Friday, January 15, 2016

‘আইএসকে অপপ্রচার চালাতে দেওয়ায়’ টুইটারের বিরুদ্ধে মামলা

জর্দানের আম্মানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত এক আমেরিকানের স্ত্রী জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ওই নারীর দাবি, টুইটারের ফলেই আইএস তাদের অপপ্রচার এত সহজে চালাতে পারছে। এ খবর দিয়েছে এবিসি নিউজ। তামারা ফিল্ডসের স্বামী লয়েড ফিল্ডস জর্দানের আম্মানে সেখানকার পুলিশের প্রশিক্ষণে সাহায্য করতেন। ৯ই নভেম্বর জর্দানি পুলিশের এক ক্যাপ্টেন তাকে গুলি করে হত্যা করে। ওই ঘটনার দায় স্বীকার করে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস।
তামারা ফিল্ডসের মামলায় দাবি করা হয়েছে, টুইটার কর্তৃপক্ষের জ্ঞাতসারে আইএস এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিকে ব্যবহার করে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, অর্থ ও সদস্য সংগ্রহ করছে। টুইটারের মাধ্যমে চরমপন্থী ভাবাদর্শের বিস্তার ঘটাচ্ছে আইএস। বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ায় ওই মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় বলা হয়েছে, টুইটার ব্যতীত গত কয়েক বছরের মধ্যে আইএস বিশ্বের সবচেয়ে আতঙ্কজনক সন্ত্রাসী গোষ্ঠিতে পরিণত হতে পারতো না।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, আইএস’র উত্থাণের জন্য এটি ছিল খুবই সহায়ক। এর ফলে আইএস বহু সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পেরেছে। দাবি করা হয়েছে, লয়েড যখন নিহত হয়, তখন টুইটারে আইএস’র প্রায় ৭০ হাজার অ্যাকাউন্ট ছিল। প্রতি মিনিটে সংগঠনটির সদস্য ও সমর্থকরা প্রায় ৯০টি টুইট বার্তা পোস্ট করতে সক্ষম ছিল। এফবিআইকে উদ্ধৃত করে অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ছোট আকারে একক হামলায় উদ্বুদ্ধ করতে আইএস টুইটারের ব্যবহার অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
এ অভিযোগ মোতাবেক, আইএস’র প্রধান ও আনুষ্ঠানিক অপপ্রচারকারী সংগঠন আল হায়াত মিডিয়া সেন্টারের কমপক্ষে ছয়টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখান থেকে পশ্চিমাদের আকৃষ্ট করা হয়। আইএস’র জঙ্গি ভাবাদর্শের বিস্তার ঘটাতে ব্যবহৃত বহু ছবি ও কার্টুন অভিযোগের নথিপত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
২০১৪ সালের ২০ই জুলাই, টুইটারের প্রতিষ্ঠাতা বিজ স্টোনকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যদি আপনি সারাবিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রকাশ ঘটানোর কোন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চান, তবে আপনাকে ভালোর সঙ্গে সঙ্গে খারাপকেও মেনে নিতে হবে। স্টোনের এ উক্তিটিও অভিযোগপত্রের সঙ্গে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment