Friday, January 29, 2016

নীরব দর্শক জামায়াত

দৃশ্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় আছে জামায়াত। চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একেবারেই নীরব-নিষ্ক্রিয় রয়েছে ২০ দলের শরিক দলটি । সাম্প্রতিক পৌরসভা নির্বাচনের সময় থেকে শুরু হয় তাদের এই নীরবতা। পৌর নির্বাচনের পরও সেই একাকীত্বই বজায় রেখে চলছে জামায়াত। জোটের প্রধান শরিক বিএনপিসহ কারো সঙ্গেই যোগাযোগ নেই তাদের। তবে কী কারণে হঠাৎ জামায়াতের এই নীরবতা, একলা চলা এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে নানা মনে নানা জনে। শেষ পর্যন্ত দলটি ২০ দলীয় জোটে থাকবে কি না, নাকি ইসলামী ঐক্যজোটের পথ ধরবে এমন আলোচনা পর্যালোচনাও আছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিষয়টি স্বীকার করে দলের মাঠ পর্যায়ের এক তরুণ নেতা বলেন, নানা কারণে জামায়াত নীরব রয়েছে। প্রথমত গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকা। এরপর রয়েছে বিশ্বাস-অবিশ্বাস এবং আন্তরিকতা নিয়ে জোটের সঙ্গে মান-অভিমান। তবে বছরের শুরুতে সাংগঠনিক ‘সেটআপ’ তৈরির কাজ নিয়েও খানিকটা ব্যস্ত আছেন দায়িত্বশীলরা। পাশাপাশি চলমান প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি পর্যক্ষেণও করছেন তারা। প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করেছেন দলটির থানা পর্যায়ের আরেক এক তরুণ সদস্য। তিনি বলেন, সক্রিয় হলে বলা হয় জামায়াতের তাণ্ডব। চুপ থাকলে বলা হয় রহস্যজনক নীরবতা, তা হলে আমরা করবোটা কি? তার মতে জামায়াত তার নিজস্ব গতি এবং কর্মসূচিতে সচল আছে। তবে পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে এ মুহূর্তে দলের নীতি-নির্ধারকরা খানিকটা পর্যবেক্ষণে আছেন বলা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ৬ই জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহালের রায় ঘোষণা দেয়। এর প্রতিবাদে ৭ই জানুয়ারি সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় তারা। নামকাওয়াস্তে সেই কর্মসূচি পালন করলেও তারপর থেকে জামায়াতের কোন সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না। চলমান ইস্যুতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তি-বিবৃতির সংখ্যাও বেশ কম দেখা যাচ্ছে। সূত্রমতে, পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে বেশ গোপনীয়তা রক্ষা করে চলে জামায়াত। ওই নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ে জোটের প্রধান শরিক বিএনপি’র সঙ্গে সমঝোতা হয়েও হয়নি। ১৩ই ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারেরর শেষদিন বিএনপি প্রার্থীদের সমর্থনে ৬ পৌরসভায় মেয়র পদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে জামায়াত। কিন্তু পরবর্তীতে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়নি। পৌর নির্বাচনের করণীয় ঠিক করতে ১৯শে ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক ডাকা হয়েছিল। তবে ওই বৈঠকে জামায়াতের কোন প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। ওই বৈঠক সম্পর্কে জামায়াতকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ ছিল তাদের। ফলে ৩০শে ডিসেম্বর পৌর নির্বাচনে ৩৫ পৌরসভায় মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে তারা। ওই নির্বাচনে দু’টি মেয়র পদ এবং ৬৭টি কাউন্সিল ও ১২ সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে জয় লাভ করে জামায়াত। এদিকে পৌর নির্বাচনের রেশ না কাটতে ৫ই জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনকে সামনে এনে মাঠে সক্রিয় হয় আওয়ামী লীগ-বিএনপি। ওইদিন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামে প্রধান এই দুটি দল। এ উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে বিএনপি। এক্ষেত্রেও দূরত্বে ছিল জামায়াত। ওদিন বিএনপি’র সমাবেশে জামায়াতের অনুপস্থিতি ২০ দলীয় জোট নিয়ে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করে। যদিও ওটা বিএনপি’র দলীয় সমাবেশ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তবে ৪ঠা জানুয়ারি জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ৫ই জানুয়ারিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দেন। তিনি অবিলম্বে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান। ওদিকে গত ৭ই জানুয়ারি আকস্মিক জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয় ইসলামী ঐক্যজোট। এরপরই জামায়াতকে ঘিরে নানা গুঞ্জন এবং সমালোচনা জোরালো হয়। এরই মধ্যে ১৭ই জানুয়ারি জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করে সরকার। অপরদিকে ইউপি নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনে। প্রধান বিচারপতির একটি বক্তব্য নিয়ে বিতর্কে জড়ায় আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। এই ইস্যুর রেশ না কাটতে শুরু হয় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরাশাদ এবং রওশন এরশাদের নাটকীয় লড়াই। কিন্তু রাজনৈতিক ময়দানে এমন সব বহুমুখী তৎপরতায়ও জামায়াতের নীরবতা ভাঙছে না। তাদের নিঃশব্দ পথচলা অনেক কৌতূহলের জন্ম দিচ্ছে।

No comments:

Post a Comment