ঠিকানাবিহীন এক অবুঝ শিশু। বয়স আনুমানিক সাড়ে তিন বছর। কিছুই বুঝে না।
দু-চারটি শব্দ কোনো রকম উচ্চারণ করতে পারে। তাও ঠিকমত বুঝা যায় না। নেই তার
কোনো অভিভাবক। পড়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দায়। কে বা কারা
শিশুটিকে গত চার মাস আগে শিশু ওয়ার্ডের বারান্দায় রেখে যায়। সে থেকে
হাসপাতালেই বেড়ে উঠছে শিশুটি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার দিন ফিডার মুখে কাঁথার মধ্যে জড়িয়ে ছিল শিশুটি। পাশে ছিল ব্যাগ ভর্তি কিছু জামা-কাপড়। এ সময় ২০৫ নম্বর ওয়ার্ডের বয় ওসমান গনির নজরে পড়ে পরিচয়হীন এই শিশুটি। পরে হাসপাতালের এই কর্মচারী শিশুটিকে বারান্দা থেকে তুলে ভর্তি করেন ২০৮ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে। এই কর্মচারীই শিশুটির নাম ঠিক করে হাসপাতালের খাতায় লেখান ইসমাইল। বয়সটাও আন্ধাজ করে সাড়ে তিন বছর দিলেন তিনিই। এই বাচ্চা সম্পর্কে ওয়ার্ড বয় ওসমান গনি মানবজমিনকে বলেন, শিশুটি গত বছরের গত ১৬ই আগস্ট শিশু সার্জারি ওয়ার্ডের বারান্দায় পড়ে ছিল। সঙ্গে কেউ ছিল না। সেখান থেকে তুলে তাকে ওয়ার্ডে ভর্তি করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ ওর খোঁজ নিতে আসেনি বা পরিচয়ও পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হাসপাতালে ভর্তির দশ দিন পরই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সুস্থতার ছাড়পত্র দিয়ে দেন। কিন্তু চার মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও শিশুটির পিতা-মাতা কিংবা আত্মীয়স্বজন কেউই আসেনি তার খোঁজে। কাগজে কলমে শিশুটির বয়স সাড়ে তিন বছর ধরা হলেও শিশুটি হাঁটতে পারে না। পর্যাপ্ত পরিচর্যা ও ভিটামিনের অভাবে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিকতায় ভুগছে সে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং পরিচর্যার অভাবেই শিশুটির শারীরিক বৃদ্ধি সঠিকভাবে হয়নি। অনেকটা অবহেলিত ভাবেই বেড়ে ওঠায় তার শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে সমস্যা হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
শিশুটি প্রসঙ্গে ওয়ার্ডের ইন্টার্ন ডাক্তার মুসফিকা জানান, প্রায় তিন মাস থেকেই তিনি এই ওয়ার্ডে আছেন। তখন থেকেই শিশুটিকে এখানে দেখেছেন তিনি। মা কিংবা আত্মীয়স্বজন কেউই না থাকায় নজরে পড়ে শিশুটি। শিশুটির শারীরিক অবস্থার কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, ও এখন ভালো আছে। প্রথম দিকে ওর খিচুনির সমস্যা ছিল। যেটা এখন অনেকটা ভালো হয়ে গেছে। এ ছাড়া জন্মের পর যেভাবে শিশুটির লালন পালন হওয়ার কথা, সেভাবে হয়নি। তাই ওর শারীরিক বৃদ্ধিতে একটু সময় হচ্ছে। কিছু বাচ্চা আছে, যারা খুব তাড়াতাড়ি কথা বলতে পারে ও হাঁটতে শিখে। কিন্তু ওর ক্ষেত্রে সেই বৃদ্ধিটা হয়নি বলেও ডা. মুসফিকা উল্লেখ করেন। প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং পর্যাপ্ত পরিচর্যার কমতি থাকায় এই শিশুটির বেড়ে ওঠায় সমস্যা হয়েছে। ডা. মুসফিকা আরও বলেন, এটাকে ব্রেইনের একটা অংশের ইনসাল্ট বলা যেতে পারে। যার কারণে বৃদ্ধি থেমে আছে। এই চিকিৎসক বলেন, বর্তমানে ওর কোনো সমস্যা নেই। তবে, ওয়ার্ডে রোগী না থাকায় শিশুটি এখানেই থাকছে। ও কোথায় যাবে? যেহেতু ওর যাওয়ার জায়গা নেই, তাই শিশুটি এখানেই আছে। এই হাসপাতালের সমাজসেবা অফিস শিশুটির দায়িত্ব দিয়েছে এই ওয়ার্ডে। আর তার আনুষঙ্গিক খরচও তারাই বহন করে আসছে। অন্যদিকে, শিশুটির কাছের কেউ না থাকায় অন্য রোগীদের আত্মীয়স্বজনরাও মাঝে মধ্যে ওর দেখভাল করেন। তবে, অধিকাংশ সময়ই ২০৮ নম্বর ওয়ার্ডের খালা মনোয়ারা বেগমই দেখাশোনা করেন ছোট্ট এই শিশুটিকে। আদর করে চিন্টু বলে ডাকেন। খুব বেশি কথা বলতে না পারলেও বলতে পারে কিছু শব্দ। মা বলে ডাকে মনোয়ারা বেগমকে। তিনি বলেন, এই ওয়ার্ডে আসার পর থেকেই আমিই ওর দেখাশোনা করি। ও সুস্থই আছে। শুধু ঠিক মতো খাবার পেলেই ভালো হয়ে যেত। আমারতো মনে হয় ওর হাত পা সবই ঠিক আছে। এখানে তো কেউ নেই হাঁটতে শেখানোর। হাসপাতালে সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। আমিতো এখানে কাজ করি। তারপরও যতটুকু সময় পাই দেখে রাখার চেষ্টা করি। এখানে কেউতো আর সময় কাটাতে আসে না। তারপরও অনেকেই ওর পাশে এসে কিছু সময়ের জন্য হলেও বসেন। আশেপাশে থাকা অন্য শিশুদের খাবার মাঝে মধ্যে ওকে খেতে দেয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার দিন ফিডার মুখে কাঁথার মধ্যে জড়িয়ে ছিল শিশুটি। পাশে ছিল ব্যাগ ভর্তি কিছু জামা-কাপড়। এ সময় ২০৫ নম্বর ওয়ার্ডের বয় ওসমান গনির নজরে পড়ে পরিচয়হীন এই শিশুটি। পরে হাসপাতালের এই কর্মচারী শিশুটিকে বারান্দা থেকে তুলে ভর্তি করেন ২০৮ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে। এই কর্মচারীই শিশুটির নাম ঠিক করে হাসপাতালের খাতায় লেখান ইসমাইল। বয়সটাও আন্ধাজ করে সাড়ে তিন বছর দিলেন তিনিই। এই বাচ্চা সম্পর্কে ওয়ার্ড বয় ওসমান গনি মানবজমিনকে বলেন, শিশুটি গত বছরের গত ১৬ই আগস্ট শিশু সার্জারি ওয়ার্ডের বারান্দায় পড়ে ছিল। সঙ্গে কেউ ছিল না। সেখান থেকে তুলে তাকে ওয়ার্ডে ভর্তি করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ ওর খোঁজ নিতে আসেনি বা পরিচয়ও পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হাসপাতালে ভর্তির দশ দিন পরই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সুস্থতার ছাড়পত্র দিয়ে দেন। কিন্তু চার মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও শিশুটির পিতা-মাতা কিংবা আত্মীয়স্বজন কেউই আসেনি তার খোঁজে। কাগজে কলমে শিশুটির বয়স সাড়ে তিন বছর ধরা হলেও শিশুটি হাঁটতে পারে না। পর্যাপ্ত পরিচর্যা ও ভিটামিনের অভাবে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিকতায় ভুগছে সে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং পরিচর্যার অভাবেই শিশুটির শারীরিক বৃদ্ধি সঠিকভাবে হয়নি। অনেকটা অবহেলিত ভাবেই বেড়ে ওঠায় তার শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে সমস্যা হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
শিশুটি প্রসঙ্গে ওয়ার্ডের ইন্টার্ন ডাক্তার মুসফিকা জানান, প্রায় তিন মাস থেকেই তিনি এই ওয়ার্ডে আছেন। তখন থেকেই শিশুটিকে এখানে দেখেছেন তিনি। মা কিংবা আত্মীয়স্বজন কেউই না থাকায় নজরে পড়ে শিশুটি। শিশুটির শারীরিক অবস্থার কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, ও এখন ভালো আছে। প্রথম দিকে ওর খিচুনির সমস্যা ছিল। যেটা এখন অনেকটা ভালো হয়ে গেছে। এ ছাড়া জন্মের পর যেভাবে শিশুটির লালন পালন হওয়ার কথা, সেভাবে হয়নি। তাই ওর শারীরিক বৃদ্ধিতে একটু সময় হচ্ছে। কিছু বাচ্চা আছে, যারা খুব তাড়াতাড়ি কথা বলতে পারে ও হাঁটতে শিখে। কিন্তু ওর ক্ষেত্রে সেই বৃদ্ধিটা হয়নি বলেও ডা. মুসফিকা উল্লেখ করেন। প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং পর্যাপ্ত পরিচর্যার কমতি থাকায় এই শিশুটির বেড়ে ওঠায় সমস্যা হয়েছে। ডা. মুসফিকা আরও বলেন, এটাকে ব্রেইনের একটা অংশের ইনসাল্ট বলা যেতে পারে। যার কারণে বৃদ্ধি থেমে আছে। এই চিকিৎসক বলেন, বর্তমানে ওর কোনো সমস্যা নেই। তবে, ওয়ার্ডে রোগী না থাকায় শিশুটি এখানেই থাকছে। ও কোথায় যাবে? যেহেতু ওর যাওয়ার জায়গা নেই, তাই শিশুটি এখানেই আছে। এই হাসপাতালের সমাজসেবা অফিস শিশুটির দায়িত্ব দিয়েছে এই ওয়ার্ডে। আর তার আনুষঙ্গিক খরচও তারাই বহন করে আসছে। অন্যদিকে, শিশুটির কাছের কেউ না থাকায় অন্য রোগীদের আত্মীয়স্বজনরাও মাঝে মধ্যে ওর দেখভাল করেন। তবে, অধিকাংশ সময়ই ২০৮ নম্বর ওয়ার্ডের খালা মনোয়ারা বেগমই দেখাশোনা করেন ছোট্ট এই শিশুটিকে। আদর করে চিন্টু বলে ডাকেন। খুব বেশি কথা বলতে না পারলেও বলতে পারে কিছু শব্দ। মা বলে ডাকে মনোয়ারা বেগমকে। তিনি বলেন, এই ওয়ার্ডে আসার পর থেকেই আমিই ওর দেখাশোনা করি। ও সুস্থই আছে। শুধু ঠিক মতো খাবার পেলেই ভালো হয়ে যেত। আমারতো মনে হয় ওর হাত পা সবই ঠিক আছে। এখানে তো কেউ নেই হাঁটতে শেখানোর। হাসপাতালে সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। আমিতো এখানে কাজ করি। তারপরও যতটুকু সময় পাই দেখে রাখার চেষ্টা করি। এখানে কেউতো আর সময় কাটাতে আসে না। তারপরও অনেকেই ওর পাশে এসে কিছু সময়ের জন্য হলেও বসেন। আশেপাশে থাকা অন্য শিশুদের খাবার মাঝে মধ্যে ওকে খেতে দেয়।
No comments:
Post a Comment