প্রাণদণ্ড থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলেও শিগগিরই কারামুক্তি
মিলছে না একসময়ের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফের। আরও অন্তত প্রায় ৭ বছর
কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে। প্রাণদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া আপিল
বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন আবেদন করার সময়ও শেষ হয়ে গেছে। ফলে
তার সামনে আর কোনও পথ নেই কেবল রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ছাড়া। তা না হলে
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করার জন্য আরও অন্তত ৭ বছর জেলেই থাকতে হবে তাকে।
যদিও অন্য সাধারণ কয়েদির মতো জেল-জীবন নয় তার। জেলে বসেই নিয়ন্ত্রণ করে
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড। গত কয়েক বছর ধরে হাসপাতালেই
বেশি সময় কাটছে তার। এতে আত্মীয়-পরিজন, শুভানুধ্যায়ী ও অনুসারীদের সঙ্গে
নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ করার সুযোগ পায় সে। সর্বশেষ সে গত বছরের ১৩ই
সেপ্টেম্বর থেকে পিঠে ব্যথা নিয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন
সেলে চিকিৎসাধী। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর
কবির বলেন, জোসেফের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায়
কারাগারে আসেনি। সেই রায় আসলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হিসাব করে তার
কারাভোগের দিন গণনা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালের ৭ই মে লালমাটিয়া এলাকায় মোস্তফা নামে ফ্রিডম পার্টির এক নেতা খুন হন। গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে। মোস্তফার খুনি হিসেবে অভিযোগ ওঠে সে সময়ের ছাত্রলীগ নেতা ও শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফের বিরুদ্ধে। তৎকালীন সরকার শীর্ষ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করে। ওই তালিকায় সন্ত্রাসী জোসেফকে ধরিয়ে দিতে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এর বছর খানেক পর জোসেফকে নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সেই থেকে কারাবন্দি তিনি। তখন তার বয়স ছিল ২০। এর মধ্যে পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ১৮ বছর।
মোস্তফা মার্ডার ছাড়াও আরও ১৬টি মামলা ছিল তার বিরুদ্ধে। সবগুলো মামলা হলো খুন, ছিনতাই-চাঁদাবাজি আর অস্ত্র মামলা। এর মধ্যে ১৪টিতে খালাস পেয়েছে সে। দুটি মামলা থেকে জামিন নেয়া রয়েছে। কেবল মোস্তফা মার্ডার মামলায় ২০০৪ সালের ২৫শে এপ্রিল ঢাকার জজ আদালত তাকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেয়। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে সে। ২০০৮ সালে হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। এরপর তার আইনজীবীরা লিভ টু আপিল চাইলে সুপ্রিম কোর্ট তা মঞ্জুর করে। গত বছরের ৯ই ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
কারা সূত্র জানায়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ হলো ৩০ বছরের সাজা। কিন্তু জেল কোড অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিরা বছরে সর্বোচ্চ ৩ মাস রিভিশন বা পরিমার্জনা পায়। ওই হিসেবে যাবজ্জীবন দণ্ড খাটতে হয় সাড়ে ২২ বছর। তবে আদালতের আদেশে যদি হাজতবাস থেকে দিন গণনার নির্দেশ থাকে তবেই সাড়ে ২২ বছর। জোসেফের রায়ের আদেশেও যদি হাজতবাস থেকে দিন গণনার বিষয়টি উল্লেখ থাকে তবে আরও অন্তত সাড়ে ৪ বছর জেল খাটতে হবে। অন্যথায় রায়ের দিন থেকে দিন গণনা হলে জোসেফের জেল খাটতে হবে আরও ৭ বছরেরও বেশি সময়। কারা সূত্র জানায়, জোসেফের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলায় প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউ) রয়েছে। যে দুটি মামলায় জামিন পেয়েছে জোসেফ। তবে তাকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হয়। কারামুক্তির আগে আদালতের মাধ্যমে ওই দুটি প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট তুলে নিতে হবে।
