Wednesday, February 3, 2016

চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারে ভারতকে শিগগিরই অনুমতি

বহুদিন ঝুলে থাকার পর অবশেষে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারে অনুমতি পেতে যাচ্ছে ভারত। 'শিগগিরই' নয়াদিল্লিকে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিতে যাচ্ছে ঢাকা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের বরাতে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু বাণিজ্য সাময়িকী বিজনেস লাইন। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শংকরের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক রোববার দিল্লি সফরে যান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতের সরাসরি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ একটি 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর'(এসওপি) তৈরি করছে। এতে দু'দেশের দ্বিপাক্ষিক ও অন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়বে বলে আশাবাদী ভারত। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক বিজনেস লাইনকে বলেছেন, 'আশা করছি, শিগগিরই ভারত চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি প্রবেশাধিকার পাবে। আমরা এই প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে এসওপিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি।'
বিজনেস লাইন জানিয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম বন্দরের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি যৌথ কনসোর্টিয়াম তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। ভারত গত ৫ বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে সরাসরি প্রবেশাধিকার জন্য বলে আসছে। চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশাধিকার পেলে ভারতীয় শিল্পখাত ব্যাপক সুবিধা পাবে এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সরাসরি পণ্য পাঠানোর সুযোগ পাবে। এতে ভারতের লাখ লাখ ডলার সাশ্রয় হবে। গত বছর জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। শহিদুল হক বিজনেস লাইনকে জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সমুদ্রে যৌথ অংশীদারিত্ব তৈরির জন্য কাজ করছে বাংলাদেশ-ভারত।

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যায় এমপি রানার বিরুদ্ধে চার্জশিট

এমপি আমানুর রহমান খান রানা
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেছে গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি। বুধবার রাতে অনেকটা গোপনেই জেলার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আমলি আদালতে ৩০২/৩-ক ধারায় এই চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মফিজুর রহমান জানান, ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা, তার ছোট ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র শহিদুর রহমান খান মুক্তি, জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যোজোটের সভাপতি জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত রহমান খান বাপ্পাসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এই ১৪ আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এমপি রানা ও তার তিন ভাইসহ ১০ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ১৮ জানুয়ারি শহরের কলেজ পাড়ায় এমপি রানার অফিস কক্ষে তাদেরই পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক সন্ত্রাসী ও রানার সশস্ত্র ক্যাডার কবির গুলি করে ফারুক আহমেদকে হত্যা করে। এই হত্যার নেপথ্যে এমপি রানারা চার ভাই জড়িত ছিলেন বলে দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণে সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

চাঁদা না পেয়ে চা দোকানির গায়ে পুলিশের আগুন

চাঁদার টাকা না পেয়ে চা দোকানির গায়ে আগুন লাগিয়ে দিল পুলিশ, এমন অভিযোগ করেছেন দগ্ধ ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যরা। দগ্ধ চা দোকানি বাবুল মাতুব্বরকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। রাজধানীর শাহআলী থানাধীন গুদারাঘাটে এ ঘটনা ঘটে। শাহআলী থানা পুলিশের দাবি, পুলিশ নয় পুলিশের সোর্সের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে স্টোভের চুলা পড়ে গিয়ে আগুন ধরে যায়। এতে বাবুল মাতুব্বর দগ্ধ হন। বাবুল মাতুব্বরের ছেলে রাজু জানান, গুদারাঘাটে কিংশুক বহুমুখী সমিতির গেটের পাশে রাস্তায় বাবুল মাতুব্বরের চা দোকান। চুলা হিসেবে কেরোসিনের স্টোভ ব্যবহার করেন। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহআলী থানা পুলিশের একটি টহল টিম মাইক্রোবাসে তার দোকানে যায়। রাস্তায় দোকান বসানোর জন্য পুলিশ তার কাছে চাঁদা চায়। বার্ন ইউনিটে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসা নেয়ার সময় দগ্ধ বাবুল মাতুব্বর চিৎকার করে বলেন, আমি বলি টাকা দেব কেন? এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্ক হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠি দিয়ে স্টোভের চুলায় আঘাত করে। স্টোভের কেরোসিন ছিটকে তার গায়ে পড়ে আগুন ধরে যায়। দোকানেও আগুন লাগে। এতে তিনি দগ্ধ হন। বাবুলের পুত্রবধূ মনি আক্তার বলেন, যার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় তার গায়ে পুলিশের পোশাক দেখেছেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গাড়ি নিয়ে চলে যায়। শাহআলী থানার ওসি একেএম শাহীন মণ্ডল বলেন, বাবুল চা বিক্রির পাশাপাশি গাঁজা বিক্রি করে। রাতে থানার সোর্স দেলোয়ার ওই দোকানে যায়। তার সঙ্গে দেলোয়ারের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে স্টোভের চুলা পড়ে গিয়ে আগুন ধরে যায়। এ সময় দেলোয়ার পালিয়ে যায়। আগুনের খবর পেয়ে পরে পুলিশ সেখানে যায়। এর আগে পুলিশ সেখানে চাঁদার টাকা নিতে যায়নি বলে দাবি করেন ওসি।

