Monday, February 1, 2016

বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক আজ

বাংলাদেশ-ভারত ‘বহুমাত্রিক সহযোগিতা’ আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনায় নয়াদিল্লিতে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক আজ। বৈঠকে অংশ নিতে এরই মধ্যে দিল্লি পৌঁছেছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। তার সঙ্গে গেছেন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও। সচিব পর্যায়ের আজকের আনুষ্ঠানিক আলোচনা ছাড়াও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের আগামী দু’দিনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, পানিসম্পদ মন্ত্রী উমা ভারতী ও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। দিল্লি সফরের আলোচ্য বিষয় নিয়ে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র সচিব মানবজমিনকে বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব বিষয় নিয়েই আলোচনা করবেন তিনি। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি বাংলাদেশ তুলতে পারে মর্মে ভারতীয় গণমাধ্যমে যে রিপোর্ট বেরিয়েছে সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সচিব ‘বৈঠকের পর সব বলবেন’ বলে জানান। অবশ্য দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী একদিন আগেই জানিয়েছেন, সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত অভিন্ন নদীগুলোর পানি সমহারে বণ্টনের ব্যাপারে যৌথ বেসিন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম গড়ে তোলার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যদিও পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আওয়াজ রয়েছে। ওই নির্বাচনের আগে এ নিয়ে আলোচনা বেশিদূর এগুবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। হাই কমিশনার জানিয়েছেন, ভারতসহ অন্য প্রতিবেশীরা যাতে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য বন্দরগুলো ব্যবহার করতে পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি কনসোর্টিয়াম গঠনের কথা বলেছেন। এ নিয়ে মোদির ঢাকা সফরেই কথা হয়েছিল। সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি আসতে পারে। এদিকে পররাষ্ট্র সচিবের দিল্লি সফর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ জানান, দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গত বছরের বাংলাদেশ সফরে যে সব বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি, সমঝোতা ও ঐকমত্য হয়েছিল তার বাস্তবায়ন নিয়েই মূলত বৈঠকে কথা হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন খাতে বহুমাত্রিক সহযোগিতা রয়েছে উল্লেখ করে মুখপাত্র আগামী দিনে এটি আরও বাড়ার প্রত্যাশা করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের সফরে এ নিয়ে কথা হবে বলে জানান তিনি। ঢাকার কর্মকর্তারাও পররাষ্ট্র সচিবের দিল্লি সফর এবং দেশটির পররাষ্ট্র সচিব ড. এস জয় শঙ্করের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠককে ‘স্টক টেকিং’ বা বিদ্যমান বিষয়াদি নিয়ে পর্যালোচনা হিসেবেই দেখছেন। তারা জানান, গত বছর ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর দু’দফা ঢাকা সফর করলেও তার আমলে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের এটিই প্রথম দিল্লি সফর। গত বছরে ব্লু ইকোনমির একটি বৈঠকে অংশ নিতে সচিব ভারতের ভুবনেশ্বর সফর করলেও সেই সময়ে ফিলিপাইনে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক থাকায় তার দিল্লি যাওয়া হয়নি। অবশ্য আগের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের আমন্ত্রণে শহীদুল হক দু’বছর আগে দিল্লি সফর করেছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের মাঝামাঝিতে মোদির ঢাকা সফরে দুই দেশের নতুন প্রজন্মকে টার্গেট করে সম্পর্ক উন্নয়নের ‘নয়া প্রজন্ম নয়া দিশা’ শীর্ষক যৌথ ঘোষণা গৃহীত হয়। সেখানে দুই দেশের আগামীর পথ চলার প্রায় সব বিষয়েরই উল্লেখ রয়েছে। ঢাকার কর্মকর্তাদের মতে, মোদির সফর-পরবর্তী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে। ছিটমহল বিনিময় ও অপদখলীয় জমি হস্তান্তর এবং সাড়ে ছয় কিলোমিটার সীমানা চিহ্নিত করার কাজটি সময়সীমা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। ভারতের দেয়া দ্বিতীয় ঋণ চুক্তির প্রকল্পগুলো চূড়ান্ত হওয়ার পর তা এখন বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এ ছাড়া, ট্রানজিট, বিদ্যুৎ, বাণিজ্যসহ অন্যান্য  ক্ষেত্রেও অগ্রগতি রয়েছে। সচিবের আসন্ন সফর ওই কাজগুলোতে আরও গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে ফের ডাক্তারের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু

চট্টগ্রামে আবারও ডাক্তারের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে এক রোগীর মৃত্যু ও আরেকজনের পেটে ব্যান্ডেজ রাখার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও হলো আরেক ঘটনা। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত ‘মেমন মাতৃসদন’ হাসপাতালে ঘটে এ ঘটনা। সে সময় নিহত ওই শিশুর পরিবারের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতাল ভাঙচুর ও ডাক্তারকে অবরুদ্ধ করে রাখার চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর পিতা আল আমিন বলেন, ডাক্তারদের অবহেলায় আর কতো রোগীর প্রাণ যাবে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই। অবহেলায় আমার শিশুপুত্রকে মারা যেতে হয়েছে। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশন। পারিবারিক সূত্র জানায়, গত শনিবার সিজার অপারেশনের জন্য আল আমীন তার স্ত্রীকে নগরীর সদরঘাটে অবস্থিত হাসপাতালের এক নম্বর ইউনিটে ভর্তি করান। দুপুর ১২টায় তার স্ত্রী রোকেয়া বেগমের একটি ছেলে সন্তান হয়। কিন্তু হঠাৎ করে ছেলেটির শরীর খারাপ হয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন তাকে সেখান থেকে নিয়ে যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দুপুর একটার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিশুটির পিতা নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তদার আল আমীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে মানবজমিনকে বলেন, ছেলেটি যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে ডাক্তাররা তখন দুই রকম কথা বলে। শেষমেশ বলে তাকে চমেকে নিয়ে যেতে। এ সময় অ্যাম্বুলেন্স চাইলে তারা আমার সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু করে। কখনো বলে সিলিন্ডার ফেরত দিতে, আবার কখনো অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলতে চাইলো। এই সময় বিলম্ব হওয়ার কারণে আমার ছেলেটিকে বাঁচানো যায়নি বলে চমেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। আল আমিন আরো বলেন, কিছু সময় আগে আনা গেলে তাকে বাঁচানো যেতো। এখন আমি কি জবাব দেবো আমার স্ত্রীকে। অ্যাম্বুলেন্স দিতে গড়িমসি করায় সিএনজিতে ছেলেটিকে নিয়ে রওনা দেই। পথে জ্যামের কারণে আরও দেরি হয়। সেখানে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটির প্রাণ চলে যায়। নিহত শিশুটির বিক্ষুব্ধ পরিবারের লোকজন গতকাল রোববার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে সেখানে হৈ চৈ শুরু হয়। চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন এই ঘটনা শুনে তারাও যোগ দিয়ে অভিযুক্ত ডাক্তারদের শাস্তি দাবি করে।  পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জানতে চাইলে মেমন হাসপাতালের প্রধান ও সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. সেলিম বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখানে দুইপক্ষের বক্তব্য নেয়ার পর কাজ করবে তদন্ত কমিটি। এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

‘খবর রটে যাবে ঠিক সময়ে’

তিশা অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘থার্ড পারসন সিংগুলার নাম্বার’। এরপর একই পরিচালকের ‘টেলিভিশন’ ছবিতে কাজ করেন তিনি। এছাড়া তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে’ ছবিতে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেন এ অভিনেত্রী। ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী তিশা চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করছেন। তার অভিনীত বর্তমানে দুটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায়। এ দুটি ছবি হচ্ছে শামিম আহমেদ রনি পরিচালিত ‘মেন্টাল’ ও অনন্য মামুনের ছবি ‘অস্তিত্ব’। আজকের ‘অলাপন’-এ সাম্প্রতিক ব্যস্ততাসহ এ দুই ছবি নিয়ে কথা বলেছেন তিশা। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কামরুজ্জামান মিলু

কেমন আছেন ? কোথায় এখন (সাক্ষাৎকার নেয়ার সময়)?
আমি ভালো আছি। ব্যক্তিগত কাজে একটু বাইরে আছি।

‘মেন্টাল’ ও ‘অস্তিত্ব’ ছবি দুটিতে আপনাকে কি চরিত্রে দেখতে পাবেন দর্শক?
‘মেন্টাল’ ছবিতে শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করেছি। চরিত্রের নাম সিমি। একজন সাংবাদিক। যিনি অপরাধ নিয়ে কাজ করেন। এর বাইরে কিছুই বলতে চাই না। এরই মধ্যে এ ছবির বেশ কয়েকটি গান শ্রোতারা পছন্দ করেছেন। অন্যদিকে, ‘অস্তিত্ব’ ছবিতে আরিফিন শুভর  সঙ্গে প্রথমবারের  মতো চলচ্চিত্রে কাজ  করেছি। এ ছবির চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন কার্লোস সালেহ, অনন্য মামুন ও সোমেশ্বর অলি। ছবির গল্প বা চরিত্র নিয়ে আপাতত কিছুই বলতে চাই না।

এরই মধ্যে তো দুটি ছবির কাজ শেষ হয়েছে আপনার-ছবি দুটি পর পর মুক্তি পাওয়ার খবর শুনছি, এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?
দুটি ছবি দুই ধরনের গল্প। কাজ শেষ হয়েছি ঠিকই। কিন্তু কবে কোনটা মুক্তি পাবে তা এখনও জানি না। আর এ বিষয়ে পরিচালকের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। তাই ছবি দুটি নিয়ে এখনই কোনো কথা বলব না। সময় পেলে জানাতে চাই।

ছোট পর্দায় কাজ করছেন কি?
হ্যাঁ। বিশেষ দিনগুলোর জন্য ছোট পর্দায় কাজ করছি। তবে ইদানিং ধারাবাহিকে কাজ করা হচ্ছে না। অনেকদিন পর হলেও ভালোবাসা দিবস বা ঈদের জন্য এক ঘন্টার বিশেষ নাটকে কাজ করছি। অনেকদিন পর পর ছোটপর্দায় কাজ করা হয়।

সামনে কোন নাটকের কাজ করতে দেখা যাবে আপনাকে?
বর্তমানে বেশ কিছু নাটক নিয়ে কথা চলছে। এই যেমন ভালোবাসা দিবসে ইমরাউল রাফাতের ‘তোমায় ভেবে লেখা’ নাটকে অভিনয় করেছি। এখানে আমার বিপরীতে রযেছে তাহসান। আরও কিছু নাটকে কাজের কথা চলছে। দেখা যাক, কোনটা রেখে কোনটা করি। তবে বিশেষ দিবসের জন্য এ কাজগুলোতে অভিনয় করব এটা নিশ্চিত।

শুনলাম আরও বেশ কিছু ছবিতে কাজের কথা চলছে?
সাফিউদ্দিন সাফির পরিচালনায় ‘প্রেম করে আমি মরব’ ছবিতে কাজের কথা রয়েছে। তবে এ ছবি নিয়ে এখনই কোনো কিছু বলতে চাই না। কোনো কিছু চুড়ান্ত হলে খবর রটে যাবে ঠিক সময়ে। এর আগে কথা বলে লাভ নেই। ‘মেন্টাল’ ও ‘অস্তিত্ব’ ছবি দুটি আগে মুক্তি পাক, তারপর অন্য ছবির কাজ শুরু করব। কারণ এ দুটি ছবি পরিচালকরা কখন কিভাবে মুক্তি দিবে তা এখনও আমি জানি না। 

