Friday, January 29, 2016

‘একজন-দু’জন করে শহীদের সংখ্যা হিসাব করা যায় না’

ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের অপকর্মকে জায়েজ করতে বিএনপি ও জামায়াত একই সুরে তাদের সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা অনেক হওয়ায় তা একজন-দু’জন করে গণনা সম্ভব না। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে হানিফ এসব কথা বলেন। এর আগে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নির্ধারণের দাবি জানান। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যার কথা তুলে ধরে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, কী নিষ্ঠুর হত্যাকা- ঘটেছিল! সারা দেশে এখানে-ওখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল লাশ আর লাশ। লাশের মিছিল ছিল। নদীতে, পুকুরে, এখানে-সেখানে লাশ ভাসত। গণহত্যার চিহ্ন যেন সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তখন শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটাক্ষ করে পাকিস্তানের অপকর্মকে পাকিস্তান যেভাবে অস্বীকার করে আসছে। সেই পাকিস্তানের অপকর্মকে জায়েজ করার জন্য বিএনপি ও জামায়াত একই সুরে তাদের সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছে। পাকিস্তান যেভাবে বলেছে একাত্তর সালে তারা এ দেশের গণহত্যা করে নাই। আজ বিএনপিও গণহত্যার সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পাকিস্তানের সেই বক্তব্য সমর্থন করে যাচ্ছে। হানিফ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এই বিশাল সংখ্যা একজন-দুজনের নাম করে কখনো হিসাব করা যায় না। পৃথিবীর অনেক দেশে যখন এই রকম গণহত্যা হয়েছিল। জার্মানিতে নাৎসি বাহিনীর দ্বারা ইহুদি হত্যা হয়েছিল, ২০১০ সালে রুয়ান্ডাতে গণহত্যা হয়েছিল, এর আগে আণবিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ জাপানে গণহত্যা চালিয়েছিল। এরকম আরও অনেক গণহত্যা হয়েছে। সেখানে একজন-দুজন হিসাব করে সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি। এটা অনুমানভিত্তিক সংখ্যায় নির্ধারণ করা হয়েছিল। মানুষের মৃত্যুর ধরন দেখে, মিছিল দেখেই হয়তো সংখ্যাটাকে অনুমানভিত্তিকই করা হয়েছে। খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বিএনপির নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে দিতে চাই ইতিহাস বিকৃতি করার ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন।
ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা ইসমাইল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সদস্য আমিনুল ইসলাম, ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির মহাসচিব মুফতি তাজুল ইসলাম ফারুকী প্রমুখ।

No comments:

Post a Comment