বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. কৌশিক বসু বলেছেন,
দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করতে হবে।
আর্থিক খাতের সঙ্গে যত বেশি দরিদ্র মানুষকে সংযোগ করা যাবে বেসরকারি খাতও
তত বেশি শক্তিশালী হবে বলেও জানান এ অর্থনীতিবিদ। গতকাল বঙ্গবন্ধু
আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতিসংঘের অর্থনীতি ও
সামাজিক বিষয় সংক্রান্ত বিভাগ ইউএনডিইএসএ যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সামস্টিক
অর্থনীতি, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এবং অর্থনীতিক প্রবৃদ্ধি’ নিয়ে
আন্তর্জাতিক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
কোশিক বসু বলেন, গত ৫ বছর ধরে ৬ শতাংশের ওপর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এই প্রবৃদ্ধিতে ধনী-গরিব সবারই অবদান আছে। কৌশিক বসু বলেন, দেড় দশকে বাংলাদেশ দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পেরেছে। তিনি বলেন, একটি দেশের সরকার দরিদ্র মানুষের কাছে যদি খাবার পৌঁছাতে যায় তবে সেখানে অনেক গ্যাপ থেকে যায়; অনেক খাবারের অপচয় হয়। সেখানে খাবার না দিয়ে যদি গরিব ও প্রান্তিক মানুষগুলোর কাছে টাকা পৌঁছানো যায় অর্থাৎ মানুষগুলোকে আর্থিক খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায় তবে অনেক লাভ হয়। কারণ তাদের হাতে যখন টাকা থাকবে তখন তাদের নিজস্ব পছন্দ প্রাধান্য পাবে। তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তারা পছন্দমতো জায়গায় তা ব্যয় করতে পারবে। আর তাদের চাহিদা মেটাতে অনেক নতুন নতুন বেসরকারি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ঠিক এ সময়টাতেই সেদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশে গরিব ও প্রান্তিক মানুষগুলোকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে সম্পৃক্ত করতে বেশ কিছু কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গরিব মানুষকে আর্থিক খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে; যা উল্লেখ করার মতো। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও মোবাইল ব্যাংকিং। এগুলোর কারণে মানুষের টাকার ব্যবহার বেড়েছে ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ড. কৌশিক বসু বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসা বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় অর্জন। বাংলাদেশই শিখিয়েছে দরিদ্রতা, প্রতিবন্ধকতার পরও দেশের অর্থনীতির স্বার্থে ঝুঁকি নিয়ে কিভাবে কার্যক্রম শুরু করতে হয়। এসব বিষয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনুসরণীয় উল্লেখ করে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি শিক্ষণীয় কিভাবে তারা দারিদ্র্য দূর করছে এবং মানুষকে আর্থিক খাতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি পুরোপুরি প্রস্তুত ‘টেক অফ’ করার জন্য। খুব কম দেশই রয়েছে যাদের অর্থনীতি এভাবে উঠতে পারে।
কৌশিক বসু বলেন, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সুসমন্বয় ছাড়া এটির বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, তবে সমন্বিত উন্নয়নের অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ এমনকি অতিক্রমও করেছে। ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও বড় মাপের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পথে পা বাড়াতে বাংলাদেশ প্রস্তুত উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের প্রধান এ অর্থনীতিবিদ তা বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সুসমন্বয়ের পরামর্শ দেন। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ মনে করেন, গরিব মানুষের কথা চিন্তা করে বিশ্বব্যাংক উন্নয়নের সমবণ্টনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও জরুরি। অর্থনীতির উদীয়মান তারকা, বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সম্পর্কও নতুন মাত্রা পাবে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে আর্থিক বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ এবং নীতি নির্ধারকদের বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বিগত ১০ বছর ধরেই ৬ এর ঘরে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি এবার ৭ শতাংশে গিয়ে পৌঁছবে। আতিউর রহমান বলেন, কেবল প্রবৃদ্ধি বাড়া নয়, বিশ্বমন্দার নেতিবাচক প্রভাব থেকেও মুক্ত থেকেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতাকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন অতিমাত্রায় জরুরি বলেও জানান তিনি। ড. আতিউর রহমান বলেন, বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ একটি চমকপ্রদ জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশিরা এখানে সস্তা শ্রমে উৎপাদনমুখী খাত, অবকাঠামোগত খাত, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনডিইএসএ গ্লোবাল ইকোনমিক মনিটরিং ইউনিটের প্রধান ড. হামিদ রশিদ সামস্টিক অর্থনৈতির নীতির প্রসঙ্গে বলেন, সামস্টিক অর্থনীতির স্থায়িত্ব মানেই শুধু দ্রব্যের দামের স্থায়িত্ব নয়। বরং আর্থিক খাত এবং উৎপাদনশীল খাত দুটোর মধ্যেই একটি সমন্বয় থাকতে হবে। তবেই সামস্টিক অর্থনৈতির নীতিকে একটি কার্যত নীতি বলা যাবে। অনুষ্ঠানে কো-চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরুপাক্ষ পাল।