রোনালদোর হ্যাটট্রিকে রিয়ালের হাফ ডজন

আগের ম্যাচে রিয়াল বেতিসের কাছে হোঁচট খেয়ে (১-১) তেতে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। আর পরের ম্যাচে তারই ঝাঁঝ দেখালো এস্পানিওলের ওপর। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিকে সফরকারীদের জালে তারা দিলো হাফ ডজন গোল। এতে স্প্যানিশ লা-লিগায় টেবিলের শীর্ষ দুই দলের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমালো রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নব্যুতে এস্পানিওলকে ৬-০ গোলে হারাতে ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই রিয়ালকে এগিয়ে দেন করিম বেনজেমা। ১২ মিনিটে পেনাল্টিতে ব্যবধান দিদ্বগুণ করেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর ১৬ মিনিটে হামেস রদ্রিগের রিয়ালের তৃতীয় গোলটি করেন। এতে রিয়াল বড় জয় পেতে যাচ্ছে তা অনুমান করা যায় ম্যাচের প্রথম ১৬ মিনিটেই। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে রোনালদো আরেকটি গোল করলে ৪-০ এ এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াল। আর ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ৮ মিনিট আগে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করে রিয়ালকে ৫-০ গোলে এগিয়ে দেন রোনালদো।  ৮৬ মিনিটে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে প্রতিপক্ষকে আরও বড় বব ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করার এস্পানিওলের দর্তে। এই জয়ে ২২ ম্যাচে ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রিয়াল। তাদের চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। আর এক ম্যাচ কম খেলেও ৫১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা।

ভিক্ষুকের আছে নিজস্ব ওয়েবসাইট, ব্যবহার করেন ক্রেডিট কার্ড

তিনি ভিক্ষুক। তার কোন বাড়িঘর নেই। থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রোয়েটের রাস্তায়। এভাবেই কেটে যাচ্ছে তার এক দশক। ভিক্ষা করলে কি হবে তার রয়েছে নিজস্ব ওয়েবসাইট। আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লিঙ্কডইন-এ একাউন্ট। আর ভিক্ষা নেন ক্রেডিট কার্ডে। অদ্ভুত এই ভিক্ষুকের নাম আবে হ্যাগেনস্টোন (৪২)। এক দশক আগে ডেট্রোয়েটে ব্যস্ত মার্কেটের পাশে সড়কে একটি ফাঁকা জায়গা দেখে সেখানে বসে পড়েন তিনি। সেই থেকে সেখানেই তার ঘরবাড়ি। সেখানে বসেই ভিক্ষা করে যাচ্ছেন। যেহেতু তিনি ভিসা, মাস্টার কার্ড, আমেরিকান এক্সপ্রেসের মাধ্যমে ভিক্ষার অর্থ গ্রহণ করেন, আছে নিজের ওয়েবসাইট তাই তাকে কেউ কেউ ডিজিটাল ভিক্ষুক হিসেবে অভিহিত করেন। ভিক্ষায় তিনি ব্যবহার করেন মোবাইল ফোনও। এর মাধ্যমে কার্ডের অর্থ প্রক্রিয়াজাত করেন। ক্রেডিট কার্ডকে পড়তে পারে এমন একটি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে তিনি দান করা অর্থ নিজের ব্যাংক একাউন্টে জমা করেন। তার ফোনের নাম দিয়েছেন ‘ওবামাফোন’। এ ফোনটি তাকে সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের লাইফলাইন অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম। এখানেই শেষ নয়। তিনি দান করা অর্থ সংগ্রহ করেন লিঙ্কডইন পেজ ও তার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। ওয়েবসাইতে তিনি বিজ্ঞাপন দিয়েছেন ছোটখাট কাজ হলেও তিনি করতে চান। এ সাইটের মাধ্যমে তিনি নতুন পরিকল্পনা করছেন। গৃহহীন মানুষের জন্য তিনি একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চান, যারা ছোটখাট কাজ খুঁজে ফিরছেন। এসব মানুষকে যেন তাদের পছন্দমতো কাজ জুটিয়ে দেয়া যায় সে জন্য তার এ লক্ষ্য। তিনি বলেন, আমার কাজকর্ম হলো গৃহহীন মানুষদের নিয়ে। যদি বছরের প্রতিদিন প্রতিজন পূর্ণ বয়স্ক মার্কিনির অর্ধেক এক পেনি করে দান করেন তা দিয়েই এটা করা সম্ভব। নিজের ব্লগে তিনি লিখেছেন, আমি নিজে যদি নিজেকে রাজপথ থেকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করতে পারি তাহলে আমি আরও একজনকে সহায়তা করতে পারবো। তারপর আরও একজনকে। তিনি এখানেই থেমে থাকেন নি। এমন একটি অ্যাপ বানাচ্ছেন যা ভুয়া গৃহহীন মানুষকে সনাক্ত করতে পারবে। সনাক্ত করতে পারবে যে তারা আসলেই বেকার, তাদের মাথার ওপর ছাদ আছে কিনা। এ অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি প্রকৃত ও ভুয়া গৃহহীন মানুষের একটি ডাটাবেজ তৈরি করতে চান।

ম্যাচ থামিয়ে রোনালদিনহোর অটোগ্রাফ চাইলেন রেফারি! (ভিডিওসহ)

