Tuesday, December 15, 2015

বেসরকারি খাত ছাড়া অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে না

বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. কৌশিক বসু বলেছেন, দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আর্থিক খাতের সঙ্গে  যত বেশি দরিদ্র মানুষকে সংযোগ করা যাবে বেসরকারি খাতও তত বেশি শক্তিশালী হবে বলেও জানান এ অর্থনীতিবিদ। গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক বিষয় সংক্রান্ত বিভাগ ইউএনডিইএসএ যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সামস্টিক অর্থনীতি, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এবং অর্থনীতিক প্রবৃদ্ধি’ নিয়ে আন্তর্জাতিক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
কোশিক বসু বলেন, গত ৫ বছর ধরে ৬ শতাংশের ওপর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এই প্রবৃদ্ধিতে ধনী-গরিব সবারই অবদান আছে। কৌশিক বসু বলেন, দেড় দশকে বাংলাদেশ দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পেরেছে। তিনি বলেন, একটি দেশের সরকার দরিদ্র মানুষের কাছে যদি খাবার পৌঁছাতে যায় তবে সেখানে অনেক গ্যাপ থেকে যায়; অনেক খাবারের অপচয় হয়। সেখানে খাবার না দিয়ে যদি গরিব ও প্রান্তিক মানুষগুলোর কাছে টাকা পৌঁছানো যায় অর্থাৎ মানুষগুলোকে আর্থিক খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায় তবে অনেক লাভ হয়। কারণ তাদের হাতে যখন টাকা থাকবে তখন তাদের নিজস্ব পছন্দ প্রাধান্য পাবে। তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তারা পছন্দমতো জায়গায় তা ব্যয় করতে পারবে। আর তাদের চাহিদা মেটাতে অনেক নতুন নতুন বেসরকারি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ঠিক এ সময়টাতেই সেদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশে গরিব ও প্রান্তিক মানুষগুলোকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে সম্পৃক্ত করতে বেশ কিছু কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গরিব মানুষকে আর্থিক খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে; যা উল্লেখ করার মতো। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও মোবাইল ব্যাংকিং। এগুলোর কারণে মানুষের টাকার ব্যবহার বেড়েছে ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ড. কৌশিক বসু বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসা বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় অর্জন। বাংলাদেশই শিখিয়েছে দরিদ্রতা, প্রতিবন্ধকতার পরও দেশের অর্থনীতির স্বার্থে ঝুঁকি নিয়ে কিভাবে কার্যক্রম শুরু করতে হয়। এসব বিষয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনুসরণীয় উল্লেখ করে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি শিক্ষণীয় কিভাবে তারা দারিদ্র্য দূর করছে এবং মানুষকে আর্থিক খাতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি পুরোপুরি প্রস্তুত ‘টেক অফ’ করার জন্য। খুব কম দেশই রয়েছে যাদের অর্থনীতি এভাবে উঠতে পারে।
কৌশিক বসু বলেন, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সুসমন্বয় ছাড়া এটির বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, তবে সমন্বিত উন্নয়নের অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ এমনকি অতিক্রমও করেছে। ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও বড় মাপের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পথে পা বাড়াতে বাংলাদেশ প্রস্তুত উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের প্রধান এ অর্থনীতিবিদ তা বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সুসমন্বয়ের পরামর্শ দেন। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ মনে করেন, গরিব মানুষের কথা চিন্তা করে বিশ্বব্যাংক উন্নয়নের সমবণ্টনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও জরুরি। অর্থনীতির উদীয়মান তারকা, বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সম্পর্কও নতুন মাত্রা পাবে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে আর্থিক বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ এবং নীতি নির্ধারকদের বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বিগত ১০ বছর ধরেই ৬ এর ঘরে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি এবার ৭ শতাংশে গিয়ে পৌঁছবে। আতিউর রহমান বলেন, কেবল প্রবৃদ্ধি বাড়া নয়, বিশ্বমন্দার নেতিবাচক প্রভাব থেকেও মুক্ত থেকেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতাকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন অতিমাত্রায় জরুরি বলেও জানান তিনি। ড. আতিউর রহমান বলেন, বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ একটি চমকপ্রদ জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশিরা এখানে সস্তা শ্রমে উৎপাদনমুখী খাত, অবকাঠামোগত খাত, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনডিইএসএ গ্লোবাল ইকোনমিক মনিটরিং ইউনিটের প্রধান ড. হামিদ রশিদ সামস্টিক অর্থনৈতির নীতির প্রসঙ্গে বলেন, সামস্টিক অর্থনীতির স্থায়িত্ব মানেই শুধু দ্রব্যের দামের স্থায়িত্ব নয়। বরং আর্থিক খাত এবং উৎপাদনশীল খাত দুটোর মধ্যেই একটি সমন্বয় থাকতে হবে। তবেই সামস্টিক অর্থনৈতির নীতিকে একটি কার্যত নীতি বলা যাবে। অনুষ্ঠানে কো-চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরুপাক্ষ পাল।