কাদের সিদ্দিকীর রিট আবেদন খারিজ

কাদের সিদ্দিকী
টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপ-নির্বাচনে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোট।  বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো.আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চ এ রায় দেন। ৩১ জানুয়ারি একই বেঞ্চে এ রুলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে শুনানি করেন ড. মোহাম্মদ ইয়াসিন খান। কাদের সিদ্দিকীর পক্ষে ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী। রিট খারিজের মাধ্যমে ইসির সিদ্ধান্তই বহাল রইল বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতি) আসনে দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কাদের সিদ্দিকীর বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে ৩ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। এরপর গত বছরের ১০ নভেম্বর টাঙ্গাইল-৪ আসনে উপ-নির্বাচনের দিন ধার্য করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  অন্যদলের পাশাপাশি এতে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে কাদের সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
ঋণখেলাপের অভিযোগে গেল বছরের ১৩ অক্টোবর রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এরপর ১৬ অক্টোবর ‍এ দুই নেতা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল আবেদন করেন। ১৮ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন কাদের সিদ্দিকীর আপিল খারিজ করে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের চূড়ান্ত রায় দেন।
এরপর নির্বাচন কমিশনের বাতিল আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন কাদের সিদ্দিকী। এ রিটের শুনানি নিয়ে গত বছরের ২১ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের আদেশ স্থগিত ও কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে আদেশ দেন বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আদেশের বিষয়ে রুল জারি এবং রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশনের আদেশ স্থগিত করেন আদালত। পরে ২৬ অক্টোবর কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন জানান ইসির অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড ব্যারিস্টার ড. মো. ইয়াসিন খান। পরদিন ২৭ অক্টোবর আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালত টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপ-নির্বাচনই স্থগিত করে দেন। একইসঙ্গে ইসি’র আবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়ে ২ নভেম্বর এর শুনানির দিন ধার্য করে দেন।
২ নভেম্বর চেম্বার বিচারপতির দেয়া উপ-নির্বাচনের ওই স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত উপ-নির্বাচন স্থগিত রেখে এর মধ্যে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের জারি করা রুল বিচারপতি মো.আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে হাইকোর্ট বেঞ্চে নিষ্পত্তির আদেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।

আমরা চাই প্রতিটি শিশু স্কুলে যাবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা চাই প্রতিটি শিশু স্কুলে যাবে। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। এজন্য এখন আগের তুলনায় বেশি শিশু স্কুলে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ম শ্রেণিতে পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দিচ্ছি। মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিয়েছি। এতে একটা সুবিধা হয়েছে, আগে জীবনের প্রথম পরীক্ষা হিসেবে এসএসসি পরীক্ষা দিতে গেলে একটা ভয় কাজ করতো। এখন আর সেই ভয় নেই। বিএনপি-জামায়াত জোটের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা ক্ষমতায় আসলে স্বাক্ষরতার হার কমে যায়। আর আমরা ক্ষমতায় এসে সেটা বাড়ানোর চেষ্টা করি। ইতিমধ্যে পাশের ৯৮ হারের উপরে উঠেছে। সেজন্য আমরা আনন্দিত। ইনশাল্লাহ আমরা শতভাগ নিরক্ষতামুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে সক্ষম হবো।

