চট্টগ্রামে আবারও ডাক্তারের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে
অভিযোগ উঠেছে। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে এক রোগীর মৃত্যু ও আরেকজনের পেটে
ব্যান্ডেজ রাখার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও হলো আরেক ঘটনা। গতকাল
দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত ‘মেমন মাতৃসদন’ হাসপাতালে ঘটে এ
ঘটনা। সে সময় নিহত ওই শিশুর পরিবারের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতাল ভাঙচুর ও
ডাক্তারকে অবরুদ্ধ করে রাখার চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর
পিতা আল আমিন বলেন, ডাক্তারদের অবহেলায় আর কতো রোগীর প্রাণ যাবে। আমি এই
ঘটনার বিচার চাই। অবহেলায় আমার শিশুপুত্রকে মারা যেতে হয়েছে। এই ঘটনায়
তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশন। পারিবারিক সূত্র জানায়, গত
শনিবার সিজার অপারেশনের জন্য আল আমীন তার স্ত্রীকে নগরীর সদরঘাটে অবস্থিত
হাসপাতালের এক নম্বর ইউনিটে ভর্তি করান। দুপুর ১২টায় তার স্ত্রী রোকেয়া
বেগমের একটি ছেলে সন্তান হয়। কিন্তু হঠাৎ করে ছেলেটির শরীর খারাপ হয়ে পড়লে
পরিবারের লোকজন তাকে সেখান থেকে নিয়ে যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে। দুপুর একটার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে
শিশুটির পিতা নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তদার আল আমীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে
মানবজমিনকে বলেন, ছেলেটি যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে ডাক্তাররা তখন দুই রকম কথা
বলে। শেষমেশ বলে তাকে চমেকে নিয়ে যেতে। এ সময় অ্যাম্বুলেন্স চাইলে তারা
আমার সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু করে। কখনো বলে সিলিন্ডার ফেরত দিতে, আবার কখনো
অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলতে চাইলো। এই সময় বিলম্ব হওয়ার কারণে আমার ছেলেটিকে
বাঁচানো যায়নি বলে চমেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। আল আমিন আরো
বলেন, কিছু সময় আগে আনা গেলে তাকে বাঁচানো যেতো। এখন আমি কি জবাব দেবো আমার
স্ত্রীকে। অ্যাম্বুলেন্স দিতে গড়িমসি করায় সিএনজিতে ছেলেটিকে নিয়ে রওনা
দেই। পথে জ্যামের কারণে আরও দেরি হয়। সেখানে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটির
প্রাণ চলে যায়। নিহত শিশুটির বিক্ষুব্ধ পরিবারের লোকজন গতকাল রোববার দুপুরে
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে সেখানে হৈ চৈ শুরু হয়। চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন
এই ঘটনা শুনে তারাও যোগ দিয়ে অভিযুক্ত ডাক্তারদের শাস্তি দাবি করে। পরে
পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জানতে চাইলে মেমন হাসপাতালের প্রধান ও
সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. সেলিম বলেন, অভিযোগ খতিয়ে
দেখা হচ্ছে। এখানে দুইপক্ষের বক্তব্য নেয়ার পর কাজ করবে তদন্ত কমিটি। এখনই
কিছু বলা যাচ্ছে না।
No comments:
Post a Comment