Friday, February 5, 2016

এরশাদকে রওশনের ফোন ‘আমাকে নিলে না কেন’

‘তুমি কোথায়’। ‘আমার ভাই ও হাওলাদারের সংবর্ধনায় যাচ্ছি’। আমাকে নিলে না কেন?। কথাগুলো জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ ও তার স্ত্রী বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদের টেলিফোন আলাপ। গতকাল একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন এরশাদ। এর আগে রওশন তাকে মোবাইলে ফোন করেছিলেন। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এরশাদ নিজেই সেই টেলিকথনের বিষয় উপস্থিত নেতাকর্মীদের অবহিত করেন। দলের কো-চেয়ারম্যান নিয়োগ ও মহাসচিব পরিবর্তন নিয়ে এরশাদ ও রওশন এরশাদের মধ্যে বিরোধের আলোচনার মধ্যেই এরশাদ এমন তথ্য জানানোয় উপস্থিত নেতাকর্মীরা হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এরশাদ বলেন, অতীতে ফিরে যেতে চাই না। জীবনে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত হলো, জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ও রুহুল আমিন হাওলাদারকে পুনরায় মহাসচিব করা। আমার ভয় ছিল, মৃত্যুর পরে আমার সন্তানও (জাতীয় পার্টি) বিলীন হয়ে যাবে কিনা? গত ৬ই ডিসেম্বর থেকে শান্তিতে একদিনও ঘুমাতে পারিনি। কিন্তু এখন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে, সাহস পাচ্ছি, আশার আলো দেখছি, শান্তি পাচ্ছি- আমার মৃত্যুর পরেও আমার দল, আমি এবং দলের নেতা-কর্মীরাও বেঁচে থাকবে। কাদের ও হাওলাদারের হাত ধরে দল টিকে থাকবে ও সামনে অগ্রসর হবে এই বিশ্বাস ও আস্থা আছে। আশা করি, আমায় যারা ভালোবাসে তারা সবাই ওদের দুজনকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করবে। জাপা চেয়ারম্যান বলেন, অনেক উত্তাল-ঝড় পেরিয়ে এসেছি, কিন্তু হারিয়ে যাইনি। তাই প্রমাণ করে জাতীয় পার্টির শেকড় মানুষের হৃদয়ে কতটা মজবুতভাবে আছে। এই গচ্ছিত সম্পদকে নষ্ট করা যাবে না। জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছি, আঘাত পেয়েছি, জেল খেটেছি। আজ থেকে সব ভুলে গেলাম। জাতীয় পার্টিতে নতুনভাবে প্রাণের সঞ্চার হলো। সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, বাবলু তার নিজের দোষে পদ হারিয়েছে, আমি তাকে সরাতে চাইনি। আমি কাউন্সিলের জন্য আহ্বায়ক কমিটি করলাম, তার ভিন্ন মত থাকলে আমায় ফোন করতে পারতো। সেটা না করে বিশৃঙ্খলা করে আমায় বাদ দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করলো। এটা বেঈমানি ও বিশ্বাসঘাতকতা। তোষামোদ করে কিছু পাওয়া যায় না। আমার সামনে এত প্রশংসা করা পছন্দ করি না। আমি ভালো না মন্দ সেটা বিচার করবে জনগণ। দেশে এখনকার পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে জনগণের বিচারে আমরা জয়ী হয়েছি। এই জয়ের উচ্ছ্বাসকে অব্যাহত রেখে চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে’- দলের নেতা-কর্মীদের এমন আহ্বান জানান সাবেক এই স্বৈরশাসক। জিএম কাদের কো-চেয়ারম্যান ও রুহুল আমিন হাওলাদার মহাসচিব হওয়ায় তাদেরকে বরণ করে নিতে ‘ইমানুয়েলস কনভেনশন সেন্টারে’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয় পার্টি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জিএম কাদের বলেন, অন্যান্য দলে অনেক বেশি পরিবর্তন হয়। সে তুলনায় আমাদের দলে সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে। তাতেই সারা দেশে জাগরণ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমগুলো প্রতিদিন তাদের প্রয়োজনেই জাতীয় পার্টিকে নতুন রূপে তুলে ধরছে। বুদ্ধিজীবীরা আমাদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করছে। যারা সমালোচনা করছে তারাও আমাদের ভালো চান বলেই এমনটা করছেন।
দেশের রাজনৈতিক মাঠ এখন ফাঁকা উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, দেশে শক্তিশালী বিরোধীদল নেই। রাজনীতির মাঠ ফাঁকা। এই সুযোগে একটি পিঁপড়াও যদি শক্তিশালীভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, জয়ের মালা সে-ই পাবে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মানুষের দায়িত্ব নিতে চায় জাতীয় পার্টি। তাই সব ভেদাভেদ ভুলে বড় কিছু পাওয়ার আশায় দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমানের অবর্তমানেও আওয়ামী লীগ-বিএনপি শক্তিশালী হয়েছে। তাই আমাদের পিতার (এরশাদ) অবর্তমানেও জাতীয় পার্টি টিকে থাকবে এবং আরও শক্তিশালী হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর উত্তর সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন বাবুল। বক্তব্য রাখেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু হোসেন বাবলা এমপি, হাবিবুর রহমান, হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি মোহাম্মদ হাছান প্রমুখ।

No comments:

Post a Comment