হদিস নেই ২৮ আসামির

অবস্থান জানাতে পারেনি পুলিশ সদর দফতর * পরিবারের দাবি আসামিদের অনেকে প্রকাশ্যে ঘুরছে
চালঞ্চল্যকর চার হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ২৮ আসামি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারা কোথায়- জানে না আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা, রমনার বটমূল, ১০ ট্রাক অস্ত্র ও বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের সর্বশেষ অবস্থান জানাতে পুলিশকে ৭ কর্মদিবস সময় বেঁধে দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদের ‘অবস্থান এখনও শনাক্ত করা যায়নি’ উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। অথচ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি- আসামিদেও কেউ কেউ প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে, রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছে। কিন্তু আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের দেখছেন না। ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মারুফ হোসেন সরদার যুগান্তরকে বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর প্রশ্নই আসে না। তারা আত্মগোপনে রয়েছে। কোনো আসামি পুলিশের দৃষ্টিগোচর হলেই তাকে গ্রেফতার করা হবে।
সর্বশেষ ৩০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা মনিটরিং সেলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। একপর্যায়ে আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা, বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা, রমনা বটমূল এবং দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় বলা হয় চারটি মামলার মোট ২৮ আসামির খবর কেউ জানেন না। আলোচনার এক পর্যায়ে ২৮ পলাতক আসামির সর্বশেষ অবস্থা পরবর্তী সাত কর্মদিবসের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য পুলিশ সদর দফতরকে নির্দেশ দেয়া হয়।
জানা গেছে, এ নির্দেশের পর প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার ৯ জন, রমনার বটমূল মামলার ৪ জন, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার ২ জন এবং বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার ১৩ জন আসামির খোঁজ শুরু হয়। কিন্তু পুলিশ এদের সন্ধান পেতে ব্যর্থ হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের (সাত কর্মদিবস) অনেক পরে ২৫ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট জমা দেয় পুলিশ সদর দফতর। এতে আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার পলাতক খুনিদের বিষয়ে বলা হয়, এদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ কিছুই জানে না। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার দুই আসামির বিষয়ে রিপোর্টে বলা হয়, মামলার নথি হাইকোর্টে। বিধায় হাল নাগাদ তথ্য দেয়া সম্ভব হল না। নথি পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী অবহিত করা হবে। রমনা বটমূল মামলার আসামি সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি। বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আসামিদের বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। এই রিপোর্ট মনিটরিং সেলের আগামী সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। তবে কবে নাগাদ এ সভা অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা : ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অবরোধের মধ্যে পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি মিছিল থেকে জামায়াত-শিবির সন্দেহে দর্জি বিশ্বজিৎ দাসকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওইদিনই সূত্রাপুর থানায় মামলা হয়। মামলার রায় হয় ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর। এতে ৮ জনকে ফাঁসি ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ২১ আসামির সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী। বর্তমানে ৮ জন কারাগারে আটক রয়েছে। বাকি ১৩ জনের মধ্যে ফাঁসির আসামি রাজন তালুকদার ও মীর নূরে আলম লিমন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া খন্দকার ইউনুস আলী, তারিক বিন জোহর তমাল, আলাউদ্দিন, ওবায়দুল কাদের তাহসিন, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল-আমিন, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, কামরুল হাসান ও মোশাররফ হোসেন এখনও পলাতক। সূত্রমতে, খন্দকার ইউনুস আলী, তারেক বিন জোহর তমাল, ওবায়দুল কাদের, আজিজুর রহমান, মীর নূরে আলম লিমন, আল আমিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, কামরুল হাসান ও মোশারফ হোসেন পুরান ঢাকায় অনেকটা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। রাজন তালুকদার এখন কলকাতায় অবস্থান করছেন। তবে রাজন মাঝে মধ্যেই ঢাকায় আসছেন। ইমরান, পাভেল ও আলাউদ্দিনসহ কয়েকজন রাজধানীর দয়াগঞ্জ এলাকায় বসবাস করছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, গত তিন মাসে ফাঁসির আসামি রাজন তালুকদারকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দু’বার দেখা গেছে। এর মধ্যে মাসখানেক আগে সন্ধ্যায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বন্ধুদের সঙ্গে তাকে দেখা গেছে। আনুমানিক তিন মাস আগে রাত ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে তাকে চা খেতে দেখা যায়। লিমনকেও একই এলাকায় দেড় মাস আগে কয়েকবার দেখা গেছে বলে তারা জানিয়েছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফুটপাতে এক সময় ব্যবসা করতেন এমন একজন ব্যবসায়ী যুগান্তরকে জানান, তিনি দেড় মাস আগে পাভেলকে রাজধানী সুপার মার্কেটের সামনে মোটরসাইকেলে দাঁড়িয়ে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখেছেন।
বিশ্বজিতের পিতা অনন্ত চন্দ্র দাস যুগান্তরের কাছে দাবি করেছেন, তার ছেলের খুনিরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেক সাংবাদিক তাকে ফোন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, ‘হ্যারা (আসামিরা) করে সরকারি দল। এ কারণে তারা বাইরে ঘুরতে পারতাছে। অনেকে আমারে ফোন করে জানাইছে তারা (আসামিরা) ঘুরে, মিটিংয়ে যায়। এমনিতে আমরা সংখ্যালঘু, এহন সরকারের বিরুদ্ধে কিছু কইতে পারুম না, করতেও পারমু না, এহন আল্লার ওপর ভরসা। এছাড়া আমগো করার কিছু নাই।’
আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা : সন্ত্রাসীরা ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীর নোয়াগাঁও এমএ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় প্রকাশ্য দিবালোকে ব্রাশফায়ারে প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করে। ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার আইনে এ হত্যা মামলার রায় হয়। রায়ে প্রধান আসামি নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে ফাঁসি ও ৬ জনকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়া হয়। প্রধান আসামিসহ ১৭ জন বন্দি রয়েছে। ইতিমধ্যে আসামি রতন মিয়া ও আল আমিন মৃত্যুবরণ করেছে। বাকি ৯ জনের মধ্যে নুরুল ইসলাম দিপু, অহেদুল ইসলাম টিপু, আনোয়ার হোসেন আনু, খোকন, ফয়সাল, সৈয়দ আহম্মেদ মজনু, জাহাঙ্গীর, বুলু, মিরপুরের মশিউর রহমান ভারত, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছে। তবে পুলিশ সদর দফতরের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘পলাতকদের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়নি।’
আহসানউল্লাহ মাস্টারের জ্যেষ্ঠপুত্র যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি গাজীপুর-২ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘শুনেছি দিপু ও টিপু বেলজিয়ামে আবার কেউ কেউ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে রয়েছে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এখনও আমার দাদি ও মা বেঁচে আছেন। বাবাকে আর কোনোদিন ফিরে পাব না, কিন্তু আমরা খুনিদের শাস্তি দেখতে চাই। কূটনৈতিক চ্যানেলে খুনিদেও দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি নিশ্চিত করাই আমাদের দাবি।’
রমনা বটমূল মামলা : প্রায় ১৫ বছর আগে রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখে (২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল) বোমা হামলার ঘটনায় ওই দিনই মামলা হয়। বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে সিআইডি পুলিশ। মামলার মোট ১৪ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নানসহ ১০ জন বর্তমানে আটক রয়েছে। মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মুফতি শফিকুর রহমান ও মুফতি আবদুল হাই এখনও পলাতক রয়েছেন।
১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা : ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) সংরক্ষিত জেটি ঘাটে মাছ ধরার ট্রলার থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র নামিয়ে ট্রাকে তোলার সময় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমভি শাহ আলম ও এমভি খাজার দান নামে দুটি ফিশিং ট্রলার থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।
অস্ত্র আটকের ১ দিন পর ৩ এপ্রিল কর্ণফুলী থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১ এবং ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনে অপর ১ মামলা করা হয়। এতে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপি নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত শিল্প সচিব নুরুল আমিনসহ দুটি মামলায় ৫২ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডসহ নানা মেয়াদে সাজা দেয় আদালত। বর্তমানে মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৪ জন আটক রয়েছেন। তবে উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত শিল্প সচিব নুরুল আমিন মামলার রায় ঘোষণার সময় পলাতক ছিলেন। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিআইডি পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে মামলার মূল নথি হাইকোর্টে থাকায় পলাতক আসামিদের হালনাগাদ তথ্য পাঠানো সম্ভব হল না। নথি পাওয়া সাপেক্ষে তথ্য অবহিত করা হবে।’