বিশ্বের ধনী ক্লাবগুলো এক সময় টাকার বস্তা নিয়ে তার পেছনে দৌড়াতো। কিন্তু সময় এখন পাল্টেছে। বয়স ঠেকেছে ৩৫ এ। ক্লাবগুলো তার পেছনে আর দৌড়ায় না। বরং এখন ক্লাবের পেছনেই দৌড়াচ্ছেন তিনি। কিন্তু রোনালদিনহোর জনপ্রিয়তা যে মোটেও কমেনি তা বুঝে গেলো। তার কাছ থেকে ভক্ত-দর্শকদের অটোগ্রাফ নেয়ার ঘটনা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এবার ঘটলো ব্যতিক্রমী ঘটনা। স্বয়ং ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারি ব্রাজিলিয়ান এ সুপারস্টারের কাছে চেয়ে বসলেন অটোগ্রাফ। তাও যেনতেন সময় নয়, ম্যাচ চলাকালে ম্যাচ থামিয়ে। ইকুয়েডরের বার্সেলোনা স্পোর্টং ক্লাবের হয়ে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে নামেন রোনালদিনহো। সান মার্টিনের বিপক্ষে তার মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামে ওঠে ‘রোনি’, ‘রোনি’ নামের ধ্বনি। সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু তখন বার্সেলোনার সাবেক এ স্ট্রাইকার। এমন অবস্থায় হঠাৎ মাঠের মধ্যেই ঘটে এক অভাবনীয় ঘটনা। রেফারি বুক পকেট থেকে হঠাৎ একটি হলুদ কার্ড বের করেন। সবাই তখন অবাক। তাহলে কি রোনালদিনহোকে হলুদ কার্ড দেখাতে যাচ্ছেন তিনি? কিন্তু না, ব্রাজিলিয়ান এ সুপারস্টারের কাছে গিয়ে রেফারি চাইলেন তার অটোগ্রাফ। রোনালদিনহোরও তাকে হতাশ করলেন না। বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বসিত রোনালদিনহো বলেন, ‘আমি এখনো অবসর নেইনি।  আমি আরো কিছুদিন খেলে যেতে চাই। সমর্থকদের এমন উন্মাদনা ভালই লাগছে। আমি খুবই খুশি।’

গুগলের ১ মিনিটের মালিকের উদারতা

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের ঘটনা। সন্ময় বেদ ১২ ডলার খরচ করে কিনে ফেলেন গুগল. কম এর ডোমেন। কিন্তু ওয়েবমাস্টারের চাবিকাঠি হাতে আসার এক মিনিটের মধ্যেই মালিকানা চলে যায় ফের গুগলের হাতে। কারণ বিক্রির বিজ্ঞাপনটাই বাতিল করে দেয় তারা। এর জন্য অবশ্য সন্ময়কে একেবারে খালি হাতে ফেরায়নি গুগল। এক মিনিটের মালিকানা বাবদ সংস্থার লভ্যাংশ থেকে ৬০০৬.১৩ ডলার দিয়েছে তারা।
যদিও চমকের তখনও বাকি ছিল। সন্ময় ঠিক করেন হঠাৎ করে পেয়ে যাওয়া মালিকানার অর্থ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় দান করে দেবেন। সেই মতো তাঁর ইচ্ছার কথা গুগলকে জানান সন্ময়। ওই সংস্থাও ভাবতে পারেনি এমন কিছু করতে পারেন তাদের এক মিনিটের মালিক। খুশি হয়ে তারা ঠিক করে, এক মিনিটের মালিক যখন ৬০০৬.১৩ ডলার  দান করবেন বলে ঠিক করেছেন, তা হলে বর্তমান সমপরিমান টাকা দান করবেন। তবে সন্ময়ের হাত দিয়েই। অতএব তারা ঠিক করে ফেলে সন্ময়কে দ্বিগুণ অর্থ দিবে।
আসলে সন্ময় প্রথম নন। আগেও গুগল বিক্রি হয়েছিল। তাঁর মতো অনেকেই গুগল কিনেছিল এক মিনিটের জন্য। নিজেদের ডোমেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকির জন্য মাঝেমধ্যে এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে গুগল।

৪৫ বছর পরও সেইসব বাংলাদেশী দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক

৪৫ বছর বেশ দীর্ঘ সময়। বিশ্ব পাল্টে যাওয়ার জন্য অনেক বড় সময়: ব্যাঙ্গালোরের গার্ডেন সিটি হয়েছে ব্যস্ততম আইটি সিটিতে। স্টার্টআপ সিটির নাম হয়েছে ব্যাঙ্গালুরু। পশ্চাৎপদ এলাকাগুলো পরিণত হয়েছে অভিজাত আবাসিক এলাকা। ছোট ছোট গ্রামগুলো পরিণত হয়েছে বড় শহরে। কিন্তু ৪৫ বছর আগে যে হাজার হাজার বাংলাদেশী শরণার্থী কর্নাটকের রাইচুরে তাদের ঘর বেঁধেছিলেন তারা শুধু পেয়েছেন নাগরিকত্ব। তবে সে নাগরিকত্ব দ্বিতীয় সারির নাগরিকের। তাদের দুঃখগাঁথা নিয়ে এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। তারা এখনও শরণার্থীর মতো বসবাস করেন। এখনও তাদের বসতির সরকারি নাম রিহ্যাবিলিটেশন ক্যাম্প বা পুনর্বাসন শিবির। ১৯৭১ সালে ভারতে চলে আসা ৯৩২টি বাংলাভাষী হিন্দু পরিবারকে পুনর্বাসনের পরিবর্তে রাইচুরের এই শিবির শুধু পরিণত হয়েছে বস্তিতে। এখানে সরকারি একটি হাই স্কুলের দিকে নজর দিলেই এর ব্যাখ্যা মেলে। এখানকার প্রধান শিক্ষক স্বপন বৈদ্য ও তার ছাত্রছাত্রীরা সব শরণার্থীদের সন্তান। তারা তাদের দেশের জন্য ও সংস্কৃতির জন্য নষ্টালজিয়ায় ভোগে। সুশান্ত গুলজার যখন বাংলাদেশ ছেড়ে যান তখন তার বয়স মাত্র ১০ বছর। তিনি বলেন, মোটর সাইকেলে চড়া লোকজন আমাদের ওপর আক্রমণ করছিল। আমাদের চারপাশের লোকজন শুধু দৌড়াচ্ছিল। কিন্তু আমার সঙ্গে আমার পিতা দৌড়ে পারেন নি। তার সঙ্গে ছিল আমার ছোটভাই। ওইদিন মনে হয়েছিল আমরা মারা যাবো। দুঃখজনক বিষয় হলো আমরা এখনও শুধুই বেঁচে আছি। আমাদের জীবন যেমন হওয়ার তেমন হয় নি। ওই সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর চালিত অপরাধের বর্ণনা দিয়ে সুধন্য মন্ডল (৭৭) বলেন, আমাদের সামনে কোন বিকল্প ছিল না।

