‘স্যার আমারে বাঁচান, আমার জন্য যা করতাছেন, আমি জীবনেও ভুলুম না।’
গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দেখে ফুপিয়ে
কেঁদে ওঠেন গাছ মানব আবুল। তার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু।
ছেলের কান্না দেখে কাঁদতে শুরু করেন মা আমেনা বিবি ও স্ত্রী হালিমা। তৈরি
হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। ‘গাছ মানব’ আবুল বাজেদারের চিকিৎসার খোঁজ নিতে
হাসপাতালে গেলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের দিকে
তাকিয়ে আবুল এসব কথা বলেন। মন্ত্রী ঢামেকের বার্ন ইউনিটে আবুলের কক্ষে
প্রবেশ করলে এমন দৃশ্যের অবতারণা হয়। আবুলের মা মন্ত্রীর হাত ধরে বলতে
থাকেন- ‘আমার বাবারে ভাল কইরা দেন।’ এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাদের আশ্বাস
দিয়ে বলেন, চিন্তা করবে না, তোমার জন্য প্রধানমন্ত্রী আছে। তিনি আমাকে
পাঠিয়েছেন, তোমার জন্য সব কিছু ব্যবস্থা করতে। এরপর মন্ত্রী উপস্থিত
সাংবাদিকদের জানান, বিরল রোগে আক্রান্ত ‘গাছ মানব’ আবুলের চিকিৎসার সব খরচ
সরকার বহন করবে। তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে বাড়ি পাঠানো হবে। আমরা তাকে
স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি। হাসপাতালের চিকিৎসকরাও তাকে
বাঁচানোর চেষ্টা করছে। এ রোগের ব্যাপারে দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের কাছ থেকে
তথ্য সংগ্রহ করে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেবেন। এদিকে, বিরল রোগে আক্রান্ত
খুলনার দরিদ্র যুবক আবুলকে নিয়ে দেশ বিদেশের ডাক্তার, নার্স, গণমাধ্যম
কর্মীসহ অসংখ্য মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। কেমন আছে সেই গাছ মানব, ডাক্তাররা
কী তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন, পরীক্ষার ফলাফলে কী পাওয়া গেছে,
বায়োপসি কি করা হয়েছে, রিপোর্ট কি বিদেশে পাঠানো হয়েছে এমন বিভিন্ন প্রশ্ন
ঘুরেফিরে আসছে। আবুলের চিকিৎসার্থে গঠিত ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সদস্য
বার্ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন গতকাল মানবজমিনকে বলেন,
ইতিমধ্যেই স্থানীয়ভাবে রক্ত ও আক্রান্ত স্থানসহ শরীরের বিভিন্ন
অঙ্গপ্রত্যেঙ্গের এক্সরে করা হয়েছে। এতে শরীরে ক্যানসার বা অন্য কোন রোগের
উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, আগামীকাল তার বায়োপসি করা হবে। আক্রান্ত
স্থান থেকে মাংসপি- কেটে নিয়ে তারপর বায়োপসি করতে হয়। বিদেশে
পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাঠাতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি উল্লেখ
করেন। মন্ত্রী হাসপাতালে আবুলের সঙ্গে কথা বলার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন-
মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম, অন্য সদস্য অধ্যাপক
ডা. সামন্ত লাল সেন, অধ্যাপক ডা. মো. সাজ্জাদ খন্দকার, অধ্যাপক ডা. রায়হানা
আওয়াল, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ ও চর্মরোগ
বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. এমদাদুল হক।
No comments:
Post a Comment