বাংলাদেশে পোশাক কারখানায় সংস্কার অব্যাহত রাখা এবং শ্রমিক নিরাপত্তা
জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার
প্রতিনিধিরা। তারা শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য
বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা জানান, পোশাক খাতে কর্ম
পরিবেশ অগ্রগতি সন্তোষজনক। তবে শ্রমিক অধিকার, স্বাধীন শ্রমিক কর্ম পরিবেশ
চর্চার অধিকার এখনও কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাইনি। এ ক্ষেত্রে এক্সপোর্ট
প্রসেসিং জোনসহ (ইপিজেড) শ্রম আইন সংশোধনের তাদিগ দেন তারা। গতকাল রাজধানীর
একটি হোটেলে বাংলাদেশ সাসটেইনাবিলিটি কমপ্যাক্ট শীর্ষক দ্বিতীয় পর্যালোচনা
বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। যৌথভাবে এ সভার আয়োজন
করে বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক
শ্রম সংস্থা (আইএলও)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ
নেন। বৈঠক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল
আহমেদ। এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতউল্লাহ আল মামুন,
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব শহিদুল হক ও শ্রম সচিব মিকাইল শিপার উপস্থিত
ছিলেন।
প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই বছর পর অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিশেষভাবে পোশাক কারখানার বৈদ্যুতিক ও অগ্নি নিরাপত্তার ওপর জোর দেয়া হয়। পোশাকের মূল্য বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে পোশাক খাতের সংস্কারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তরা তৈরি পোশাকের মূল্য বাড়ানোর জন্য বিদেশি ক্রেতাদের আহ্বান জানান। তারা বলেন, ক্রেতাদের নিকট থেকে পোশাকের সঠিক মূল্য পেলে শ্রমিকদের সন্তুষ্ট রাখা যায়। একইসঙ্গে কারখানার কর্মপরিবেশও উন্নতি করা সম্ভব। রানা প্লাজা ধসের পর গত দুই বছরে কারখানা সংস্কারে ব্যাপক অর্থ ব্যয় হয়েছে। এতে একজন মালিকের কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়। ফলে ব্যয় নির্বাহের জন্য হলেও ক্রেতাদের পোশাকের মূল্য বাড়ানো দরকার বলে অভিমত ব্যক্ত করেন উদ্যোক্তারা।
বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দুই বছরে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আলোচনায় সবাই তা স্বীকার করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আইএলও বলেছে, তারা আমাদের সহযোগিতা করবে। আমরা সবার সহযোগিতা চাই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইকেল জে ডিলানি বলেন, অ্যাসোসিয়েশনের সংখ্যা, কারখানা সংস্কার ও শ্রমিক নিরাপত্তা বাস্তবায়নে আরও অগ্রগতি বাড়াতে হবে। সার্বিক মান বাড়ানোর তাগিদও দেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি সান্দ্রা গ্যালিনা বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, তৈরি পোশাক কারখানায় নিরাপত্তার জন্য মালিকরা অনেক টাকা ব্যয় করেছে। এখন কারখানার কর্মপরিবেশ সন্তোষজনক। পোশাকের মানও বাড়ছে। এখন দাম বাড়ান বলে আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন ২১৯ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় ভালো আছে। তবে উদ্যোক্তারা ভালো নাই। রানা প্লাজা ধসের পরে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর উন্নতিতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে সকল পক্ষ সন্তুষ্ট বলে সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
ইপিজেড আইন বিষয়ে শ্রম সচিব মিকাইল শিপার বলেন, শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ইপিজেড-এ ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন আছে। এই ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনকে আইন অনুযায়ী কোনো সংশোধন করা যায় কিনা তা ভেবে দেখতে হবে।
শ্রমিকনেত্রী কল্পনা আক্তার বলেন, শ্রমিকদের সম্মানজনক বেতন দিতে হলে পোশাকের মূল্য বাড়াতে হবে। সভায় মালিকপক্ষেও একই দাবি জানান। এ ছাড়া কার্যকর আর্থিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় ক্রেতারা কারখানায় শ্রমিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা ও মালিক শ্রমিকের মধ্যে সামাজিক সংলাপ করার তাগিদ দেন। একইসঙ্গে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণে বেশি করে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন ক্রেতারা।
শ্রমিক নেতা ওয়াজেদুল ইসলাম খান শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ক্রেতাদের ১০ শতাংশ করে পণ্য মূল্য বৃদ্ধি করতে হবে। এতে শ্রমিকরা উপকৃত হবে।