কোশিক বসু বলেন, গত ৫ বছর ধরে ৬ শতাংশের ওপর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এই প্রবৃদ্ধিতে ধনী-গরিব সবারই অবদান আছে। কৌশিক বসু বলেন, দেড় দশকে বাংলাদেশ দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পেরেছে। তিনি বলেন, একটি দেশের সরকার দরিদ্র মানুষের কাছে যদি খাবার পৌঁছাতে যায় তবে সেখানে অনেক গ্যাপ থেকে যায়; অনেক খাবারের অপচয় হয়। সেখানে খাবার না দিয়ে যদি গরিব ও প্রান্তিক মানুষগুলোর কাছে টাকা পৌঁছানো যায় অর্থাৎ মানুষগুলোকে আর্থিক খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায় তবে অনেক লাভ হয়। কারণ তাদের হাতে যখন টাকা থাকবে তখন তাদের নিজস্ব পছন্দ প্রাধান্য পাবে। তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তারা পছন্দমতো জায়গায় তা ব্যয় করতে পারবে। আর তাদের চাহিদা মেটাতে অনেক নতুন নতুন বেসরকারি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ঠিক এ সময়টাতেই সেদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশে গরিব ও প্রান্তিক মানুষগুলোকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে সম্পৃক্ত করতে বেশ কিছু কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গরিব মানুষকে আর্থিক খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে; যা উল্লেখ করার মতো। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও মোবাইল ব্যাংকিং। এগুলোর কারণে মানুষের টাকার ব্যবহার বেড়েছে ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ড. কৌশিক বসু বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসা বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় অর্জন। বাংলাদেশই শিখিয়েছে দরিদ্রতা, প্রতিবন্ধকতার পরও দেশের অর্থনীতির স্বার্থে ঝুঁকি নিয়ে কিভাবে কার্যক্রম শুরু করতে হয়। এসব বিষয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনুসরণীয় উল্লেখ করে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি শিক্ষণীয় কিভাবে তারা দারিদ্র্য দূর করছে এবং মানুষকে আর্থিক খাতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি পুরোপুরি প্রস্তুত ‘টেক অফ’ করার জন্য। খুব কম দেশই রয়েছে যাদের অর্থনীতি এভাবে উঠতে পারে।
কৌশিক বসু বলেন, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সুসমন্বয় ছাড়া এটির বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, তবে সমন্বিত উন্নয়নের অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ এমনকি অতিক্রমও করেছে। ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও বড় মাপের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পথে পা বাড়াতে বাংলাদেশ প্রস্তুত উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের প্রধান এ অর্থনীতিবিদ তা বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সুসমন্বয়ের পরামর্শ দেন। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ মনে করেন, গরিব মানুষের কথা চিন্তা করে বিশ্বব্যাংক উন্নয়নের সমবণ্টনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও জরুরি। অর্থনীতির উদীয়মান তারকা, বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সম্পর্কও নতুন মাত্রা পাবে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে আর্থিক বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ এবং নীতি নির্ধারকদের বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বিগত ১০ বছর ধরেই ৬ এর ঘরে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি এবার ৭ শতাংশে গিয়ে পৌঁছবে। আতিউর রহমান বলেন, কেবল প্রবৃদ্ধি বাড়া নয়, বিশ্বমন্দার নেতিবাচক প্রভাব থেকেও মুক্ত থেকেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতাকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন অতিমাত্রায় জরুরি বলেও জানান তিনি। ড. আতিউর রহমান বলেন, বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ একটি চমকপ্রদ জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশিরা এখানে সস্তা শ্রমে উৎপাদনমুখী খাত, অবকাঠামোগত খাত, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনডিইএসএ গ্লোবাল ইকোনমিক মনিটরিং ইউনিটের প্রধান ড. হামিদ রশিদ সামস্টিক অর্থনৈতির নীতির প্রসঙ্গে বলেন, সামস্টিক অর্থনীতির স্থায়িত্ব মানেই শুধু দ্রব্যের দামের স্থায়িত্ব নয়। বরং আর্থিক খাত এবং উৎপাদনশীল খাত দুটোর মধ্যেই একটি সমন্বয় থাকতে হবে। তবেই সামস্টিক অর্থনৈতির নীতিকে একটি কার্যত নীতি বলা যাবে। অনুষ্ঠানে কো-চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরুপাক্ষ পাল।