আফগান ক্রিকেটে ‘মঙ্গল’ পরিবারের প্রভাব

আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক ইহসানুল্লাহ মঙ্গল। প্রথম দেখাতেই অবাক হতে পারেন। চোখ বিশ্বাস করতে চাইবে না- ছেলেটির বয়স ১৮। ৬ ফুটের ওপরে লম্বা, চওড়া বুক, শক্ত পেশি- সব মিলিয়ে তাকে ২৫ বছর বয়সী যুবক মনে হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে চলমান যুব বিশ্বকাপে খেলতে আসা এ আফগান তরুণের বয়স সবে ১৮। আফগানিস্তানের হয়ে খেললেও তার জন্ম নিজ ভূমিতে নয়। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে তার পরিবার আশ্রয় নেয় পাকিস্তানে। দেশটির উত্তর অঞ্চলের জেলা পেশাওয়ারের এক শরণার্থী শিবিরে ইহসানুল্লাহ’র জন্ম। পাকিস্তানের এই এলাকার মানুষ সাধারণত শক্তপোক্ত ও শক্তিশালী। ইহসানুল্লাহকে তাই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বড় মনে হয়। আফগানিস্তান ক্রিকেট দলে ক্রমেই ‘মঙ্গল’ পরিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নিচ্ছে। ইহসানুল্লাহ বড়ভাই নওরোজ মঙ্গল। আফগানিস্তান জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য তিনি। বড় ভাই ছিলেন দেশটির ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। নওরোজ মঙ্গলের নেতৃত্বেই দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে আফগানিস্তান ২০০৯ সালে আইসিসির ওয়ানডে স্ট্যাটাস পায়। ২০১০ সালে আফগানিস্তান প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নওরোজ মঙ্গলের নেতৃত্বে খেলে। বড় ভাইয়ের নেতৃত্বে আফগানিস্তান জাতীয় দল এতো সফলতা পাওয়ার পর ছোট ভাইয়ের হাতে দেশটির যুব দলের নেতৃত্ব। তিনিও দেশকে দারুণভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশে যুব বিশ্বকাপ খেলতে এসে প্রস্তুতি ম্যাচেই দারুণ নৈপুণ্য দেখান তিনি। আয়ারল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে তিনি ১২৫ বলে হাঁকান ১৩৩ রানের ইনিংস। কিন্তু যুব বিশ্বকাপে তার ব্যাট তেমন কথা বলেনি। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেন ২৩ রান। দলেকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। ২০১৪ সালে যুব বিশ্বকাপে খেলা যে চারজন এবারও খেলছেন তাদের মধ্যে একজন ইহসানুল্লাহ। পাকিস্তানে জন্ম হওয়ার পর আফগানিস্তানে গিয়ে ক্রিকেটে যুক্ত হওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন আফগানিস্তানে যাই, তখন আমার কোনো বন্ধু ছিল না। নতুন বন্ধু জুটানোর জন্য ক্রিকেট খেলতে শুরু করি। এভাবেই এক সময় আমার প্রচুর বন্ধু হয়ে যায়। সেখান থেকে এক পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলা শুরু করি। আর এখন অধিনায়ক। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথাবার্তা বলা নিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ খুব কমই হয়। তারাও যেমমন ব্যস্ত আমরাও ব্যস্ত থাকি। জাতীয় দলের অনেকের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা থাকলেও বিশ্বকাপের আগে সেটা সম্ভব হয়নি। তবে শুধু বড় ভাই নওরোজ মঙ্গলের সঙ্গে কথা বলে পরামর্শ নিয়েছি।’  

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে হয়রানি, এসআই রতন বরখাস্ত

রাজধানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হয়রানি ঘটনায় আদাবর থানা পুলিশের এসআই রতন কুমার হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর রাতেই রতন হাওলাদারকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। আজ সোমবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একজন অতিরিক্ত উপ কমিশনারকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তার প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে রাজধানীর রতন কুমারের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা হয়েছে। আজ  সোমবার বেলা একটার দিকে ওই তরুণী ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক সালেহ উদ্দিন আহমেদের আদালতে মামলা করেন। বিচারক ওই তরুণীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আদালত বিষয়টি আদেশের জন্য রেখেছেন।উপ-পরিদর্শক রতন কুমার হাওলাদার রোববার বিকালে মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদের কাছে পথ আটকে  লোকজনহীন একটি দোকানে নিয়ে ‘অশ্লীল’ কথা বলার পাশাপাশি গায়ের জ্যাকেট খুলতে বাধ্য করেন বলে ওই তরুণীর অভিযোগ। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওই তরুণীর স্বামী আদাবর থানা যুবদলের একজন  নেতা। গত বছর বিস্ফোরক আইনের এক মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। ওই তরুণীর অভিযোগ, রোববার বিকালে ক্লাস শেষ করে রিকশায় শিয়া মসজিদের দিকে যাওয়ার পথে এসআই রতন তার পথ আটকায়। এরপর তল্লাশির কথা বলে ওই পুলিশ সদস্য তাকে একটি দোকানের ভিতরে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে সবাইকে বের করে দিয়ে শাটার টেনে দেন। তরুণী অভিযোগ করে আরও বলেন,  সে বারবার জানতে চায়- আমার স্বামী কোথায়। না বললে ইয়াবা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখায়। আমি বারবার মহিলা পুলিশ বা আশপাশের  কোনো মহিলার সামনে অথবা থানায় নিয়ে তল্লাশি করার অনুরোধ জানালেও সে তা করেনি। এ সময় অশ্লীল কথাবার্তা  বলা ছাড়াও উনি আমাকে হোটেলের পতিতা এবং ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা করেন। ওই যুবদল নেতা অভিযোগ করেন, এসআই রতন তার স্ত্রীর শরীর থেকে জোর করে জ্যাকেট খুলিয়ে সেই জ্যাকেট হাতে নিয়ে ভ্যানিটি ব্যাগ তল্লাশি করেন। অন্যদিকে হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে উপ-পরিদর্শক রতন বলেন, স্বামী বিস্ফোরক মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হওয়ায় ওই নারী আগে একবার থানায় গিয়েছিলেন। তখনই তাদের পরিচয় হয়। রোববার হঠাৎ দেখা হওয়ায় রিকশা থামিয়ে তার স্বামীর খোঁজ জানতে চেয়েছি, এর চেয়ে বেশি কিছু না। স্বামী সাভারে আছে জানিয়ে সে চলে গেছে। আমার বিরুদ্ধে হয়রানির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওই যুবদল নেতা বর্তমানে জামিনে আছেন এবং তার বিরুদ্ধে  কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই বলে জানান রতন।

