বিশ্বরেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়লেন সৌদি আরবের প্রায় ১০ হাজার নারী।
স্তন ক্যানসারের বিরুদ্ধে তারা সচেতনতামূলক চিহ্ন ‘হিউম্যান রিবন’ তৈরি
করেছেন লাইনে দাঁড়িয়ে। শনিবার আয়োজিত এ উদ্যোগের নাম দেয়া হয় ‘১০ কেএসএ’।
এর মাধ্যমে ওই নারীরা আগের রেকর্ড ভেঙে জায়গা করে নিলেন গিনেস ওয়ার্ল্ড
রেকর্ডসে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সৌদি গেজেট। এতে বলা হয়, এ উদ্যোগে অংশ নেয়া
নারীরা মাথায় গোলাপি রঙের স্কার্ফ পরেন। তারপর পিন্সেস নূরাহ বিনতে আবদুর
রহমান ইউনিভার্সিটিতে একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে হাতে হাত ধরে দাঁড়ালেন
পাশাপাশি, যাতে গোলাপি রঙের স্তন ক্যানসারের চিহ্নের সৃষ্টি হয়। আলফ খায়ের
নামের সামাজিক উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সেস রিমা বিনতে বন্দর বিন সুলতান
আল সাউদ বলেছেন, ওইদিন এ উদ্যোগে অংশ নিয়ে ১০ হাজার নারী ঘোষণা করেছেন,
আমাদের মা, মেয়ে ও বোনদের ভবিষ্যতের জন্য সুস্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা
ভবিষ্যতের কণ্ঠ। আমরা যদি আমাদের যত্ন নিই তাহলেই আসবে আলোকিত ভবিষ্যৎ। যদি
তা না করি তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ হবে অন্ধকারময়। এ উদ্যোগে যেসব নারী অংশ
নিয়েছেন তারা এমনটাই বিশ্বাস করেন। উল্লেখ্য, শনিবার ছিল ১২ই ডিসেম্বর।
এদিনটিতে সৌদি আরবে নারীরা আরও একটি ইতিহাস গড়েছেন। এদিনে তারা প্রথমবারের
মতো তাদের দেশে নির্বাচনে ভোট দেয়া ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেয়েছেন।
প্রিন্সেস রিমা আল সাউদ বলেন, একজন সৌদি নারী হওয়া অত্যন্ত গর্বের। কারণ,
একই দিনে আমরা ভোট দেয়ার অধিকার প্রয়োগ করেছি। একসঙ্গে আমাদের সবার জন্য
ইতিবাচক এমন একটি উদ্যোগে অংশ নিতে পেরেছি। আলবিদা ব্রেস্টফির্ডি রিসোর্স
অ্যান্ড ওমেনস এওয়ারনেস স্টোরের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নারী স্বাস্থ্যের সচেতনতা
সৃষ্টির সহ-আয়োজক ডাক্তার মোদিয়া বাট্টারজি বলেন, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে
তারা নারীদের কাছে যে বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন তা হলো তাদের স্বাস্থ্য
সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, আমরা নারীদের বোঝাতে চাই, নারীদের উচিত
স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া, সুস্থ জীবনযাপন করা, আগেভাগেই স্তন শনাক্ত
করা, ভালো খাবার খাওয়া, ব্যায়াম করা, ভালো ঘুম যাতে হয়, বাচ্চাকে বুকের
দুধ খাওয়ানোর বিষয়, নিজেদের যত্ন নেয়ার বিষয়ে। ১০ কেএসএর দূত হালা আসিল
বলেন, এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে অনেক মানুষের উপকার হয়েছে। গিনেস বুক অব
রেকর্ডসে ঠাঁই পেতে যাচ্ছেন ১০ হাজার নারী। এর মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের কাছে
বার্তা পৌঁছে যাবে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের এডজুকেটর সৈয়দা
সুবাসি-জেমিসি বলেন, তিনি রিয়াদে এসেছিলেন নারীদের এই দীর্ঘ মানব রিবন
প্রত্যক্ষ করতে। এ আয়োজন সম্পন্ন করেছেন সৌদি আরবের নারীরা। এ রেকর্ডে ঠাঁই
পাওয়ার জন্য সব অংশগ্রহণকারীকে মাথায় গোলাপি রঙের কাপড় পরা বাধ্যতামূলক
ছিল।
No comments:
Post a Comment