Friday, February 5, 2016

‘আমরা যখন শুরু করি তখন অ্যালবাম ছিলো হট কেক’

অডিও অ্যালবাম প্রকাশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে পথ প্রদর্শক এম এ শোয়েব। ১৯৮১ সালে ডিস্কো রেকর্ডিং থেকে দেশের এবং নিজের প্রথম অ্যালবাম ‘বেস্ট অফ এম এ শোয়েব’ প্রকাশ করেন তিনি। এই অ্যালবামের গানগুলো শ্রোতাপ্রিয়তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পীতে পরিণত হন শোয়েব। অ্যালবামের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও বেশ কিছু গান গেয়েছেন তিনি। তবে ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় এ শিল্পী পাড়ি জমান আমেরিকায়। সেখানেই দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করছেন। মাসখানেক আগে দেশে এসেছেন বেড়াতে। নিজের ব্যস্ততা ও সংগীতের দীর্ঘ পথ চলা নিয়ে আজকের ‘আলাপন’-এ কথা বলেছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকারটি  নিয়েছেন ফয়সাল রাব্বিকীন
কেমন আছেন?
ভালো। দেশে এসে খুব ভালো লাগছে।
এবার  দেশে আসার মূল উদ্দেশ্য কি? কতদিন থাকবেন বলে ঠিক করেছেন?
আমি বেশিরভাগ সময় দেশে এসে প্রোগ্রাম নিয়েই ব্যস্ত থাকি। তবে এবার অনুষ্ঠান খুব একটা করছি না। কারণ ব্যাক্তিগত কাজ নিয়ে দেশে এসেছি। উদ্দেশ্যটা হলো ছেলের বিয়ের আলোচনা। কাজ শেষ। চলতি মাসের ১৫ তারিখই চলে যাবো আমেরিকা। 
নতুন গান কি করছেন?
এখন পর্যন্ত আমার ৭টি একক অ্যলবাম প্রকাশ পেয়েছে। আর দ্বৈত ও মিশ্র মিলিয়ে ১৪-১৫ টি হবে। আমার সর্বশেষ অ্যালবাম ‘তুমি শুধু তুমি’ ২০১৪ সালে প্রকাশ পায়। নতুন বেশ কিছু গানের রেকর্ডিং গতবার দেশে এসেই করেছিলাম। তবে এবার একটু ব্যাতিক্রমিধর্মী উদ্যোগ নিচ্ছি। আমার একমাত্র ছেলে সাইফুল্লাহ শোয়েবও খুব ভালো গান করে। আমেরিকায় ওর একটা ব্যান্ড রয়েছে ‘রেইন’ নামে। ঠিক করেছি ছেলের সঙ্গে একটি দ্বৈত অ্যালবাম করবো। মোট ১২ টি গান নিয়ে হবে এ অ্যালবাম। এর মধ্যে আমার গানগুলোর সুর-সংগীত করেছেন জাহিদ হোসেন ও আহসান হাবিব ছবি। এ বছরই অ্যালবামটি বের করার ইচ্ছে আমার।

আমেরিকায় আপনার ব্যস্ততা কেমন? একটি গানের স্কুলওতো রয়েছে?
আমেরিকায় শো নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আর ‘সুর ও বানী’ নামে আমার একটি গানের স্কুল রয়েছে। আমি প্রতিদিনই  সেখানে গান শেখাই। প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে আমার। তবে যারা ওখানে জন্ম নিয়েছে তাদের বাংলা উচ্চারণ শুনলে আমার কান্না আসে। তাদেরকে আমি আগে বাংলা ভাষা শেখার জন্য বলি। উচ্চারণ শেখার জন্য বলি। তার পর না গান! তবে যারা একটু বড় হয়ে আমেরিকায় গিয়েছে তারা অনেক ভালো গায়। তাদের উচ্চারণও ভালো।
আমাদের দেশের অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কেমন দেখছেন?
খুব একটা ভালো না। অ্যালবাম করার প্রবণতা এখন প্রকৃত শিল্পীদের মধ্যে নেই। এর কারণ পাইরেসি ও ফ্রি ডাউনলোড। এখন অডিও ব্যবসায়িরাও এটাকে লাভজনক মনে করছেন না। তবে দেশের বাইরে কিন্তু এই অবস্থা না। সেখানে একটি অ্যালবাম বের হওয়া মানে বিরাট ব্যাপার। লাখ কপি অ্যালবাম বিক্রি হয়। কারণ বাইরের দেশগুলোতে পাইরেসির বালাই নেই। পাইরেসি ও ডাউনলোড সেখানে আইনত অপরাধ। আমাদের দেশেও হয়তো আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। যার কারণে অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা এখন অনেক খারাপ। এখন অ্যালবাম বের করা সৌখিনতা হয়ে গেছে। তবে যারা প্রতিষ্ঠিত শিল্পী তাদের জন্য বিষয়টি দু:খজনক।
আপনি যখন শুরু করেছিলেন তখন অবস্থা কেমন ছিলো?
আমরা যখন শুরু করি তখন অ্যালবাম ছিলো হট কেক। পাইরেসি কি সেটাই কেউ জানতো না। ভালো অ্যালবাম বের হলে সমাদর থাকতো। প্রচুর মুনাফা লাভ করতেন অডিও ব্যবসায়িরা। তারা শিল্পীদেরও সম্মানি দিয়েছেন অনেক ভালো।
এ প্রজন্মের গান কেমন লাগছে?
আমি আমেরিকায় সব সময় বাংলা চ্যানেল দেখি। আমার মনে হয় তরুণ প্রজন্ম অনেক ভালো করছে। তাদের অনেকের কন্ঠ শুনে খুব ভালো লাগে, আশা জাগে।
পরিবার সম্পর্কে কিছু বলুন?
স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে আমার পরিবার। ছেলে সাইফুল্লাহ শোয়েব মাস্টার্স শেষ করে এখন আমেরিকায় একটি ভালো চাকরি করছে। আর মেয়ে শারিলন শোয়েব অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ছে। সে অনেক ভালো ভায়োলিন বাজায়। ওর একটি ভায়োলিন অ্যালবামও করবো পরে। আর আমার স্ত্রী সব সময় আমাদের উৎসাহ দেন। তার উৎসাহেই আমরা উৎসাহিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

No comments:

Post a Comment