Friday, December 18, 2015

ইসলামিক স্টেটের অর্থের উৎস কোথায়?

জঙ্গি সংগঠন আইএসকে পৃথিবীর সবচেয়ে সম্পদশালীগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  সম্প্রতি এক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, আইএস-এর মাসিক আয় ৮০মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতিবছর তেল বিক্রি করে আইএস ৫০০ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করে।  যার অর্থ প্রতিদিন তারা তেল বিক্রি করে ১৫লাখ ডলার আয় করছে। ইরাক এবং সিরিয়ার অনেক বড় তেল ক্ষেত্রে এখন আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায়।  এই তেল ক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৪০ হাজার ব্যারেল তেল উত্তোলন করা হয়। কিন্তু এই তেল কারা কিনছে?  মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর হাতে যাতে কোনভাবেই অর্থ না যায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করেতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য ১৫টি দেশের অর্থমন্ত্রীরা এক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।  ১৯৯৯ সালে আল-কায়েদার অর্থের উৎস বন্ধ করতে যে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল তার ভিত্তিতেই আইএস-এর বিরুদ্ধে এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।কোন উপায়ে যাতে আইএস অর্থ সংগ্রহ করতে না পারে সেজন্য পৃথিবীর সব দেশকে আরো সুনির্দিষ্ট এবং জোড়ালোভাবে কাজ করার আহবান জানানো হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আইএস-এর অর্থের উৎস কী? মূলত তাদের অর্থ আসে দু’ভাবে। প্রথমত তেল বিক্রি এবং দ্বিতীয়ত লুটকরা পুরাকীর্তি বিক্রি করে।  অভিযোগ রয়েছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ দালালদের সহযোগিতায় আইএস’র কাছ থেকে তেল কিনছে।  তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন আইএস’র কাছ থেকে তুরস্ক তেল কিনে ।  মি: পুতিন বলেন আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ তেল তুরস্কে যায় বলে তার কাছে তথ্য রয়েছে।  তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মি: পুতিনকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, আইএস-এর কাছ থেকে তুরস্কের তেল কেনার বিষয়টি যদি রাশিয়া প্রমাণ করতে পারে তাহলে তিনি পদত্যাগ করবেন।  আর যদি প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে কি মি: পুতিন তার পদে থাকবেন? প্রশ্ন করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট মি: এরদোয়ান।মি: এরদোয়ান স্বীকার করুন আর নাই করুন। আইএস-এর তেল দালালদের মাধ্যমে তুরস্কে পৌঁছে।  আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ৮০ লাখ লোক বসবাস করে। তাদেরও জ্বালানীর প্রয়োজন হয়।  জাতিসংঘের সত্তর বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা পরিষদের সবগুলো দেশের অর্থমন্ত্রীরা কোন বৈঠকে মিলিত হলেন।  আমেরিকা এবং রাশিয়ার উদ্যোগে আনা এই প্রস্তাবে নিরাপত্তা পরিষদের সবগুলো দেশ সর্বসম্মত সমর্থন দিয়েছে।  তারা মনে করে আইএস যাতে কোনভাবেই অর্থ সংগ্রহ করতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

চেলসি কোচ মরিনহো বরখাস্ত

দ্বিতীয়বারের মতো ইংলিশ ক্লাব চেলসি থেকে বিদায় নিতে হলো ‘স্পেশাল ওয়ান’ খ্যাত  হোসে মরিনহোকে। বেশ কিছুদিন ধরে গুঞ্জন চলছিল, পক্ষে-বিপক্ষে তর্কও হচ্ছিল। কিন্তু যা অনুমান করা হচ্ছিল তাই ঘটল। বাজে ফলাফলের কারণে চেলসি কোচের দায়িত্ব থেকে হোসে মরিনহোকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চেলসি মালিক  রোমান আব্রামোভিচ মরিনহোকে ছাঁটাই করেছেন। গত মৌসুমে চেলসিকে পঞ্চমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন করানো ৫২ বছর বয়সী মরিনহোর স্থলাভিষিক্ত হবেন  কে, তা জানা যায়নি। গত সোমবার শীর্ষে থাকা লেস্টারসিটির বিপক্ষে ২-১ গোলে  হেরেছিল চেলসি। তখন থেকেই বাতাসে উড়ো খবর ছড়ায়, ব্লুজদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে মরিনহোকে। চলতি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ১৬ ম্যাচের নয়টিতেই হেরেছে চেলসি। মরিনহোর শিষ্যরা পয়েন্ট টেবিলে রয়েছে ১৬ নম্বরে, অর্জিত পয়েন্ট মাত্র ১৫। লেস্টারের বিপক্ষে হারের পর মরিনহো অভিযোগ করেন,  খেলোয়াড়েরা তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এরপরই তার চাকরী নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে যায়। এরপরে চেলসির মালিক আব্রামোভিচ জরুরি বৈঠক ডাকেন। বৈঠক শেষে জানোনো হয়, মরিনহোকে বিদায় নিতে হচ্ছে। আরও জানানো হয়, দলের বাজে পারফর্ম নিয়ে মরিনহো এবং চেলসি দুই পক্ষই একমত হয়েছে। ফলে ব্লুজদের ভালোর জন্য দুই পক্ষের ভিন্ন দুই পথে চলাটাই উত্তম। চেলসির রুশ মালিক  রোমান আব্রামোভিচ এখন নতুন কোচের খোঁজে রয়েছেন। মরিনিয়োর উত্তরসূরি হিসেবে  পেপ গুয়ার্দিওলা, গাস হিডিঙ্ক, ব্রেন্ডান রজার্স ও হুয়ানদে রামোসের নাম শোনা যাচ্ছে।

এখনও ঝুঁকিতে লাখো গার্মেন্ট কর্মী: মার্কিন রিপোর্ট

বাংলাদেশে রপ্তানিমুখী হাজার হাজার পোশাক কারখানার মধ্যে মাত্র এক-চতুর্থাংশ সুরক্ষিত। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ কারখানা অসুরক্ষিত থাকায় প্রায় ৩০ লাখ কর্মী শ্রমিক-নির্যাতন ও বিপজ্জনক অবস্থার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর থেকে কারখানাগুলো ব্যপক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর কারখানাগুলোর অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে গত মাসে বাংলাদেশ সরকার বলেছিল, বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে পোশাক সরবরাহ করে, এমন গার্মেন্ট কারখানাগুলোর মধ্যে ৮১ শতাংশ নিরাপদ। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টার্ন সেন্টার ফর বিজনেস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের করা গবেষণা মোতাবেক, বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী প্রায় ৭ হাজারেরও বেশি কারখানার অর্ধেক বৈশ্বিক বিভিন্ন ব্রান্ডের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে। ওই কারখানাগুলোতে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি হচ্ছে বেশি। কিন্তু এসবের মধ্যে মাত্র অর্ধেক কারখানায় ২০১৩ সালের দুর্ঘটনার পর হাতে নেওয়া বড় দুইটি নিরাপত্তা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্য অসুরক্ষিত কারখানাগুলো মূলত সরাসরি বৈশ্বিক ব্রান্ডের সঙ্গে কাজ করে না। তাদের পোশাক তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ করে। এ কারখানাগুলো সরকারিভাবে বা ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনগুলোতে নিবন্ধিত নয়। এ কারখানাগুলোতে নিরাপত্তা পরিবেশের উন্নতিতে কোন অর্থ ব্যয় করা হয় না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনও বহু কারখানা রয়েছে যেখানে শ্রমিকরা এমন পরিবেশে রয়েছে যেটি মারাত্মক ক্ষতিকর ও শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এ শিল্প ত্বরান্বিত করেছে ও চরম দারিদ্র্যর হার কমিয়ে এনেছে। কিন্তু নিম্ন বেতনে গার্মেন্টে কাজের জন্য চরম মূল্য দিতে হতে পারে।

পেকুয়ায় দূর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত

আর্ন্তজাতিক দূর্নীতি বিরোধী দিবস কক্সবাজারের পেকুয়ায় উদযাপিত হয়েছে। ”সবাই মিলে গড়ব দেশ, দূর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ” এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় ওই দিবসটি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গতকাল ৯ডিসেম্বর সকাল ১০টায় একটি র‌্যালি উপজেলা পরিষদ থেকে বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। পরে সকাল ১১টায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়েছে। দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি পেকুয়ার সভাপতি মেরিট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ট্রাষ্ট এর চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড.লায়ন মো.সানাউল্লাহ এর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু। উদ্ধোধক ছিলেন ইউএনও মো.মারুফুর রশিদ খান। উক্ত আলোচনা সভা শেষে সততা ও স্বচ্ছতার অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে পেকুয়া উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ইউএনও মো.মারুফুর রশিদ খানকে কৃতিত্ব স্বরুপ একটি সম্মাননা স্মারক-২০১৫ ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। ড.মো.সানাউল্লাহ ওই সম্মাননা ক্রেষ্টটি ইউএনও’র হাতে তুলে দেন।

মন্দিরে হামলা ও ইতালীয় নাগরিককে হত্যা চেষ্টায় জেএমবি

দিনাজপুরের কাহারোলে ইসকন মন্দিরে বোমা হামলায় আটক শরিফুল ইসলাম  ইতালীয় নাগরিক ডা. ফাদার পিয়েরো পারোলারি সামিওকে গুলি করে হত্যা চেষ্টার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে আদালতে।শরিফুল জেএমবির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্যাডার বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকালে দিনাজপুর অতিরিক্ত চীফ জুটিশিয়াল আমলি আদালতের বিচারক এসএম এহসানুল হকের কাছে এ জবানবন্দি দেন শরিফুল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক বজলুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, দিনাজপুরের কাহারোলে ইসকন মন্দিরে বোমা হামলায় আটক শরিফুল ইসলামকে ৩ দফা রিমান্ডে নেয়ার পর সে ইতালীয় নাগরিক ডা. ফাদার পিয়েরো পারোলারি সামিওকে গুলি করে হত্যা চেষ্টার জড়িত থাকাসহ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। শরিফুল জেমমবি’র একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্যাডার। শরিফুল ইসলামের বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায়।

পাকিস্তান দূতাবাস নব্য কাশিমবাজার কুঠি

নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ঢাকার পাকিস্তান দূতাবাস এখন ষড়যন্ত্রের আখড়া ও নব্য কাশিমবাজার কুঠিতে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি সেনাদের প্রতীকী বিচারে ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার’-এর আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় লিখিত বক্তব্যে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান আরও বলেন, ঢাকার পাকিস্তানি দূতাবাসের ভিসা কর্মকর্তা মাজহার খান ও তারপর সেকেন্ড সেক্রেটারি ফারিনা আরশাদ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি নেটওয়ার্ক মনিটর করছেন এবং জাল মুদ্রার ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। যাতে বাংলাদেশ স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয় ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করা যায়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৫০১ জনকে নিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক পদে রয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক আবেদ খান। সংগঠনটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে লিখিত বক্তব্যে শাজাহান খান ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি সেনার বিচার ও দেশটির কাছে বাংলাদেশ সরকারের পাওনা আদায়ে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি, পাকিস্তানি যারা বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, তাদের দ্রুত পাকিস্তানে ফেরত, পাকিস্তান দূতাবাসের ষড়যন্ত্রকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনা, যেসব চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর কবর সরকারি স্থানে আছে, তা স্থানান্তর এবং জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গঠনের মাধ্যমে গণজাগরণ সৃষ্টিসহ আরও কয়েকটি লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করা হয়।

‘ব্রিগেডিয়ার আমীন জানিয়েছিলেন, জামায়াত নিবন্ধন ও নির্বাচন দুটোই করবে’

আমি জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান জানার চেষ্টা করলাম। তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার আমীনের সাথে আমার অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় জেনেছিলাম যে, জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধন এবং নির্বাচন দুটোই করবে। আইনের প্রণয়নে প্রয়োজনে গঠনতন্ত্রও পরিবর্তন করবে। তাদেরকে নির্বাচন কমিশনের আইন মেনে চলতেই পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। এসব রাজনৈতিক দলের ওপরে গোয়েন্দা সংস্থার রাজনৈতিক শাখার কতখানি প্রভাব রয়েছে তা আমার অল্পবিস্তর জানা ছিল।
সাবেক নির্বাচন কমিশনের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন তার  ‘নির্বাচন কমিশনে পাঁচ বছর’ শীর্ষক বইয়ে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নিবন্ধন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার প্রেক্ষাপটে এসব কথা লিখেছেন। তিনি আরও লিখেছেন, সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বেশ সময় হাতে থাকতেই জামায়াতে ইসলামির আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী মিডিয়াকে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধিত হবার কথা জানালেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদের কেন্দ্রীয় শূরার মাধ্যমে হবে তাও জানালেন। প্রয়োজনে গঠনতন্ত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের কোন একদিন সকালে জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম নীতিনির্ধারক ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আমার সঙ্গে কথা বলে  RPO-1972 (amended) একটি কপি নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আমাকে জামায়াতে ইসলামীর সিদ্ধান্ত জানালেন। আলোচনার এক ফাঁকে ইসলামী দলের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন যে, ইউরোপেও ধর্মীয় নামে দল রয়েছে। আমি উত্তরে বলেছিলাম, বিশ্বের প্রায় ত্রিশটির ওপরে দেশে ‘ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি’ নামে দল রয়েছে কিন্তু আমার জানা মতে ওই দলগুলো এখন সবার জন্য উন্মুক্ত। কাজেই নামে সামান্য সমস্যা থাকলেও গঠনতন্ত্রে সমস্যা রয়েছে। আমরা সেখানে পরিবর্তন চাই।’ অনেকে ওই দলের প্রতীক দাড়িপাল্লা রদ করার কথাও আমাদেরকে জানিয়েয়েছিলেন। তাদের মন্তব্য ছিল যেহেতু ওই প্রতীক আদালত ব্যবহার করে সে কারণে রহিত করা হোক। আমরা তাদেরকে আদালতের আদেশ আনতে অনুরোধ করেছিলাম। এ বিষয়ে মামলাও হয়েছিল কিন্তু আদালতের কোন নির্দিষ্ট আদেশ পাওয়া যায়নি। জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তৎপরতাতে আমার মনে হতো- ১৯৭১ সালে এই দলের হানাদার সম্পৃক্ততার এত প্রমাণ থাকা সত্বেও- যা ওই সময়ে বহু আলেঅচিত ছিল ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় কেন দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি? যুদ্ধ অপরাধীর বিচার যখন হবে তখন কি এই দলকে নিষিদ্ধ করা হবে? কোনো দলকে নিষিদ্ধ করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নেই। দল নিষিদ্ধ করার এখতিয়ার সরকারের। ওই সময়কার প্রেক্ষিতে যে কোন দলের গঠনতন্ত্রে তেমন অসঙ্গতি থাকলে নিবন্ধন না দেবার যৌক্তিকতা থাকত। নিবন্ধন না দেবার মানে নিষিদ্ধকরণ নয়। দল নিবন্ধিত না হয়েও রাজনীতি করতে পারে। এ বির্তক সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পরেও উঠেছিল। খোদ আইন বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ কয়েকবার বলেছিলেন যে, দল নিষিদ্ধকরণের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। তার এ বক্তেব্যের জবাবে আমরা তাকে আইনের সূত্র দিতে বলেছি। তিনি এ নিয়ে পরে আর উচ্চবাচ্য করেননি। যাই হোক, আমার সাথে আলাপ করার পরের দিন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সুস্পষ্টভাবে মিডিয়াতে বক্তব্য দিয়ে বলেন যে, জামায়াতে ইসলামী তাদের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনবে। গঠনতন্ত্রে RPO মোতাবেক মহিলাদের অন্তুভূক্ত এবং অমুসলিম নাগরিকদের জন্য দলকে উন্মুক্ত করে মৌলিক পরিবর্তন আনা হবে। ইতোপূর্বে দলের গঠনতন্ত্রে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত ছিল যে, দলের সদস্য হতে হলে একজনকে মুসলমান হতে হবে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নামে পরিবর্তন আনবার ইঙ্গিত দিয়েছিলে।
জামায়াতে ইসলামীর এ পরিবর্তন আমাদের নিকট বেশ বড় অর্জন মনে হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছিল ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ । গঠনতন্ত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছিলো। আমরা একাধীকবার তাদের গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন দিক পরিবর্তন করতে বলেছিলাম। যথেষ্ট মৌলিক পরিবর্তন করেছিল যদিও চুলচেরা বিশ্লেষণে আরও কিছু করার জন্য বাধ্য করা যেত, তবে ঐ ধরনের অসামঞ্জস্য প্রায় দলের গঠনতন্ত্রেই রয়েছে। আমি মনে করি, ভবিষ্যতে এসব অসামঞ্জস্যতার বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন দলের নজরে আনবে। জামায়াতে ইসলামীর পথ ধরে অন্যান্য, তথাকথিত, ইসলামী দলগুলোর দলগুলোর গঠনতন্ত্রে যথেষ্ট পরিবর্তন এনেছিল।