বিশ্বরেকর্ড গড়লেন ১০ হাজার সৌদি নারী

বিশ্বরেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়লেন সৌদি আরবের প্রায় ১০ হাজার নারী। স্তন ক্যানসারের বিরুদ্ধে তারা সচেতনতামূলক চিহ্ন ‘হিউম্যান রিবন’ তৈরি করেছেন লাইনে দাঁড়িয়ে। শনিবার আয়োজিত এ উদ্যোগের নাম দেয়া হয় ‘১০ কেএসএ’। এর মাধ্যমে ওই নারীরা আগের রেকর্ড ভেঙে জায়গা করে নিলেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সৌদি গেজেট। এতে বলা হয়, এ উদ্যোগে অংশ নেয়া নারীরা মাথায় গোলাপি রঙের স্কার্ফ পরেন। তারপর পিন্সেস নূরাহ বিনতে আবদুর রহমান ইউনিভার্সিটিতে একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে হাতে হাত ধরে দাঁড়ালেন পাশাপাশি, যাতে গোলাপি রঙের স্তন ক্যানসারের চিহ্নের সৃষ্টি হয়। আলফ খায়ের নামের সামাজিক উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সেস রিমা বিনতে বন্দর বিন সুলতান আল সাউদ বলেছেন, ওইদিন এ উদ্যোগে অংশ নিয়ে ১০ হাজার নারী ঘোষণা করেছেন, আমাদের মা, মেয়ে ও বোনদের ভবিষ্যতের জন্য সুস্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভবিষ্যতের কণ্ঠ। আমরা যদি আমাদের যত্ন নিই তাহলেই আসবে আলোকিত ভবিষ্যৎ। যদি তা না করি তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ হবে অন্ধকারময়। এ উদ্যোগে যেসব নারী অংশ নিয়েছেন তারা এমনটাই বিশ্বাস করেন। উল্লেখ্য, শনিবার ছিল ১২ই ডিসেম্বর। এদিনটিতে সৌদি আরবে নারীরা আরও একটি ইতিহাস গড়েছেন। এদিনে তারা প্রথমবারের মতো তাদের দেশে নির্বাচনে ভোট দেয়া ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেয়েছেন। প্রিন্সেস রিমা আল সাউদ বলেন, একজন সৌদি নারী হওয়া অত্যন্ত গর্বের। কারণ, একই দিনে আমরা ভোট দেয়ার অধিকার প্রয়োগ করেছি। একসঙ্গে আমাদের সবার জন্য ইতিবাচক এমন একটি উদ্যোগে অংশ নিতে পেরেছি। আলবিদা ব্রেস্টফির্ডি রিসোর্স অ্যান্ড ওমেনস এওয়ারনেস স্টোরের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নারী স্বাস্থ্যের সচেতনতা সৃষ্টির সহ-আয়োজক ডাক্তার মোদিয়া বাট্টারজি বলেন, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা নারীদের কাছে যে বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন তা হলো তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, আমরা নারীদের বোঝাতে চাই, নারীদের উচিত স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া, সুস্থ জীবনযাপন করা, আগেভাগেই স্তন শনাক্ত করা, ভালো খাবার খাওয়া, ব্যায়াম করা, ভালো ঘুম যাতে হয়, বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়, নিজেদের যত্ন নেয়ার বিষয়ে। ১০ কেএসএর দূত হালা আসিল বলেন, এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে অনেক মানুষের উপকার হয়েছে। গিনেস বুক অব রেকর্ডসে ঠাঁই পেতে যাচ্ছেন ১০ হাজার নারী। এর মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের এডজুকেটর সৈয়দা সুবাসি-জেমিসি বলেন, তিনি রিয়াদে এসেছিলেন নারীদের এই দীর্ঘ মানব রিবন প্রত্যক্ষ করতে। এ আয়োজন সম্পন্ন করেছেন সৌদি আরবের নারীরা। এ রেকর্ডে ঠাঁই পাওয়ার জন্য সব অংশগ্রহণকারীকে মাথায় গোলাপি রঙের কাপড় পরা বাধ্যতামূলক ছিল।

মুখ খুললেন ইমরান খান

রেহামের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন ইমরান খান। পাকিস্তানের সাবেক এই ক্রিকেট তারকার বিরুদ্ধে রেহাম নানা অভিযোগ করেছিলেন। সেসব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইমরান। এ খবর দিয়েছে জি নিউজ। রেহামের অভিযোগ ছিল, ইমরান ও তার পরিবার তাকে রান্না করতে বাধ্য করতো। এমনকি তারা চাইতো রেহাম সব সময় বাড়িতে থাকুক, ঘরসংসার দেখাশোনা করুক। বিচ্ছেদের পর এসব দাবি করেছিলেন রেহাম। সম্প্রতি এক টিভি অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব রটেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এর কোনো ভিত্তি নেই। তাকে কালিমালিপ্ত করার জন্যই এমন অভিযোগ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫-এর জানুয়ারিতে ইমরানকে বিয়ে করেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক রেহাম খান। দশ মাস কাটতে না কাটতেই ৩০শে অক্টোবর রেহামের সঙ্গে ছাড়াছাড়ির ঘোষণা দেন ইমরান। রেহামের বিরুদ্ধে এও অভিযোগ ওঠে, তিনি ইমরানের রাজনৈতিক ব্যাপারে নাক গলাতে শুরু করেছিলেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে বিবাহবিচ্ছেদের প্রসঙ্গ উঠলে ইমরান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন রেহাম।

