এই অবস্থা না। সেখানে একটি অ্যালবাম বের হওয়া মানে বিরাট ব্যাপার। লাখ কপি অ্যালবাম বিক্রি হয়। কারণ বাইরের দেশগুলোতে পাইরেসির বালাই নেই। পাইরেসি ও ডাউনলোড সেখানে আইনত অপরাধ। আমাদের দেশেও হয়তো আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। যার কারণে অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা এখন অনেক খারাপ। এখন অ্যালবাম বের করা সৌখিনতা হয়ে গেছে। তবে যারা প্রতিষ্ঠিত শিল্পী তাদের জন্য বিষয়টি দু:খজনক।
আপনি যখন শুরু করেছিলেন তখন অবস্থা কেমন ছিলো?
আমরা যখন শুরু করি তখন অ্যালবাম ছিলো হট কেক। পাইরেসি কি সেটাই কেউ জানতো না। ভালো অ্যালবাম বের হলে সমাদর থাকতো। প্রচুর মুনাফা লাভ করতেন অডিও ব্যবসায়িরা। তারা শিল্পীদেরও সম্মানি দিয়েছেন অনেক ভালো।
এ প্রজন্মের গান কেমন লাগছে?
আমি আমেরিকায় সব সময় বাংলা চ্যানেল দেখি। আমার মনে হয় তরুণ প্রজন্ম অনেক ভালো করছে। তাদের অনেকের কন্ঠ শুনে খুব ভালো লাগে, আশা জাগে।
পরিবার সম্পর্কে কিছু বলুন?
স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে আমার পরিবার। ছেলে সাইফুল্লাহ শোয়েব মাস্টার্স শেষ করে এখন আমেরিকায় একটি ভালো চাকরি করছে। আর মেয়ে শারিলন শোয়েব অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ছে। সে অনেক ভালো ভায়োলিন বাজায়। ওর একটি ভায়োলিন অ্যালবামও করবো পরে। আর আমার স্ত্রী সব সময় আমাদের উৎসাহ দেন। তার উৎসাহেই আমরা উৎসাহিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

চা বিক্রেতাকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ৫ পুলিশ বরখাস্ত

চুলার ছিটকে পড়া তেলের আগুনে দগ্ধ হয়ে চা বিক্রেতা বাবুল মাতুব্বরের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর শাহআলী থানার পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার এ তথ্য জানান। বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন- উপ-পরিদর্শক মোমিনুর রহমান খান, শ্রীধাম চন্দ্র হাওলাদার ও নিয়াজ উদ্দিন মোল্লা, সহকারী উপ পরিদর্শক দেবেন্দ্র নাথ এবং কনস্টেবল জসিম উদ্দিন। এর আগে দুপুরে শ্রীধাম ছাড়া বাকি চারজনকে প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছিলেন ডিএমপির মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জসিম উদ্দীন মোল্লা (প্রশাসন)। বুধবার রাতে মিরপুরের গুদারা ঘাট এলাকায় চা দোকানি বাবুল তার দোকানে অগ্নিদগ্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাবুলের পরিবারের অভিযোগ, চাঁদা না পেয়ে পুলিশ বাবুলের দোকানের কেরোসিনের চুলায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেছিল। এতে কেরোসিন ছিটকে বাবুলের গায়ে আগুন ধরে যায়। অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে শাহআলী থানা থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ নয়, সোর্স দেখে পালাতে গিয়ে বাবুল দগ্ধ হন। আর বাবুল নিজেও মাদক বিক্রেতা ছিলেন।

