ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় এখন বিদায়ের সুর। মেলার শেষের দুই দিন
ভাগ্যক্রমে পড়েছে ছুটির দিন। শুক্র ও শনিবার নিয়ে ব্যবসায়ীদের বিশেষ
প্রত্যাশা থাকে। তবে আজ ও কালের ছুটি আলাদা গুরুত্ব বহন করে। দিন দুটি শেষে
এবারের মতো মেলার সমাপ্তি ঘটছে। ৩১শে জানুয়ারি শেষ হচ্ছে বাণিজ্যের
সর্বোচ্চ এ আসর। শেষদিকে তাই ক্রেতার ভিড় সকাল থেকেই। এখন যারা আসছেন বেশির
ভাগই ক্রেতা। এতদিন ঘুরেফিরে দেখলেও এখন আর অপেক্ষার সময় নেই। কিন্তু তার
পরও সন্তুষ্ট নন অনেক বিক্রেতাই। মুখে হাসি ফুটছে না তাদের। বিশেষ করে
ইরানি বিভিন্ন পণ্যের প্যাভিলিয়নগুলোতে দেখা গেছে এ চিত্র। মেলায় ইরানি
নানা জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসেছে জেড ইন্টারন্যাশনাল। এখানে এক ছাদের নিচে
পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন পণ্য। ইরানি মেলামাইনের প্লেট, গ্লাস, চামচ, গামলাসহ
প্রায় ৬০ ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হৃদয় জানান,
১২ বছর ধরে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় অংশ নিচ্ছি। এখন মেলা শেষদিকে,
তাই খারাপ লাগছে। গত প্রায় একটি মাস জাঁকজমকভাবে কেটে গেছে। এখানে অংশ নেয়া
শুধু টাকার জন্যই নয়, আনন্দও পাওয়া যায়। তবে বিক্রিটা আর একটু ভালো হলে
মনটা খুশি থাকতো। ইরানি কার্পেটের কর্নারে দেখা যায়, বাহারি সব কার্পেট এবং
পাপোশ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দামটা একটু বেশি, অভিযোগ ক্রেতাদের।
মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের গৃহিণী আশা মনি জানান, ইরানি কার্পেট একটু ভালো
হয়, সেজন্য কিনতে এসেছি। কিন্তু দামটা একটু চড়া মনে হচ্ছে, যা ধারণা
করেছিলাম তার চেয়ে বেশি। বাজেটে কুলাচ্ছে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
মোহাম্মদ বাবুল জানান, এগুলো অরিজিনাল ইরানি কার্পেট। ফলে দাম একটু বেশি।
তা ছাড়া এ কার্পেটগুলো অনেক ভারি। তুরস্ক ও অন্যান্য দেশের হলে কিছুটা কম
দামে দেয়া যেত। তিনি জানান, ১০ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকা দামের
পর্যন্ত কার্পেট রয়েছে তার কাছে। তিনি বলেন, বিক্রি কম হচ্ছে। কোনো কারণ
জানি না। কিন্তু এটুকু বলতে পারি, এবার কাঙ্ক্ষিত বিক্রি করতে পারিনি।
ইরানি পণ্যসম্ভার প্যাভিলিয়নে দেখা যায়, কী নেই এখানে। মোটামুটি সবকিছুই
পাচ্ছেন ক্রেতারা। মেলামাইন, জিরাসহ সব ধরনের মসলা, বোরকা, অ্যালুমিনিয়াম ও
ননস্টিক বাসন-কোসন, জুয়েলারি ও কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্যের সম্ভাব নিয়ে
বসেছেন বিক্রেতারা। মেলা ঘুরে দেখা গেছে, ইরানি বেশ কিছু প্যাভিলিয়ন ও স্টল
রয়েছে। এগুলোতে ঝারবাতি পাওয়া যাচ্ছে ৪ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার
টাকা পর্যন্ত। নানান ডিজাইনের মনকাড়া ও নজরকাড়াও। কিন্তু বিক্রিতে রয়েছে
হতাশা। গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ইমরান বলেন, বন্ধু-বান্ধবরা মিলে
সময় পেলেই বাণিজ্যমেলায় আসি। এখানে কেনার চেয়ে আড্ডা দেয়াই বেশি মজার।
কিন্তু এখন মেলা শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাই মন খারাপ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পায়েল
জানান, মন খারাপ থাকলেই মেলায় আসি এবং টুকটাক কিছু কেনাকাটা করি। দেখতে
দেখতেই দিনগুলো ফুরিয়ে গেল।
বাড়ছে না বাণিজ্যমেলার সময়
আগামী ৩১শে জানুয়ারি বাণিজ্যমেলার পর্দা নামছে বলে আয়োজক সংস্থা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে। ইপিবির যুগ্ম সচিব রেজাউল করিম বলেন, দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় শুরু থেকেই মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। প্রতিদিনই মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। এতে মেলায় অংশ নেয়া স্টল ও প্যাভিলিয়নের মালিকরাও খুব খুশি। তাই এবার মেলার সময় বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, গত বছর দেশের টানা হরতাল-অবোরধের কারণে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা বাণিজ্যমেলায় আসতে পারেননি। যার কারণে স্টল-প্যাভিলিয়ন মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে মেলার মেয়াদ ১০ দিন বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু এ বছর ভিন্ন চিত্র। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তাই আগামী ৩১শে জানুয়ারি নির্দিষ্ট সময়ে বাণিজ্যমেলা শেষ হবে বলে জানান তিনি।
বাড়ছে না বাণিজ্যমেলার সময়
আগামী ৩১শে জানুয়ারি বাণিজ্যমেলার পর্দা নামছে বলে আয়োজক সংস্থা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে। ইপিবির যুগ্ম সচিব রেজাউল করিম বলেন, দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় শুরু থেকেই মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। প্রতিদিনই মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। এতে মেলায় অংশ নেয়া স্টল ও প্যাভিলিয়নের মালিকরাও খুব খুশি। তাই এবার মেলার সময় বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, গত বছর দেশের টানা হরতাল-অবোরধের কারণে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা বাণিজ্যমেলায় আসতে পারেননি। যার কারণে স্টল-প্যাভিলিয়ন মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে মেলার মেয়াদ ১০ দিন বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু এ বছর ভিন্ন চিত্র। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তাই আগামী ৩১শে জানুয়ারি নির্দিষ্ট সময়ে বাণিজ্যমেলা শেষ হবে বলে জানান তিনি।
No comments:
Post a Comment