বিএনপির প্রার্থী নেই ১০ পৌরসভায়

আসন্ন পৌর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নেই ১০টি পৌরসভায়। মনোনয়নপত্র বাতিল, প্রত্যাহার, মনোনয়নপত্র জমা না পড়া এবং বিকল্প বা বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় এসব পৌরসভায় নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকতে পারছে না দলটি। আগামী ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ২৩৩টি পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন ২২১টি পৌরসভায়। দুটি পৌরসভায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দল এলডিপি দলীয় প্রতীক ছাতা ও জাতীয় পার্টি (জাফর) ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অন্তত ২৫টি পৌরসভায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী এবং ৩টি পৌরসভায় খেলাফত মজলিস সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেবেন। সেই সঙ্গে অন্তত ২০টি পৌরসভায় বিদ্রোহী  এবং অন্য দলের প্রার্থীদের মোকাবিলা করতে হবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের। তবে নির্বাচন কমিশনের দেয়া গতকাল সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী মেয়র পদে নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত ২১৯ জন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের দেয়া হিসাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন  
প্রত্যয়নকারী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ২২১। নির্বাচন কমিশনের তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জের বেলকুচির প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি এবং ঝিনাইদহের মহেশপুরের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে বলে দাবি করেছেন। গত ১৩ই নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন। সেদিন বিভিন্ন পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী ও বিকল্প প্রার্থী হিসেবে অংশ নেয়া ৩৩ জন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জোটের শরিক দল জামায়াত সমর্থিত ১২ স্বতন্ত্র প্রার্থীও। শেষ পর্যন্ত যেসব পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী নেই সেগুলো হচ্ছে- বগুড়ার সারিয়াকান্দি (বাতিল), পিরোজপুর সদর (বাতিল), কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম (বাতিল), ফেনী সদর ও পরশুরাম (বাতিল), মাদারীপুরের শিবচর (বাতিল), নোয়াখালীর চাটখিল ও জামালপুরের মাদারগঞ্জ (প্রত্যাহার) এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও মাদারীপুরের কালকিনি (মনোনয়নপত্র জমা না দেয়া)। দুটি পৌরসভায় শেষদিন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যয়নকারী মোহাম্মদ শাহজাহান ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। তারা অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারদলীয় প্রার্থী জোর করে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করিয়েছেন। রোববার রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ বলেন, এ সরকার গণতন্ত্রের ভাগ্য নিয়ে তাস খেলছে। পৌর নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা হচ্ছে। নাটোর, চৌমুহনী, ঝিনাইদহ, বোয়ালমারী, নোয়াখালীসহ সারা দেশে বিএনপি প্রার্থীদের ওপর হামলা-নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামালকে অপহরণ করে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো হয়েছে। গতকাল সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে চাটখিল পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের পত্রে স্বাক্ষর নিয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এদিকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় থাকলেও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রেখেছে বিএনপি। তারই অংশ হিসেবে একাধিক পৌরসভায় প্রচারণা বন্ধ রেখেছেন দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। ওদিকে আজ দলের পৌর নির্বাচন সমন্বয়ে গঠিত কমিটিগুলোর বৈঠক ডেকেছে বিএনপি। সকাল ১১টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বৈঠকে বিএনপির নির্বাচন সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সদস্য সচিব দলের যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহানসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর নির্বাচন পর্যবেক্ষণে গঠিত মনিটরিং সেলের কর্মসমন্বয় ও নির্বাচনী প্রচারণার কৌশলসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হবে। এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে নির্বিচারে হামলা-মামলা, গ্রেপ্তারের মধ্যেও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে কর্মব্যস্ত সময় পার করছে বিএনপি। দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে এককভাবে বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সব মিলিয়ে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এনে দিয়েছে পৌরসভা নির্বাচন। গত কয়েক বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিপর্যস্ত বিএনপির নেতারা দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনকে নতুনভাবে বিশ্লেষণ করছেন। ক্ষতি হবে জেনেও তারা মনে করছেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে কমপক্ষে শতকরা ৮০ ভাগ ভোট তারা পাবেন। দলটির শীর্ষ নেতাদের মতে, তাদের মেয়র প্রার্থীদের ভাগ্যে জয়-পরাজয় কী লেখা আছে সেটা পরের বিষয়, সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো ধানের শীষের প্রচার এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্য মজবুত রাখা। সেই সঙ্গে অবিলম্বে দেশে সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি ও নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির ‘প্লাটফরম’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে পৌরসভা নির্বাচনকে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এ নির্বাচনে দল চাঙ্গা হবে। মনোবল ফিরে পাবে। মাঠপর্যায়ের নেতারা আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ পাবেন। এ নির্বাচনও আন্দোলনের অংশ।