তাদের পরিবার জানেও না, তারা কী করছে বিদেশ বিভূঁইয়ে

‘৪০ তলা একটি ভবন পরিষ্কার করতে আমাদের এক মাস লাগে। ১৪ তলার একটি ভবন পরিষ্কার করতে লাগে ১০-১২ দিন।’ কথাগুলো বলছিলেন আলি হোসেন। দুবাইয়ে উঁচুতল ভবনের জানালা পরিষ্কার করার কাজ করেন তিনি। ‘তাই গড়ে এক মাসে, আমরা দুইটি ভবনের কাজ করি’, বলে যাচ্ছিলেন আলি। প্রায় সাত বছর ধরে দুবাইয়ে কাজ করছেন তিনি। বহুতল ভবনের কাজ ধরেছেন ৬ বছর হলো। এত উঁচু ভবনের জানালা পরিষ্কারের কাজ ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু তার ভাষ্য, ‘না, আমি ভয় পাই না।’ অথচ, দেশে তার পরিবার জানেও না এ চাকরির ব্যাপারে। কেউ জানেও না, অর্থ উপার্জনের জন্য তাকে প্রায় মাঝ আকাশে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। কেন? তার উত্তর, ‘যদি তারা জানে, তাহলে তারা আমাকে দেশে ফিরে যেতে বলবে, প্রাণের ঝুঁকি না নিতে বলবে।’ আলি হোসেন ও নেপালের জোগরাম চৌধুরী একসঙ্গে এ কাজ করেন দুবাইয়ে। তাদের দু’ জনের গল্প ছাপা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের খালিজ টাইমসে।
জোগরাম চৌধুরীও নিজের স্ত্রীকে জানাতে চান না যে, তিনি এখানে উঁচু ভবনের জানালার পরিষ্কার করেন। কারণ, এতে তার নিরাপত্তা নিয়ে তার স্ত্রী চিন্তিত হয়ে পড়বে। কিন্তু এত উঁচুতে কাজ করাটা আসলেই ভয়ানক একটা ব্যাপার। কখনও কি তাদের মনে হয়নি যে, কোন ভবন আসলেই অনেক উঁচু? নিচে তাকালে কখনও ভয় লাগে না? মাথা চক্কর দিয়ে উঠে না? কিন্তু দু’ জনেরই উত্তর, ভয় লাগে না। তবে তারা স্বীকার করলেন, এ কাজ সবাই করতে পারে না। খালি করে ফেলা ভবনটিতে তখন অনেক কাজ চলছে। ভবনের বিভিন্ন তলায় নানাবিধ কাজ করছে বহু কর্মী। কিন্তু তাদের সবাই এমন উঁচু ভবনে চড়ে এ কাজ করতে আগ্রহী নয়। খুব অল্প ক’ জনই আছে, যারা ভয় পায় না। আলি হোসেন ও জোগরাম চৌধুরী তাদের অন্যতম।
দুবাই শহরটা তাদের পছন্দের? ‘হ্যাঁ, অনেক বেশি। এখানে পছন্দ না করার কী আছে? দুবাই দারুণ।’ নির্নিমেষে বলে উঠলেন তাদের দু’ জন। বর্তমানে তারা একটি শপিং মলের কাজ করছেন। এর আগে কখনও শপিং মলের জানালা পরিষ্কারের দায়িত্ব পড়েনি তাদের ঘাড়ে। কিন্তু তাদের কাছে বরং এটা আরও কম বিপজ্জনক মনে হয়। কারণ, শপিং মল সাধারণত অতটা উঁচু হয় না। এভাবেই চলছে তাদের প্রবাস জীবন।

চান্দিনায় ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ২

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ডাকাত সন্দেহে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এসময় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক যুবক। আহত যুবককে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার রানীচড়া গ্রামের ব্রিজসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- সলেমান (২৬) ও কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার তবাড়িয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রুবেল (২৫)। আহত যুবক নাইম (২৮) ওই এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে। চান্দিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, শুক্রবার ভোরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

ভারতে তাঞ্জানিয়ান নারীকে নগ্ন করে লাঞ্ছনা: তীব্র প্রতিক্রিয়া

ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক তাঞ্জানিয়ান নারীর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ দেশটিতে পড়াশুনারত আফ্রিকান শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ইস্যু নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন। শিগগিরই বেঙ্গালুরুতে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাঠানো হবে। তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখবেন। ভারতে নিযুক্ত তাঞ্জানিয়ার হাই কমিশনার জন কিগাজি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ভারতে বসবাসরত আফ্রিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। হামলার ঘটনায় সরব হয়েছে বলিউডও। বলিউড তারকা হৃতিক রোশন, অনিল কাপুর, সোনাক্ষী সিনহা সহ অনেকেই নিন্দা জানিয়েছেন এ ঘটনার। এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
খবরে বলা হয়েছে, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব কালচারাল রিলেশন্সের এক সদস্য ও তাঞ্জানিয়ার হাই কমিশনার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দলটির সঙ্গে বেঙ্গালুরু সফরে যাবেন। হাই কমিশনার কিগাজি হামলার ঘটনাকে ‘বর্ণবাদী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, আমরা ২০০ বছর বর্ণবাদী বৈষম্যমূলক শাসনের কবলে ছিলাম। এখন এ ভারতই যদি বর্ণবাদী বৈষম্য বজায় থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। কর্ণাটক সরকারের কাছে এ ঘটনায় প্রতিবেদন চেয়েছে ন্যাশনাল কমিশন ফর ওইমেন। এছাড়া কংগ্রেস ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীও তার দলের রাজ্য শাখার নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের কাছ থেকে প্রতিবেদন চেয়েছেন। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ একে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে তিনি ভারতে আফ্রিকান শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে সব পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তাঞ্জানিয়ার ওই নারীকে নগ্ন করে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় পূর্ণ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