জেলা-উপজেলায় স্বল্প মূল্যের ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে

আবাসন সমস্যা সমাধানে জেলা ও উপজেলায় সরকার বহুতল ভবন ও ফ্ল্যাট নির্মাণ করছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি জানান, 'পল্লী জনপদ' কর্মসূচির আওতায় স্বল্প মূল্যের ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় তিনটি জেলা শহরে বস্তিবাসীদের আবাসন তৈরির লক্ষ্যে একটি সমীক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শিগগিরই শুরু হবে।
তিনি বলেন, আগামীতে সরকারের অর্থায়নে ঢাকার মিরপুরে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ৫৫৫ বর্গফুট আয়তনের ৬৪৮টি ফ্ল্যাট তৈরির পরিকল্পনা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকার আজিমপুর কলোনিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০তলা বিশিষ্ট সাতটি ভবনে (তিনটি ভবনে ১ হাজার বর্গফুটের ১৫২টি ও চারটি ভবনে ৮শ' বর্গফুটের ৩০৪টি) মোট ৪৫৬টি ফ্ল্যাটের কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকার মতিঝিল কলোনীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০তলা বিশিষ্ট চারটি ভবনে (৬৫০ বর্গফুট আয়তনের) ৫৩২টি ফ্ল্যাটের কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম শহরে পরিত্যক্ত বাড়িতে ২৫০ বর্গফুট আয়তনের ৮০টি ডরমিটরি রুম। গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-৮ এর ক্যাম্পাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৮শ' বর্গফুটের ১৫০টি, ৬৫০ বর্গফুটের ৭২টি এবং ১ হাজার বর্গফুটের ৬৬টি মোট ২৮৮টি ফ্ল্যাটের অনুমোদন পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকার মালিবাগে আবুজর গিফারী কলেজ সংলগ্ন গণপূর্ত অধিদফতরের জমিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৮শ' বর্গফুটের ২২৮টি এবং ৬৫০ বর্গফুটের ২২৮টি মোট ৪৫৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণের অনুমোদন রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এছাড়া নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ১ হাজার বর্গফুটের ১৫৬টি, ৮শ' বর্গফুটের ১৫৬টি ও ৬৫০ বর্গফুটের ১৫৬টি মোট ৪৬৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণের অনুমোদন রয়েছে।

