আসন্ন পৌর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নেই ১০টি পৌরসভায়। মনোনয়নপত্র
বাতিল, প্রত্যাহার, মনোনয়নপত্র জমা না পড়া এবং বিকল্প বা বিদ্রোহী প্রার্থী
না থাকায় এসব পৌরসভায় নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকতে পারছে না দলটি। আগামী ৩০শে
ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ২৩৩টি পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা ধানের
শীষ প্রতীকে লড়বেন ২২১টি পৌরসভায়। দুটি পৌরসভায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০
দলীয় জোটের শরিক দল এলডিপি দলীয় প্রতীক ছাতা ও জাতীয় পার্টি (জাফর) ধানের
শীষ প্রতীকে লড়বেন। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অন্তত ২৫টি পৌরসভায়
জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী এবং ৩টি পৌরসভায় খেলাফত মজলিস সমর্থিত
প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেবেন। সেই সঙ্গে অন্তত ২০টি পৌরসভায় বিদ্রোহী
এবং অন্য দলের প্রার্থীদের মোকাবিলা করতে হবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের।
তবে নির্বাচন কমিশনের দেয়া গতকাল সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী মেয়র পদে নির্বাচনী
লড়াইয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত ২১৯ জন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের দেয়া
হিসাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পৌর নির্বাচনে
মনোনয়ন
প্রত্যয়নকারী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ২২১। নির্বাচন কমিশনের তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জের বেলকুচির প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি এবং ঝিনাইদহের মহেশপুরের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে বলে দাবি করেছেন। গত ১৩ই নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন। সেদিন বিভিন্ন পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী ও বিকল্প প্রার্থী হিসেবে অংশ নেয়া ৩৩ জন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জোটের শরিক দল জামায়াত সমর্থিত ১২ স্বতন্ত্র প্রার্থীও। শেষ পর্যন্ত যেসব পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী নেই সেগুলো হচ্ছে- বগুড়ার সারিয়াকান্দি (বাতিল), পিরোজপুর সদর (বাতিল), কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম (বাতিল), ফেনী সদর ও পরশুরাম (বাতিল), মাদারীপুরের শিবচর (বাতিল), নোয়াখালীর চাটখিল ও জামালপুরের মাদারগঞ্জ (প্রত্যাহার) এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও মাদারীপুরের কালকিনি (মনোনয়নপত্র জমা না দেয়া)। দুটি পৌরসভায় শেষদিন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যয়নকারী মোহাম্মদ শাহজাহান ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। তারা অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারদলীয় প্রার্থী জোর করে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করিয়েছেন। রোববার রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ বলেন, এ সরকার গণতন্ত্রের ভাগ্য নিয়ে তাস খেলছে। পৌর নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা হচ্ছে। নাটোর, চৌমুহনী, ঝিনাইদহ, বোয়ালমারী, নোয়াখালীসহ সারা দেশে বিএনপি প্রার্থীদের ওপর হামলা-নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামালকে অপহরণ করে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো হয়েছে। গতকাল সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে চাটখিল পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের পত্রে স্বাক্ষর নিয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এদিকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় থাকলেও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রেখেছে বিএনপি। তারই অংশ হিসেবে একাধিক পৌরসভায় প্রচারণা বন্ধ রেখেছেন দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। ওদিকে আজ দলের পৌর নির্বাচন সমন্বয়ে গঠিত কমিটিগুলোর বৈঠক ডেকেছে বিএনপি। সকাল ১১টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বৈঠকে বিএনপির নির্বাচন সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সদস্য সচিব দলের যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহানসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর নির্বাচন পর্যবেক্ষণে গঠিত মনিটরিং সেলের কর্মসমন্বয় ও নির্বাচনী প্রচারণার কৌশলসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হবে। এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে নির্বিচারে হামলা-মামলা, গ্রেপ্তারের মধ্যেও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে কর্মব্যস্ত সময় পার করছে বিএনপি। দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে এককভাবে বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সব মিলিয়ে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এনে দিয়েছে পৌরসভা নির্বাচন। গত কয়েক বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিপর্যস্ত বিএনপির নেতারা দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনকে নতুনভাবে বিশ্লেষণ করছেন। ক্ষতি হবে জেনেও তারা মনে করছেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে কমপক্ষে শতকরা ৮০ ভাগ ভোট তারা পাবেন। দলটির শীর্ষ নেতাদের মতে, তাদের মেয়র প্রার্থীদের ভাগ্যে জয়-পরাজয় কী লেখা আছে সেটা পরের বিষয়, সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো ধানের শীষের প্রচার এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্য মজবুত রাখা। সেই সঙ্গে অবিলম্বে দেশে সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি ও নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির ‘প্লাটফরম’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে পৌরসভা নির্বাচনকে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এ নির্বাচনে দল চাঙ্গা হবে। মনোবল ফিরে পাবে। মাঠপর্যায়ের নেতারা আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ পাবেন। এ নির্বাচনও আন্দোলনের অংশ।
প্রত্যয়নকারী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ২২১। নির্বাচন কমিশনের তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জের বেলকুচির প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি এবং ঝিনাইদহের মহেশপুরের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে বলে দাবি করেছেন। গত ১৩ই নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন। সেদিন বিভিন্ন পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী ও বিকল্প প্রার্থী হিসেবে অংশ নেয়া ৩৩ জন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জোটের শরিক দল জামায়াত সমর্থিত ১২ স্বতন্ত্র প্রার্থীও। শেষ পর্যন্ত যেসব পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী নেই সেগুলো হচ্ছে- বগুড়ার সারিয়াকান্দি (বাতিল), পিরোজপুর সদর (বাতিল), কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম (বাতিল), ফেনী সদর ও পরশুরাম (বাতিল), মাদারীপুরের শিবচর (বাতিল), নোয়াখালীর চাটখিল ও জামালপুরের মাদারগঞ্জ (প্রত্যাহার) এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও মাদারীপুরের কালকিনি (মনোনয়নপত্র জমা না দেয়া)। দুটি পৌরসভায় শেষদিন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যয়নকারী মোহাম্মদ শাহজাহান ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। তারা অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারদলীয় প্রার্থী জোর করে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করিয়েছেন। রোববার রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ বলেন, এ সরকার গণতন্ত্রের ভাগ্য নিয়ে তাস খেলছে। পৌর নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা হচ্ছে। নাটোর, চৌমুহনী, ঝিনাইদহ, বোয়ালমারী, নোয়াখালীসহ সারা দেশে বিএনপি প্রার্থীদের ওপর হামলা-নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামালকে অপহরণ করে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো হয়েছে। গতকাল সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে চাটখিল পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের পত্রে স্বাক্ষর নিয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এদিকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় থাকলেও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রেখেছে বিএনপি। তারই অংশ হিসেবে একাধিক পৌরসভায় প্রচারণা বন্ধ রেখেছেন দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। ওদিকে আজ দলের পৌর নির্বাচন সমন্বয়ে গঠিত কমিটিগুলোর বৈঠক ডেকেছে বিএনপি। সকাল ১১টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বৈঠকে বিএনপির নির্বাচন সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সদস্য সচিব দলের যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহানসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর নির্বাচন পর্যবেক্ষণে গঠিত মনিটরিং সেলের কর্মসমন্বয় ও নির্বাচনী প্রচারণার কৌশলসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হবে। এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে নির্বিচারে হামলা-মামলা, গ্রেপ্তারের মধ্যেও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে কর্মব্যস্ত সময় পার করছে বিএনপি। দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে এককভাবে বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সব মিলিয়ে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এনে দিয়েছে পৌরসভা নির্বাচন। গত কয়েক বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিপর্যস্ত বিএনপির নেতারা দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনকে নতুনভাবে বিশ্লেষণ করছেন। ক্ষতি হবে জেনেও তারা মনে করছেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে কমপক্ষে শতকরা ৮০ ভাগ ভোট তারা পাবেন। দলটির শীর্ষ নেতাদের মতে, তাদের মেয়র প্রার্থীদের ভাগ্যে জয়-পরাজয় কী লেখা আছে সেটা পরের বিষয়, সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো ধানের শীষের প্রচার এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্য মজবুত রাখা। সেই সঙ্গে অবিলম্বে দেশে সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি ও নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির ‘প্লাটফরম’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে পৌরসভা নির্বাচনকে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এ নির্বাচনে দল চাঙ্গা হবে। মনোবল ফিরে পাবে। মাঠপর্যায়ের নেতারা আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ পাবেন। এ নির্বাচনও আন্দোলনের অংশ।
No comments:
Post a Comment