Monday, February 1, 2016

আফগান ক্রিকেটে ‘মঙ্গল’ পরিবারের প্রভাব

আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক ইহসানুল্লাহ মঙ্গল। প্রথম দেখাতেই অবাক হতে পারেন। চোখ বিশ্বাস করতে চাইবে না- ছেলেটির বয়স ১৮। ৬ ফুটের ওপরে লম্বা, চওড়া বুক, শক্ত পেশি- সব মিলিয়ে তাকে ২৫ বছর বয়সী যুবক মনে হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে চলমান যুব বিশ্বকাপে খেলতে আসা এ আফগান তরুণের বয়স সবে ১৮। আফগানিস্তানের হয়ে খেললেও তার জন্ম নিজ ভূমিতে নয়। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে তার পরিবার আশ্রয় নেয় পাকিস্তানে। দেশটির উত্তর অঞ্চলের জেলা পেশাওয়ারের এক শরণার্থী শিবিরে ইহসানুল্লাহ’র জন্ম। পাকিস্তানের এই এলাকার মানুষ সাধারণত শক্তপোক্ত ও শক্তিশালী। ইহসানুল্লাহকে তাই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বড় মনে হয়। আফগানিস্তান ক্রিকেট দলে ক্রমেই ‘মঙ্গল’ পরিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নিচ্ছে। ইহসানুল্লাহ বড়ভাই নওরোজ মঙ্গল। আফগানিস্তান জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য তিনি। বড় ভাই ছিলেন দেশটির ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। নওরোজ মঙ্গলের নেতৃত্বেই দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে আফগানিস্তান ২০০৯ সালে আইসিসির ওয়ানডে স্ট্যাটাস পায়। ২০১০ সালে আফগানিস্তান প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নওরোজ মঙ্গলের নেতৃত্বে খেলে। বড় ভাইয়ের নেতৃত্বে আফগানিস্তান জাতীয় দল এতো সফলতা পাওয়ার পর ছোট ভাইয়ের হাতে দেশটির যুব দলের নেতৃত্ব। তিনিও দেশকে দারুণভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশে যুব বিশ্বকাপ খেলতে এসে প্রস্তুতি ম্যাচেই দারুণ নৈপুণ্য দেখান তিনি। আয়ারল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে তিনি ১২৫ বলে হাঁকান ১৩৩ রানের ইনিংস। কিন্তু যুব বিশ্বকাপে তার ব্যাট তেমন কথা বলেনি। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেন ২৩ রান। দলেকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। ২০১৪ সালে যুব বিশ্বকাপে খেলা যে চারজন এবারও খেলছেন তাদের মধ্যে একজন ইহসানুল্লাহ। পাকিস্তানে জন্ম হওয়ার পর আফগানিস্তানে গিয়ে ক্রিকেটে যুক্ত হওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন আফগানিস্তানে যাই, তখন আমার কোনো বন্ধু ছিল না। নতুন বন্ধু জুটানোর জন্য ক্রিকেট খেলতে শুরু করি। এভাবেই এক সময় আমার প্রচুর বন্ধু হয়ে যায়। সেখান থেকে এক পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলা শুরু করি। আর এখন অধিনায়ক। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথাবার্তা বলা নিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ খুব কমই হয়। তারাও যেমমন ব্যস্ত আমরাও ব্যস্ত থাকি। জাতীয় দলের অনেকের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা থাকলেও বিশ্বকাপের আগে সেটা সম্ভব হয়নি। তবে শুধু বড় ভাই নওরোজ মঙ্গলের সঙ্গে কথা বলে পরামর্শ নিয়েছি।’  

No comments:

Post a Comment