এইচঅ্যান্ডএম প্রতিনিধি রজার হুবার্ট বলেন, নিরাপত্তার জন্য বিনিয়োগ এর জন্য ক্রেতাদের দায়ী করা যায় না।
দিনব্যাপী এ সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, কূটনৈতিক, বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ, শ্রমিকনেতা ও বিভিন্ন দেশের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্ম-পরিবেশে ‘নিশ্চিত’ হতে চায় কানাডা
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট’- শীর্ষক আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে কানাডা। দেশটির ঢাকাস্থ হাইকমিশনার বেনওয়া পিয়ের লাঘামে গতকাল এ বিষয়ে বলেন, কানাডা বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাতের সংস্কার কর্মসূচির অন্যতম সমর্থক। কানাডিয়ানরা বাংলাদেশে তৈরি পোশাক পরিধান করছে এবং তারা নিশ্চিত হতে চায় যে- এই সকল পোশাক একটা ন্যায্য ও নিরাপদ কর্ম-পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে। এ কারণেই একজন অংশীদার হিসেবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা এবং বাংলাদেশে নিরাপদ কর্ম-পরিবেশ নিশ্চিতকরণে গৃহীত উদ্যোগ সমূহকে আরও গতিশীল এবং উদ্দীপ্ত করতে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করার লক্ষ্যে কানাডা সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট-এর সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছে। হাইকমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়- ২০১৩ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে ওই ‘সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট’ কর্মসূচি গ্রহণ করে। যার পুরো নাম ‘সম্পৃক্ত থাকা: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পের শ্রমিকদের অধিকার এবং কারখানার নিরাপত্তার নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যে টেকসই চুক্তিনামা।’ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- ২০১৩ সাল থেকে কানাডা তৈরি পোশাক খাতের সংস্কার কর্মসূচিতে অঙ্গীকারবদ্ধ ও সক্রিয়। বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ‘বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের কর্ম-পরিবেশের উন্নয়ন’- শীর্ষক যৌথ প্রকল্পে ৮ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কানাডা সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট-এর অঙ্গীকারসমূহের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। ৩ সচিব ও ৫ রাষ্ট্রদূতের (৩+৫) যৌথ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য হাইকমিশনার লাঘামে অন্যান্য রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করেন। কানাডা সরকার প্রতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক বিধিবদ্ধতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার জন্য দেশটির প্রতিষ্ঠানসমূহকে ক্রমাগত উৎসাহিত করে এবং সম্প্র্রতি দায়িত্বশীল সাপ্লাই চেইন সম্পর্কিত এ-৭ অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই বছর পর অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিশেষভাবে পোশাক কারখানার বৈদ্যুতিক ও অগ্নি নিরাপত্তার ওপর জোর দেয়া হয়। পোশাকের মূল্য বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে পোশাক খাতের সংস্কারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তরা তৈরি পোশাকের মূল্য বাড়ানোর জন্য বিদেশি ক্রেতাদের আহ্বান জানান। তারা বলেন, ক্রেতাদের নিকট থেকে পোশাকের সঠিক মূল্য পেলে শ্রমিকদের সন্তুষ্ট রাখা যায়। একইসঙ্গে কারখানার কর্মপরিবেশও উন্নতি করা সম্ভব। রানা প্লাজা ধসের পর গত দুই বছরে কারখানা সংস্কারে ব্যাপক অর্থ ব্যয় হয়েছে। এতে একজন মালিকের কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়। ফলে ব্যয় নির্বাহের জন্য হলেও ক্রেতাদের পোশাকের মূল্য বাড়ানো দরকার বলে অভিমত ব্যক্ত করেন উদ্যোক্তারা।
বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দুই বছরে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আলোচনায় সবাই তা স্বীকার করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আইএলও বলেছে, তারা আমাদের সহযোগিতা করবে। আমরা সবার সহযোগিতা চাই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইকেল জে ডিলানি বলেন, অ্যাসোসিয়েশনের সংখ্যা, কারখানা সংস্কার ও শ্রমিক নিরাপত্তা বাস্তবায়নে আরও অগ্রগতি বাড়াতে হবে। সার্বিক মান বাড়ানোর তাগিদও দেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি সান্দ্রা গ্যালিনা বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, তৈরি পোশাক কারখানায় নিরাপত্তার জন্য মালিকরা অনেক টাকা ব্যয় করেছে। এখন কারখানার কর্মপরিবেশ সন্তোষজনক। পোশাকের মানও বাড়ছে। এখন দাম বাড়ান বলে আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন ২১৯ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় ভালো আছে। তবে উদ্যোক্তারা ভালো নাই। রানা প্লাজা ধসের পরে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর উন্নতিতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে সকল পক্ষ সন্তুষ্ট বলে সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
