Friday, January 15, 2016

বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় মাঠে নামছেন ১০০ দক্ষ কর্মকর্তা

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় মাঠে নামছেন ১০০ দক্ষ কর্মকর্তা। এদের মধ্যে ৪০ জন বিমান, ৪০ জন পুলিশ ও ২০ জন আনসার বাহিনীর। তারা সবাই টেকনিক্যাল জ্ঞানসম্পন্ন। এয়ারপোর্টের নিয়মিত সিকিউরিটি ফোর্সের সঙ্গে কাজ করবেন তারা। আগামী সপ্তাহেই বিমাবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত হবেন তারা। এ ছাড়া বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দেখভাল করতে ২৫০ সদস্যের নতুন একটি ফোর্স তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এ ফোর্স শুধু বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দেখভাল করবে। যার নিয়ন্ত্রণ থাকবে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের হাতে। নতুন এ ফোর্সের নাম হচ্ছে ‘এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স’। পুলিশ, আনসার ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে এ বাহিনী গঠিত হবে। নতুন এ ফোর্সের জনবল অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন মানবজমিনকে বলেন, ‘বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু নিরাপত্তায় লোকবলের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে বিমান, পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে ১০০ দক্ষ কর্মকর্তাকে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে নামানোর প্রক্রিয়া চলছে।’ এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা নতুন ফোর্স গঠন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত একটি বিষয় প্রস্তাবনা পর্যায়ে রয়েছে। এটি এখনও অর্ডার হয়নি।’
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সম্প্রতি মিশরে রাশিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হলে বৃটিশ সরকার তাদের বিমান চলাচল করে এমন এয়ারপোর্টের সিকিউরিটি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃটিশ এভিয়েশন ইন্টেলিজেন্সের একটি দল শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার পর নানা প্রশ্ন তুলেছে। বৃটিশ এভিয়েশন টিমের রিপোর্টে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও কারিগরি বিভিন্ন দিকের দুর্বলতা তুলে ধরা হয়। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি হাতে পেয়ে নড়েচড়ে বসে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি-সংক্রান্ত এক বিশেষ সভাও অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিমানবন্দরের বর্তমান নিরাপত্তা অবস্থা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না- তা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া বৃটিশ এভিয়েশনের রিপোর্টটিও বিবেচনায় নিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নতুন একটি ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
বিমান সূত্র জানায়, নতুন যে বাহিনী গঠিত হবে তার সদস্য সংখ্যা হবে ২৫০। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিয়ন্ত্রণে থাকবে বাহিনীর সদস্যরা। নিয়োগপ্রাপ্তদের এভিয়েশন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বিভিন্ন বাহিনী থেকে এ ফোর্সে নেয়ার সময় নিরাপত্তার পাশাপাশি কারিগরি বিষয়ে দক্ষ কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বিমানবাহিনীর সদস্যরা কারিগরি বিষয়গুলো দেখভাল করবেন। আর এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্সের অন্য সদস্যরা বিমানবন্দরের বহির্গমন ও ট্রানজিট যাত্রীদের তল্লাশি, লাগেজ স্ক্যানিং ও মনিটর করবে। বহির্গমন যাত্রীদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রমও তদারক করবে এ ফোর্সের কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যরা। তবে বিমাবন্দরের নিরাপত্তা দ্রুত উন্নত করার লক্ষ্যে এ সপ্তাহে মাঠে নামানো হচ্ছে ১০০ দক্ষ কর্মকর্তাকে। ইতিমধ্যে পুলিশ, বিমান ও আনসার বাহিনীর চৌকস ১০০ কর্মকর্তাকে বাছাই করে প্রেষণে তাদের এয়ারপোর্ট সিকিউরিটির অধীনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের প্রশিক্ষণ চলছে। এ সপ্তাহেই তারা এয়ারপোর্টের নিয়মিত সিকিউরিটি ফোর্সের সঙ্গে কাজে যোগ দেবেন।

No comments:

Post a Comment