করপোরেট কর সহনীয় পর্যায়ে আনা হবে : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য করপোরেট কর সহনীয় পর্যায়ে আনা হবে। এ কর বর্তমানে ৩৫ শতাংশ। রোববার দুপুরে সচিবালয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। এর আগে অর্থমন্ত্রী তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও নিট পোশাক রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, '২০১৩-১৪ অর্থবছরে করপোরেট কর ছিল ১০ শতাংশ। ১৪-১৫ অর্থবছরে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়। ব্যবসায়ীরা ৩৫ শতাংশ কর দিতে আপত্তি জানিয়েছেন। তাই এ কর কমানোর আশ্বাস দিয়েছি।'
আবদুল মুহিত বলেন, ' কর কমানোর প্রস্তাব নিয়ে আমরা শিগগিরই একটি বৈঠক করব। বৈঠকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা থাকবেন। এতে একটি সুপারিশ করা হবে। পরে মন্ত্রিসভায় তা উত্থাপন করা হবে। ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তা পার্লামেন্টে উত্থাপন হতে পারে।'
বৈঠক শেষে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, 'সরকার আমাদের যে প্রণোদনা দেয়, তা অডিট করা হয়। এতে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হন। তাই অডিট উঠিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছি।'
তবে অডিটের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী কোন আশ্বাস দিতে পারেননি। এসময় দেশের স্বার্থে ব্যবসায়ীদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবসায়ীদের অনেক ব্যয় করতে হচ্ছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের দাম কিছুটা কমেছে।

বাণিজ্য মেলায় ২৩৫ কোটির টাকার রফতানি আদেশ

২১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ২৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার রফতানি আদেশ পাওয়া গেছে। যা গত বছর ছিল ৯৫ কোটি টাকা। রোববার বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এসব তথ্য জানান।রফতানি আদেশ পাওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক্স এন্ড হোম এপ্লায়েন্স, বহুমুখী পাট পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, হ্যান্ডলুম ও হস্তশিল্পজাত পণ্য এবং হোম টেক্সটাইল।  বাণিজ্য মন্ত্রী জানান, মেলায় ১২১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ০২ কোটি টাকা বেশি। মেলায় প্যাভিলিয়ন ও স্টল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা বেশি।  
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাণিজ্য ও বিনোদনের জন্য বাণিজ্য মেলা সব শ্রেণির মানুষের কাছে সমাদৃত হয়েছে। জেলা-উপজেলা পর্যায় থেকে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা মেলায় এসেছেন।  
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। আর ক্রয়ক্ষমতার দিক থেকে ৩৩তম। এতেই প্রমাণিত হয়, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তারপরও অনেক বাধা আছে। কিন্তু কোনো বাধাই অগ্রযাত্রাকে আটকে রাখতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা রয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬ বিলিয়ন হয়ে গেছে। চলতি অর্থবছরে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মাফরূহা সুলতানা। এতে বিশেষ অথিতি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম, বাণিজ্য সচিব হোদায়েতুল্লাহ আল মামুন ও এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। 
অনুষ্ঠানে ১৪টি ক্যাটাগরিতে ৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।