ইপিজেড আইন বিষয়ে শ্রম সচিব মিকাইল শিপার বলেন, শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ইপিজেড-এ ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন আছে। এই ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনকে আইন অনুযায়ী কোনো সংশোধন করা যায় কিনা তা ভেবে দেখতে হবে।
শ্রমিকনেত্রী কল্পনা আক্তার বলেন, শ্রমিকদের সম্মানজনক বেতন দিতে হলে পোশাকের মূল্য বাড়াতে হবে। সভায় মালিকপক্ষেও একই দাবি জানান। এ ছাড়া কার্যকর আর্থিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় ক্রেতারা কারখানায় শ্রমিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা ও মালিক শ্রমিকের মধ্যে সামাজিক সংলাপ করার তাগিদ দেন। একইসঙ্গে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণে বেশি করে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন ক্রেতারা।
শ্রমিক নেতা ওয়াজেদুল ইসলাম খান শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ক্রেতাদের ১০ শতাংশ করে পণ্য মূল্য বৃদ্ধি করতে হবে। এতে শ্রমিকরা উপকৃত হবে।
এইচঅ্যান্ডএম প্রতিনিধি রজার হুবার্ট বলেন, নিরাপত্তার জন্য বিনিয়োগ এর জন্য ক্রেতাদের দায়ী করা যায় না।
দিনব্যাপী এ সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, কূটনৈতিক, বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ, শ্রমিকনেতা ও বিভিন্ন দেশের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্ম-পরিবেশে ‘নিশ্চিত’ হতে চায় কানাডা
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট’- শীর্ষক আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে কানাডা। দেশটির ঢাকাস্থ হাইকমিশনার বেনওয়া পিয়ের লাঘামে গতকাল এ বিষয়ে বলেন, কানাডা বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাতের সংস্কার কর্মসূচির অন্যতম সমর্থক। কানাডিয়ানরা বাংলাদেশে তৈরি পোশাক পরিধান করছে এবং তারা নিশ্চিত হতে চায় যে- এই সকল পোশাক একটা ন্যায্য ও নিরাপদ কর্ম-পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে। এ কারণেই একজন অংশীদার হিসেবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা এবং বাংলাদেশে নিরাপদ কর্ম-পরিবেশ নিশ্চিতকরণে গৃহীত উদ্যোগ সমূহকে আরও গতিশীল এবং উদ্দীপ্ত করতে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করার লক্ষ্যে কানাডা সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট-এর সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছে। হাইকমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়- ২০১৩ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে ওই ‘সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট’ কর্মসূচি গ্রহণ করে। যার পুরো নাম ‘সম্পৃক্ত থাকা: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পের শ্রমিকদের অধিকার এবং কারখানার নিরাপত্তার নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যে টেকসই চুক্তিনামা।’ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- ২০১৩ সাল থেকে কানাডা তৈরি পোশাক খাতের সংস্কার কর্মসূচিতে অঙ্গীকারবদ্ধ ও সক্রিয়। বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ‘বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের কর্ম-পরিবেশের উন্নয়ন’- শীর্ষক যৌথ প্রকল্পে ৮ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কানাডা সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট-এর অঙ্গীকারসমূহের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। ৩ সচিব ও ৫ রাষ্ট্রদূতের (৩+৫) যৌথ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য হাইকমিশনার লাঘামে অন্যান্য রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করেন। কানাডা সরকার প্রতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক বিধিবদ্ধতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার জন্য দেশটির প্রতিষ্ঠানসমূহকে ক্রমাগত উৎসাহিত করে এবং সম্প্র্রতি দায়িত্বশীল সাপ্লাই চেইন সম্পর্কিত এ-৭ অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
No comments:
Post a Comment