বিএনপি’কে কাউন্সিলের অনুমতি দিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ

আগামী ১৯শে মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি’র জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি দিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত অনুমতি পায়নি দলটি। আজ নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এ কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে মিরপুরে চা বিক্রেতাকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে রিজভী বলেন, সরকার নিষ্ঠুর, নির্দয় রক্তপাতের মাধ্যমে গোটা জাতিকে স্থির, নিস্তব্ধ গোরস্থানে পরিণত করতে  চাচ্ছে। গোটা দেশ এখন অগ্নিগর্ভ। যদি জনগণের মনের কথা, বেদনার কথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উপলব্ধি করতে না পারেন তাহলে জনগণের ক্ষোভ যেকোন মূহুর্তে সুনামীর ন্যায় আছড়ে পড়ে দস্যু দলের ন্যায় আচরণকারী বর্তমান সরকারকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। সাবেক এই ছাত্রনেতা আরও বলেন, ভোটারবিহীন গদি আটকে রাখা শাসকগোষ্ঠী দেশকে চরম অরাজকতার লীলাভূমিতে পরিণত করেছে। সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বিরোধী দল নির্মূল করার অভিযানে লেলিয়ে দিয়ে তাদের বুকের মাপটা বড় করে দেয়া হয়েছে। বিগত কয়েক বছর বিচার বহির্ভূত হত্যা, বেআইনী গুম ও গুপ্তহত্যা সংঘটিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে যে ছাড়পত্র দিয়েছিল সরকার তাতে তারা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে এখন বিবেকহীন অবিশ্বাস্য রকম বেপরোয়া ‘আউট ল’ এ পরিণত হয়েছে। সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সদাতৎপর র‌্যাব-পুলিশ কর্তৃক এখন সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করা যেন গা সওয়া করে দেয়া হয়েছে।

দুর্ভাগ্যের রান আউটে ভাঙলো প্রতিরোধ

যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। নেপালের বিপক্ষে ২১২ রানের টার্গেট সামনে নিয়ে ১৭ রানের মাথায় ফেরেন সাইফ হাসান। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে প্রতিরোধ করেন পিনাক ঘোষ ও জয়রাজ শেখ। তারা যোগ করেন ৪৬ রান। কিন্তু দুই ব্যাটসম্যানের ভুল বুঝাবুঝিতে পিনাক ঘোষ রানআউটের খাঁড়ায় পড়েন। এতে উদ্বোধনী এ ব্যাটসম্যান ফেরেন ৫৪ বলে ৩২ রানে। জয়রাজ অপরাজিত ২৮ রানে। ২০ ওভারে বাংলাদেশর সংগ্রহ ৬৬ রান। এর আগে নেপালের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন অধিনায়ক রাজু রিজাল। এছাড়া উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সুনীল ধামাল ২৫, দীপেন্দ্র সিং এয়ারি ২২ ও প্রেম টামাং করেন ২২ রান।