বিপিএলের জমজমাট ফাইনাল আজ

আজ বিআরবি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল টি-২০) ফাইনালে মুখোমুখি হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও বরিশাল বুল। দেশের দুই জেলার দূরত্ব প্রায় ১৬৪ কিলোমিটার। বরিশাল দক্ষিণে আর কুমিল্লা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। কিন্তু আজ ক্রিকেট দেশের দুই জেলাকে করবে একত্রিত। উল্লাসে মাতবে দুই জেলার মানুষ। জয়-পরাজয় যে দলের হোক, শেষ পর্যন্ত যে দেশের ক্রিকেটের জয়ই হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মিরপুর শেরে বাংলা মাঠে ব্যাটে-বলে ‘কামাল কামাল’ সুর নিয়ে নামবে বরিশাল বুলস, অন্যদিকে ‘মাররে-ছক্কা মাররে চার কে আছে সামনে সাহস আছে কার’ এই সুরে মাতোয়ারে হয়ে লড়বে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। বিপিএলের প্রথম আসরে বরিশাল বার্নাস ফাইনাল খেলেছিল। কিন্তু জয়ের দেখা মেলেনি। কিন্তু এবার তৃতীয় আসরে বরিশাল নতুন নামে ও নতুন রূপেই ফাইনাল খেলছে। প্রতিপক্ষ বিপিএলে নতুন দল কুমিল্লা। মাশরাফি বিন মুর্তজার কুমিল্লা ফাইনালে এসেছে চমকের পর চমক দেখিয়ে। সবার আগে সেমি ও সাবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করা দলটিকে যতই সাদামাটা বলা হোক না কেন, টিম কুমিল্লার মাঠের সুরটাই যে অন্যরকম তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে বড় বড় তারকাদের নিয়ে বরিশাল যাত্রার শুরু করলেও  শেষ পর্যন্ত দেশের ক্রিকেটারই বরিশালের হাল ধরেছে। তাই লড়াইটা যে সমানে সমান হবে এটাই প্রত্যাশা। যে দল চ্যাম্পিয়ন হবে আজ তারা পাবে আড়াই কোটি টাকা। আর রানার্সআপ দল পাবে ৭৫ লাখ টাকা।
বিপিএলের ২০১২ ও ২০১৩ সালের ফাইনাল ছিল একপেশে। ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের কাছে বরিশাল বার্নার্স ৪৩ রানে হেরেছিল প্রথম আসরে। এরপর দ্বিতীয় আসরে চিটাগং কিংসরা হারে একই দলের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে। কিন্তু এবার ঢাকা নতুনরূপে ও নতুন নামে এসেও বিপিএল থেকে বিদায় নিয়েছে বরিশালের কাছে হেরে। কিন্তু ঢাকা না থাকলেও  দুইবার চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বরিশালের প্রতিপক্ষ হিসেবেই থাকছেন। মাশরাফির নেতৃত্বে কুমিল্লা একেবারেই সাদামাটা একটি দল নিয়ে বিপিএলের চলতি আসর শুরু করেছিল। প্রথম ম্যাচেই হার দিয়ে শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জয় পায়। এরপর একে একে ৭টি জয় নিয়ে সবার আগে নিশ্চিত করে শেষ চারের শীর্ষস্থান। প্রথম কোয়ালিফায়ারে সমান সংখ্যক জয় ও পয়েন্ট পাওয়া সাকিব আল হাসানের দলকে উড়িয়ে দিয়ে সবার আগে নিশ্চিত করে ফাইনালও। দলকে একের পর জয় এনে দেয়ার অধিনায়ক মাশরাফিকেই বলা হচ্ছে সাফল্যের রূপকার। কিন্তু অধিনায়ক বিশ্বাস করেন, টিম কুমিল্লার কারিশমাতেই দলের এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা। তিনি বলেন, ‘দল হিসেবে আমরা খুব ভালো খেলেছি। এটা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি আইপিএলের দিকে তাকান, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর অন্যতম সেরা দল। প্রত্যেক বছরই কিন্তু ক্রিস গেইল থাকে, বিরাট কোহলি, এবিডি ভিলিয়ার্স থাকে। তো এটা আসলে ক্রিকেটারদের ব্যাপার না, পুরো দলের ব্যাপার। তারা কিভাবে মাঠে খেলছে, তাদের অ্যাপ্রোচ কি ক্রিকেট নিয়ে। আমি বলবো যে, সবাই খুব পেশাদারিত্বের সঙ্গে পারফর্ম করেছে। মাঠ ও মাঠের বাইরে পেশাদারিত্ব ছিল। শৃঙ্খলা ছিল। নিজস্ব পারফরম্যান্স যেন ঠিকভাবে করতে পারে সেদিকে সবার নজর ছিল। তো সবকিছু মিলিয়ে আমরা এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি।’
কুমিল্লার ওপেনিংয়ে এ বছর দেশের টেস্টের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ইমরুল কায়েস নিজেকে টি-টোয়েন্টিতেও প্রমাণ করেছেন। ১১ ম্যাচে তার সংগ্রহ ২৬৯ রান। হাঁকিয়েছেন একটি ফিফটটিও। তার সঙ্গে আছেন তরুণ উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান লিটন দাস। অবশ্য এখনও এই তরুণের ব্যাট বিপিএলে তেমন কোনো ঝলক দেখাতে না পারলেও অধিনায়কের বিশ্বাস, তার জ্বলে ওঠার জন্য একটা ম্যাচই যথেষ্ট। সেটি ফাইনালে তো আশা করাই যেতে পারে। এছাড়াও দলের বিদেশি শক্তির মধ্যে আসহার জাইদি ও আহমেদ শেহজাদও আছেন ফর্মে। অন্যদিকে তরুণ পেসার আবু হায়দার রনি ১১ ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়ে ফাইনালে শেষ চমক দেখাতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে ক্রিস গেইল চলে গেলেও বরিশালকে ফাইনাল নিশ্চিত করে জাতীয় দলের তরুণ তারকা সাব্বির রহমান রুম্মানের ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফীসের হাত ধরে। এছাড়াও রায়ন এম্রিট, কেভিন কুপারদের মতো বিদেশিরাও দলের জন্য অবদান রেখে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। দেশি ও বিদেশি শক্তি মিলিয়ে বুলসের অধিনায়ক প্রস্তুত তার প্রতিশোধের মিশনের জন্য। কারণ, শেষবার ফাইনালে চিটাগং কিংসের অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির ঢাকার কাছে হারতে হয়েছিল। আর অধিনায়ক মাশরাফিও অপেক্ষায় হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হতে।

