বাংলাদেশ-ভারত ‘বহুমাত্রিক সহযোগিতা’ আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনায়
নয়াদিল্লিতে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক আজ। বৈঠকে অংশ নিতে
এরই মধ্যে দিল্লি পৌঁছেছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। তার সঙ্গে গেছেন
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও। সচিব পর্যায়ের আজকের আনুষ্ঠানিক
আলোচনা ছাড়াও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের আগামী দু’দিনে ভারতের
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, পানিসম্পদ মন্ত্রী উমা ভারতী ও দেশটির
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। দিল্লি
সফরের আলোচ্য বিষয় নিয়ে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র
সচিব মানবজমিনকে বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব বিষয় নিয়েই আলোচনা করবেন
তিনি। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি বাংলাদেশ তুলতে পারে মর্মে ভারতীয়
গণমাধ্যমে যে রিপোর্ট বেরিয়েছে সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সচিব
‘বৈঠকের পর সব বলবেন’ বলে জানান। অবশ্য দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই
কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী একদিন আগেই জানিয়েছেন, সচিব পর্যায়ের বৈঠকে
বাংলাদেশ-ভারত অভিন্ন নদীগুলোর পানি সমহারে বণ্টনের ব্যাপারে যৌথ বেসিন
ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম গড়ে তোলার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যদিও
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আওয়াজ রয়েছে। ওই নির্বাচনের আগে এ নিয়ে আলোচনা
বেশিদূর এগুবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। হাই কমিশনার জানিয়েছেন, ভারতসহ অন্য
প্রতিবেশীরা যাতে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য বন্দরগুলো ব্যবহার করতে পারে সেজন্য
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি কনসোর্টিয়াম গঠনের কথা বলেছেন। এ নিয়ে
মোদির ঢাকা সফরেই কথা হয়েছিল। সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি আসতে পারে। এদিকে
পররাষ্ট্র সচিবের দিল্লি সফর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের বিদেশ
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ জানান, দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র
মোদির গত বছরের বাংলাদেশ সফরে যে সব বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি, সমঝোতা ও
ঐকমত্য হয়েছিল তার বাস্তবায়ন নিয়েই মূলত বৈঠকে কথা হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে
ভারতের বিভিন্ন খাতে বহুমাত্রিক সহযোগিতা রয়েছে উল্লেখ করে মুখপাত্র আগামী
দিনে এটি আরও বাড়ার প্রত্যাশা করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের সফরে এ
নিয়ে কথা হবে বলে জানান তিনি। ঢাকার কর্মকর্তারাও পররাষ্ট্র সচিবের দিল্লি
সফর এবং দেশটির পররাষ্ট্র সচিব ড. এস জয় শঙ্করের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠককে
‘স্টক টেকিং’ বা বিদ্যমান বিষয়াদি নিয়ে পর্যালোচনা হিসেবেই দেখছেন। তারা
জানান, গত বছর ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর দু’দফা ঢাকা সফর করলেও তার
আমলে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের এটিই প্রথম দিল্লি সফর। গত বছরে ব্লু
ইকোনমির একটি বৈঠকে অংশ নিতে সচিব ভারতের ভুবনেশ্বর সফর করলেও সেই সময়ে
ফিলিপাইনে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক থাকায় তার দিল্লি যাওয়া হয়নি। অবশ্য আগের
পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের আমন্ত্রণে শহীদুল হক দু’বছর আগে দিল্লি সফর
করেছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের মাঝামাঝিতে মোদির ঢাকা সফরে দুই
দেশের নতুন প্রজন্মকে টার্গেট করে সম্পর্ক উন্নয়নের ‘নয়া প্রজন্ম নয়া দিশা’
শীর্ষক যৌথ ঘোষণা গৃহীত হয়। সেখানে দুই দেশের আগামীর পথ চলার প্রায় সব
বিষয়েরই উল্লেখ রয়েছে। ঢাকার কর্মকর্তাদের মতে, মোদির সফর-পরবর্তী
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে। ছিটমহল বিনিময় ও অপদখলীয়
জমি হস্তান্তর এবং সাড়ে ছয় কিলোমিটার সীমানা চিহ্নিত করার কাজটি সময়সীমা
অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। ভারতের দেয়া দ্বিতীয় ঋণ চুক্তির প্রকল্পগুলো চূড়ান্ত
হওয়ার পর তা এখন বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এ ছাড়া, ট্রানজিট, বিদ্যুৎ,
বাণিজ্যসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও অগ্রগতি রয়েছে। সচিবের আসন্ন সফর ওই
কাজগুলোতে আরও গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
No comments:
Post a Comment