Friday, January 15, 2016

Lokman Hakim, a former chairman of Union memorial meeting taitam baktara good people in society, people tend to be larger than the rise

Abhibakta Chakaria former acting chairman of the Union taitam Pekua on education, social worker and vice-president of Merit Foundation Bangladesh Maulvi Lokman Hakim's premature death and the mourning prayer congregation meeting as the chief guest of the Chittagong District Council Secretary Shabbir Iqbal said, our society is more educated and samajakarmike the need to assess. Talented people recognized his work in the development of society should be encouraged. The tendency of people to seek the best big man in modern society is increasing. It is not for the nation Subhakara. Mr. Shabbir Iqbal said, Maulavi Chakaria Lokman Hakim, Pekua and taitam for the enlightened man. For the development of neglected areas of education, he contributed to the establishment of the seminary. In recognition of his work in the development of society, four union members and two members of the community, he has been acting as chairman of the assessment. Maulvi Lokman Hakim was a big man, he was a good man. He is a good man and a great need for society and the nation. Youth Affairs Council meeting in one of the national mourning in East sonaichari taitam bahaddarahatastha Merit Mohammad Riaz Uddin Bangladesh College auditorium on April 19 was held, chaired by Munir. Mourning was present as the chief guest at the meeting of the District Council Secretary Shabbir Iqbal of Chittagong. Bangladesh was present as the chief negotiator for the Merit School and College Principal Dr Sun Chairman and merana. Sanaullah Muhammad. As special guests participated in the discussion Agrabad Mother and Child Hospital, vice-president of Lion Morshed Alhaj Syed Hussain, Mohammad Sohail president of Chittagong in the field of history. Phakharuda-Din, Abedin Chowdhury Liton, Professor Shihab poet Iqbal, Mohammad Belal Hossain said.

ঠিকানাহীন শিশু চার মাস হাসপাতালে

ঠিকানাবিহীন এক অবুঝ শিশু। বয়স আনুমানিক সাড়ে তিন বছর। কিছুই বুঝে না। দু-চারটি শব্দ কোনো রকম উচ্চারণ করতে পারে। তাও ঠিকমত বুঝা যায় না। নেই তার কোনো অভিভাবক। পড়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দায়। কে বা কারা শিশুটিকে গত চার মাস আগে শিশু ওয়ার্ডের বারান্দায় রেখে যায়। সে থেকে হাসপাতালেই বেড়ে উঠছে শিশুটি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার দিন ফিডার মুখে কাঁথার মধ্যে জড়িয়ে ছিল শিশুটি। পাশে ছিল ব্যাগ ভর্তি কিছু জামা-কাপড়। এ সময় ২০৫ নম্বর ওয়ার্ডের বয় ওসমান গনির নজরে পড়ে পরিচয়হীন এই শিশুটি। পরে হাসপাতালের এই কর্মচারী শিশুটিকে বারান্দা থেকে তুলে ভর্তি করেন ২০৮ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে। এই কর্মচারীই শিশুটির নাম ঠিক করে হাসপাতালের খাতায় লেখান ইসমাইল। বয়সটাও আন্ধাজ করে সাড়ে তিন বছর দিলেন তিনিই। এই বাচ্চা সম্পর্কে ওয়ার্ড বয় ওসমান গনি মানবজমিনকে বলেন, শিশুটি গত বছরের গত ১৬ই আগস্ট শিশু সার্জারি ওয়ার্ডের বারান্দায় পড়ে ছিল। সঙ্গে কেউ ছিল না। সেখান থেকে তুলে তাকে ওয়ার্ডে ভর্তি করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ ওর খোঁজ নিতে আসেনি বা পরিচয়ও পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হাসপাতালে ভর্তির দশ দিন পরই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সুস্থতার ছাড়পত্র দিয়ে দেন। কিন্তু চার মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও শিশুটির পিতা-মাতা কিংবা আত্মীয়স্বজন কেউই আসেনি তার খোঁজে। কাগজে কলমে শিশুটির বয়স সাড়ে তিন বছর ধরা হলেও শিশুটি হাঁটতে পারে না। পর্যাপ্ত পরিচর্যা ও ভিটামিনের অভাবে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিকতায় ভুগছে সে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং পরিচর্যার অভাবেই শিশুটির শারীরিক বৃদ্ধি সঠিকভাবে হয়নি। অনেকটা অবহেলিত ভাবেই বেড়ে ওঠায় তার শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে সমস্যা হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
শিশুটি প্রসঙ্গে ওয়ার্ডের ইন্টার্ন ডাক্তার মুসফিকা জানান, প্রায় তিন মাস থেকেই তিনি এই ওয়ার্ডে আছেন। তখন থেকেই শিশুটিকে এখানে দেখেছেন তিনি।  মা কিংবা আত্মীয়স্বজন কেউই না থাকায় নজরে পড়ে শিশুটি। শিশুটির শারীরিক অবস্থার কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, ও এখন ভালো আছে। প্রথম দিকে ওর খিচুনির সমস্যা ছিল। যেটা এখন অনেকটা ভালো হয়ে গেছে। এ ছাড়া জন্মের পর যেভাবে শিশুটির লালন পালন হওয়ার কথা, সেভাবে হয়নি। তাই ওর শারীরিক বৃদ্ধিতে একটু সময় হচ্ছে। কিছু বাচ্চা আছে, যারা খুব তাড়াতাড়ি কথা বলতে পারে ও হাঁটতে শিখে। কিন্তু ওর ক্ষেত্রে সেই বৃদ্ধিটা হয়নি বলেও ডা. মুসফিকা উল্লেখ করেন। প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং পর্যাপ্ত পরিচর্যার কমতি থাকায় এই শিশুটির বেড়ে ওঠায় সমস্যা হয়েছে। ডা. মুসফিকা আরও বলেন, এটাকে ব্রেইনের একটা অংশের ইনসাল্ট বলা যেতে পারে। যার কারণে বৃদ্ধি থেমে আছে। এই চিকিৎসক বলেন, বর্তমানে ওর কোনো সমস্যা নেই। তবে, ওয়ার্ডে রোগী না থাকায় শিশুটি এখানেই থাকছে। ও কোথায় যাবে? যেহেতু ওর যাওয়ার জায়গা নেই, তাই শিশুটি এখানেই আছে। এই হাসপাতালের সমাজসেবা অফিস শিশুটির দায়িত্ব দিয়েছে এই ওয়ার্ডে। আর তার আনুষঙ্গিক খরচও তারাই বহন করে আসছে। অন্যদিকে, শিশুটির কাছের কেউ না থাকায় অন্য রোগীদের আত্মীয়স্বজনরাও মাঝে মধ্যে ওর দেখভাল করেন। তবে, অধিকাংশ সময়ই ২০৮ নম্বর ওয়ার্ডের খালা মনোয়ারা বেগমই দেখাশোনা করেন ছোট্ট এই শিশুটিকে। আদর করে চিন্টু বলে ডাকেন। খুব বেশি কথা বলতে না পারলেও বলতে পারে কিছু শব্দ। মা বলে ডাকে মনোয়ারা বেগমকে। তিনি বলেন, এই ওয়ার্ডে আসার পর থেকেই আমিই ওর দেখাশোনা করি। ও সুস্থই আছে। শুধু ঠিক মতো খাবার পেলেই ভালো হয়ে যেত। আমারতো মনে হয় ওর হাত পা সবই ঠিক আছে। এখানে তো কেউ নেই হাঁটতে শেখানোর। হাসপাতালে সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। আমিতো এখানে কাজ করি। তারপরও যতটুকু সময় পাই দেখে রাখার চেষ্টা করি। এখানে কেউতো আর সময় কাটাতে আসে না। তারপরও অনেকেই ওর পাশে এসে কিছু সময়ের জন্য হলেও বসেন। আশেপাশে থাকা অন্য শিশুদের খাবার মাঝে মধ্যে ওকে খেতে দেয়।

নিলামে যুবতী বিক্রি!