গেইল ছাড়াই বাজিমাতের অপেক্ষায় বরিশাল

বিপিএলের ২ আসরে ৩ সেঞ্চুরির মালিক ছিলেন ক্রিস গেইল। এর মধ্যে দুটিই করেছেন বরিশাল বার্নাসের হয়ে। এবার বরিশালের মালিকা পরিবর্তন হলেও গেইলকে দলে ভিড়ানো হয়েছিল। কিন্তু নতুন নামের বরিশাল বুলসের ফাইনাল ভাগ্যে গেইল সঙ্গী হতে পারেনি। ৫ ম্যাচের চুক্তি শেষ হতেই চলে গেছেন তিনি। কিন্তিু গেইলকে ছাড়াই দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রংপুরকে হারিয়ে ফাইনালে আজ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের প্রতিপক্ষ বরিশাল বুলস। আর তাই গেইলকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ান হওয়ার স্বপ্ন খুব ভাল ভাবেই দেখছে তারা। গতকাল দলের সিনিয়র ক্রিকেটার ও কোয়ালিফায়ারে জয়ের নায়ক শাহরিয়ার নফীস তাদের সেই আত্মবিশ্বাসের কথাই তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ক্রিস গেইল এই ম্যাচে খেলছেন না। তবে তাতে কি আমরা তাকে ছাড়াও জিতেছি। ফাইনালে ভাল করবো সেই আত্মবিশ্বাস আমাদের আছে।’
অন্যদিকে দলের ধারাবাহিক সাফল্যও তাদের অনুপ্রেরণার মূল কারণ। টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের পর হারতে শুরু করেছিল বরিশাল বুলস। কিন্তু শেষ ভাগে এসে আবারও ঘুরে দাঁড়ায় দল।  সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেও আত্মবিশ্বাসি নাফীস বলেন, ‘আমরা লীগ পর্ব এবং কোয়ালিফায়ারে ভালো খেলে ফাইনালে এসেছি। সেই খেলাটাই আমরা ধরে রাখতে চাই। আমরা ফাইনাল ভেবে নয়, আমরা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে চাই। তাহলেই আশা করি ভালো কিছু হবে।’ অন্যদিকে মাশরাফি বিন মুর্তজার কুমিল্লাকে যথেষ্ট সমীহ করেই বরিশালকে মাঠের লাড়ায়ে নামতে হবে তা নাফীসের অজানা নয়। সেটি স্বীকার করে নিয়ে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া এই তারকা বলেন, ‘কুমিল্লা টুর্নামেন্টজুড়ে ভালো খেলেছে। সুতরাং খুব ভালো প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই খেলতে হবে। ওদেরকে আমরা যথেষ্ট সমীহ করছি। কালকের (আজ) ম্যাচটি দুই দলের জন্যই কঠিন হবে।’ অন্যদিকে কুমিল্লার অধিনায়ক মাশরাফির ছায়া যেন পড়েছে বরিশাল বুলসের অধিনায়কের উপরও। অধিনায়ককে অবশ্য মাঠে পেতে  বেশ আত্মবিশ্বাসি দল। এই বিষয়ে দলের কর্নধার রেজওয়ান বিন ফারুক  বলেন, ‘মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ কিছুটা ইনজুরড। তার ডাক্তারি পরীক্ষা চলছে। খুব গুরুতর কিছু নয়। আশা করছি সে আগামীকালের ম্যাচে খেলতে পারবে।’
অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির ও রিয়াদ দু’জনই দলকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। তাই দু’জনের অধিনায়কত্বকে এগিয়ে রাখলেন নাফীস। তিনি বলেন, ‘মাশরাফি ও রিয়াদ; দুজনেই ভালো অধিনায়ক। লীগ পর্বে তারা তারা প্রমাণ করেছে। তবে কালকের (আজ) ম্যাচ শুধু অধিনায়কদের মধ্যে নয়। কালকে হবে টিম-গেম। সবাইকে ভালো খেলতে হবে।’