সাড়ে ৪ মাস ধরে হাসপাতালে জোসেফ: কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফ দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৪ মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত বছরের ১৩ই সেপ্টেম্বর পিঠে ব্যথা বা ব্যাক পেইনের কারণে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে নেয়া হয়। সেই থেকে সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কারাগারে ভালো থাকার অর্থই হলো হাসপাতালবাস। কোনও অসুখ দেখাতেই পারলেই হলো। কারা হাসপাতালেই তুলনামূলক আরামে দিনযাপন করা যায়। আর বাইরের হাসপাতালে আসতে পারলে তো কথাই নেই। হাসপাতালে কারারক্ষীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকলেও নানা কৌশলে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করতে পারে বন্দিরা। এছাড়া বাসার পাঠানো খাবারের সুযোগও রয়েছে। সবকিছুই চলে উৎকোচের বিনিময়ে। শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ একারণে হাসপাতালে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। যদিও কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের প্রিজন সেলের ভেতরে স্বজনরা ঢুকতে পারে না। কেউ সাক্ষাৎ করতে চাইলে জেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। ফলে এখানে অনিয়ম বা যখন-তখন সাক্ষাতের সুযোগের প্রশ্নই ওঠে না। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসক ডা. বিপ্লব বলেন, ব্যাক পেইন সমস্যার কারণে জোসেফকে কারা হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে পাঠানো হয়েছিল। সেখানকার চিকিৎসকের পরামর্শেই তাকে হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে।
ছাত্রলীগ নেতা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ: মোহাম্মদপুর এলাকার ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফ। জোসেফের পিতা ওয়াদুদ আহমেদ ছিলেন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট জোসেফ বড় ভাই হারিস আহমেদের হাত ধরে রাজনীতির মাঠে পদার্পণ করে। নব্বইয়ের দশকে জাতীয় পার্টি ছেড়ে মোহাম্মদপুরের এক আওয়ামী লীগ নেতার হাত ধরে হারিস যোগ দিয়েছিলেন যুবলীগে। তৎকালীন ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরও হয়েছিলেন তিনি। বড় ভাইয়ের কল্যাণে পদে না থেকেও নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দিত জোসেফ। বড় ভাইয়ের ক্যাডার বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পালন করে। সেই থেকে অন্ধকার জগতে পথচলা শুরু হয় তার। মোহাম্মদপুর-হাজারীবাগসহ আশেপাশের এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সে। যোগ দেয় সুব্রত বাইনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আলোচিত সেভেন স্টার গ্রুপে।
পুরো রাজধানী তখন সেভেন স্টার গ্রুপ ও ফাইভ স্টার গ্রুপ নামে দুটি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতো। এভাবেই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় নাম উঠে আসে জোসেফের। স্থানীয় সূত্র জানায়, জোসেফের নামে প্রতিমাসেই মোহাম্মদপুর এলাকার বাস-ট্রাক-টেম্পু স্ট্যান্ড, ফুটপাত, বাজার, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হতো। কারাবন্দি হওয়ার পরও তার অনুসারীরা তার নামে চাঁদা তুলে চলেছে। এ চাঁদার বড় একটি অংশ দিয়েই কারা কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে আয়েশি জীবনযাপন করে সে। স্থানীয় সূত্র জানায়, জোসেফের সেই বড় ভাই হারিস আহমেদও দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক। হারিসের নামে ইন্টারপোলে রেড ওয়ারেন্ট জারিও রয়েছে। পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর একজন সে। আরেক ভাই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। সাঈদ আহমেদ টিপু নামে এক ভাই মারা যায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালের ৭ই মে লালমাটিয়া এলাকায় মোস্তফা নামে ফ্রিডম পার্টির এক নেতা খুন হন। গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে। মোস্তফার খুনি হিসেবে অভিযোগ ওঠে সে সময়ের ছাত্রলীগ নেতা ও শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফের বিরুদ্ধে। তৎকালীন সরকার শীর্ষ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করে। ওই তালিকায় সন্ত্রাসী জোসেফকে ধরিয়ে দিতে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এর বছর খানেক পর জোসেফকে নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সেই থেকে কারাবন্দি তিনি। তখন তার বয়স ছিল ২০। এর মধ্যে পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ১৮ বছর।
মোস্তফা মার্ডার ছাড়াও আরও ১৬টি মামলা ছিল তার বিরুদ্ধে। সবগুলো মামলা হলো খুন, ছিনতাই-চাঁদাবাজি আর অস্ত্র মামলা। এর মধ্যে ১৪টিতে খালাস পেয়েছে সে। দুটি মামলা থেকে জামিন নেয়া রয়েছে। কেবল মোস্তফা মার্ডার মামলায় ২০০৪ সালের ২৫শে এপ্রিল ঢাকার জজ আদালত তাকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেয়। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে সে। ২০০৮ সালে হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। এরপর তার আইনজীবীরা লিভ টু আপিল চাইলে সুপ্রিম কোর্ট তা মঞ্জুর করে। গত বছরের ৯ই ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