ভারতের উত্তর প্রদেশে এক যুবতীকে নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। ৭০ হাজার রুপির নিলামে তাকে বিক্রি করে দেয় প্রেমিকরূপী তার বয়ফ্রেন্ড। কিন্তু স্থানীয় পুলিশের তৎপরতায় রক্ষা পান তিনি। স্থানীয়রা পুলিশকে এ খবর জানান। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ অভিযান শুরু করে। উদ্ধার হন ওই যুবতী। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়, ওই যুবতী একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনা উত্তর প্রদেশের রামপুর জেলার। সেখানকার পাতওয়াই পুলিশ স্টেশনের কর্মকর্তা মহেশ প্রসাদ বলেছেন, চারদিন আগে প্রেমিকরূপী একজন ওই যুবতীকে অপহরণ করে। এ সময় তার সঙ্গে ছিল আরও দুজন। তারা সবাই বাদাউন জেলার অধিবাসী। তারা মিলে ওই যুবতীকে অপহরণ করে চার দিন আটকে রাখে একটি গ্রামে। এরপর তাকে নিলামে ৭০ হাজার রুপিতে বিক্রি করে। এ ঘটনা জানতে পারেন স্থানীয় অধিবাসীরা। তারা খবর জানালে পুলিশ গিয়ে ওই গ্রামের একজন সাবেক গ্রামপ্রধানের বাড়ি ঘেরাও করে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ওই যুবতীকে। এসপি অতুল সাক্সেনা বলেছেন, আমরা নিলামের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই গ্রামে পুলিশ ফোর্স পাঠাই। তাতে উদ্ধার হন ওই যুবতী। তবে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। রামপুরের অতিরিক্ত এসপি তারিক মোহাম্মদ বলেছেন, আমরা অভিযুক্ত সব আসামিকে দ্রুত আটক করার নির্দেশ দিয়েছি। তাদের বাড়ি ঘেরাও করেছে পুলিশ। তবে সেখানে তাদের পাওয়া যায় নি। উদ্ধার করা যুবতীকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হবে স্বীকারোক্তি রেকর্ড করার জন্য।

নিহত জঙ্গি পুলিশ হত্যায় জড়িত ছিল: ডিবি

 ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দুই ব্যক্তি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের নেতা বলে দাবি করেছে মহানগর গোয়োন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে জেএমবি’র ঢাকা উত্তরের সামরিক কমান্ডার আবদুল্লাহ আল নোমান ওরফে আবদুল্লাহ এবং কামাল ওরফে হিরণ। এ বিষয়ে গতকাল দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন করেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নিহত দুজনেই জেএমবির সক্রিয় নেতা। তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করতো। এ পর্যন্ত এরকম ১৪টি বাসার সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দারা। মনিরুল ইসলাম দাবি করেন, গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে তাদের মূল ঘাঁটি উত্তরবঙ্গে। জঙ্গিরা শুরুতে অন্তত দুই মাস প্রশিক্ষণ নেয়। পরবর্তীকালে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পরিকল্পনা অনুসারে নাশকতা চালায়। গত বছরের ২২শে অক্টোবর রাজধানীর দারুসসালাম থানা এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন  পুলিশের এএসআই ইব্রাহীম মোল্লা। ইব্রাহীম মোল্লা হত্যা ও শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময়ে পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে হামলার ঘটনায় কামাল ওরফে হিরণ জড়িত বলে জানান ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। এ বিষয়ে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুরে শিয়াদের ওপর হামলার উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গিদের। এজন্য ওই এলাকায় বাসা ভাড়া নেয় তারা। কিন্তু পরবর্তীকালে শিয়াদের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান তাজিয়া মিছিলে হামলার পরিকল্পনা করে। ওই হামলায় নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল হিরণের। কিন্তু পুলিশ হত্যার পর প্রস্তুতি নিতে সময় লাগছিল হিরনের। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই হোসেনি দালানে হামলার নেতৃত্ব দেন ইতিমধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত জেএমবির সামরিক কমান্ডার আলবানী ওরফে হোজ্জা। হোজ্জার সঙ্গে ওই হামলায় অংশ নেন হিরণসহ ছয়জন। তাদের মধ্যে হোজ্জা এবং হিরণ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বাকি পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিবি দাবি করেছে, জেএমবির সামরিক কমান্ডার আলবানি ওরফে হোজ্জার সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিল কামাল ওরফে হিরণ।
আবদুল্লাহ ও  হিরণের নিহত হওয়ার বিষয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, বুধবার রাত ১০টায় রাজধানীর কামরাঙ্গীচর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় তিন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১১টায় হাজারীবাগ থানার বারইখালীর পশ্চিম সুলতানগঞ্জের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বালুর মাঠে পৌঁছালে ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সেখানে শলাপরামর্শ করতে দেখা যায়। তাদের অবস্থান সন্দেহজনক ছিল দাবি করে মনিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ তাদের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায় এবং এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করতে থাকে তারা। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি চালায় বলে দাবি করেন তিনি। গুলি বর্ষণের একপর্যায়ে দুষ্কৃতকারীদের দুজন আহত হয়। অন্য দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাদের। নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে মনিরুল ইসলাম জানান, আহতদের উদ্ধার করার পর গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিরা জানায়, একজন জেএমবির সামরিক কমান্ডার আবদুল্লাহ আল নোমান ওরফে আবদুল্লাহ, অন্যজন কামাল ওরফে হিরণ।
বন্দুকযুদ্ধের আগে কামরাঙ্গীরচর থেকে গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে- আরমান, জাহিদ হাসান রানা ওরফে মুসহাব এবং নূর মোহাম্মদ ওরফে ল্যাংড়া মাস্টার। তাদের মধ্যে রানা হোসেনি দালানে হামলায় অংশ নিয়েছিল বলে জানান মনিরুল ইসলাম। তাদের কাছ থেকে দুই রাউন্ড গুলিসহ কাঠের বাটযুক্ত দুটি ওয়ান সুটারগান, একটি ধারালো অস্ত্র, একটি কালো রঙের পালসার মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো-ল-২৩-০৫৬৮) ও বিস্ফোরিত গ্রেনেডের কয়েক টুকরা লোহা উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম দাবি করেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি গোষ্ঠী জঙ্গিদের অর্থায়ন করছে। ওই গোষ্ঠী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না। এমনকি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ছাত্র শিবির থেকে একটা গ্রুপ জেএমবিতে যোগ দিয়েছে বলে দাবি করেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তারা নাশকতার নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে, গতকাল দিনভর আবদুল্লাহ ও হিরণের লাশ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পড়ে ছিল। তাদের কোনো স্বজনকে সেখানে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় হাজারীবাগ থানায় মামলা হয়েছে।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় মাঠে নামছেন ১০০ দক্ষ কর্মকর্তা