শেরপুরে মাটি খুঁড়ে ২২ হাজার গুলি উদ্ধার

শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলায় সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে মাটি খুঁড়ে ২২ হাজারের বেশি গুলি উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে র‌্যাব-৫ এর একটি দল ভুরুঙ্গা কালাপানি এলাকায় ওই অভিযান শুরু করে। দুপুর পর্যন্ত এসএমজি ও এলএমজির ২২ হাজারের বেশি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব গুলি কারা সেখানে রেখেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কাজ করুন বা না করুন, নাগরিকরা মাসে পাবেন ১৭০০ পাউন্ড ভাতা

কাজ করুন বা নাই করুন। মাসে মাসে সরকার আপনাকে দেবে ১৭০০ পাউন্ড। এটা হবে আপনার হাত খরচ। এমন একটি প্রস্তাবের ওপর ভোট হবে সুইজারল্যান্ডে। যদি প্রস্তাবটি পাস হয় তাহলে বিশ্বে সুইজারল্যান্ডই হবে জাতীয় পর্যায়ে নাগরিকদের এমন আর্থিক সুবিধা দেয়া প্রথম দেশ। লন্ডনের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এ খবর দিয়েছে। বলা হয়েছে, ওই প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিজন নাগরিককে মাসে ২৫০০ সুইস ফ্রাঙ্ক দেয়ার কথা বলা হয়েছে। যা মাসে ১৭০০ পাউন্ডের সমান। এমন প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির প্রথম দেশও সুইজারল্যান্ড। তবে এমন ধারণার পক্ষে ডান বা বাম ঘরানার রাজনীতিবিদদের কাছে থেকে পাওয়া যায় নি ইতিবাচক সাড়া। এমন ধারণা মাথায় আসে একদন বুদ্ধিজীবির। তারা এমন প্রস্তাব করার পর কেন্দ্রীয় সরকার তা অনুমোদন করে ভোটে দিচ্ছে। এ প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিটি শিশু মাসে পাবে ৬৫০ ফ্রাঙ্ক বা ৪৩০ পাউন্ড। এ বিষয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করেছে ডেমেস্কোপ ইন্সটিটিউট। তাতে দেখা গেছে, বেশির ভাগ সুইস নাগরিক প্রস্তাবের পক্ষে। তাদেরকে সরকার এমন আর্থিক নিশ্চয়তা দিলেও তারা যার যার কাজ চালিয়ে নিতে চান। যে চাকরি খুঁজছেন তিনি চাকরি খুঁজেবেন। তবে শতকরা ২ ভাগ মানুষ বলেছেন, তারা এমন সুবিধা পেলে কাজ করা বন্ধ করে দেবেন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সেদেশের সরকারকে বছরে ২০৮০০ কোটি ফ্রাঙ্ক বা ১৪৩০০ কোটি পাউন্ড ব্যায় করতে হবে।

হযরত জয়নব (রা.)-এর সমাধির পাশেই আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৫০

সিরিয়ায় হযরত জয়নব (রা.)-এর সমাধিক্ষেত্রের পাশেই বোমা হামলা হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন। আহত হয়েছেন ১১০ জন। এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের বাইরে ব্যাপক সম্মানের ওই সমাধিক্ষেত্রের কাছে তিনটি বোমা হামলা হয় রোববার। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা বলছে, প্রথম হামলাটি ছিল গাড়িবোমা। সমাধিক্ষেত্রের কাছে একটি বাস স্টেশনে এটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেখানে লোকজন সমবেত হলে আত্মঘাতী দুই বোমা হামলাকারী তাদের বিস্ফোরক বেল্টের বিস্ফোরণ ঘটনায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় সেখানে। বিভিন্ন ভবনের দরজা জানালা উড়ে যায়। রাস্তার ওপর পড়ে থাকে আবর্জনার স্তূপ। এক ডজনেরও বেশি গাড়িতে এ সময় আগুন ধরে যায়। তা থেকে কালো ধোয়ায় ছেয়ে যায় দামেস্কের আকাশ। ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে নিহত ও আহতদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। রক্তে ভেসে যায় রাস্তা। ছুটে যায় এম্বুলেন্স। তারা জীবিতদের নিয়ে নিকটবর্তী হাসপাতালে ছুটতে থাকে। অগ্নিনির্বাপণকারীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে থাকেন। উল্লেখ্য, হযরত জয়নব (রা.)  মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর নাতনী। তিনি হযরত মা ফাতেমা (রা.) ও হযরত আলী (রা)র কন্যা। তার কবর রয়েছে সিরিয়ার দামেস্কে। রাজধানীর দক্ষিণে। তার কবরকে মুসলিমরা জিয়ারত করেন।  এই কবর জিয়ারত করতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসলিমরা যান সিরিয়া। বিশেষ করে তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরান, লেবানন, ইরাক ও অন্যান্য দেশের মুসলিম। এর আগেও এর পাশে বোমা হামলা হয়েছে। ২০১৫ সালে এই কবরের পাশে একটি চেকপয়েন্টে দুটি আত্মঘাতী হামলা হয়েছে। তাতে চারজন নিহত ও ১৩ জন আহত হন। ওই মাসেই হযরত জয়নব (রা.)-এর কবর জিয়ারত করতে যাওয়া লেবাননের একদল মুুসলিমকে বহনকারী বাসে বোমা হামলা হয়। তাতে কমপক্ষে ৯ জন নিগত হন। এ হামলার দায় স্বীকার করে আল নুসরা ফ্রন্ট। তবে রোববারের হামলার দায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ স্বীকার করে নি।