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন বিএনপির অলিউর

মৌলভীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী অলিউর রহমানের প্রার্থিতা বৈধতা ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার হাইকোর্টে এক রিট পিটিশনের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালত মেয়র প্রার্থী অলিউর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল-সংক্রান্ত শুনানি শেষে তার মেয়র পদের প্রার্থিতা বৈধতা ঘোষণা করেছেন। ফলে আজ (গতকাল) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে অলিউর রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, বিএনপির প্রার্থী অলিউর রহমানের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সর্বশেষ আয়কর রিটার্নের রসিদের কপি না থাকায় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ও আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আপিল করলে গত শুক্রবার আপিলটি খারিজ হয়ে যায়। শেষমেশ হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন মেয়র প্রার্থী অলিউর রহমান। এদিকে অলিউর রহমানের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়াতে জেলাজুড়ে বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

বোরহানের পা জড়িয়ে ধরলেন কাজল

দীর্ঘদিন ধরেই তাদের সম্পর্ক ছিল সাপে-নেউলে। এরই ধারায় আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ বোরহান উদ্দিন আহমেদ। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বর্তমান মেয়র তাকজিল খলিফা কাজলের আচার-আচরণে বোরহানসহ অনেক নেতাই ছিলেন ক্ষুব্ধ। বোরহান প্রার্থী হলে দলের একটি বড় অংশ বোরহানকে সমর্থন দেয় নীরবে। বোরহান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে দলীয় প্রার্থীর অবস্থা নড়বড়ে হয়ে যাবে বলে বোরহানকে বসানোর যারপরনাই চেষ্টা শুরু হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার দুদিন যান আখাউড়ায় বোরহানের বসায়। কেন্দ্রীয় একাধিক নেতাও ফোন করেন বোরহানকে। রোববার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিনে বোরহান তার মনোনয়ন উঠিয়ে নেন। এর পরই জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সামনে কাজল বোরহানের পা জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চান। অতীতের ভুলত্রুটির জন্য মাফ চান তার কাছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় বোরহান কেঁদে ফেলেন। কাজলকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তুমি আমার অনেক ক্ষতি করেছো। এ রকম আর কইরো না। ক্ষমতার অপব্যবহার কইরো না। মানুষকে ইজ্জত করতে শিখো, সম্মান করতে শিখো। মানুষ তোমাকে সম্মান করবে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমানকে দেখিয়ে বলেন, এদের প্রতি আর অবিচার কইরো না।’ এর উত্তরে কাজল বলেন, জীবনে অনেক অন্যায় করেছি, ভুল করেছি, আমাকে মাফ করে দেন। জীবনে যতদিন রাজনীতি করবো আপনাদের সম্মান করবো। উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এক নেতা জানান, এর আগেও কাজল বোরহানের বাসায় গিয়ে ক্ষমা চান।
শেখ বোরহান উদ্দিন আহমেদ বলেন, কেন্দ্রীয় দুজন নেতা আমাকে ভীষণভাবে চেপে ধরেন। জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা দুদিন আমার বাসায় আসেন। তারা আমাকে বলেন, আপনি ৩ মেয়াদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে। এখন আপনি কি চান নৌকা পরাজয় হোক? আমি দলের সভানেত্রীর সম্মান, নৌকার সম্মানের কথা চিন্তা করে আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেই। এখন কাজল বিরাট ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবে। আমি নির্বাচন করলে অবশ্যই জয়ী হতাম। দুর্গাপুর, টানপাড়া, খরমপুর, মসজিদপাড়া, তারাগন, আমার ওয়ার্ড, আমার গ্রাম- সবাই আমার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন বলেন, বোরহান ভাই সাংগঠনিক লোক। দলের স্বার্থে তিনি কাজলকে ছাড় দিয়েছেন। তাদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ছিল। সেগুলো মিটে যাবে। আমাদের জেলা নেতারা দুদিন এসেছেন। কাজলও বোরহান ভাইয়ের বাসায় গেছেন।

বিজয় দিবসে হানিফ সংকেতের ‘মুক্তির কথা বিজয়ের গান’

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নন্দিত নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ফাগুন অডিও ভিশন এবারও নির্মাণ করেছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘মুক্তির কথা বিজয়ের গান’। ভিন্ন আঙ্গিকের এ অনুষ্ঠানটিতে সংগীত পরিবেশন করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ৪ জন শিল্পী। তারা হলেন- রফিকুল আলম, এ্যান্ড্রু কিশোর, ফাহমিদা নবী ও এস আই টুটুল। মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয় নিয়ে শিল্পীরা তাদের পছন্দের গান পরিবেশন করেছেন এ অনুষ্ঠানে। গান পরিবেশনের আগে বিজয় দিবস ও গান নিয়ে নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন শিল্পীরা। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে গানগুলোর চিত্রায়ণ করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন এমন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেমান আলী যিনি ১৯৭১ সালে সিলেটের হবিগঞ্জে সম্মুখযুদ্ধে লড়েছিলেন, তার উপর রয়েছে বিশেষ প্রতিবেদন। রয়েছে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ার রাঙ্গিছড়া চা বাগানের সুদর্শন রবি দাশের উপর একটি উদ্বুদ্ধকরণ প্রতিবেদন। যিনি দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঠিক সুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে একটি ব্যতিক্রমী কাজ করেছেন। মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৫০০টি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঠিক সুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনে উদ্বুদ্ধ করেছেন তিনি। অনুষ্ঠানটি নির্মাণে নির্দেশনা দিয়েছেন হানিফ সংকেত। এটি আগামীকাল রাত ৮টায় এটিএন বাংলায় প্রচার হবে।

