সিরিয়ায় হযরত জয়নব (রা.)-এর সমাধিক্ষেত্রের পাশেই বোমা হামলা হয়েছে।
এতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন। আহত হয়েছেন ১১০ জন। এ খবর দিয়ে বার্তা
সংস্থা এএফপি বলছে, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের বাইরে ব্যাপক সম্মানের ওই
সমাধিক্ষেত্রের কাছে তিনটি বোমা হামলা হয় রোববার। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা
সানা বলছে, প্রথম হামলাটি ছিল গাড়িবোমা। সমাধিক্ষেত্রের কাছে একটি বাস
স্টেশনে এটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেখানে লোকজন সমবেত হলে আত্মঘাতী দুই বোমা
হামলাকারী তাদের বিস্ফোরক বেল্টের বিস্ফোরণ ঘটনায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা
বলছেন, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় সেখানে। বিভিন্ন ভবনের দরজা জানালা উড়ে
যায়। রাস্তার ওপর পড়ে থাকে আবর্জনার স্তূপ। এক ডজনেরও বেশি গাড়িতে এ সময়
আগুন ধরে যায়। তা থেকে কালো ধোয়ায় ছেয়ে যায় দামেস্কের আকাশ। ঘটনাস্থলে
ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে নিহত ও আহতদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। রক্তে ভেসে যায়
রাস্তা। ছুটে যায় এম্বুলেন্স। তারা জীবিতদের নিয়ে নিকটবর্তী হাসপাতালে
ছুটতে থাকে। অগ্নিনির্বাপণকারীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে থাকেন।
উল্লেখ্য, হযরত জয়নব (রা.) মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর নাতনী। তিনি হযরত
মা ফাতেমা (রা.) ও হযরত আলী (রা)র কন্যা। তার কবর রয়েছে সিরিয়ার দামেস্কে।
রাজধানীর দক্ষিণে। তার কবরকে মুসলিমরা জিয়ারত করেন। এই কবর জিয়ারত করতে
বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসলিমরা যান সিরিয়া। বিশেষ করে তাদের মধ্যে
রয়েছেন ইরান, লেবানন, ইরাক ও অন্যান্য দেশের মুসলিম। এর আগেও এর পাশে বোমা
হামলা হয়েছে। ২০১৫ সালে এই কবরের পাশে একটি চেকপয়েন্টে দুটি আত্মঘাতী হামলা
হয়েছে। তাতে চারজন নিহত ও ১৩ জন আহত হন। ওই মাসেই হযরত জয়নব (রা.)-এর কবর
জিয়ারত করতে যাওয়া লেবাননের একদল মুুসলিমকে বহনকারী বাসে বোমা হামলা হয়।
তাতে কমপক্ষে ৯ জন নিগত হন। এ হামলার দায় স্বীকার করে আল নুসরা ফ্রন্ট। তবে
রোববারের হামলার দায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ স্বীকার করে নি।
No comments:
Post a Comment