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় মাঠে নামছেন ১০০ দক্ষ কর্মকর্তা। এদের মধ্যে ৪০ জন বিমান, ৪০ জন পুলিশ ও ২০ জন আনসার বাহিনীর। তারা সবাই টেকনিক্যাল জ্ঞানসম্পন্ন। এয়ারপোর্টের নিয়মিত সিকিউরিটি ফোর্সের সঙ্গে কাজ করবেন তারা। আগামী সপ্তাহেই বিমাবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত হবেন তারা। এ ছাড়া বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দেখভাল করতে ২৫০ সদস্যের নতুন একটি ফোর্স তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এ ফোর্স শুধু বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দেখভাল করবে। যার নিয়ন্ত্রণ থাকবে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের হাতে। নতুন এ ফোর্সের নাম হচ্ছে ‘এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স’। পুলিশ, আনসার ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে এ বাহিনী গঠিত হবে। নতুন এ ফোর্সের জনবল অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন মানবজমিনকে বলেন, ‘বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু নিরাপত্তায় লোকবলের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে বিমান, পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে ১০০ দক্ষ কর্মকর্তাকে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে নামানোর প্রক্রিয়া চলছে।’ এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা নতুন ফোর্স গঠন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত একটি বিষয় প্রস্তাবনা পর্যায়ে রয়েছে। এটি এখনও অর্ডার হয়নি।’
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সম্প্রতি মিশরে রাশিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হলে বৃটিশ সরকার তাদের বিমান চলাচল করে এমন এয়ারপোর্টের সিকিউরিটি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃটিশ এভিয়েশন ইন্টেলিজেন্সের একটি দল শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার পর নানা প্রশ্ন তুলেছে। বৃটিশ এভিয়েশন টিমের রিপোর্টে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও কারিগরি বিভিন্ন দিকের দুর্বলতা তুলে ধরা হয়। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি হাতে পেয়ে নড়েচড়ে বসে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি-সংক্রান্ত এক বিশেষ সভাও অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিমানবন্দরের বর্তমান নিরাপত্তা অবস্থা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না- তা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া বৃটিশ এভিয়েশনের রিপোর্টটিও বিবেচনায় নিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নতুন একটি ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
বিমান সূত্র জানায়, নতুন যে বাহিনী গঠিত হবে তার সদস্য সংখ্যা হবে ২৫০। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিয়ন্ত্রণে থাকবে বাহিনীর সদস্যরা। নিয়োগপ্রাপ্তদের এভিয়েশন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বিভিন্ন বাহিনী থেকে এ ফোর্সে নেয়ার সময় নিরাপত্তার পাশাপাশি কারিগরি বিষয়ে দক্ষ কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বিমানবাহিনীর সদস্যরা কারিগরি বিষয়গুলো দেখভাল করবেন। আর এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্সের অন্য সদস্যরা বিমানবন্দরের বহির্গমন ও ট্রানজিট যাত্রীদের তল্লাশি, লাগেজ স্ক্যানিং ও মনিটর করবে। বহির্গমন যাত্রীদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রমও তদারক করবে এ ফোর্সের কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যরা। তবে বিমাবন্দরের নিরাপত্তা দ্রুত উন্নত করার লক্ষ্যে এ সপ্তাহে মাঠে নামানো হচ্ছে ১০০ দক্ষ কর্মকর্তাকে। ইতিমধ্যে পুলিশ, বিমান ও আনসার বাহিনীর চৌকস ১০০ কর্মকর্তাকে বাছাই করে প্রেষণে তাদের এয়ারপোর্ট সিকিউরিটির অধীনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের প্রশিক্ষণ চলছে। এ সপ্তাহেই তারা এয়ারপোর্টের নিয়মিত সিকিউরিটি ফোর্সের সঙ্গে কাজে যোগ দেবেন।

হবিগঞ্জ জামায়াতের আমিরসহ আটক ১৪

‘গোপন বৈঠকের’ অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মুখলেছুর রহমান (৬০) ও জেলার আরো ১৩ শীর্ষ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রচুর লিফলেট ও লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব ভাদৈ গ্রামের মুখলেছুরের রহমানের নিজ বাড়ি থেকে সবাইকে আটক করা হয়। হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) মাসুদুর রহমান মনির জানান, সকালে আটকরা জামায়াতের আমির মুখলেছুর রহমানের বাড়িতে গোপন বৈঠক করছিলেন। সেখানে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের আমিররাও রয়েছেন। তবে অন্যদের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

ইসলামী ঐক্যজোট নিয়ে কাড়াকাড়ি

টানাটানি ভাগাভাগি চলছে ইসলামী ঐক্যজোট নিয়ে। তিন টুকরা হয়ে পড়া এই ইসলামী মোর্চার তিন পক্ষই নিজেদের মূল ধারার দাবি করছে। ‘ভুয়া স্বঘোষিত’সহ নানাভাবে চিহ্নিত করছে এক পক্ষ অপর পক্ষকে। বর্তমানে বেশি সক্রিয় আছে  
মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী আর অ্যাডভোকেট আবদুর রকিবের নেতৃত্বাধীন দুই ইসলামী ঐক্যজোট। ২০০৫ সালে ভাগ হয়ে যাওয়া মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট ১৪ দলের অংশ হিসেবে সরকারের সঙ্গে আছে। নিজস্ব কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত এই সংগঠনটি।  
সংশ্লিষ্টরা জানান, জামায়াতে ইসলামীকে জোটে রাখা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে ২০০৫ সালে মিছবাহুর রহমান চৌধুরী আলাদা হয়ে যান। তবে মুফতি ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে ইসলামী ঐক্যজোটের বড় অংশটি চারদলীয় জোটে একীভূত থাকে। কিন্তু ২০১২ সালের ১১ই ডিসেম্বর মুফতি আমিনীর ইন্তিকালের পর এই জোটে টানাপড়েন শুরু হয়। যার প্রকাশ ঘটে গত ৭ই জানুয়ারি। সমমনা তিনটি ইসলামপন্থি সংগঠন নিয়ে চলা এ জোটে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেয়। ওই দিন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল করে জোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন। তার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর জোটের নেতা মাওলানা আবদুর রকিব সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ইসলামী ঐক্যজোট খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০ দলেই আছে। এ সময় জোটের নতুন কমিটিরও ঘোষণা দেয়া হয়। অন্যদিকে সম্মেলনে কমিটি ঘোষণা করে নেজামীর নেতৃত্বাধীন অংশ। ৭ই জানুয়ারি রাতেই আবদুর রকিবের নেতৃত্বাধীন অংশের নেতারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেদিন থেকে ইসলামী ঐক্যজোটের প্যাডে দুই পক্ষই সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে আসছে। এ পর্যায়ে আবদুল লতিফ নেজামী গতকাল নেজামে ইসলাম পার্টির ব্যানারে আবারও সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, রকিবের পক্ষে ইসলামী ঐক্যজোটের কমিটি গঠন বা ঘোষণা করার কোনো নৈতিক এবং সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। রকিবের নেতৃত্বে ইসলামী ঐক্যজোটের তথাকথিত কমিটি গঠনের খবরে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি নেজামে ইসলাম পার্টির নেতাকর্মী সমর্থকদের প্রতি আহবান জানান। 
হঠাৎ জোট ভাঙার কারণ সম্পর্কে আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আচরণ এবং মূল্যায়ন দিক থেকে অনেক দিন ধরে দূরত্ব চলে আসছিল। সেজন্য আমরা ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেলাম। বঙ্গভবনে দাওয়াতে যাওয়াতে জোটে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে দাওয়াতে আরও অনেকেই গেছেন।
এদিকে ৭ই জানুয়ারি মাওলানা নেজামীর জোট ছাড়ার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার পর বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে জোটে থাকার ঘোষণা দেয় মাওলানা আবদুর রকিবের নেতৃত্বে ইসলামী ঐক্যজোটের অপর অংশ। সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে মাওলানা আবদুর রকিব বলেন, গত ৬ই জানুয়ারি বুধবার পুরানা পল্টনে দলের কার্যালয়ে বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মজলিশে শুরার বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় ইসলামী ঐক্যজোট ২০-দলীয় জোটে থাকবে। কিন্তু পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আকস্মিকভাবে জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়া হয়। ইসলামী ঐক্যজোটের সংবিধান পরিপন্থি কাজ করায় মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী ও মহাসচিব মুফতি ফয়েজুল্লাহ পদ হারিয়েছেন। তাই ঐক্যজোটের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেন তিনি। এছাড়া মহাসচিব পদে মাওলানা আবদুল করিমের নাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি এখন দলের চেয়ারম্যান। নেজামীসহ যারা জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মজলিশে শুরার বৈঠক করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে। এছাড়া আগামী ৩১শে মার্চ ইসলামী ঐক্যজোটের জাতীয় সম্মেলন করার ঘোষণাও দেন তিনি। এরপর ওইদিন রাতে গুলশান কার্যালয়ে মাওলানা আবদুর রকিবের নেতৃত্বে ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ৬ই জানুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ঐক্যজোটকে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠন করা হয়। এরপর থেকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটেই ছিল ইসলামী ঐক্যজোট। ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোট থেকে নির্বাচন করে জাতীয় সংসদে দুটি আসনও পায় তারা। তবে নবম সংসদ নির্বাচনে এই জোট কোনো আসন পায়নি।