কারা সূত্র জানায়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ হলো ৩০ বছরের সাজা। কিন্তু জেল কোড অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিরা বছরে সর্বোচ্চ ৩ মাস রিভিশন বা পরিমার্জনা পায়। ওই হিসেবে যাবজ্জীবন দণ্ড খাটতে হয় সাড়ে ২২ বছর। তবে আদালতের আদেশে যদি হাজতবাস থেকে দিন গণনার নির্দেশ থাকে তবেই সাড়ে ২২ বছর। জোসেফের রায়ের আদেশেও যদি হাজতবাস থেকে দিন গণনার বিষয়টি উল্লেখ থাকে তবে আরও অন্তত সাড়ে ৪ বছর জেল খাটতে হবে। অন্যথায় রায়ের দিন থেকে দিন গণনা হলে জোসেফের জেল খাটতে হবে আরও ৭ বছরেরও বেশি সময়। কারা সূত্র জানায়, জোসেফের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলায় প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউ) রয়েছে। যে দুটি মামলায় জামিন পেয়েছে জোসেফ। তবে তাকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হয়। কারামুক্তির আগে আদালতের মাধ্যমে ওই দুটি প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট তুলে নিতে হবে।
সাড়ে ৪ মাস ধরে হাসপাতালে জোসেফ: কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফ দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৪ মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত বছরের ১৩ই সেপ্টেম্বর পিঠে ব্যথা বা ব্যাক পেইনের কারণে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে নেয়া হয়। সেই থেকে সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কারাগারে ভালো থাকার অর্থই হলো হাসপাতালবাস। কোনও অসুখ দেখাতেই পারলেই হলো। কারা হাসপাতালেই তুলনামূলক আরামে দিনযাপন করা যায়। আর বাইরের হাসপাতালে আসতে পারলে তো কথাই নেই। হাসপাতালে কারারক্ষীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকলেও নানা কৌশলে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করতে পারে বন্দিরা। এছাড়া বাসার পাঠানো খাবারের সুযোগও রয়েছে। সবকিছুই চলে উৎকোচের বিনিময়ে। শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ একারণে হাসপাতালে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। যদিও কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের প্রিজন সেলের ভেতরে স্বজনরা ঢুকতে পারে না। কেউ সাক্ষাৎ করতে চাইলে জেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। ফলে এখানে অনিয়ম বা যখন-তখন সাক্ষাতের সুযোগের প্রশ্নই ওঠে না। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসক ডা. বিপ্লব বলেন, ব্যাক পেইন সমস্যার কারণে জোসেফকে কারা হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে পাঠানো হয়েছিল। সেখানকার চিকিৎসকের পরামর্শেই তাকে হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে।
ছাত্রলীগ নেতা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ: মোহাম্মদপুর এলাকার ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফ। জোসেফের পিতা ওয়াদুদ আহমেদ ছিলেন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট জোসেফ বড় ভাই হারিস আহমেদের হাত ধরে রাজনীতির মাঠে পদার্পণ করে। নব্বইয়ের দশকে জাতীয় পার্টি ছেড়ে মোহাম্মদপুরের এক আওয়ামী লীগ নেতার হাত ধরে হারিস যোগ দিয়েছিলেন যুবলীগে। তৎকালীন ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরও হয়েছিলেন তিনি। বড় ভাইয়ের কল্যাণে পদে না থেকেও নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দিত জোসেফ। বড় ভাইয়ের ক্যাডার বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পালন করে। সেই থেকে অন্ধকার জগতে পথচলা শুরু হয় তার। মোহাম্মদপুর-হাজারীবাগসহ আশেপাশের এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সে। যোগ দেয় সুব্রত বাইনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আলোচিত সেভেন স্টার গ্রুপে।
পুরো রাজধানী তখন সেভেন স্টার গ্রুপ ও ফাইভ স্টার গ্রুপ নামে দুটি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতো। এভাবেই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় নাম উঠে আসে জোসেফের। স্থানীয় সূত্র জানায়, জোসেফের নামে প্রতিমাসেই মোহাম্মদপুর এলাকার বাস-ট্রাক-টেম্পু স্ট্যান্ড, ফুটপাত, বাজার, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হতো। কারাবন্দি হওয়ার পরও তার অনুসারীরা তার নামে চাঁদা তুলে চলেছে। এ চাঁদার বড় একটি অংশ দিয়েই কারা কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে আয়েশি জীবনযাপন করে সে। স্থানীয় সূত্র জানায়, জোসেফের সেই বড় ভাই হারিস আহমেদও দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক। হারিসের নামে ইন্টারপোলে রেড ওয়ারেন্ট জারিও রয়েছে। পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর একজন সে। আরেক ভাই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। সাঈদ আহমেদ টিপু নামে এক ভাই মারা যায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে।
No comments:
Post a Comment