এডিবির ১২৪ কোটি টাকা ফেরত

অর্থ ব্যয়ে অক্ষমতায় দাতা সংস্থার সহায়তায় বাস্তবায়িত প্রকল্প থেকে অর্থ ফেরত দেয়া হচ্ছে। এর আগে এডিবি একাধিক প্রকল্প থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদে অর্থ ব্যয় করতে না পারায় অর্থ প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছে। এবার তিতাস গ্যাস ফিল্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প থেকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ১২৪ কোটি টাকা ফেরত যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ ব্যয় করতে না পারা ও ব্যয় জটিলতার অজুহাতে প্রকল্পটি সময়মতো সম্পন্ন হয়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. আলী মোক্তেজার রোববার যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্পের আওতায় কূপ ওয়ার্কওভারসংক্রান্ত কম্পোনেন্ট বাতিল করে নিজস্ব অর্থায়নে আরেকটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। মূলত এডিবির অর্থ ব্যবহারে কঠিন শর্তের কারণে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যদিও এটি আমাদের প্রয়োজন। এজন্য জটিলতায় না গিয়ে নতুন প্রকল্প নেয়া হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত পণ্য সামগ্রীর ওপর ভ্যাট ও কর হার বেড়ে যাওয়ায় দেশী অর্থায়ন থেকে ব্যয় বাড়ছে।
জানতে চাইলে এডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এ প্রকল্পে সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হচ্ছে। ঋণ চুক্তির ৫ বছর পর জটিলতার কথা বলা অবান্তর। তবে ঋণ নেয়া ছাড়াই যদি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পাদন করা যায়- সেটা ভালো। তিনি বলেন, অর্থায়ণকৃত সব প্রকল্পেই সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কিছু তদারকি করতে হয়। এটি মেনে নিয়েই অর্থ ব্যয় করতে হবে। এডিবির অর্থ সহায়তায় ২০১০ সালে ‘তিতাস গ্যাস ফিল্ডে উদগীরণ নিয়ন্ত্রণ এবং ফিল্ডের মূল্যায়ন ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে প্রকল্পটি ২০১৪ সালের জুন মাস নাগাদ শেষ করার লক্ষ্য ছিল। পরে আরও এক বছরের মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতেও প্রকল্পের খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। এই প্রকল্পে এডিবি ৮১০ কোটি টাকার সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার প্রতিশ্র“তি দেয়। কিন্তু সময়মতো অর্থ ব্যয়ে করতে না পারায় এখন প্রকল্প থেকে ১২৪ কোটি টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও দেশীয় অর্থায়ন থেকে প্রকল্পের ৩৩ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সংশোধিত মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৯০৯ কোটি ৩০ লাখ টাকায়।
পেট্রোবাংলার আওতাধীন বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় অনুমোদনে পাঠানো প্রস্তাবে ২০১৭ সালের জুন নাগাদ মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে জটিলতার বিষয়টি মানতে নারাজ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একাধিক কর্মকর্তার মতে, প্রকল্প অনুমোদনের আগেই শর্ত নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা হয়। এ জন্য ৫ বছর পর এসে এ ধরনের কথা বলা মূলত অক্ষমতা ছাড়া কিছু না।
পরিকল্পনা কমিশন বলছে, বৈদেশিক আশীর্বাদপুষ্ট এই প্রকল্পে নিয়োজিত পরামর্শকের সুপারিশ, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ও ইআরডির অনুমতি ছাড়াই এর একটি কম্পোনেন্ট (৫টি কূপ ওয়ার্কওভার) বাতিল করে নতুন প্রকল্প কিভাবে নেয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া নতুন করে ৪টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত কোন প্রতিবেদনের আলোকে নেয়া হয়েছে তাও জানানোর কথা বলেছে কমিশন। বিজিএফসিএল প্রস্তাবনায় ব্যয় সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, উদগীরণ এলাকায় কূপগুলোর ওয়ার্কওভার অংশ বাতিল, স্পিড বোর্ড, জেটি বা ঘাট নির্মাণ ও নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ না করা, অধিগ্রহণকৃত জমিতে নির্মিত ওয়াল রক্ষায় মাস্টার ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, অনুমোদিত ৪টি কূপ খননের জন্য রিগ ফাউন্ডেশন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, খননসংক্রান্ত মালামাল ক্রয়ে ব্যয় সংস্থান করতে হবে। এছাড়া সরকারের ভ্যাট ও কর হারে পরিবর্তনের ফলে ব্যয় বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে তিন ডেপুটি গভর্নরের মেয়াদ বাড়বে

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন ডেপুটি গভর্নরের চাকরির মেয়াদ বাড়বে। অবসর নেয়ায় তারা ফের নিয়োগ পাচ্ছেন। সোমবার সচিবালয়ে ভুটানের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ চারটি। এখন কর্মরত আছেন একজন। তার নাম আবুল কাসেম। যে তিন ডেপুটি গভর্নরকে ফের নিয়োগ দেয়া হবে তারা হলেন- এস কে সুর চৌধুরী, নাজনীন সুলতানা, আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। বাংলাদেশ ব্যাংকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে জানাতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘গভর্নর, ডেপুটি গভর্নরের নিয়োগ চুক্তিভিত্তিকই হয়। এটাই ভালো।’

কালোজিরাই এখন কৃষকের ‘কালো সোনা’