গার্মেন্টে ১৬ ধাপে দুর্নীতি

দেশের পোশাক খাতে তিনটি পর্যায়ে ১৬টি ধাপে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয় বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে এই অনিয়ম-দুর্নীতিতে বিদেশি ক্রেতারাও জড়িত। প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানিয়েছেন, অতি মুনাফার জন্য অনেক ক্রেতাই দেশের গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের অনিয়ম করতে উৎসাহিত করছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কার্যাদেশ পাওয়া থেকে শুরু করে উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায় পর্যন্ত এ দুর্নীতি হয়। এর সঙ্গে জড়িত থাকেন কারখানার মালিক, মার্চেন্ডাইজার ও বিদেশি ক্রেতারা।
২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে এই গবেষণা করা হয়েছে বলে জানায় টিআইবি। গতকাল সংস্থার কার্যালয়ে ‘তৈরী পোশাক খাতের সাপ্লাই চেইনের অনিয়ম ও দুর্নীতি মোকাবিলায় অংশীজনের করণীয়’ শীর্ষক প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন শাহজাদা এম আকরাম, নাজমুল হুদা মিনা ও নীনা শামসুন্নাহার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। টিআইবি বলছে, তৈরী পোশাক খাতের সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম ও দুর্নীতি কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। উৎপাদন কারখানা, ক্রেতা, নিরীক্ষকসহ অংশীজনের মাঝে দুর্নীতির চর্চা বিদ্যমান। এসব দুর্নীতি কখনও জোরপূর্বক আবার কখনও বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমঝোতামূলক। এ ছাড়া শ্রম ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন পরিবীক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের উপরি দিলেই নিয়ম ভঙ্গের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। পণ্যের মান, পরিমাণ ও কমপ্লায়েন্সের ঘাটতি ধামাচাপা দেয়া হয় ঘুষের মাধ্যমে। সুশাসন ও জবাবদিহিতাহীন এই ধরনের পরিবেশে সর্বোচ্চ মুনাফার জন্য চাঁদাবাজি কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে টিআইবি গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
টিআইবির গবেষণায় যে ১৬ ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে কার্যাদেশ পর্যায়ে চার ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়। এগুলো হলো- ক্রেতার নির্ধারিত কমপ্লায়েন্স চাহিদা সম্পর্কে সন্তোষজনক প্রতিবেদন পাওয়ার অভিপ্রায়ে কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষককে ঘুষ দেয়া; কার্যাদেশ পাওয়ার জন্য ছোট আকারের কারখানা কর্তৃপক্ষের মার্চেন্ডাইজারকে ঘুষ দেয়া; কারখানার পক্ষ থেকে নকল কাগজপত্র তৈরি করা অথবা বিভিন্ন কাগজপত্র প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা এবং কারখানার মালিক বা সরবরাহকারী কর্তৃক ঘুষের বিনিময়ে ক্রেতা বা এর এজেন্টের ক্রয়ের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করা, যাতে ওই কারখানার পছন্দ অনুযায়ী কার্যাদেশ পাওয়া যায়।
টিআইবি বলছে, উৎপাদন পর্যায়ে ৯ ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়। এগুলো হলো- নির্দিষ্ট এক্সেসরিজ কারখানা থেকে তৈরী পোশাক কারখানার উপকরণ কেনার জন্য মার্চেন্ডাইজারের পক্ষ থেকে বাধ্য করা; প্রয়োজনের তুলনায় কারখানার বেশি উপকরণ আমদানি এবং বাড়তি উপকরণ খোলা বাজারে বিক্রি করা; কারখানার পক্ষ থেকে অবৈধভাবে ব্যাক টু ব্যাক এলসি ভাঙানো; ন্যূনতম মজুরি, কর্মঘণ্টা এবং শ্রমিক অধিকার-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন; ক্রেতাদের পক্ষ থেকে চুক্তিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন চাহিদা পূরণে কারখানাকে বাধ্য করা; আবার কারখানাগুলো চুক্তিবহির্ভূতভাবে সাব-কন্ট্রাক্ট দেয়া; নিরীক্ষককে তাদের প্রাপ্ত তথ্য গোপন করার জন্য কারখানা মালিকদের ঘুষ দেয়া; ক্রেতাদের ইচ্ছেমতো কার্যাদেশ বাতিল করা এবং ক্রেতাদের পরিদর্শন কিংবা কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন পরিবর্তন করা।
সরবরাহ পর্যায়ে তিন ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়। এগুলো হলো- মানের ঘাটতি ও নিম্নমানের পণ্যের বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার জন্য কারখানার পক্ষ থেকে মান নিয়ন্ত্রককে ঘুষ দেয়া; কারখানার কাছে মান পরিদর্শকের নিয়মবহির্ভূত অর্থ দাবি এবং গন্তব্য দেশের বন্দর পরিদর্শনের সময় ন্যূনতম মূল্য প্রদানের উদ্দেশ্যে ক্রেতার মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাপ্লাই চেইনের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় সব অংশীজনই সুশাসনের ঘাটতি থেকে উত্তরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে শৈথিল্য প্রদর্শন করছেন। এ খাতে ৬০ শতাংশ অগ্রগতি হলেও তা বাড়াতে সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে। অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে কিছু পদক্ষেপ নিলে তৈরী পোশাক খাতের অগ্রগতি আরও বাড়বে। ৬০ শতাংশ অগ্রগতির ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ২০১৩ সালে এক গবেষণায় এ খাতের ৬৩টি বিষয়ে সুশাসনের ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেসব বিষয়ে সরকার, মালিক ও ক্রেতাদের নেয়া ১০২টি উদ্যোগের ফলে সার্বিক এই অগ্রগতি হয়েছে। গবেষণায় গুণগত তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ব্যবহার করায় পরিসংখ্যানগত কোনো অনিয়মের তথ্য দেয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, অনিয়মের সঙ্গে কমবেশি সবাই জড়িত। এককভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়ী করা ঠিক হবে না। বায়ার, এজেন্ট, যারা এ খাতে সংশ্লিষ্ট, তাদের দায় এড়ানো যাবে না। বিদেশি ক্রেতা, বায়িং হাউজ, কারখানার মালিক, শ্রমিক, কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষকসহ ৭০টি অংশীজন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে গবেষণার তথ্য উপাত্ত নেয়া হয়।
তৈরী পোশাক খাতের সাপ্লাই চেইনে দুর্নীতি মোকাবিলায় বায়ার, বিজিএমইএ, সরকার, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে টিআইবি ১৩ দফা তাৎক্ষণিক করণীয় ও ১৪ দফা কাঠামোগত সুপারিশ উত্থাপন করে। তাৎক্ষণিক সুপারিশগুলো হলো- দুর্নীতি হলে বিষয়টি বিজিএমইএ’কে অবগত করে ‘সালিশ সেল’ কর্তৃক বিষয়টি সুরাহা করার পাশাপাশি তদারকি ক্ষমতাসম্পন্ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্তির জন্য জানানো, বায়ার কর্তৃক পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক কারখানা নিরীক্ষণ/পরিদর্শন করা, প্রয়োজনে বায়ার কার্যাদেশ বাতিল এবং কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা ইত্যাদি।
কাঠামোগত সুপারিশগুলো হলো- বায়ারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে একটি অনুসরণযোগ্য ‘মডেল চুক্তিপত্র’ তৈরি করা যেখানে পুরো প্রক্রিয়া দেয়া থাকবে; চুক্তি করার সময় কারখানার সকল নিয়ম ও শর্ত পরিষ্কারভাবে নির্দেশিত চুক্তিপত্রে প্রদর্শন করা, বিজিএমই ও বায়ার-এর যৌথ উদ্যোগে বায়ারদের কমপ্লায়েন্স চাহিদা মেনে চলে এমন কারখানার একটি সমন্বিত তালিকা তৈরি করা ও তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা, বিজিএমইএ কর্তৃক সংশোধিত শ্রম আইন ও এর প্রয়োগ সম্পর্কে সদস্যদের তথ্য ও প্রশিক্ষণ দেয়া, সনদপ্রাপ্ত তৃতীয় পক্ষ নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি ও প্রকাশ করা।
এ ছাড়া অপরাপর সুপারিশসমূহের মধ্যে বায়ার/ভোক্তা কর্তৃক অনৈতিক, অসাধু ও অন্যায্য আচরণ সংক্রান্ত অভিযোগ দেয়ার জন্য সহজে ও বিনামূল্যে প্রবেশযোগ্য সতর্কীকরণ হটলাইন স্থাপন করা, সরকারিভাবে সকল কারখানার জন্য এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেখানে প্রত্যেক কারখানার জন্য আলাদা শনাক্তকারী নম্বর থাকবে যেন তথ্যের কোনো ধরনের কারসাজি, নকল করা অথবা সংশোধন করা না যায়, কারখানার ন্যূনতম মজুরি সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করার জন্য সরকারি উদ্যোগে তদারকি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