বাংলাদেশে রাজনীতি বেশি, উন্নয়ন কম

ড. মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তাকে বলা হয় আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার। পূর্ব এশিয়ায় অন্যতম শিল্প-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার আজকের অবস্থানের পেছনে অনেকখানি কৃতিত্ব দেয়া হয় তাকে। এছাড়া রাজধানী কুয়ালালামপুরকে আধুনিক শহরে পরিণত করাটাও তার অবদান। ‘মালয়েশিয়া পারে’ সেøাগানটি ১৯৯৩ সালে প্রবর্তন করেছিলেন তিনি। ২০২০ সালের মধ্যে তিনি মালয়েশিয়াকে উন্নত দেশে পরিণত করতে ভিশন ২০২০ প্রণয়ন করেছিলেন।
বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প ও উচ্চপ্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে মালয়েশিয়ায় ব্যাপক অর্থ ব্যয় করেছিলেন মাহাথির। কিন্তু সে সময় অর্থনৈতিক সঙ্কটে ভুগছিল তার দেশ। নিজেকে ‘সাইবারে আসক্ত’ বলেও একবার দাবি করেছিলেন তিনি। বিশ্বের গুটিকয়েক বিশ্বনেতা, যারা নিজের ওয়েবসাইট ও ব্লগ পরিচালনা করেন, তাদের মধ্যে তিনি একজন। ডাক্তার থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করা মাহাথির ১৯৮১ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার দল ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের নেতৃত্বাধীন জোট এখনও মালয়েশিয়ার ক্ষমতায়।
দৈনিক মানবজমিন, প্রথম আলো ও কুয়েত টাইমসের হয়ে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও যুক্তরাষ্ট্রের অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও প্রধান ড. সিরাজুল আই. ভূঁইয়া। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের মানুষ একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, সৎ ও কার্যকর নেতার কথা চিন্তা করলেই আপনার কথা বলে, আপনার নেতৃত্বগুণের কথা বলে। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতি খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। দেশের উন্নয়নেও এটি প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী? এ রাজনৈতিক সমস্যা থেকে দেশটির উত্তরণের উপায় কী?
উত্তর: আমি সাধারণত আমাদের প্রতিবেশি দেশ বা বাংলাদেশের মতো বন্ধুভাবাপন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করি না। কিন্তু আমি দেখছি, বাংলাদেশে রাজনীতি বেশি, উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের দিকে মনোযোগ কম। একই সময়ে, অবশ্যই, আপনি যদি রাজনীতি এবং দেশ কারা শাসন করছে, তা নিয়ে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন, তবে অর্থনীতি ভুগবে। আমি মনে করি, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকবেই। কিন্তু সেসব সরিয়ে রেখে, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিৎ দেশের উন্নয়ন ও বাংলাদেশীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একযোগে কাজ করা। আমি মনে করি, আপনি যদি বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করেন, তবে বাংলাদেশে প্রচুর বিদেশী বিনিয়োগ আসবে। দেশের আপামর জনতার জীবনমানে অগ্রগতি হবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। যেমন, গার্মেন্ট শিল্প। ওষুদ শিল্প ও অন্যান্য খাতেও দেশটি ভালো করছে। বাংলাদেশের মানুষ খুব উদ্যোগীও। তাদের দরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভালো নীতিমালা। কিন্তু তারা তা পাচ্ছে না। এ অবস্থা নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
উত্তর: বাংলাদেশে উন্নয়নের চেয়ে রাজনীতি বেশি। আপনি যদি দেশের অর্থনীতির কথা ভাবেন, দৃষ্টি দেন ও অর্থনৈতিক নীতির কথা বলেন, তবে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির একটি।
প্রশ্ন: মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাই আমি। আপনার কাছে মূল চ্যালেঞ্জগুলো কী কী মনে হয়?
