Friday, December 18, 2015

এখনও ঝুঁকিতে লাখো গার্মেন্ট কর্মী: মার্কিন রিপোর্ট

বাংলাদেশে রপ্তানিমুখী হাজার হাজার পোশাক কারখানার মধ্যে মাত্র এক-চতুর্থাংশ সুরক্ষিত। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ কারখানা অসুরক্ষিত থাকায় প্রায় ৩০ লাখ কর্মী শ্রমিক-নির্যাতন ও বিপজ্জনক অবস্থার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর থেকে কারখানাগুলো ব্যপক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর কারখানাগুলোর অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে গত মাসে বাংলাদেশ সরকার বলেছিল, বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে পোশাক সরবরাহ করে, এমন গার্মেন্ট কারখানাগুলোর মধ্যে ৮১ শতাংশ নিরাপদ। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টার্ন সেন্টার ফর বিজনেস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের করা গবেষণা মোতাবেক, বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী প্রায় ৭ হাজারেরও বেশি কারখানার অর্ধেক বৈশ্বিক বিভিন্ন ব্রান্ডের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে। ওই কারখানাগুলোতে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি হচ্ছে বেশি। কিন্তু এসবের মধ্যে মাত্র অর্ধেক কারখানায় ২০১৩ সালের দুর্ঘটনার পর হাতে নেওয়া বড় দুইটি নিরাপত্তা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্য অসুরক্ষিত কারখানাগুলো মূলত সরাসরি বৈশ্বিক ব্রান্ডের সঙ্গে কাজ করে না। তাদের পোশাক তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ করে। এ কারখানাগুলো সরকারিভাবে বা ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনগুলোতে নিবন্ধিত নয়। এ কারখানাগুলোতে নিরাপত্তা পরিবেশের উন্নতিতে কোন অর্থ ব্যয় করা হয় না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনও বহু কারখানা রয়েছে যেখানে শ্রমিকরা এমন পরিবেশে রয়েছে যেটি মারাত্মক ক্ষতিকর ও শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এ শিল্প ত্বরান্বিত করেছে ও চরম দারিদ্র্যর হার কমিয়ে এনেছে। কিন্তু নিম্ন বেতনে গার্মেন্টে কাজের জন্য চরম মূল্য দিতে হতে পারে।

No comments:

Post a Comment