লাইফ সাপোর্টের নামে আইসিইউ বাণিজ্য

সরকারি-বেসরকারি কিছু হাসপাতালে চলছে আইসিইউ বাণিজ্য। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে এলেই কৌশলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই নেয়া হচ্ছে আইসিইউতে। এরপর ঘণ্টা হিসেবে সেখান থেকে আদায় করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের ফি। হাসপাতালের আইসিইউর সিটের সংকটকে কেন্দ্র করে এ ব্যবসা এখন তুঙ্গে। রাজধানীর বেশির ভাগ বেসরকারি হাসপাতালেই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) সেবার নামে চলছে রমরমা বাণিজ্য। সরকারি হাসপাতালে আইসিইউর জন্য কোনো খরচ নেই। অভিযোগ রয়েছে, রোগী মারা গেলেও লাইফ সাপোর্টে রাখার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ওইসব হাসপাতাল। আবার অনেক হাসপাতালেই নেই দক্ষ ডাক্তার, নার্স ও যন্ত্রপাতি। সব মিলিয়ে আইসিইউর নামে হাসপাতালগুলোয় বিছিয়ে রাখা হয়েছে প্রতারণার জাল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ভাগ্যে জোটে না সেখানকার অনেক রোগীর। চলে আইসিইউর সিট পেতে মন্ত্রী-এমপিসহ প্রভাবশালীদের তদবির। দিনে দুই শতাধিকের সিরিয়াল থেকে ভাগ্যে জোটে শুধু দু-একজনের সিট। বাকি মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন স্বজনরা। কখনও পড়েন দালালের খপ্পরে। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, ঢাকা মেডিকেলসহ সরকারি বেশির ভাগ হাসপাতালে আইসিইউর সিট বরাদ্দ হচ্ছে তদবিরের মাধ্যমে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় হাসপাতালের বাইরের রোগীরাই বেশি সিট পাচ্ছেন। এর মধ্যে থাকে মন্ত্রী, এমপি এবং চিকিৎসক নেতাদের তদবির। তারা বলেন, আইসিইউ সংশ্লিষ্টদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে দু-একদিন অপেক্ষা করলেও সিট পাওয়া যায়। বেশির ভাগ বেসরকারি হাসপাতালে মুমূর্ষু রোগীদের আইসিইউ ও সিসিইউ সেবা দেয়ার নামে চলছে উচ্চ মুনাফা। অভিযোগ আছে, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের আইসিইউতে রোগী মারা গেলেও লাইফ সাপোর্টে রেখে অর্থ আদায় করা হয়। এ সুযোগে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় লাখ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি এবং কয়েকটি করপোরেট হাসপাতাল ছাড়া বেশির ভাগ হাসপাতালেই আইসিইউতে নেই প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স। নেই মানসম্পন্ন চিকিৎসা যন্ত্রপাতিও। এ কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত নয়, সরকারি হাসপাতালের জন্য লাইন ধরে থাকেন বিত্তশালীরাও। সূত্র জানায়, রাজধানীর উচ্চমানসম্পন্ন বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ ও সিসিইউতে প্রতিদিনের খরচ ৪০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। মাঝারি মানসম্পন্ন হাসপাতালের আইসিইউতে প্রতিদিন খরচ হয় ২৫ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। তবে মান নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের আইসিইউতে চিকিৎসা খরচ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ ও সিসিইউর (করনারি কেয়ার ইউনিট) স্বল্পতা থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়েই দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে নিম্নমানের আইসিইউতে যেতে বাধ্য হন। আর এ ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদের আবেগকে পুঁজি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় অসাধু চক্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নীতিমালা না থাকায় নিবিড় পরিচর্যার (ইনটেনসিভ কেয়ার) নামে এক শ্রেণির প্রতারক প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নজরদারির অভাবে অসাধু চক্র একের পর এক তথাকথিত আইসিইউ-সিসিইউর নামে গড়ে তুলছে প্রতারণার ফাঁদ। এসব আইসিইউ-সিসিইউতে দক্ষ জনবল, প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, উপযুক্ত চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স, টেকনেশিয়ান, পরীক্ষাগার কিছুই নেই। তারা জানান, আইসিইউতে একজন রোগীকে ওঠানো-নামানো, বিভিন্ন দিকে ঘোরানোসহ বিভিন্ন অবস্থানে রাখার জন্য বিশেষায়িত শয্যার দরকার। প্রত্যেক রোগীর জন্য পৃথক কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণযন্ত্র ভেন্টিলেটর এবং হৃদযন্ত্রের অবস্থা, শরীরে অক্সিজেন মাত্রা, কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনের মাত্রা, শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি, রক্তচাপ পরিমাপের জন্য দরকার হয় কার্ডিয়াক মনিটর। স্যালাইনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মাত্রা নির্ধারণের জন্য দরকার ইনফিউশন পাম্প। আইসিইউতে হৃদযন্ত্রের গতি হঠাৎ থেমে গেলে তা চালু করার জন্য প্রয়োজন হয় শক মেশিনও। পাশাপাশি আইসিইউতে কিডনি ডায়ালিসিস মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম, মুমূর্ষু রোগীর রক্তে বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা নির্ধারণের জন্য এবিজি মেশিন থাকতে হবে। এ ছাড়া জরুরি পরীক্ষার জন্য আইসিইউর সঙ্গে একটি অত্যাধুনিক ল্যাব থাকা প্রয়োজন। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকটি হাসপাতালের আইসিইউ ছাড়া বেশির ভাগ হাসপাতালের আইসিইউতে নেই এসব সুযোগ-সুবিধা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আইসিইউর একটি সিট বাসাতে কমপক্ষে ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা খরচ হয়। একটি সিটের পেছনে হাসপাতালের দৈনিক খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। এটা ওষুধ ছাড়াই। ১৯৯৮ সালে তৎকালীন পিজি (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক ডা. গাজী মেজবাহ উদ্দিন ইকবাল এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, হাসপাতালে প্রতিদিন আইসিইউতে খরচ হয় ৫ হাজার টাকা।
সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ২০১৪ সালে সারা দেশের ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালগুলোতে আট বেডের সিসিইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু সেই কার্যক্রম কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতাল পর্যায়ে আইসিইউ সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি বিশেষায়িত হাসপাতালের অধীনে বর্তমানে ৭৬টি আইসিইউ বেড রয়েছে এবং আরও ১৯টি বাড়ানোর প্রস্তাবনা রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে বড়দের জন্য মোট আইসিইউ বেডের সংখ্যা ৩০০। ১৯টি হাসপাতালে শিশুদের জন্য ৭০টি করে বেড আছে। তবে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে বর্তমানে কতগুলো আইসিইউ চালু আছে তার পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে কয়েকটি হাসপাতাল প্রতিবেদন আকারে জমা দিয়েছে। তাতে ৪০০ বেড আছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম সাদী মানবজমিনকে বলেন, সরকারি হাসপাতালে এমনিতেই আইসিইউর ব্যাপক সংকট। সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে কোনোভাবে রোগীদের চাহিদা পূরণের চেষ্টা চলছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী বিশেষায়িত হাসপাতালসহ সব জেলা হাসপাতালে আইসিইউ-সিসিইউ ইউনিট করার চেষ্টা চলছে। মানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানহীন আইসিইউ মালিকদের একদিনে প্রতিহত করা সম্ভব নয়। এজন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর উচ্চ ফি আদায় প্রসঙ্গে ডা. সামিউল বলেন, দেশে হাসপাতাল স্থাপনের নীতিমালা আছে। তবে আইসিইউ ও সিসিইউ বিষয়ে তারা পরিদর্শন করছেন এবং নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন। মানসম্পন্ন সেবা দেয়ার জন্য কাজ করছেন তারা। যাতে সেবা নিতে গিয়ে কেউ প্রতারিত না হন। এ বিষয়ে ঢামেকের অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগ এবং ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, বাইরের রোগীদের প্রাধান্য, তদবির এবং টাকা দিয়ে আইসিইউর সিট পাওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঢামেকে আইসিইউর ২০টি সিট রয়েছে। সিট বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আইসিইউর রোগীর ক্ষেত্রে অপারেশন, পোস্ট অপারেশন এবং এ হাসপাতালের ভর্তি-রোগীর কথা আগে চিন্তা করা হয়। এ ক্ষেত্রে যেসব রোগী বাঁচবেন তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মন্ত্রী-এমপিদের তদবির থাকতে পারে, এমনকি আপনাদেরও। তিনি জানান, মন্ত্রী-এমপিদের তদবির করলে তাদের বলা হয়, রোগীর লোককে আমাদের কাছে পাঠান। আর বিষয়টি কীভাবে হ্যান্ডেল করা হলো তাই দেখার বিষয়। ডা. রহমান বলেন, অভিযোগ থাকতেই পারে। কারণ দুই শতাধিক লোক সিরিয়ালে থাকেন। এত রোগীর মধ্য থেকে দু-একজন আইসিইউতে সিট পান দিনে। বাকিরা অভিযোগ করেন। দৈনিক ৩০ জন সিরিয়ালে নাম লেখান। অনেক সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয় না। এর মধ্যে ল্যাব সুবিধা নেই, জনবলেরও অভাব রয়েছে। প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিট (পিসিইউ) বাড়াতে হবে। অর্থাৎ চিকিৎসার কোনো সুযোগ নেই, কষ্ট কমানো, মৃত্যু পর্যন্ত ব্যক্তিকে সম্মানের সঙ্গে রাখা। এ রকম ১২টি সিট রয়েছে ঢামেকে। তিনি বলেন, আমাদের প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের হেলথ কেয়ারের প্রতি বেশি নজর দিতে হবে। টারশিয়ারি পর্যায়ে হেলথ কেয়ার নয়।
কেইস স্টাডি-১: ব্যবসায়ী আসলাম (৫৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর একটি অভিজাত হাসপাতালে মারা যান গত ১৬ই আগস্ট, ২০১৪ সালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আসলামের মরদেহ আটকে রেখে বিল পরিশোধের চাপ দেয়। মৃত ব্যক্তির চিকিৎসা বাবদ স্বজনদের কাছে প্রায় ৩১ লাখ টাকার একটি বিল দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্বজনরা ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা পরে দেয়ার শর্তে লাশ নিয়ে যেতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তখন বাধা দেয়। দুদিন ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল না দেয়ায় আসলামের লাশ আটকে রেখেছিল। মৃত আসলামের মেয়ে সাদিয়া ইসলাম ওই সময়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, লাশ আটকে রাখার বিষয়টি মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু শর্তে লাশ হস্তান্তর করে। স্বজনরা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আসলামকে ওই বছরের ৩রা জুলাই বারিধারার অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর কয়েক ধাপে তারা ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। ওই বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, হাসপাতালের লাশ আটকে রাখার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক। হাসপাতাল পরিচালনা একটি সেবা সে কথা মনে রাখতে হবে।
কেইস স্টাডি-২: সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটে কণ্ঠশিল্পী দিলরুবা খানের সঙ্গে। তার স্বামী মকবুল হোসেন খানকে মৌচাকের একটি হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। খুলে নেয়া হয়েছিল লাইফ সাপোর্ট। চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী তিনি ‘মৃত’। তার মৃত্যু-সংবাদ জানাতে এলাকায় হয়েছিল মাইকিং। গ্রামের বাড়িতে খোঁড়া হয়েছিল কবর। হাসপাতালে ভিড় স্বজনদের। শোকাতুর পরিবেশ। এরই মধ্যে মেটানো হয় হাসপাতালের সব পাওনা। লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে যখন মকবুল হোসেনের ‘লাশ’ তোলা হচ্ছিল, এমন সময় চোখ মেলে তাকান তিনি। স্বজনরা বিস্ময়ে হতবাক! দ্রুত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় অন্য আরেকটি হাসপাতালে। মৃত ঘোষণার পরও বেঁচে থাকা মকবুল হোসেনকে চিকিৎসা দেয়া হয় হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে। অবশ্য সেখানে আরও কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান। মকবুল হোসেনের স্বজনরা জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ওই হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। অবস্থা সংকটাপন্ন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে আইসিইউতে নিয়ে যায়। সেদিন চিকিৎসকরা বলেছিলেন, লাইফ সাপোর্ট ছাড়া তাকে বাঁচানোর আর কোনো উপায় নেই।
মকবুল হোসেনের কন্যা শিমুল খান মানবজমিনকে বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসকরা বাবাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়ার জন্য বারবার তাগাদা দিতে থাকেন। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের চাপ দেন। শেষ পর্যন্ত আমরা তাদের চাপে বাবাকে লাইফ সাপোর্টে রাখার সিদ্ধান্ত নিই। এজন্য ২০ হাজার টাকা অগ্রিমও দেয়া হয়। লাইফ সাপোর্টে প্রতিদিন বিল উঠবে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা, যা আমাদের সামর্থ্যের একেবারেই বাইরে। তিনি বলেন, পরদিন দুপুর সাড়ে ১২টার সময় বাবার লাইফ সাপোর্ট খুলে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালের পাওনা ৫৭ হাজার ৪৫৭ টাকা পরিশোধও করি। কিন্তু দুপুরে যখন লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে বাবাকে তোলা হয় তখনই তিনি নড়েচড়ে ওঠেন। লিফট দিয়ে নামানোর সময় তিনি চোখ মেলে তাকান। শিমুল খান আরও বলেন, তখনই আমরা বুঝতে পারি লাইফ সাপোর্টের নামে আমরা প্রতারণার ফাঁদে পড়েছি। পরে এ হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়ার মতো আর কোনো ভরসা পাইনি।
কেইস স্টাডি-৩: ২০১৪ সালের আগস্টে আব্বাস নামের এক রোগী বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে ঢামেকে আসেন। তিনি জিবিএস রোগে ভুগছিলেন। আব্বাসের বোন সাঈদা আক্তার বলেন, জরুরি বিভাগ থেকে ভাইকে নতুন ভবনের ছয় তলার ৬০১ ওয়ার্ডে রেফার করেন ডাক্তার। পরে ওই ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা দুদিনের মাথায় রোগীকে আইসিইউতে রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু আইসিইউতে সিরিয়াল দিয়েও সিট পাওয়া যাননি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমরা গরিব, তাই কেউ তদবির করেনি। ফলে আইসিইউতে সিট আমাদের ভাগ্যে জোটেনি। এরপর ১০-১২ দিনের মধ্যে ওই রোগী মারা যান বলে জানান তিনি। শুধু এগুলোই শেষ নয়।

‘প্রেমটা করবো কখন!’

দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী হোমায়রা হিমু। টিভি নাটকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পথচলা তার। পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে হিমুর। বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আজকের ‘আলাপন’-এ কথা বলেছেন তিনি। তার সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন মারুফ কিবরিয়া
কেমন আছেন? কেমন যাচ্ছে সব?
আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।  শুটিংয়ের কাজ নিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে। তাছাড়া সবমিলিয়ে ভালোই কাটছে সময়।
এখন কি কি নাটকের কাজ চলছে?
চারটি ধারাবাহিক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে এশিয়ান টিভির ‘ছন্নছাড়া’, চ্যানেল আইয়ের ‘প্রাণ কোকিলা’, বিটিভির ‘বাদশা স্যারের বিবাহ’ ও ‘এটিএন বাংলার ‘ডিবি’।
রেসপন্স পাচ্ছেন কেমন?
বছর দুয়েক আগেও একসঙ্গে ডজনখানেক নাটকের কাজ ছিল । এখন সে তুলনায় কম ব্যস্ততা। আমি নিজেই কাজ কমিয়ে করছি । কারণ ভালো গল্পের দিকে নজর দিই। কাজ করলেই তো হয় না। দর্শকেরও ভালো লাগার ব্যাপার থাকে। এখন যে কাজগুলো চলছে প্রতিটিরই গল্প ভালো। দর্শক রেসপন্সটাও আশানুরূপ পাচ্ছি।
খ- নাটকের কাজ কমিয়ে করছেন কেন?
সাধারণত খ- নাটক তো বিশেষ দিনেই বেশি প্রচার হচ্ছে। বিশেষত ঈদ আসলে খ- নাটকের কাজ বাড়ে। এখন করছি না যে তা নয়। টুকটাক তো চলছেই।
ছোটবেলায় মঞ্চের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। মঞ্চে কি কাজ করতে ইচ্ছা হয় না এখন?
একটা সময়ে এসে টিভি মাধ্যমে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও  মঞ্চে যাওয়া হয় না। মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছা করে সে মাধ্যমটিতে কাজ করতে। কিন্তু বাস্তবতা খুব কঠিন। চাইলেও সব করা যায় না।
চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। নতুন কোনো ছবিতে কাজ করছেন?
আপাতত না। টিভি নাটকের শুটিংয়েই ব্যস্ত থাকি। যে কারণে সময়ও হয় না। আর কারও সঙ্গে সেভাবে কথাবার্তাও হয় না। তাই আপাতত এ মাধ্যমটিতে কাজ নেই।
এখনকার নাটক নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?
আসলে জানি না আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করার মতো উপযুক্ত কতটুকু। তবুও বলছি, আমাদের এ শিল্পের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। ভালো গল্প নেই। টিভি নাটকে একসময় যেমন দারুণ সব গল্প দেখতেন সবাই এখন সেটা নেই বললেই চলে। যে কারণে নাটকের মান দিনদিন কমে যাচ্ছে। আমাদের দেশে অন্য সব পণ্য চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে মান ও দাম দুটোই বাড়ে। কিন্তু নাটকের ক্ষেত্রে সেটা একদমই আলাদা।

শুটিংয়ের বাইরের সময়টা কেমন কাটে?
আমি শুটিং শেষ তো বাসায় চলে আসি। বাইরের কোনো কাজ রাখি না। খুব দরকার ছাড়া। বাসার মানুষদের সময় দিই। ঘরে এসে নিজের কাজগুলো সামলে নিই।

বিয়ে নিয়ে কি ভাবছেন?
আনুষ্ঠানিকভাবে না হলেও মনে মনে ভালো একজন পাত্র খুঁজছি। আসলে বিয়েটা তো খেলার জিনিস নয়। আজ বললাম আর করে ফেললাম। মনের মতো একজনকে পেতে হবে। যার সঙ্গে সারাটা জীবন কাটাবো তাকে তো অবশ্যই ভালো হতে হবে।
প্রেম করেও তো বিয়ে করতে পারেন...
প্রেম করার জন্য সময় দেয়া লাগবে। আমার তো সেই সময় নেই। শুটিংয়ের কাজ আর বাসার কাজ। এই নিয়েই তো পুরোটা সময় চলে যায়। তাহলে প্রেমটা করবো কখন! আর সে বিষয়ে তেমন কোনো আগ্রহও নেই।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
খুব বেশি পরিকল্পনা করে পথ চলি না। নাটকের সঙ্গে থাকবো। ভালো কোন গল্প ও চরিত্র পেলে চলচ্চিত্রেও কাজ করবো। আর আমার কাজ দিয়ে মিডিয়াতে আরও ভালো একটি অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই।

সবমিলিয়ে ব্যক্তিজীবন কেমন কাটছে?
অনেক ভালো। বলতে পারেন আমি বিন্দাস আছি। সবার দোয়ায় এই ভালো থাকাটাকে সঙ্গী করে নিতে চাই।

আর একটু হলেই ট্রেনে কাটা পড়তেন শচীন!

আর একটু হলেই ট্রেনে কাটা পড়ছিলেন সচিন রমেশ তেন্ডুলকর? অন্যমনস্ক ভাবে রেললাইন পার হওয়ার সময়ে ট্রেন আসছে দেখতে পাননি তিনি। শেষ মুহূর্তে লাফিয়ে ট্র্যাক থেকে নেমে পড়ে প্রাঁণ বাঁচিয়েছিলেন লিটল মাস্টার!।
তবে ঘটনাটি বেশ কয়েক বছর আগের। বৃহস্পতিবার সচিন তেন্ডুলকর গিয়েছিলেন রেলের এসএএমইইপি (সেফটি অ্যালার্ট মেসেজ এক্সক্লুসিভলি ফর প্যাসেঞ্জার) –এর উদ্বোধনে। সেখানে গিয়েই ডুব দিলেন ছোটবেলার স্মৃতিতে। জানালেন, রেল লাইন পার হতে গিয়ে প্রায় চলে যাচ্ছিলেন ট্রেনের নীচে। তিনি আর তাঁর বন্ধু যাচ্ছিলেন অন্য আর এক বন্ধুর বাড়িতে। বলেন, ‘’১১ বছর বয়স থেকে আমি ট্রেনে যাতায়াত করি। কিট ব্যাগ নিয়ে তখন ট্রেনে যেতে হত। এরকমও অবস্থা হয়েছিল যে ধাক্কা লেগে ট্রেনের বাইরে চলে যাচ্ছিলাম। যেটা আমি ভুলিনি।’’ এর থেকেও ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল। বলেন, ‘‘একবার লাইন ক্রস করছিলাম। যখন আমরা লাইনের মাঝখানে তখন বুঝতে পারি দ্রুতগতিতে ওই লাইনে ছুটে আসছে ট্রেন। পিঠে বড় বড় কিটব্যাগ। কোনও মতে ট্র্যাক থেকে লাফিয়ে সেবার বেঁচেছিলাম। তার পর থেকে আর কখনও ওই রকম ঝুঁকি নিইনি।’’ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে বা ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে কত মানুষ নিজেদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন। সেই হিসেব শুনে স্তম্ভিত সচিন। নিজের গল্প শুনিয়ে সবাইকে সাবধান থাকার পরামর্শই দিলেন মাস্টার ব্লাস্টার।

হবিগঞ্জে ট্রাকচাপায় নিহত ৩

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে মহাসড়কে ট্রাকচাপায় তিনজন নিহত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আউশকান্দি এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজন হলেন - হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মহরম আলী (৪৫) ও  মানিক মিয়া (৪০)। আরেকজনের পরিচয় জানা যায়নি। নিহতরা সবাই নির্মাণ শ্রমিক। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শ্রমিকরা রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ঢাকা থেকে সিলেটগামী একটি মালবোঝাই ট্রাক তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করলেও চালক পালিয়ে যায়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করলে ঘণ্টাখানেক যান চলাচল বন্ধ থাকে। পুলিশ গিয়ে তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

বনানী কবরস্থানে সমাহিত আরএ গণি

তিনদফা জানাজা শেষে বিকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আরএ গণি। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন আরএ গণি (ইন্নালিল্লাহি... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ সকাল ৯টায় তার মরদেহ স্কয়ার হাসপাতাল থেকে ধানমন্ডির বাসভবনে নেয়া হয়। এসময় স্বজনদের আহাজারিতে শোকাহত পরিবেশ তৈরি হয়। সেখানে ছুটে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ দলের সিনিয়র নেতাকর্মী। পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান তারা। এরপর বাদ জুমা  ধানমন্ডির ঈদগাহ মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা আড়াইটায় তার মরদেহ নেয়া হয় নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখানে দ্বিতীয় দফা জানান অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম খানসহ দলের বিভিন্ন সারির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এরপর বিএনপির পক্ষ থেকে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বিকাল ৩টায় তার মরদেহ নেয়া হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। সেখানে তৃতীয় দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, সাবেক চিফ হুইফ জয়নুল আবদিন ফারুক, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদসহ দলের নেতাকর্মীরা। এরপর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় সমাহিত করায় আরএ গণিকে। উল্লেখ্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই প্রবীণ সদস্য জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কাজের সন্ধানে এসে পশ্চিমবঙ্গে ধৃত ১০ বাংলাদেশি