নাফিসা কামালকে প্লেয়ার জোনে না আসতে অনুরোধ করেছিলেন মাশরাফি

শুধু জাতীয় দলের হয়েই নয়। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগেও। কেবল নিজেই নয়, বরং বাকি খেলোয়াড়দের দিয়েও ভালো খেলাতে পারার ক্ষেত্রে মাশরাফি যেনো এক অনন্য উদাহারণ। বিপিএলের তৃতীয় আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের দায়িত্ব নিয়েই তিনি দলকে পৌঁছে দিলেন ফাইনালে। এই সফলতার পেছনে রহস্য কি? হ্যাঁ! জানা গেলো অন্তত একটা রহস্য। আর তা উন্মোচন করেছেন দলটির মালিক নাফিসা কামাল নিজেই। ইংরেজী দৈনিক নিউ এজকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি জানিয়েছেন, বিপিএল শুরুর আগে তাকে একটা অনুরোধ করেছিলেন মাশরাফি। মাশরাফি বলেছিলেন, ম্যাচ চলাকালে ‘প্লেয়ার জোন’ এ না আসতে। মাশরাফির মতে, ম্যাচের সময় মালিকপক্ষের লোক প্লেয়ার জোনে সহজ অনুপ্রবেশ থাকলে সেটা  খেলোয়াড়দের উপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। নাফিসা কামাল বলেন, তিনি সেই কথা রেখেছেন। কোন ম্যাচেই ডাগ আউটে আসেননি তিনি। আর চাপমুক্ত ভাবেই ফাইনালের টিকেট পেয়ে গেছে মাশরাফির দল। নাফিসা কামাল বলেন, আমি প্লেয়ার জোনে যাই না। আমি আসে পাশে থাকলে হয়তো তারা চাপ অনুভব করতে পারে। তাই, দলীয় ভাবেই আমরা সিদ্ধান্ত নেই ম্যাচের সময় ওখানে থাকবো না। ওদের সাথে আমার ম্যাচের আগে কথা হয়, পরে কথা হয়। কিন্তু, ম্যাচের সময় কোন ভাবেই না। দলের মালিকদের কাছ থেকে যে সব রকমের সহযোগীতা পাচ্ছেন এর আগে মাশরাফি নিজেও এক সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেছিলেন। তিনি বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি আমাদের সব রকমের সহযোগীতা করছে। অনেক দল আছে  যেখানে অনেক বিষয়ে মালিকদের হস্তক্ষেপ থাকে। সেদিক থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ভাগ্যবান।

‘ফল ঘোষণা পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকবে বিএনপি’

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের মাঝ পথ থেকে সরে আসার পরিকল্পনা বিএনপির নেই বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত বিএনপি লড়াইয়ে থাকবে বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার সকালে বিএনপির পৌর নির্বাচন তদারকির জন্য গঠিত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ সেলের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ‘কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ সেল’ এর প্রথম বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, একটি কথা আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, অনেকে প্রশ্ন করেন আপনারা আবার মাঝপথ থেকে ফিরে আসবেন কিনা? কোনো সম্ভাবনা নেই। মাঝপথ থেকে ফিরে আসার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। একেবারে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সবাই অ্যাক্টিভলি মাঠে থাকবেন বলে আজকের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্বাচনে যাতে কেউ প্রভাব বিস্তার না করতে পারে সেদিকে কমিশনকে সর্তক থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান, আ স ম হান্নান শাহ, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, ওসমান ফারুক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্বর্ণ নিয়ে উধাও পুলিশ

আসামিকে থানায় রেখে ১৩টি স্বর্ণের বার নিয়ে পালিয়ে গেলেন পুলিশের একজন কর্মকর্তা। যশোরের বেনাপোল থানায় সোমবার এই ঘটনা ঘটেছে। বেনাপোল থানার ওসি অপূর্ব হাসান জানান, সোমবার সকালে রঘুনাথপুর থেকে রেজাউল ইসলাম নামের একজনকে এক কেজি তিনশ’ গ্রাম ওজনের ১৩পিস স্বর্ণের বারসহ আটক করেন বেনাপোল থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম। আটকের পর আসামিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে থানায় রওনা দেন। কিন্তু থানার গেটে এসে একসঙ্গে আসা কনস্টেবলকে আসামিকে থানায় নিয়ে যাওয়া আদেশ দেন। এরপর তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশ দুটি মামলা করেছে। একটিতে সোনা চোরাচালানের অভিযোগে রেজাউল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। আরেকটি মামলায় সোনা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় এএসআই রেজাউল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে।

‘ধৈর্যের সীমা আছে’

রাশিয়ার সঙ্গে ধৈর্যের সীমা আছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু। রোববার এজিয়ান সমুদ্রে তুরস্কের একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে সতর্ক গুলি ছোড়ে রাশিয়ার একটি রণতরী। ওই ঘটনাকে মস্কোর অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করে এমন মন্তব্য মন্তব্য করেছেন মেভলুত। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা। ইতালির দৈনিক করিয়ে ডেলা সেরাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে মেভলুত বলেন, আমাদের নৌযানটি ছিল মাছ ধরার। আমার কাছে মনে হয় রাশিয়ান জাহাজের প্রতিক্রিয়া ছিল অতিরঞ্জিত। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ও তুরস্ককে অবশ্যই আমাদের মধ্যে সবসময়ই বিদ্যমান আস্থার সম্পর্ক পুনপ্রতিষ্ঠা করতে হবে, কিন্তু আমাদের ধৈর্যের সীমা আছে।

সৌদি আরবের নতুন সামরিক জোটে বাংলাদেশ

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ৩৪টি মুসলিম প্রধান দেশ নিয়ে একটি নতুন সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। এই জোটের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা আরটি। সৌদি আরবের সরকারি বার্তা সংস্থা (এসপিএ) জানিয়েছে, সৌদি রাজধানী রিয়াদ থেকেই জোট বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এসপিএ জানিয়েছে, জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরব, দক্ষিণ এশিয়া আর আফ্রিকার দেশগুলো রয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন এই জোটের অপর রাষ্ট্রগুলো হলো: জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, বাহরাইন, বেনিন, তুরস্ক, চাদ, টোগো, তিউনিশিয়া, জিবুতি, সেনেগাল সুদান, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, গ্যাবন, গিনি, ফিলিস্তিন, কোমোরোস, কাতার, আইভোরি কোস্ট, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মালদ্বিপ, মালি, মালয়েশিয়া, মিশর, মরোক্কা, মৌরিতানিয়া, নাইজার, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন। 
একটি সংবাদ সম্মেলনে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ মোহামেদ বিন সালমান বলেছেন, এই জোট ইরাক, সিরিয়া, মিশর আর আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী ও চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। তবে তিনি বিস্তারিত জানাননি। ইসলামিক স্টেটের মতো গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বর্তমানে বেশ কয়েকটি জোট রয়েছে। আমেরিকান নেতৃত্বাধীন জোটে ৬৫টি দেশ রয়েছে। যদিও খুব কম দেশই সক্রিয়ভাবে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে সক্রিয় সামরিক ভূমিকা নেয়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর উপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ রয়েছে।

সুত্রঃ বিবিসি

ঢাকা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা যাচাই করছে বৃটেন

বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করতে ব্রিটিশ বিমান নিরাপত্তা গোয়েন্দাদের একটি দল ঢাকায় গেছে। ঢাকায় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, ব্রিটিশ এই নিরাপত্তা গোয়েন্দারা বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করছেন। সফরকারী দলটি ঢাকা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সচক্ষে খুঁটিয়ে দেখবেন। সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের পেতে রাখা বোমায় মিশরের শারম আল শেখ বিমান বন্দর থেকে উড়ে যাওয়া একটি রুশ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ব্রিটেনের পরিবহন দপ্তর বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য কিছু দেশকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়াতে তাগাদা দিচ্ছে। বিশেষ করে যে সব দেশ থেকে ব্রিটেনে সরাসরি বিমান যায়, সেসব দেশের ওপর তারা নজর দিচ্ছে।
শারম আল শেখের ঐ ঘটনার প্রায় পরপরই ব্রিটেনের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে যাত্রী ও ব্যাগেজ পরীক্ষা সহ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দেয়। ব্রিটেনের একজন দূত বিষয়টি নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সাথেও সেসময় কথা বলেন। ঢাকায় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি সচক্ষে দেখতে এসেছেন ব্রিটিশ গোয়েন্দারা। বেসামরিক বিমান মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন গত সপ্তাহে বিবিসিকে জানান, ব্রিটেন ঢাকা বিমানবন্দরে লোকজনের যাওয়া-আসা, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, বিস্ফোরক চিহ্নিত করার ব্যবস্থা ও বিমানে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় নিরাপত্তার মতো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
মি. মেনন বলেন, ব্রিটেন উদ্বেগ জানানোর পর বিমান বন্দরের নিরাপত্তায় বেশ কিছু বাড়তি কড়াকড়ি করা হচ্ছে। তিনি জানান, যাত্রীদের চেক ইনের সময় এখন বেল্ট, ঘড়ি বা জুতো খুলতে বলা হচ্ছে। স্ক্যানিং যন্ত্রসহ বিস্ফোরকের সন্ধানে ডগ স্কোয়াড ব্যাবহার করা হচ্ছে। এছাড়া, মন্ত্রী জানান, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং এর সাথে যারা জড়িত তাদের ব্যাপারে গোয়েন্দা ও পুলিশের ক্লিয়ারেন্স নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন ভিভিআইপি যাত্রীদের বিদায় বা স্বাগত জানাতে যেন বেশি মানুষকে বিমানবন্দরে ঢুকতে দেওয়া না হয়।

সুত্রঃ বিবিসি