সেই ক্ষুদে ভক্তের সঙ্গে দেখা করবেন মেসি

আফগানিস্তানের সেই ক্ষুদে ভক্তের সঙ্গে দেখা করবেন লিওনেল মেসি। সংবাদসংস্থা ‘এএফপি’কে বিষয়টি জানিয়েছেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান ফুটবল ফেডারেশনও। আফগানিস্তানের কাবুলের ৫ বছর বয়সী এক ছেলের মেসি-ভক্তি দেখে অবাক হয় বিশ্ব। গরীব পরিবাবেব এই ছেলেটি বার্সেলোনার স্ট্রাইকার মেসির অনেক বড় ভক্ত। বাবাকে কয়েকবার মেসির আর্জেন্টিনার জার্সি কিনে দিতে বলে ছেলেটি। কিন্তু গরীব বাবার পক্ষে সেটা সম্ভব হয় নি। তাই বাধ্য হয়ে বাজার করে আনা প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সি বানায় মুর্তজা আহমদি। ব্যাগটি ছিল আর্জেন্টিনার পতাকার মতো সাদা-নীল রংয়ের। প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সি বানিয়ে তার পেছনে মেসির নাম ও তার জার্সি নম্বর ১০ লিখে নেয়। ছেলেটির ওই জার্সি পরা কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যাতে আলোড়ন সৃষ্টি করে চারদিকে। অনেকে বলতে থাকেন, পৃথিবীতে মেসির সবচেয়ে বড় ভক্ত এই ছেলেটি। আফগানিস্তানের ওই ছেলেটির ভালবাসার কথা পৌঁছে গেছে মেসির কাছে। মেসিও ভালবাসার মূল্য দিতে যাচ্ছেন। তার বাবা হোর্হে মেসি এএফপি’কে বলেন, ‘আমরা আফগানিস্তানের ওই ছেলেটির ছবি দেখেছি। মেসিকে বলেছি। এখন আমরা ছেলেটির জন্য কিছু করতে চাই।’ এ কথার সত্যতা দিয়ে আফগানিস্তান ফুটবল ফেডারেশন জানায়, ‘ছেলেটির সঙ্গে দেখা করার জন্য মেসির পক্ষে থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখনও তার দেখা করার দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়নি। মেসি আফগানিস্তানের আসবেন নাকি ছেলেটি স্পেনে যাবে সে বিষয়ও এখন পর্যন্ত নির্ধারিত হয়নি। তবে মেসির পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হযেছে।

জিএম কাদের ও হাওলাদার জাপার মুখপাত্র

জাতীয় পার্টির পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে দলীয় মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব প্রদান করেছেন দলটির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আজ সোমবার গণমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠিয়ে এ দায়িত্ব প্রদানের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, এখন থেকে জনাব জি.এম. কাদের অথবা এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার মিডিয়াতে পার্টি সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করবেন। বিচ্ছিন্নভাবে কারো মন্তব্য, বক্তব্য বা বিবৃতি (কখনও কখনও নাম প্রকাশ না করার শর্তে) জাতীয় পার্টির বক্তব্য বলে বিবেচিত হবেনা।

এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর হাসপাতাল জীবন

প্রাণদণ্ড থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলেও শিগগিরই কারামুক্তি মিলছে না একসময়ের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফের। আরও অন্তত প্রায় ৭ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে। প্রাণদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন আবেদন করার সময়ও শেষ হয়ে গেছে। ফলে তার সামনে আর কোনও পথ নেই কেবল রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ছাড়া। তা না হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করার জন্য আরও অন্তত ৭ বছর জেলেই থাকতে হবে তাকে। যদিও অন্য সাধারণ কয়েদির মতো জেল-জীবন নয় তার। জেলে বসেই নিয়ন্ত্রণ করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড। গত কয়েক বছর ধরে হাসপাতালেই বেশি সময় কাটছে তার। এতে আত্মীয়-পরিজন, শুভানুধ্যায়ী ও অনুসারীদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ করার সুযোগ পায় সে। সর্বশেষ সে গত বছরের ১৩ই সেপ্টেম্বর থেকে পিঠে ব্যথা নিয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধী। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির বলেন, জোসেফের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় কারাগারে আসেনি। সেই রায় আসলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হিসাব করে তার কারাভোগের দিন গণনা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালের ৭ই মে লালমাটিয়া এলাকায় মোস্তফা নামে ফ্রিডম পার্টির এক নেতা খুন হন। গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে। মোস্তফার খুনি হিসেবে অভিযোগ ওঠে সে সময়ের ছাত্রলীগ নেতা ও শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফের বিরুদ্ধে। তৎকালীন সরকার শীর্ষ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করে। ওই তালিকায় সন্ত্রাসী জোসেফকে ধরিয়ে দিতে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এর বছর খানেক পর জোসেফকে নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সেই থেকে কারাবন্দি তিনি। তখন তার বয়স ছিল ২০। এর মধ্যে পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ১৮ বছর।

মোস্তফা মার্ডার ছাড়াও আরও ১৬টি মামলা ছিল তার বিরুদ্ধে। সবগুলো মামলা হলো খুন, ছিনতাই-চাঁদাবাজি আর অস্ত্র মামলা। এর মধ্যে ১৪টিতে খালাস পেয়েছে সে। দুটি মামলা থেকে জামিন নেয়া রয়েছে। কেবল মোস্তফা মার্ডার মামলায় ২০০৪ সালের ২৫শে এপ্রিল ঢাকার জজ আদালত তাকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেয়। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে সে। ২০০৮ সালে হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। এরপর তার আইনজীবীরা লিভ টু আপিল চাইলে সুপ্রিম কোর্ট তা মঞ্জুর করে। গত বছরের ৯ই ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

কারা সূত্র জানায়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ হলো ৩০ বছরের সাজা। কিন্তু জেল কোড অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিরা বছরে সর্বোচ্চ ৩ মাস রিভিশন বা পরিমার্জনা পায়। ওই হিসেবে যাবজ্জীবন দণ্ড খাটতে হয় সাড়ে ২২ বছর। তবে আদালতের আদেশে যদি হাজতবাস থেকে দিন গণনার নির্দেশ থাকে তবেই সাড়ে ২২  বছর। জোসেফের রায়ের আদেশেও যদি হাজতবাস থেকে দিন গণনার বিষয়টি উল্লেখ থাকে তবে আরও অন্তত সাড়ে ৪ বছর জেল খাটতে হবে। অন্যথায় রায়ের দিন থেকে দিন গণনা হলে জোসেফের জেল খাটতে হবে আরও ৭ বছরেরও বেশি সময়। কারা সূত্র জানায়, জোসেফের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলায় প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউ) রয়েছে। যে দুটি মামলায় জামিন পেয়েছে জোসেফ। তবে তাকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হয়। কারামুক্তির আগে আদালতের মাধ্যমে ওই দুটি প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট তুলে নিতে হবে।

সাড়ে ৪ মাস ধরে হাসপাতালে জোসেফ: কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফ দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৪ মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত বছরের ১৩ই সেপ্টেম্বর পিঠে ব্যথা বা ব্যাক পেইনের কারণে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে নেয়া হয়। সেই থেকে সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কারাগারে ভালো থাকার অর্থই হলো হাসপাতালবাস। কোনও অসুখ দেখাতেই পারলেই হলো। কারা হাসপাতালেই তুলনামূলক আরামে দিনযাপন করা যায়। আর বাইরের হাসপাতালে আসতে পারলে তো কথাই নেই। হাসপাতালে কারারক্ষীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকলেও নানা কৌশলে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করতে পারে বন্দিরা। এছাড়া বাসার পাঠানো খাবারের সুযোগও রয়েছে। সবকিছুই চলে উৎকোচের বিনিময়ে। শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ একারণে হাসপাতালে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। যদিও কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের প্রিজন সেলের ভেতরে স্বজনরা ঢুকতে পারে না। কেউ সাক্ষাৎ করতে চাইলে জেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। ফলে এখানে অনিয়ম বা যখন-তখন সাক্ষাতের সুযোগের প্রশ্নই ওঠে না। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসক ডা. বিপ্লব বলেন, ব্যাক পেইন সমস্যার কারণে জোসেফকে কারা হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে পাঠানো হয়েছিল। সেখানকার চিকিৎসকের পরামর্শেই তাকে হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে।

ছাত্রলীগ নেতা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ: মোহাম্মদপুর এলাকার ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফ। জোসেফের পিতা ওয়াদুদ আহমেদ ছিলেন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট জোসেফ বড় ভাই হারিস আহমেদের হাত ধরে রাজনীতির মাঠে পদার্পণ করে। নব্বইয়ের দশকে জাতীয় পার্টি ছেড়ে মোহাম্মদপুরের এক আওয়ামী লীগ নেতার হাত ধরে হারিস যোগ দিয়েছিলেন যুবলীগে। তৎকালীন ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরও হয়েছিলেন তিনি। বড় ভাইয়ের কল্যাণে পদে না থেকেও নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দিত জোসেফ। বড় ভাইয়ের ক্যাডার বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পালন করে। সেই থেকে অন্ধকার জগতে পথচলা শুরু হয় তার। মোহাম্মদপুর-হাজারীবাগসহ আশেপাশের এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সে। যোগ দেয় সুব্রত বাইনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আলোচিত সেভেন স্টার গ্রুপে।

পুরো রাজধানী তখন সেভেন স্টার গ্রুপ ও ফাইভ স্টার গ্রুপ নামে দুটি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতো। এভাবেই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় নাম উঠে আসে জোসেফের। স্থানীয় সূত্র জানায়, জোসেফের নামে প্রতিমাসেই মোহাম্মদপুর এলাকার বাস-ট্রাক-টেম্পু স্ট্যান্ড, ফুটপাত, বাজার, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হতো। কারাবন্দি হওয়ার পরও তার অনুসারীরা তার নামে চাঁদা তুলে চলেছে। এ চাঁদার বড় একটি অংশ দিয়েই কারা কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে আয়েশি জীবনযাপন করে সে। স্থানীয় সূত্র জানায়, জোসেফের সেই বড় ভাই হারিস আহমেদও দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক। হারিসের নামে ইন্টারপোলে রেড ওয়ারেন্ট জারিও রয়েছে। পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর একজন সে। আরেক ভাই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। সাঈদ আহমেদ টিপু নামে এক ভাই মারা যায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে।