বছর বছর রেলভাড়া বৃদ্ধি করা হলে রেলের যাত্রী ও আয় কমবে। আর এভাবে
লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে সংস্থাটি। এতে রেলকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে
দেয়ার প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়ন সহজ হবে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী
কল্যাণ সমিতি। রেলের অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ করে কোচ ও গতি বাড়ানোর
পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংগঠনটির
রেলপথ বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা
আরও বলেন, একক যাত্রী প্রতি খরচ কমিয়ে রেলখাতে লোকসান কমানোর পাশাপাশি ধীরে
ধীরে লাভজনক করা সম্ভব। এজন্য সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি বলে দাবি করেন
সংগঠনটি। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সারা দেশে রেলের বিকাশে
কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল
হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান,
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ রাজেকুজ্জামান রতন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান
সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও এফবিসিসিআই’র পরিচালক আবদুল
হক, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, রেলপথ বিষয়ক
উপ-কমিটির আহ্বায়ক মহিউদ্দীন আহমেদ প্রমুখ। সভায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, আমরা কথায় কথায় ভারতের উদাহরণ দিলেও ভারত কীভাবে
রেল খাতে উন্নয়ন করেছে তা কাজে লাগাতে চাই না। বিশ্ব ব্যাংকের যে ঋণ গ্রহণ
করা হচ্ছে তা রেলের উন্নয়নের চেয়ে দুর্নীতি ও লুটপাটে বেশি ব্যবহৃত হবে। এ
ঋণের শর্ত হিসেবে বছর বছর ভাড়া বাড়ালে রেলে লুটপাট ও দুর্নীতি আরও বেড়ে
যাবে। তিনি রেলের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের একটি স্বেতপত্র
প্রকাশের দাবি জানান। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন,
বাংলাদেশ রেলওয়ে আজ তলা ফুটো কলসীতে পরিণত হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধি করে রেলের
লোকসান কমানো বা লাভজনক করা যে কোনভাবে সম্ভব নয়, তা ২০১২ সালে ব্যাপক ভাড়া
বৃদ্ধির পর প্রমাণিত হয়েছে। তিনি যাত্রী সেবার মান বাড়ানোর অঙ্গীকার
বাস্তবায়নের জন্য জোর দাবি জানান।
No comments:
Post a Comment