মাদারীপুরের কৃষকদের মুখে হাসি এনে দিচ্ছে ‘কালোজিরা’। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ছয় গুণ বেশি জমিতে এ বছর চাষ হয়েছে ‘কালো সোনা’ খ্যাত স্থানীয় জাতের এই কালোজিরা। কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকদের কম খরচে বেশি মুনাফা লাভের জন্য মসলাজাতীয় ফসল উৎপাদনে উদ্বুদ্ধকরণই এ সফলতার উৎস। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের ৪টি উপজেলাতে চলতি বছর মাত্র ৫৯১ হেক্টর জমিতে মসলাজাতীয় ফসল কালোজিরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু অল্প পুঁজি বিনিয়োগে অধিক পরিমাণ মুনাফা হওয়ায় জেলায় তিন হাজার ৮১১ হেক্টর জমিতে স্থানীয় উন্নত জাতের কালোজিরা চাষ করা হয়েছে। যার মধ্যে মাদারীপুর সদরে এক হাজার ৩০ হেক্টর, কালকিনিতে ৮৫ হেক্টর, রাজৈরে ৪৯৬ হেক্টর এবং শিবচরে ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। সরেজমিনে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছর আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে, তবে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন তারা। বর্তমান বাজারমূল্যে বিঘাপ্রতি (৩ একর) এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভের মুখ দেখবেন কৃষকরা। মাদারীপুর সদর উপজেলার অ্যাওজ গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সাত্তার বেপারী বলেন, ‘আমি এ বছর এক বিঘা জমিতে কালোজিরা চাষ করেছি। জিরা খুব ভালো হয়েছে। আশা করছি, প্রায় ছয় মণ জিরা উৎপাদন হবে। বর্তমান বাজারমূল্য যদি থাকে, তাহলে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা মুনাফা ঘরে তুলতে পারব।’
একই ধরনের কথার সঙ্গে আরও যোগ করে কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েত নগর গ্রামের আবুল কালাম ও শিবচরের ভাণ্ডারিকান্দি গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, ‘কালোজিরার বাজারে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এই কালোজিরা আমাদের কাছে কালো সোনার মতন।’
অ্যাওজ গ্রামের কালোজিরা চাষী সিদ্দিক সরদার বললেন, ‘আমাদের আবহাওয়া জিরা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এ বছর বাম্পার ফলনের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। আগামীতে আমি দ্বিগুণ জমিতে কালোজিরা চাষ করব।’
তবে মাদারীপুর কৃষি কর্মকর্তা আবদুল কাদের সরদার বলছেন, ‘কৃষকদের মাঝে কম খরচে বেশি মুনাফা লাভের জন্য বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণে কালোজিরার মতো মসলাজাতীয় ফসল চাষে উদ্বুদ্ধকরণ করা হয়েছে বলেই এ বছর মাদারীপুরের কৃষকরা ব্যাপক হারে কালোজিরা চাষ করেছেন।’ তিনি বলেন, মাদারীপুরের আবহাওয়া কালোজিরা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আগামী দিনে এই কালোজিরা মাদারীপুরের কালো সোনা নামে চিহ্নিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জুলাই থেকে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন

আগামী জুলাই থেকে করদাতাদের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে জমা দেয়া যাবে। জমা দেয়া রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্রও পাওয়া যাবে। মঙ্গলবার রাজধানীর রাজস্ব ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোকে দক্ষ ও সক্ষম করে তুলতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজই আনুষ্ঠানিকভাবে কর অফিসগুলোকে কম্পিউটার যন্ত্রাংশ বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আয়কর বিভাগে বাস্তবায়নাধীন 'স্ট্রেংদেনিং গভার্নেন্স ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট' নামের এ প্রকল্পের মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ছাড়াও ই-পেমেন্টের মাধ্যমে অনলাইনে কর প্রদান, ই-টিআটএন নিবন্ধন, বিভিন্ন ডাটাবেজ ও রিপোর্ট জেনারেট করা যাবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, সরকারের রাজনৈতিক নির্দেশনার অংশ হিসেবে এনবিআরের ডিজিটালাইজেশন এগিয়ে যাচ্ছে। তবে জুলাইয়ের আগেই যাতে এ প্রকল্পের প্রস্তুতির যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায় সেটি খেয়াল রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনী সম্পন্ন করা, ই-টিআইএন ও ই-পেমেন্ট পদ্ধতিকে সব সময় সচল রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক ও এনবিআর সদস্য কালিপদ হালদার বলেন, নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ কার্যক্রমটি অবশেষে সফলতার মুখ দেখছে। এটি পুরোদমে চালু হলে এনবিআরের কার্যক্রম স্বচ্ছতা আসবে। ফলে নানা রকম যৌক্তিক কিংবা অযৌক্তিক প্রশ্ন থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে।

চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি অর্থবছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। গত নভেম্বরে সংস্থাটির আর্টিকেল-ফোর মিশন জানিয়েছিল, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। সোমবার রাতে ওই মিশনেরই রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে আইএমএফের পূর্বাভাসের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, চলতি অর্থবছর বাজেটের যে লক্ষ্যমাত্রা তা অবশ্যই অর্জিত হবে। চলতি বছরের ৬ মাসে যে অর্জন তা থেকেই অনেকটা বোঝা যাচ্ছে। তিনি বলেন, পরিসংখ্যানগত সব তথ্যের মালিক আমি (কামাল)। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক তিন মাস পরপরই তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। এগুলো আসলে তারা কোন তথ্যের ভিত্তিতে করে জানি না। তবে যে যাই বলুক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ অর্জিত হবেই।
আইএমএফ অবশ্য আগামী অর্থবছর প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হবে বলে মনে করছে। সাধারণত আইএমএফ দু’বছরে একবার কোনো দেশের ওপর আর্টিকেল-ফোর পর্যালোচনা করে। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পর বাংলাদেশের ওপর সর্বশেষ পর্যালোচনা রিপোর্টটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্টে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ে তাদের পূর্বাভাস সংশোধন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছর বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়াবে বলে ধারণা সংস্থাটির। আগে তাদের পূর্বাভাস ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধিসহ কিছু কারণে আইএমএফ মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস কিছুটা বাড়িয়েছে। আইএমএফ বলেছে, কয়েক মাসের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের দুর্বল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তারা প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অবকাঠামো সংকট এবং আর্থিক খাতে দুর্বল অবস্থাকে প্রবৃদ্ধির পথে মূল চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। তাদের রিপোর্টে বাংলাদেশ সরকারের মতামতও রয়েছে। সরকার মনে করে, আইএমএফের পর্যবেক্ষণ রক্ষণশীল। রফতানি ও রেমিটেন্সে ধীরগতি এবং অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ তেমন চাঙ্গা না হলেও সরকার নিদেনপক্ষে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির।
আইএমএফ মনে করে, ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংঘাত কমেছে। কিন্তু রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল ২০১৪ সালের নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এ ছাড়া যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কয়েকজন বিরোধী রাজনৈতিক নেতার সাজা হয়েছে। এসব কারণে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হতে পারে। আইএমএফের মতে, ঋণ, বিনিয়োগ ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির পথে অন্যতম বাধা হল আর্থিক খাতের দুর্বলতা। ২০১২ সালের শেষ থেকে ব্যাংকিং খাতে বিশেষত সরকারি ব্যাংকে সম্পদের গুণগত মান, মুনাফাশীলতা ও মূলধন পর্যাপ্ততার অবনতি হচ্ছে।

সোনালী-বেসিক ঠিক করতে বেগ পেতে হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও বেসিক ব্যাংকে আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন-২০১৬'র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে বড় ধরনের ডাকাতি ও জালিয়াতি হয়েছে। বেসিক ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা লুট করার চেষ্টা করেছে। ব্যাংক দুটি ঠিক করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। এ দুরাবস্থা কাটিয়ে ওঠতে সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।
ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেনি জানিয়ে মুহিত বলেন, 'অনেকে বলে দেশে ব্যাংক বেশি হয়ে গেছে। কিন্তু, ১৬ কোটি মানুষের দেশে ব্যাংকের ৯ হাজার শাখা তেমন কিছুই না।'
মন্ত্রী বলেন, দেশে ৫৬টি ব্যাংক থাকলেও ব্যাংকিং সেবা এখনো মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেনি। আর্থিকভাবে দেশকে স্বাবলম্বী করতে হলে সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা সব মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।
জনতা ব্যাংক সম্পর্কে তিনি বলেন, আর্থিক সূচকে জনতা ব্যাংক অন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর থেকে যথেষ্ট ভালো করছে। ভালো মুনাফা অর্জন করছে।
অনুষ্ঠানে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আব্দুস সালাম ব্যাংকের আর্থিক সূচক তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন।
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ ওয়াহিদ উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এস আসলাম আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লেবানন ছেড়ে দিল ইসরায়েলি 'গুপ্তচর শকুন'

একটি বিশালাকৃতির শকুন 'ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছে' - এই অভিযোগে তাকে ক'দিন আটকে রাখার পর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দিয়েছে লেবানন। সন্দেহের কারণ, শকুনটির লেজে একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র লাগানো ছিল। শকুনটির আকৃতি বিশাল। তার পাখার বিস্তার ৬ ফিট ৫ ইঞ্চি। একটি ইসরায়েলি অভয়ারণ্য থেকে শকুনটি উড়ে লেবাননের সীমান্ত পেরিয়ে একটি গ্রামে ঢুকে পড়ার পর গ্রামবাসী তাকে ধরে ফেলে। বিবিসির খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের প্রকৃতিতে এই প্রিফন জাতীয় শকুন ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় স্পেন থেকে এই শকুনটি কেনা হয়েছিল। তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয় এর অবস্থান চিহ্নিত করার জন্য তার লেজে একটি ট্র্যাকিং ডিভাইস লাগিয়ে দেয়। মাসখানেক আগে তাকে ইসরায়েল অধিকৃত গোলান মালভূমি এলাকার অভয়ারণ্যে উন্মুক্ত পরিবেশে ছেড়ে দেয়া হয়। ইসরায়েলি বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ লেবানেন কর্মকর্তাদের সহায়তায় এটিকে অভয়ারণ্যে ফিরিয়ে এনেছে। এর আগেও ইসরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মনে করে শকুন আটকের ঘটনা ঘটেছে। ২০১১ সালের সউদি আরবের মরু শহর হাইয়াল-এ আরেকটি শকুন ধরা হয়েছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ শকুন দিয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।