Friday, January 29, 2016

কক্সবাজার স্টেডিয়ামে বঞ্চিত সাধারণ দর্শকরা

কাক ডাকা ভোর থেকেই কক্সবাজারের রাস্তায় বিজিবির টহল। স্টেডিয়াম এলাকাতে নেয়া হয় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, দাঙ্গা পুলিশসহ র‌্যাবতো আছেই মোড়ে মোড়ে। পর্যটন মওসুম হওয়াতে গোটা কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড়। নিরাপত্তা তল্লাশি থেকে বাদ যাননি তারাও। ৩১শে জানুয়ারি বাংলাদেশ
 অনূর্ধ্ব-১৯ দল গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ডের। আজ অবশ্য বাংলাদেশের গ্রুপে থাকা দুই দল স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া মুখোমুখি হবে তাদের প্রথম লড়াইয়ে। প্লেট পর্বের ৮ দলও খেলবে কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মাঠে। কিন্তু এখানে খেলা দেখতে পারবেন না সাধারণ দর্শকরা।  আজ উদ্বোধনী ম্যাচেতো নয়ই, এমনকি এখানে বাংলাদেশের দুটি ম্যাচেও স্টেডিয়ামে সরাসরি খেলা দেখায় বঞ্চিত থাকবেন সাধারণ দর্শকরা। কারণ এখানে থাকছে নিরাপত্তা নিয়ে চরম সতর্কতা। সাধারণ দর্শকদের জন্য টিকিট ছাড়া হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই মাঠে সবগুলো ম্যাচে খেলা দেখতে পারবেন শুধু আমন্ত্রিত দর্শকরাই। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার স্টেডিয়ামের  ভেন্যু ম্যানেজার রতন কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘স্টেডিয়ামটির  কোন গ্যালারি নেই। একটি ছোট গ্যালারি  থাকলেও চারপাশ ফাঁকা। খেলা দেখার সুযোগ থাকছে শুধু গুটিকয়েক দর্শকের। মাঠের চার পাশে নিরাপত্তা বেস্টনিও নেই যে কারণে আমরা সাধারণ দর্শকদের মাঠে প্রবেশ করতে দিতে পারবো না। পুরোটাই করা হচ্ছে নিরাপত্তার কারণে।’
বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে এমন শঙ্কায় অনূর্ধ্ব-১৯  বিশ্বকাপের আগে  ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আসর থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। তবে আইসিসি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও আয়োজনে আস্থা রেখে অস্ট্রেলিয়ার পরিবর্তে শেষ মুহূর্তে সুযোগ দেয় আয়ারল্যান্ডকে। আর সে কারণেই যেসব বিভাগে ও জেলাতে নিরাপত্তার সামান্যতম শঙ্কা রয়েছে সেখানেই দেখা যাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর হতে। কক্সবাজারে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অবশ্য বড় কারণ এই স্টেডিয়ামের অবকাঠামো না থাকা। ২০১৪ সালে বিসিবি ২৫ কোটি টাকা পেয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য মাঠটি প্রস্তুত করেছিল সাদামাটাভাবেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইসিসি ছাড়পত্র না দেয়াতে এখানে মহিলা বিশ্বকাপ হওয়ার কথা থাকলেও তা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।  পরে অবশ্য  এটা ভেঙে নতুনভাবে আন্তর্জাতিক মানের একটি স্টেডিয়াম বানানোর কথা ছিল। কিন্তু গত দুই বছরে সেটিরও উদ্যোগ নেয়া হয়নি। মূল  স্টেডিয়াম নির্মাণের আগেই এর জমি নিয়ে সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে ঝামেলা ছিল। জানা যায়, একটি পাঁচ তারা হোটেল বানানোর জন্য এই জমি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দিয়েছিল সিভিল এভিয়েশন। তাই এখনও নিশ্চিত নয় শেষ পর্যন্ত সাগরের কোল ঘেঁষে এই স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা সম্ভব কিনা!
গতকাল কক্সবাজার স্টেডিয়াম ঘুরে দেখা যায়  সেখানে দর্শকদের বসার জন্য বাঁশের সামিয়ানা টানানো হয়েছে। সেখানে বসবেন শুধু মাত্র বিসিবি ও আইসিসির আমন্ত্রিত অতিথিরাই। ভেন্যু ম্যানেজার রতন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘মাঠ এখন খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। উইকেট খুব ভালো আছে।’ গতকাল সকালে এখানে অনুশীলন সেরে নেয় স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া দল। এরপর দুপুরে সেখানে অনুশীলন নামে দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলও। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দল গতকালই চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে পৌঁছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া বাংলাদেশ দল গতকাল  কাটিয়েছে বিশ্রামে।

No comments:

Post a Comment