কাজের সন্ধানে সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন ১০ বাংলাদেশি। এদের পশ্চিমবঙ্গের দুই জায়গা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। দক্ষিন ২৪ পরগণার ক্যানিং থানার তালদির একটি বাড়িতে ছিলেন ৬ বাংলাদেশি। বুধবার গভীর রাতে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা জানিয়েছেন, তারা সকলেই কুষ্টিয়ার বাসিন্দা। দালালদের মাধ্যমে কজের সন্ধানেই তারা এপারে এসেছিল। পুলিশ অবশ্য এরা কোন নাশকতা কাজের সঙ্গে যুক্ত কিনা সে সম্পর্কে খোঁজ খবর চালাচ্ছে। যে বাড়িতে ৬ বাংলাদেশি ছিল সেই বাড়ির মালিককেও পুলিশ আটক করেছে। ধৃত বাংলাদেশিদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিযেছেন। এদিকে, কলকাতার নিউটাউন  থেকে বিধাননগর কমিশানেরেটের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ৩ বাংলাদেশিকে। পুলিশের কাছে তারা জানিয়েছে, মাসখানেক আগে তারা ক্যানিং সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে কলকাতায় আসে। তারা সকলেই সাতক্ষীরার বাসিন্দা। তারাও কাজের খোঁজে এপারে এসেছিল বলে পুলিশি জেরায় জানিয়েছে।

এবার পুলিশের পিটুনির শিকার সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাকে নির্যাতনের পর এবার পুলিশের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা-কর্মীদের পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র দাশ (৪০) আজ ভোরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে পুলিশের বেধড়ক পিটুনির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। সকালে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বিকাশ চন্দ্র জানান, দয়াগঞ্জে নিজের বাড়ি থেকে সায়েদাবাদ এলাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে মীর হাজিরবাগ এলাকায় সাদা পোশাকধারী চারজন পুলিশ তাকে থামার সংকেত দেন। তিনি ছিনতাইকারী ভেবে মোটরসাইকেল ফেলে দৌড় দেন। পরে পুলিশ তাকে ধরে ফেলে। তিনি পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ তাকে বেধড়ক মারধর করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি অবনীশঙ্কর কর বলেন, পুলিশ সদস্যরা অন্যায়ভাবে যদি কাউকে মেরে থাকে বা দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন।  যা গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ওই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাসুদ শিকদারকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইজিপিকে চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

‘আইএসকে অপপ্রচার চালাতে দেওয়ায়’ টুইটারের বিরুদ্ধে মামলা

জর্দানের আম্মানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত এক আমেরিকানের স্ত্রী জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ওই নারীর দাবি, টুইটারের ফলেই আইএস তাদের অপপ্রচার এত সহজে চালাতে পারছে। এ খবর দিয়েছে এবিসি নিউজ। তামারা ফিল্ডসের স্বামী লয়েড ফিল্ডস জর্দানের আম্মানে সেখানকার পুলিশের প্রশিক্ষণে সাহায্য করতেন। ৯ই নভেম্বর জর্দানি পুলিশের এক ক্যাপ্টেন তাকে গুলি করে হত্যা করে। ওই ঘটনার দায় স্বীকার করে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস।
তামারা ফিল্ডসের মামলায় দাবি করা হয়েছে, টুইটার কর্তৃপক্ষের জ্ঞাতসারে আইএস এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিকে ব্যবহার করে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, অর্থ ও সদস্য সংগ্রহ করছে। টুইটারের মাধ্যমে চরমপন্থী ভাবাদর্শের বিস্তার ঘটাচ্ছে আইএস। বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ায় ওই মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় বলা হয়েছে, টুইটার ব্যতীত গত কয়েক বছরের মধ্যে আইএস বিশ্বের সবচেয়ে আতঙ্কজনক সন্ত্রাসী গোষ্ঠিতে পরিণত হতে পারতো না।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, আইএস’র উত্থাণের জন্য এটি ছিল খুবই সহায়ক। এর ফলে আইএস বহু সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পেরেছে। দাবি করা হয়েছে, লয়েড যখন নিহত হয়, তখন টুইটারে আইএস’র প্রায় ৭০ হাজার অ্যাকাউন্ট ছিল। প্রতি মিনিটে সংগঠনটির সদস্য ও সমর্থকরা প্রায় ৯০টি টুইট বার্তা পোস্ট করতে সক্ষম ছিল। এফবিআইকে উদ্ধৃত করে অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ছোট আকারে একক হামলায় উদ্বুদ্ধ করতে আইএস টুইটারের ব্যবহার অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
এ অভিযোগ মোতাবেক, আইএস’র প্রধান ও আনুষ্ঠানিক অপপ্রচারকারী সংগঠন আল হায়াত মিডিয়া সেন্টারের কমপক্ষে ছয়টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখান থেকে পশ্চিমাদের আকৃষ্ট করা হয়। আইএস’র জঙ্গি ভাবাদর্শের বিস্তার ঘটাতে ব্যবহৃত বহু ছবি ও কার্টুন অভিযোগের নথিপত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
২০১৪ সালের ২০ই জুলাই, টুইটারের প্রতিষ্ঠাতা বিজ স্টোনকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যদি আপনি সারাবিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রকাশ ঘটানোর কোন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চান, তবে আপনাকে ভালোর সঙ্গে সঙ্গে খারাপকেও মেনে নিতে হবে। স্টোনের এ উক্তিটিও অভিযোগপত্রের সঙ্গে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

বড় সংগ্রহের পথে জিম্বাবুয়ে

বল হাতে ইনিংসের অর্ধেকটা হতাশায় কাটলো টাইগারদের। ১২ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ১০১/১ । ব্যক্তিগত ৪৬ রানে সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার ভুসিমুজি সিবান্দা। ক্রিজের অন্যপ্রান্তে তখন ব্যক্তিগত ৪৯ রানে অপরাজিত জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ তারকা হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। এতে হ্যামিল্টন হাঁকান ৭টি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা। চার ম্যাচ সিরিজের  প্রথম টি-টোয়েন্টি টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক এল্টন চিগুম্বুরা। ৩ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ছিল ১৯/০। বাংলাদেশ দলে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হলো নুরুল হাসান সোহানের। খুলনার শেখ আবু নাসের মাঠে বাংলাদেশ একাদশে জায়গা নিয়েছেন তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মুশফিুকর রহীম, সাকিব আল হাসান, নুরুল হাসান সোহান, শুভাগত হোম চৌধুরী, মাশরাফি বিন মুর্তজা, আল আমিন হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।

‘পুলিশের নির্যাতনেই হাফেজ মাসুদের মৃত্যু হয়েছে’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের নির্যাতনে হাফেজ মাসুদুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোবারক উল্লাহ। আজ সকালে সম্মেলনে মাওলানা মোবারক দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে তার ছাত্রদের ওপর হামলা হয়েছে। আর পুলিশ নির্যাতন করে হাফেজ মাসুদুর রহমানকে হত্যা করেছে।
মোবারক উল্লাহ বলেন, গত সোমবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হকের নির্দেশে জেলার নাসিরনগরের ধনপুরা এলাকার একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই দিন দুপুরে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ শহরে মিছিল-সমাবেশ করে। মিছিল-সমাবেশ করাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় পরিকল্পিতভাবে জেলা পরিষদ মার্কেট এলাকায় মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর হামলা চালানো হয়।
মোবারক উল্লাহ আরো বলেন, গণমাধ্যমে প্রচারিত মোবাইল কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা সত্য নয়। গত সোমবার রাত ১১টার পর মাদ্রাসায় ঢুকে পুলিশ নির্যাতন করে। সেই নির্যাতনের কারণেই মঙ্গলবার ভোরে হাফেজ মাসুদুর নিহত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোবারক উল্লাহ ছাত্র নিহতের পর মঙ্গলবার শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাংচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তবে মাদ্রাসার কোনো ছাত্র-শিক্ষক ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় পৃথক ১০টি ও আখাউড়ায় রেলওয়ে থানায় একটিসহ ১১টি মামলা করা হয়েছে। একটি মামলায় জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত প্রায় আট হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে।