ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া
ওঁলাদের মধ্যে পণ্ড হয়ে গেল মধ্যাহ্নভোজ। এ ভোজকে ‘কূটনৈতিক মধ্যাহ্নভোজ’
হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অনেকটা অগ্রগতি হওয়া
সত্ত্বেও কেন পণ্ড হয়ে গেল এ ভোজ? এ নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
কিন্তু উত্তরটি অনেক সহজ। তাহলো ভোজের মেন্যুতে রাখা হয়েছিল মদ। হাসান
রুহানি মেন্যু থেকে মদ বাতিল করার অনুরোধ করেন। কিন্তু ফ্রান্স তা করতে
অস্বীকৃতি জানায়। এজন্য পণ্ড হয়ে যায় ওই মধ্যাহ্নভোজ। রুহানিকে সাধারণ
খাবারে আপ্যায়িত করা হয়। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা
হয়, ফ্রান্সের রাজধানীতে একটি রেস্তোরাঁয় হাসান রুহানির সম্মানে
মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদে। ওই ভোজে যোগ দেয়ার পর্যায়েও
ছিলেন রুহানি। কিন্তু এ নিয়ে তাদের মধ্যকার সমঝোতা ভেস্তে যায় যখন হাসান
রুহানি খাবার তালিকা হালাল, এলকোহল বা মদ মুক্ত রাখার অনুরোধ করেন। বাধ্য
হয়ে ফরাসি কর্মকর্তারা স্থানীয় খাবার দিয়ে আপ্যায়িত করান রুহানিকে। এতে
ওঁলাদ উপস্থিত ছিলেন না। কর্মকর্তারা বলেন, ‘ইরানের প্রতি বন্ধুত্বমূলক’
খাবার তাদের প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধের বিপরীত। ওদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্টের
বাসভবন এলিসি প্রাসাদ থেকে মধ্যাহ্নভোজের পরিবর্তে সকালের নাস্তা খেতে
আহ্বান জানানো হয়। ফরাসি রেডিওর এক সূত্র বলেছেন, ওই কূটনৈতিক মধ্যাহ্নভোজ
মিস করার মাধ্যমে দুই নেতা আলোচনার একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ হারিয়েছেন।
এমন পরিবেশ নিশ্চিত হলে তারা ওই মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে অনেক বিষয় আলোচনা
করতে পারতেন। হাসান রুহানি বর্তমানে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ সফর করছেন।
দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক অবরোধে থাকা ইরানের ওপর থেকে তা তুলে নেয়া হয়েছে। এর
ফলে কূটনৈতিক এক মিশন নিয়ে এ সফরে বেরিয়েছেন রুহানি। ইতালিতে তার সফরের সময়
সেদেশের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের মেন্যু এলকোহল মুক্ত রাখা হয়। রোমের নগ্ন
মূর্তিগুলো ঢেকে দেয়া হয়। সেখানে রুহানি ১২০০ কোটি পাউন্ডের ব্যবসায়ী
চুক্তি সম্পন্ন করেন। উল্লেখ্য, ইরানি কর্মকর্তারা ইতালিকে ওই মূর্তিগুলো
ঢেকে দিতে বলেন নি। তা সত্ত্বেও সদিচ্ছার প্রকাশ হিসেবে ইতালি তা করেছে।
ওদিকে রুহানির ফ্রান্স সফরের প্রতিবাদ হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা ওঁলাদের প্রতি
দাবি জানায় তিনি যেন ইরানের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করেন।
ইরানে অনেক মানুষকে জেল দেয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। সমকামী নারীদের
দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
No comments:
Post a Comment