উত্তর: আপনি যদি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাস দেখেন, তবে দেখবেন, যা আজ ঘটছে, তা হলো ৬০ বছর আগে ফিলিস্তিনি ভূমি বেদখল করে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তের ফল। ফিলিস্তিনিরা প্রচলিত কায়দায় লড়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু ইসরাইলিদের কাছে হেরেছে। কিন্তু এখন তাদের অন্য উপায়ে লড়তে হবে, যাকে ইসরাইল সন্ত্রাসবাদ বলছে। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করাটাও ইসরাইলি সন্ত্রাসবাদের মধ্যে পড়ে। ইসরাইলিদের সঙ্গে অব্যাহত লড়াইয়ের মাধ্যমে কিছুই অর্জন হয়নি ফিলিস্তিনিদের। তাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দেয়া হচ্ছে। তারা এখন ক্ষুদ্ধ। এসবই পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের মধ্যে বিভক্তি এনেছে। অনেকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো গণতান্ত্রিক হলেই, সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু গণতন্ত্রের কার্যাবলী তারা বুঝতে পারে না। গণতন্ত্র এলে সরকার গঠিত হবে, নির্বাচন হবে, কিছু মানুষ সরকার বানাবে, কেউ বিরোধী দলে থাকবে। কিন্তু বিরোধীরা পরাজিত হতে চাইবে না, সবাই জিততে চাইবে। এসবের কারণে গণতন্ত্র এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সুশাসন আনেনি।
প্রশ্ন: আইএস’র দ্বারা সৃষ্ট সঙ্কটের দিকে পশ্চিমা নীতির ভূমিকা আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
উত্তর: পশ্চিমারা চায় ক্ষমতার পরিবর্তন। তারা চায় মুসলিম দেশগুলোর সরকার চালাবে তাদের বেছে নেয়া মানুষরা। ক্ষমতা পরিবর্তন করতে গিয়ে, দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। আমি সাধারণ অর্থে মনে করি, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার পেছনে পশ্চিমাদের ভূমিকা অস্বীকার করা যাবে না। তারা নিজেরাই মাঝে মাঝে অস্থিতিশীলতা নিয়ে এসেছে, কিছু সময় নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে তারা সমর্থন দিয়েছে, সরকারের ভূমিকাকে খর্ব করেছে, প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ চালিয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যে অস্থিতিশীলতা আপনি দেখছেন, এর পেছনে পশ্চিমারা অনেক বেশি জড়িত।
প্রশ্ন:  সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে শীতল-যুদ্ধের মতো চলমান উত্তেজনার এবং সৌদি আরবের নেতৃত্বে ৩৪ দেশের সন্ত্রাসবাদবিরোধী জোটের বিষয়ে আপনার মতামত কী?
উত্তর: আমরা মনে করি না, দ্বন্দ্ব কোন সমস্যার সমাধান করবে। যুদ্ধ কোন সমস্যার সমাধান নয়। মালয়েশিয়ার স্বাধীনতার প্রথম দিকে, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বা বিরোধের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। হ্যাঁ, তারা প্রথমে শক্তি খাটিয়েছে। কিন্তু দিনশেষে কূটনৈতিক সমাধান ও সংলাপের মাধ্যমে সমস্যাটির আমরা সমাধান করেছি। কোন দেশকে আমাদের শত্রু ভাবা উচিৎ নয়। যদি ভাবি, তারাও আমাদের শত্রু ভাববে। তারপর আপনাদের মুখোমুখি হতে হবে। এটি অত্যন্ত নেতিবাচক। দেশে দেশে মতপার্থক্য থাকবেই, তবে কূটনৈতিক উপায় ও সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন বা হ্রাস করা সম্ভব।
প্রশ্ন: আইএস’র কারণে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধ বাঁধার বিষয়ে চিন্তিত অনেক পশ্চিমা নেতা। এ ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কী?
উত্তর: পশ্চিমারা অবশ্যই আইএস’র বিরুদ্ধে। কিন্তু আইএস তাদেরই সৃষ্টি। অনেকেই প্রেসিডেন্ট আসাদকে (সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট) উৎখাত করতে চায়। পশ্চিমারা ওই মানুষগুলোকে অস্ত্র, অর্থ ও প্রশিক্ষন দিয়েছে। এরাই পরে আইএস হয়েছে। তাদের এখন নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। তারা আসাদের বিরুদ্ধেও লড়ছে, আবার পশ্চিমাদেরও ওই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়। তাদের আবার অনেকে সমর্থনও দিচ্ছে। এখন দেখা যাচ্ছে, মুসলিমরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়ছে। এক হিসাবে, পশ্চিমা বা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কেউ লড়ছে না। লড়ছে একে অপরের বিরুদ্ধে। এর ফলে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম। অনেকে আইএস’কে সমর্থন দিচ্ছে। ফলে যুদ্ধটা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। মালয়েশিয়ায় আগে এ নিয়ে কোন সমস্যা ছিল না। কিন্তু এখন অনেকে আইএস’এ যোগ দিতে দেশ ছাড়ছে। মূলত, এটা পুরো বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। সবাই এখন আক্রান্ত, কারণ কেউই নিরাপদ বোধ করছে না। আমি মনে করি, এ সব কিছুই ঘটছে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কারণে।
ভাষান্তর: নাজমুল আহসান